📄 দুই উজ্জ্বল সূরা
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : تَعَلَّمُوا الزَّهْرَاوَيْنِ. فَإِنَّهُمَا يَأْتِيَانِ أَهْلَهُمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ، أَوْ غَيَابَتَانِ، أَوْ فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافٌ بِأَجْنِحَتِهِمَا وَيُحَاجَانِ عَنْ أَهْلِيهِمَا. ثُمَّ قَالَ: تَعَلَّمُوا الْبَقَرَةَ فَإِنَّ أَخْذَهَا بَرَكَةً، وَتَرْكَهَا حَسْرَةً، وَلَا يَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ، ثُمَّ قَالَ: هُذَا لِمَنْ تَعَلَّمَهُ، وَلَمْ يَلْغُ فِيهِ، وَيَعْمَلُ بِهِ، وَلَمْ يَجْفُ عَنْهُ، وَلَمْ يَسْتَأْكِلْ بِهِ।
আবু উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, তোমরা দুই উজ্জ্বল সূরা (অর্থাৎ, বাকারা ও আলে ইমরান) শিক্ষা কর। কারণ, এ দু'টি কিয়ামতের দিন ডানা মেলা দুই ঝাঁক পাখির ন্যায় হাজির হবে এবং তাদের হয়ে প্রতিবাদ করবে। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা সূরা বাকারা শিক্ষা কর। কারণ, সূরা বাকারা গ্রহণ করতে পারা বরকতের কারণ, তাকে ত্যাগ করা আফসোসের কারণ। তিনি আরো বললেন, যে তা পাঠ করবে যাদুকররা তার ক্ষতি করতে পারবে না। তারপর তিনি বললেন, এই ফযীলত তার জন্য যে তা শিক্ষা করবে, সে অনুসারে আমল করবে, তার থেকে মুখ ফিরিয়ে না নিবে এবং তাকে উপার্জনের মাধ্যমে না বানাবে।
টিকাঃ
২২৮. সহীহ মুসলিম: হাদীস-৮০৪।
📄 কুরআন খতমকারীর ফযীলত
عَنْ سَعْدِ ابْنِ أَبِي وَقَّاصٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ خَتَمَ الْقُرْآنَ نَهَارًا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُمْسِي، وَمَنْ خَتَمَهُ لَيْلًا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُصْبِحَ.
হযরত সাআদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি. বলেন, যে ব্যক্তি দিনে কুরআন খতম করে, সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার জন্য দোয়া করতে থাকেন। আর যে রাতে কুরআন খতম করে, সকাল পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার জন্য দোয়া করতে থাকেন। (সাহাবায়ে কেরাম দিনেই কুরআন খতম করা পছন্দ করতেন।)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহ. বলেন, সাহাবায়ে কেরাম দীর্ঘসময় ফেরেশতাদের দুআর জন্য গ্রীষ্মকালে দিনের শুরুভাগে এবং শীতকালে রাতের শুরুভাগে কুরআন খতম করতেন।
টিকাঃ
২২৯. কানযুল উম্মাল: হাদীস-২৩১৯।
📄 কুরআন তিলাওয়াত করা ও না করার দৃষ্টান্ত
عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ، كَمَثَلِ الْأُتْرُجَّةِ رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا طَيِّبٌ، وَمَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ، كَمَثَلِ التَّمْرِ طَعْمُهُ طَيِّبُ وَلَا رِيحَ لَهُ، وَمَثَلُ الْفَاجِرِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ، كَمَثَلِ الرَّيْحَانَةِ، رِيحُهَا طَيِّبٌ، وَطَعْمُهَا مُرٌّ، وَمَثَلُ الْفَاجِرِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ، كَمَثَلِ الْحَنْظَلَةِ طَعْمُهَا مُرٌّ وَلَا رِيحَ لَهَا.
আবূ মূসা আশ'আরী রাযি. হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেছেন, কুরআন পাঠকারী মুমিনের উদাহরণ হচ্ছে ঠিক উতরুজ্জা (কমলা লেবুর মত এক ধরনের ফল); যার ঘ্রাণ উত্তম এবং স্বাদও উত্তম। আর যে মুমিন কুরআন পড়ে না তার উদাহরণ হচ্ছে, ঠিক খেজুরের মত; যার (উত্তম) ঘ্রাণ নেই, তবে সুস্বাদু। (অন্যদিকে) কুরআন পাঠকারী মুনাফিকের দৃষ্টান্ত হচ্ছে সুগন্ধিময় (তুলসী) গাছের মত; যার ঘ্রাণ উত্তম, কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন পড়ে না তার উদাহরণ হচ্ছে ঠিক মাকাল ফলের মত; যার (উত্তম) ঘ্রাণ নেই, স্বাদও তিক্ত।
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: الْمُسِرُّ بِالْقُرْآنِ كَالْمُسِرُّ بالصَّدَقَةِ، وَالْجَاهِرُ بِالْقُرْآنِ كَالْجَاهِرِ بِالصَّدَقَةِ.
