📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কুরআনের বিশেষ কয়েকটি ফযীলত

📄 কুরআনের বিশেষ কয়েকটি ফযীলত


হযরত মুহাম্মাদ ইবনে কা'ব কুরযী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি কুরআনের ইলম হাসিল করল, সে যেন রাসূল -এর দর্শন লাভ করল। তারপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন-
وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ
অর্থ: আমার নিকট এই কুরআনকে ওহীরূপে পাঠানো হয়েছে, যাতে আমি তার মাধ্যমে তোমাদেরকে এবং যাদের নিকট তা পৌঁছবে তাদেরকে সতর্ক করতে পারি।

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ قَالَ قَالَ : إِنَّ عَدَدَ دَرَجٍ الجَنَّةِ عَددُ أَي القُرْآنِ
হযরত আয়শা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেছেন, জান্নাতের স্তর হলো, কুরআনের আয়াত সমপরিমাণ।

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ اقْرَأْ وَارْقَ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَتَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا
আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, কুরআনের পাঠককে বলা হবে, তুমি পাঠ কর এবং আরোহণ কর। যেমন দুনিয়াতে পাঠ করতে। কারণ, তোমার ঠিকানা সর্বশেষ আয়াত পর্যন্ত, যা তুমি পাঠ করবে। ফহীক রহ. বলেন, কারো যদি (উদাহরণত) কুরআনের অর্ধেক মুখস্থ থাকে তাহলে তাকে বলা হবে, তোমার কাছে কুরআনের আরো আয়াত থাকলে আমরা তোমাকে আরো মর্তবা দান করতাম।

عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلَى، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ مِنَ الصَّلَاةِ، وَهُوَ قَائِمُ فَلَهُ بِكُلِّ حَرْفٍ مِائَةُ حَسَنَةٍ، وَمَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فِي الصَّلَاةِ قَاعِدًا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ حَرْفٍ خَمْسِينَ حَسَنَةٍ، وَمَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فِي غَيْرِ الصَّلَاةِ، فَلَهُ بِكُلِّ حَرْفٍ عَشْرُ حَسَنَاتٍ، وَمَنِ اسْتَمَعَ إِلَى شَيْءٍ مِنْ كِتَابِ اللهِ، وَهُوَ يُرِيدُ الْأَجْرَ كُتِبَ لَهُ بِكُلِّ حَرْفٍ حَسَنَةٌ، وَمَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ حَتَّى يَخْتِمَهُ، كَانَتْ لَهُ عِنْدَ اللهِ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ إِمَّا مُعَجَّلَةٌ وَإِمَّا مُؤَجَّلَةٌ।

হযরত হুসাইন ইবনে আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নামাযে দাঁড়িয়ে কুরআন তিলাওয়াত করবে, সে প্রতিটি হরফের বিনিময়ে এক শত নেকি পাবে। আর যে ব্যক্তি নামাযে বসে কুরআন তিলাওয়াত করবে সে প্রতিটি হরফের বিনিময়ে পাবে পঞ্চাশটি নেকি। আর যে ব্যক্তি নামায ছাড়া অন্য সময় কুরআন তিলাওয়াত করবে সে প্রতিটি হরফের বিনিময়ে দশটি নেকি পাবে। যে ব্যক্তি সওয়াব লাভের আশায় কুরআন শুনবে, সেও প্রতিটি হরফের বিনিময়ে একটি করে নেকি পাবে। আর যে ব্যক্তি পুরো খতম করবে আল্লাহ তা'আলা তার একটি দোয়া অবশ্যই কবুল করবেন। চাই তা দুনিয়ায় হোক বা আখেরাতে।

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : ثَلَاثَةٌ لَا يَسْتَخِفُ بِحَقِّهِنَّ إِلَّا مُنَافِقُ : إِمَامُ قِسْطٍ، وَذُو شَيْبَةٍ فِي الْإِسْلَامِ، وَحَامِلُ الْقُرْآنِ.
আবু উমামা ইবনে সাহল রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী করীম ইরশাদ করেন, মুনাফিক ছাড়া অন্য কেউ এই তিন ব্যক্তিকে অসম্মান করতে পারে না। যথা- ১. ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ। ২. বয়োবৃদ্ধ মুসলিম। ৩. কুরআনের ধারক-বাহক।

