📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কুরআন কিয়ামতের দিন তার পাঠকের নিকট এসে উপস্থিত হবে

📄 কুরআন কিয়ামতের দিন তার পাঠকের নিকট এসে উপস্থিত হবে


عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : حَرَّضَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى تَعَلُّمِ الْقُرْآنِ، ثُمَّ أَخْبَرَنَا عَنْ فَضْلِهِ . وَقَالَ : تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ. ثُمَّ أَخْبَرَنَا عَنْ فَضْلِهِ، وَقَالَ: إِنَّ الْقُرْآنَ يَأْتِي أَهْلُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَحْوَجَ مَا يَكُونُ إِلَيْهِ. قَالَ: فَيُقْدِمُ عَلَى صَاحِبِهِ بِأَحْسَنِ صُورَةٍ لَهُ فَيَقُولُ: أَتَعْرِفُنِي؟ فَيَقُولُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَيَقُولُ: أَنَا الَّذِي كُنْتَ تُحِبُّهُ، وَتُكْرِمُهُ وَكُنْتَ تَسْهَرُ لَيْلَكَ بِي وَتَدْأَبُ نَهَارَكَ يَعْنِي مِنْ عَادَتِكَ أَنْ تَقْرَأَ نَهَارَكَ قَالَ: فَيَقُولُ: لَعَلَّكَ الْقُرْآنُ، ثُمَّ يُقْدِمُ عَلَى اللَّهِ فَيُعْطَى الْمُلْكَ بِيَمِينِهِ، وَالْخُلْدَ بِشِمَالِهِ، وَيُوضَعُ تَاجُ الْمُلْكِ عَلَى رَأْسِهِ، وَيَلْبَسُ وَالِدَاهُ الْمُسْلِمَانِ حُلَّتَيْنِ، مَا يَقُومُ بِهِمَا فِي الدُّنْيَا وَأَضْعَافِهَا، فَيَقُولَانِ: مِنْ أَيْنَ لَنَا هُذَا وَلَمْ تَبْلُغُهُ أَعْمَالُنَا فَيُقَالُ لَهُمَا بِفَضْلِ وَلَدِكُمَا بِقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ أُعْطِيتُمَا ذَلِكَ।

হযরত আবূ উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূল কুরআন শিক্ষার প্রতি খুব উৎসাহিত করলেন এবং তার ফযীলত বর্ণনা করলেন। তিনি বললেন, তোমরা কুরআন শিক্ষা কর। তারপর তার ফযীলত ব্যাখ্যা করে বললেন, কিয়ামতের দিন মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনের মুহূর্তে কুরআন সুন্দর রূপ ধারণ করে তার পাঠকের নিকট উপস্থিত হবে। অতঃপর তাকে বলবে, আমাকে চিন? লোকটি বলবে, তুমি কে? সে অবাক হয়ে বলবে, আমাকে চিন না? আমাকে না তুমি খুব পছন্দ করতে, সম্মান করতে, আমার জন্য রাত জেগে থাকতে, দিনেও আমাকে নিয়ে পড়ে থাকতে! তখন লোকটি বলবে, সম্ভবত তুমি কুরআন। এরপর তাকে আল্লাহর দরবারে নিয়ে যাওয়া হবে। তার বাম হাতে জান্নাতের মালিকানা এবং ডান হাতে অমরত্ব দান করা হবে, মাথায় রাজমুকুট পরানো হবে, তার মুসলমান পিতা-মাতাকে এমন দু'টি পোশাক পরিধান করানো হবে, যার মূল্য কয়েক দুনিয়ার চেয়েও বেশি। তখন তারা বলবে, এই নেয়ামত আমরা কীভাবে পেলাম? আমাদের আমলের বিনিময় তো সম্ভব ছিল না! তখন বলা হবে, তোমাদের এই নিয়ামত, তোমাদের সন্তানের কুরআন পাঠের বিনিময়।

টিকাঃ
২২৭. হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৫/১০৭; হাদীসটি সনদ দুর্বল [মাজমা: ৭/১৬০]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দুই উজ্জ্বল সূরা

📄 দুই উজ্জ্বল সূরা


عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : تَعَلَّمُوا الزَّهْرَاوَيْنِ. فَإِنَّهُمَا يَأْتِيَانِ أَهْلَهُمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ، أَوْ غَيَابَتَانِ، أَوْ فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافٌ بِأَجْنِحَتِهِمَا وَيُحَاجَانِ عَنْ أَهْلِيهِمَا. ثُمَّ قَالَ: تَعَلَّمُوا الْبَقَرَةَ فَإِنَّ أَخْذَهَا بَرَكَةً، وَتَرْكَهَا حَسْرَةً، وَلَا يَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ، ثُمَّ قَالَ: هُذَا لِمَنْ تَعَلَّمَهُ، وَلَمْ يَلْغُ فِيهِ، وَيَعْمَلُ بِهِ، وَلَمْ يَجْفُ عَنْهُ، وَلَمْ يَسْتَأْكِلْ بِهِ।