হযরত উকবা ইবনে আমের রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, গোপনে কুরআন পাঠকারী গোপনে সদকা দানকারীর মত। আর প্রকাশ্যে কুরআন পাঠকারী প্রকাশ্যে সদকা দানকারীর মত।
টিকাঃ
২৩০. সহীহ বুখারী: হাদীস-৫০২০; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৭৯৭।
২৩১. সুনানে তিরমিযী হাদীস-২৯১৯; সুনানে আবী দাউদ হাদীস-৪৮২৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৭৭৯৬ [হাদীসটি সহীহ]।
📄 কুরআন শিখে ভুলে যাওয়া
عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : عُرِضَتْ عَلَيَّ الذُّنُوبُ فَلَمْ أَرَ فِيهَا سَيِّئًا أَعْظَمَ مِنْ حَامِلِ الْقُرْآنِ وَتَارِكِهِ.
হযরত ওয়ালীদ ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, আমার সামনে সমস্ত গুনাহ পেশ করা হয়েছিল। সেখানে সবচেয়ে বড় গুনাহগার হিসাবে দেখতে পেয়েছি, যে কুরআন শিখে তা ভুলে যাওয়া।
عَنْ طَلْقِ بْنِ حَبِيبٍ، أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ ثُمَّ نَسِيَهُ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ حُطَّ لَهُ بِكُلِّ آيَةٍ دَرَجَةٌ، وَجَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَجْذُومًا مَخْصُومًا.
হযরত তালক ইবনে হাবীব রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করার পর কোনো কারণ ছাড়া তা ভুলে যায়, প্রতিটি আয়াতের পরিবর্তে তার একটি করে মর্যাদা কমে যায় এবং কিয়ামতের দিন সে কুষ্ঠরোগীর ন্যায় হাত নিয়ে উপস্থিত হবে।
عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ : مَا مِنْ رَجُلٍ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ ، ثُمَّ نَسِيَهُ إِلَّا لَقِيَ اللَّهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَجْزَمَ.
সাদ ইবনে উবাদা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, যে কোনো ব্যক্তি কুরআন শিখে ভুলে যায়, সে এক হাত কর্তিত অবস্থায় কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাক্ষাত করবে।
عَنِ الضَّحَاكِ، قَالَ: مَا تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ رَجُلٌ ثُمَّ نَسِيَهُ إِلَّا بِذَنْبٍ يُصِيبُهُ ثُمَّ قَرَأَ: (وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ وَأَيُّ مُصِيبَةٍ أَعْظَمُ مِنْ نِسْيَانِ الْقُرْآنِ.
হযরত যাহ্হাক রহ. বলেন, কুরআন শিক্ষা করে মানুষ তা ভুলে যায় তার নিজের গুনাহের কারণেই। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন- وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ। অর্থ: তোমাদেরকে তোমাদের অর্জনের ফলেই বিপদ আক্রান্ত করে তবে তিনি তোমাদের অনেক গুনাহ ক্ষমা করে দেন। আর কুরআন ভুলে যাওয়ার চেয়ে বড় বিপদ আর কী হতে পারে?!
টিকাঃ
২৩২. সুনানে আবী দাউদ হাদীস-৪৬১; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৯১৬; সনদটি জয়ীফ [ফাতহুল বারী: ৮/৭০৪; আল-খুলাসা লি-নববী: ১/৩০৬]।
২৩৩. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-১৪৭৪; সুনানে দারেমী হাদীস-৩৩৪৩।
২৩৪. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-২২৪৫৬; সুনানে দারেমী: হাদীস-৩৩৪০; হাদীসটির গ্রহণযোগ্য শাওয়াহেদ বিদ্যমান [ফাজায়েলে কুরআন লি-ইবনে কাসীর: হাদীস-২১৯]।
২৩৫. সূরা আশ শুরা: আয়াত-৩০