টিকাঃ
২২৩. সূরা আনআম: আয়াত-১৯
২২৪. সুনানে আবী দাউদ হাদীস- ১৪৬৪; সুনানে তিরমিযী হাদীস- ২৯১৪; মুসনাদে আহমাদ: ১১/৪০৩; সাননে ইবনে মাজাহ হাদীস- ৩৭৮০; হাদীসটি সহীহ [শুয়াইব আরনাউত]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কুরআন কিয়ামতের দিন তার পাঠকের নিকট এসে উপস্থিত হবে

📄 কুরআন কিয়ামতের দিন তার পাঠকের নিকট এসে উপস্থিত হবে


عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : حَرَّضَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى تَعَلُّمِ الْقُرْآنِ، ثُمَّ أَخْبَرَنَا عَنْ فَضْلِهِ . وَقَالَ : تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ. ثُمَّ أَخْبَرَنَا عَنْ فَضْلِهِ، وَقَالَ: إِنَّ الْقُرْآنَ يَأْتِي أَهْلُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَحْوَجَ مَا يَكُونُ إِلَيْهِ. قَالَ: فَيُقْدِمُ عَلَى صَاحِبِهِ بِأَحْسَنِ صُورَةٍ لَهُ فَيَقُولُ: أَتَعْرِفُنِي؟ فَيَقُولُ: مَنْ أَنْتَ؟ فَيَقُولُ: أَنَا الَّذِي كُنْتَ تُحِبُّهُ، وَتُكْرِمُهُ وَكُنْتَ تَسْهَرُ لَيْلَكَ بِي وَتَدْأَبُ نَهَارَكَ يَعْنِي مِنْ عَادَتِكَ أَنْ تَقْرَأَ نَهَارَكَ قَالَ: فَيَقُولُ: لَعَلَّكَ الْقُرْآنُ، ثُمَّ يُقْدِمُ عَلَى اللَّهِ فَيُعْطَى الْمُلْكَ بِيَمِينِهِ، وَالْخُلْدَ بِشِمَالِهِ، وَيُوضَعُ تَاجُ الْمُلْكِ عَلَى رَأْسِهِ، وَيَلْبَسُ وَالِدَاهُ الْمُسْلِمَانِ حُلَّتَيْنِ، مَا يَقُومُ بِهِمَا فِي الدُّنْيَا وَأَضْعَافِهَا، فَيَقُولَانِ: مِنْ أَيْنَ لَنَا هُذَا وَلَمْ تَبْلُغُهُ أَعْمَالُنَا فَيُقَالُ لَهُمَا بِفَضْلِ وَلَدِكُمَا بِقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ أُعْطِيتُمَا ذَلِكَ।

হযরত আবূ উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূল কুরআন শিক্ষার প্রতি খুব উৎসাহিত করলেন এবং তার ফযীলত বর্ণনা করলেন। তিনি বললেন, তোমরা কুরআন শিক্ষা কর। তারপর তার ফযীলত ব্যাখ্যা করে বললেন, কিয়ামতের দিন মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনের মুহূর্তে কুরআন সুন্দর রূপ ধারণ করে তার পাঠকের নিকট উপস্থিত হবে। অতঃপর তাকে বলবে, আমাকে চিন? লোকটি বলবে, তুমি কে? সে অবাক হয়ে বলবে, আমাকে চিন না? আমাকে না তুমি খুব পছন্দ করতে, সম্মান করতে, আমার জন্য রাত জেগে থাকতে, দিনেও আমাকে নিয়ে পড়ে থাকতে! তখন লোকটি বলবে, সম্ভবত তুমি কুরআন। এরপর তাকে আল্লাহর দরবারে নিয়ে যাওয়া হবে। তার বাম হাতে জান্নাতের মালিকানা এবং ডান হাতে অমরত্ব দান করা হবে, মাথায় রাজমুকুট পরানো হবে, তার মুসলমান পিতা-মাতাকে এমন দু'টি পোশাক পরিধান করানো হবে, যার মূল্য কয়েক দুনিয়ার চেয়েও বেশি। তখন তারা বলবে, এই নেয়ামত আমরা কীভাবে পেলাম? আমাদের আমলের বিনিময় তো সম্ভব ছিল না! তখন বলা হবে, তোমাদের এই নিয়ামত, তোমাদের সন্তানের কুরআন পাঠের বিনিময়।