আবু উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, তোমরা দুই উজ্জ্বল সূরা (অর্থাৎ, বাকারা ও আলে ইমরান) শিক্ষা কর। কারণ, এ দু'টি কিয়ামতের দিন ডানা মেলা দুই ঝাঁক পাখির ন্যায় হাজির হবে এবং তাদের হয়ে প্রতিবাদ করবে। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা সূরা বাকারা শিক্ষা কর। কারণ, সূরা বাকারা গ্রহণ করতে পারা বরকতের কারণ, তাকে ত্যাগ করা আফসোসের কারণ। তিনি আরো বললেন, যে তা পাঠ করবে যাদুকররা তার ক্ষতি করতে পারবে না। তারপর তিনি বললেন, এই ফযীলত তার জন্য যে তা শিক্ষা করবে, সে অনুসারে আমল করবে, তার থেকে মুখ ফিরিয়ে না নিবে এবং তাকে উপার্জনের মাধ্যমে না বানাবে।

টিকাঃ
২২৮. সহীহ মুসলিম: হাদীস-৮০৪।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কুরআন খতমকারীর ফযীলত

📄 কুরআন খতমকারীর ফযীলত


عَنْ سَعْدِ ابْنِ أَبِي وَقَّاصٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ خَتَمَ الْقُرْآنَ نَهَارًا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُمْسِي، وَمَنْ خَتَمَهُ لَيْلًا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُصْبِحَ.

হযরত সাআদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি. বলেন, যে ব্যক্তি দিনে কুরআন খতম করে, সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার জন্য দোয়া করতে থাকেন। আর যে রাতে কুরআন খতম করে, সকাল পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার জন্য দোয়া করতে থাকেন। (সাহাবায়ে কেরাম দিনেই কুরআন খতম করা পছন্দ করতেন।)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহ. বলেন, সাহাবায়ে কেরাম দীর্ঘসময় ফেরেশতাদের দুআর জন্য গ্রীষ্মকালে দিনের শুরুভাগে এবং শীতকালে রাতের শুরুভাগে কুরআন খতম করতেন।

টিকাঃ
২২৯. কানযুল উম্মাল: হাদীস-২৩১৯।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কুরআন তিলাওয়াত করা ও না করার দৃষ্টান্ত

📄 কুরআন তিলাওয়াত করা ও না করার দৃষ্টান্ত


عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ، كَمَثَلِ الْأُتْرُجَّةِ رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا طَيِّبٌ، وَمَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ، كَمَثَلِ التَّمْرِ طَعْمُهُ طَيِّبُ وَلَا رِيحَ لَهُ، وَمَثَلُ الْفَاجِرِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ، كَمَثَلِ الرَّيْحَانَةِ، رِيحُهَا طَيِّبٌ، وَطَعْمُهَا مُرٌّ، وَمَثَلُ الْفَاجِرِ الَّذِي لَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ، كَمَثَلِ الْحَنْظَلَةِ طَعْمُهَا مُرٌّ وَلَا رِيحَ لَهَا.

আবূ মূসা আশ'আরী রাযি. হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেছেন, কুরআন পাঠকারী মুমিনের উদাহরণ হচ্ছে ঠিক উতরুজ্জা (কমলা লেবুর মত এক ধরনের ফল); যার ঘ্রাণ উত্তম এবং স্বাদও উত্তম। আর যে মুমিন কুরআন পড়ে না তার উদাহরণ হচ্ছে, ঠিক খেজুরের মত; যার (উত্তম) ঘ্রাণ নেই, তবে সুস্বাদু। (অন্যদিকে) কুরআন পাঠকারী মুনাফিকের দৃষ্টান্ত হচ্ছে সুগন্ধিময় (তুলসী) গাছের মত; যার ঘ্রাণ উত্তম, কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন পড়ে না তার উদাহরণ হচ্ছে ঠিক মাকাল ফলের মত; যার (উত্তম) ঘ্রাণ নেই, স্বাদও তিক্ত।

عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: الْمُسِرُّ بِالْقُرْآنِ كَالْمُسِرُّ بالصَّدَقَةِ، وَالْجَاهِرُ بِالْقُرْآنِ كَالْجَاهِرِ بِالصَّدَقَةِ.

হযরত উকবা ইবনে আমের রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, গোপনে কুরআন পাঠকারী গোপনে সদকা দানকারীর মত। আর প্রকাশ্যে কুরআন পাঠকারী প্রকাশ্যে সদকা দানকারীর মত।

টিকাঃ
২৩০. সহীহ বুখারী: হাদীস-৫০২০; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৭৯৭।
২৩১. সুনানে তিরমিযী হাদীস-২৯১৯; সুনানে আবী দাউদ হাদীস-৪৮২৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৭৭৯৬ [হাদীসটি সহীহ]।

ফন্ট সাইজ
15px
17px