টিকাঃ
২২৭. হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৫/১০৭; হাদীসটি সনদ দুর্বল [মাজমা: ৭/১৬০]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দুই উজ্জ্বল সূরা

📄 দুই উজ্জ্বল সূরা


عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : تَعَلَّمُوا الزَّهْرَاوَيْنِ. فَإِنَّهُمَا يَأْتِيَانِ أَهْلَهُمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ، أَوْ غَيَابَتَانِ، أَوْ فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافٌ بِأَجْنِحَتِهِمَا وَيُحَاجَانِ عَنْ أَهْلِيهِمَا. ثُمَّ قَالَ: تَعَلَّمُوا الْبَقَرَةَ فَإِنَّ أَخْذَهَا بَرَكَةً، وَتَرْكَهَا حَسْرَةً، وَلَا يَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ، ثُمَّ قَالَ: هُذَا لِمَنْ تَعَلَّمَهُ، وَلَمْ يَلْغُ فِيهِ، وَيَعْمَلُ بِهِ، وَلَمْ يَجْفُ عَنْهُ، وَلَمْ يَسْتَأْكِلْ بِهِ।

আবু উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, তোমরা দুই উজ্জ্বল সূরা (অর্থাৎ, বাকারা ও আলে ইমরান) শিক্ষা কর। কারণ, এ দু'টি কিয়ামতের দিন ডানা মেলা দুই ঝাঁক পাখির ন্যায় হাজির হবে এবং তাদের হয়ে প্রতিবাদ করবে। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা সূরা বাকারা শিক্ষা কর। কারণ, সূরা বাকারা গ্রহণ করতে পারা বরকতের কারণ, তাকে ত্যাগ করা আফসোসের কারণ। তিনি আরো বললেন, যে তা পাঠ করবে যাদুকররা তার ক্ষতি করতে পারবে না। তারপর তিনি বললেন, এই ফযীলত তার জন্য যে তা শিক্ষা করবে, সে অনুসারে আমল করবে, তার থেকে মুখ ফিরিয়ে না নিবে এবং তাকে উপার্জনের মাধ্যমে না বানাবে।

টিকাঃ
২২৮. সহীহ মুসলিম: হাদীস-৮০৪।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কুরআন খতমকারীর ফযীলত

📄 কুরআন খতমকারীর ফযীলত


عَنْ سَعْدِ ابْنِ أَبِي وَقَّاصٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ خَتَمَ الْقُرْآنَ نَهَارًا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُمْسِي، وَمَنْ خَتَمَهُ لَيْلًا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُصْبِحَ.

হযরত সাআদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি. বলেন, যে ব্যক্তি দিনে কুরআন খতম করে, সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার জন্য দোয়া করতে থাকেন। আর যে রাতে কুরআন খতম করে, সকাল পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তার জন্য দোয়া করতে থাকেন। (সাহাবায়ে কেরাম দিনেই কুরআন খতম করা পছন্দ করতেন।)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহ. বলেন, সাহাবায়ে কেরাম দীর্ঘসময় ফেরেশতাদের দুআর জন্য গ্রীষ্মকালে দিনের শুরুভাগে এবং শীতকালে রাতের শুরুভাগে কুরআন খতম করতেন।

টিকাঃ
২২৯. কানযুল উম্মাল: হাদীস-২৩১৯।

ফন্ট সাইজ
15px
17px