📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আল্লাহর প্রশংসিত ও ফেরেশতাদের আলোচিত ব্যক্তি

📄 আল্লাহর প্রশংসিত ও ফেরেশতাদের আলোচিত ব্যক্তি


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمْ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: مَنْ نَفْسَ عَنْ أَخِيهِ الْمُؤْمِن كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الْآخِرَةِ، وَمَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ يَسَّرَ اللهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَ اللهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا دَامَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ. وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللهُ لَهُ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ، وَمَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللهِ، يَتْلُونَ كِتَابَ اللهِ تَعَالَى، وَيَتَدَارَسُونَهُ فِيمَا بَيْنَهُمْ، إِلَّا نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ، وَحَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ، وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ تَعَالَى فِيمَنْ عِنْدَهُ.

আবূ হুরায়রা রাযি. কর্তৃক বর্ণিত। নবী করীম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের একটি পার্থিব দুর্ভোগ দূরীভূত করবে, আল্লাহ তা'আলা তার কিয়ামতের দিনের দুর্ভোগসমূহের মধ্যে কোনো একটি দুর্ভোগ দূর করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো ঋণ পরিশোধে অক্ষম ব্যক্তির প্রতি কোমল আচরণ করবে, আল্লাহ তা'আলা দুনিয়া ও আখেরাতে তার প্রতি কোমল আচরণ করবেন। আর যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা তার মুসলিম ভাইয়ের সহযোগিতা করতে থাকে, আল্লাহ তা'আলাও সে বান্দার সাহায্য করতে থাকেন। যে ব্যক্তি (দীনী) জ্ঞান অর্জন করার জন্য পথ চলে, তার জন্য আল্লাহ তা'আলা জান্নাতর পথ সহজ করে দেন। আর যখনই কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর কোনো এক ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে ও নিজেদের মধ্যে তা অধ্যয়ন করে, তখনই (আল্লাহর পক্ষ থেকে) তাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়, তাদেরকে (আল্লাহর) রহমত আচ্ছাদিত করে নেয়, ফেরেস্তাগণ তাদেরকে ঘিরে নেয় এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তী (ফেরেস্তা) দের মধ্যে তাদের কথা আলোচনা করেন।

টিকাঃ
২১৮. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৬৯৯; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৯৪৫; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-২২৫।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 হাফেজের মর্যাদা

📄 হাফেজের মর্যাদা


عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنِ اسْتَظْهَرَ الْقُرْآنَ خَفَّفَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عَنْ أَبَوَيْهِ الْعَذَابَ وَإِنْ كَانَا كَافِرَيْنِ.

হযরত ইয়াজিদ ইবনে আবূ হাবিব রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কুরআন মুখস্থ করবে তার পিতা-মাতা যদি কাফেরও হয় আল্লাহ তাদের শাস্তি লাঘব করে দিবেন।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ : مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فَكَأَنَّمَا أُدْرِجَتِ النُّبُوَّةُ بَيْنَ جَنْبَيْهِ إِلَّا أَنَّهُ لَا يُوحَى إِلَيْهِ، وَمَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فَرَأَى أَنَّ أَحَدًا مِنْ خَلْقِ اللَّهِ تَعَالَى أُعْطِيَ أَفْضَلُ مِمَّا أُعْطِيَ، فَقَدْ حَقَّرَ مَا عَظَّمَ اللهُ، وَعَظَمَ مَا حَقَّرَ اللَّهُ تَعَالَى، وَلَيْسَ يَنْبَغِي لِحَامِلِ الْقُرْآنِ أَنْ يَجْهَلَ، فِيمَنْ يَجْهَلُ وَلَا يَجِدُ فِيمَنْ يَجِدُ، وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَصْفَح.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কুরআনের ইলম হাসিল করল, নবুওয়াত যেন তার বুকে ঢুকে গেল। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, তার উপর ওহী নাযিল হয়নি। আর যে ব্যক্তি কুরআনের ইলম হাসিল করার পর মনে করে যে, কাউকে তার চেয়ে উত্তম জিনিস দান করা হয়েছে, তাহলে সে ওই নিয়ামতের অসম্মান করল- আল্লাহ যা সম্মানিত করেছেন। কুরআনের ধারক-বাহকের মূর্খতাসুলভ আচরণ করা, কারো সাথে রাগারাগি করা উচিত নয়। বরং তার উচিত সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন- যিনبغي لِحَامِلِ الْقُرْآنِ أَنْ يُعْرَفَ بِلَيْلِهِ، إِذَا النَّاسُ نَائِمُونَ، وَبِنَهَارِهِ يَصُومُ إِذَا النَّاسُ مُفْطِرُونَ، وَبِحُزْنِهِ إِذَا النَّاسُ يَفْرَحُونَ، وَبِحُزْنِهِ إِذَا النَّاسُ يَضْحَكُونَ، وَبِخُشُوعِهِ إِذَا النَّاسُ يَخْتَالُونَ، وَيَنْبَغِي لِحَامِلِ الْقُرْآنِ أَنْ يَكُونَ بَاكِيًا، حَزِينًا، حَلِيمًا، سَكِينًا، لَيِّنًا، وَلَا يَنْبَغِي لِحَامِلِ الْقُرْآنِ، أَنْ يَكُونَ حَافِيًا، وَلَا غَافِلًا، وَلَا صَيَّاحًا، وَلَا حَدِيدًا

রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে পড়ে, কুরআনের ধারক-বাহকের উচিত তখন ইবাদত করা। দিনে মানুষ যখন পানাহার করে তখন তার উচিত রোযা রাখা। মানুষ যখন আনন্দ উল্লাস করে তখন তার উচিত চিন্তা ফিকির করা। মানুষ যখন হাসি-তামাশায় মেতে থাকে তখন তার উচিত কান্না করা। মানুষ যখন অহংকার করে, তখন তার উচিত বিনয় অবলম্বন করা। কুরআনের বাহকের উচিত ক্রন্দনশীল, গম্ভীর, চিন্তাশীল, সহনশীল, শান্ত ও নম্র হওয়া। অভদ্র, উদাসীন, চিৎকারকারী এবং কঠোর না হওয়া।

টিকাঃ
২১৯. কিতাবুল মাজরূহীন : ২/৩১১; হাদীসটি জাল বলে প্রতীয়মান হয়। কেননা সনদে জাল হাদীস বর্ণনাকারী রাবী বিদ্যমান [আত-তানযীহ লি-ইবনে আররাক: ১/২৯৩]।
২২০. শুআবুল ঈমান: হাদীস-২৫৯০; মুস্তাদরাকে হাকেম: ১/৫৫২; হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আর যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।
২২১. শুআবুল ঈমান: হাদীস-১৮০৭১।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 তিন অসহায়

📄 তিন অসহায়


হযরত মুআয ইবনে জাবাল রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, তিনটি জিনিস তিন জায়গায় খুবই অসহায়। যথা-
১. জালেমের বুকে কুরআন।
২. অসৎ সমাজে সৎলোক।
৩. তিলাওয়াতহীন ঘরে রক্ষিত কুরআন।

টিকাঃ
২২২. আল-ফিরদাউস হাদীস- ৪৩০১; সনদে মাজহুল রাবী বিদ্যমান [ফাইজুল কাদীর লিল-মুনাবী: ৪/৪০৯]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কুরআনের বিশেষ কয়েকটি ফযীলত

📄 কুরআনের বিশেষ কয়েকটি ফযীলত


হযরত মুহাম্মাদ ইবনে কা'ব কুরযী রহ. বলেন, যে ব্যক্তি কুরআনের ইলম হাসিল করল, সে যেন রাসূল -এর দর্শন লাভ করল। তারপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন-
وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ
অর্থ: আমার নিকট এই কুরআনকে ওহীরূপে পাঠানো হয়েছে, যাতে আমি তার মাধ্যমে তোমাদেরকে এবং যাদের নিকট তা পৌঁছবে তাদেরকে সতর্ক করতে পারি।

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ قَالَ قَالَ : إِنَّ عَدَدَ دَرَجٍ الجَنَّةِ عَددُ أَي القُرْآنِ
হযরত আয়শা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেছেন, জান্নাতের স্তর হলো, কুরআনের আয়াত সমপরিমাণ।

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ اقْرَأْ وَارْقَ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَتَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا
আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, কুরআনের পাঠককে বলা হবে, তুমি পাঠ কর এবং আরোহণ কর। যেমন দুনিয়াতে পাঠ করতে। কারণ, তোমার ঠিকানা সর্বশেষ আয়াত পর্যন্ত, যা তুমি পাঠ করবে। ফহীক রহ. বলেন, কারো যদি (উদাহরণত) কুরআনের অর্ধেক মুখস্থ থাকে তাহলে তাকে বলা হবে, তোমার কাছে কুরআনের আরো আয়াত থাকলে আমরা তোমাকে আরো মর্তবা দান করতাম।

عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلَى، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ مِنَ الصَّلَاةِ، وَهُوَ قَائِمُ فَلَهُ بِكُلِّ حَرْفٍ مِائَةُ حَسَنَةٍ، وَمَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فِي الصَّلَاةِ قَاعِدًا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ حَرْفٍ خَمْسِينَ حَسَنَةٍ، وَمَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فِي غَيْرِ الصَّلَاةِ، فَلَهُ بِكُلِّ حَرْفٍ عَشْرُ حَسَنَاتٍ، وَمَنِ اسْتَمَعَ إِلَى شَيْءٍ مِنْ كِتَابِ اللهِ، وَهُوَ يُرِيدُ الْأَجْرَ كُتِبَ لَهُ بِكُلِّ حَرْفٍ حَسَنَةٌ، وَمَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ حَتَّى يَخْتِمَهُ، كَانَتْ لَهُ عِنْدَ اللهِ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ إِمَّا مُعَجَّلَةٌ وَإِمَّا مُؤَجَّلَةٌ।

হযরত হুসাইন ইবনে আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নামাযে দাঁড়িয়ে কুরআন তিলাওয়াত করবে, সে প্রতিটি হরফের বিনিময়ে এক শত নেকি পাবে। আর যে ব্যক্তি নামাযে বসে কুরআন তিলাওয়াত করবে সে প্রতিটি হরফের বিনিময়ে পাবে পঞ্চাশটি নেকি। আর যে ব্যক্তি নামায ছাড়া অন্য সময় কুরআন তিলাওয়াত করবে সে প্রতিটি হরফের বিনিময়ে দশটি নেকি পাবে। যে ব্যক্তি সওয়াব লাভের আশায় কুরআন শুনবে, সেও প্রতিটি হরফের বিনিময়ে একটি করে নেকি পাবে। আর যে ব্যক্তি পুরো খতম করবে আল্লাহ তা'আলা তার একটি দোয়া অবশ্যই কবুল করবেন। চাই তা দুনিয়ায় হোক বা আখেরাতে।

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : ثَلَاثَةٌ لَا يَسْتَخِفُ بِحَقِّهِنَّ إِلَّا مُنَافِقُ : إِمَامُ قِسْطٍ، وَذُو شَيْبَةٍ فِي الْإِسْلَامِ، وَحَامِلُ الْقُرْآنِ.
আবু উমামা ইবনে সাহল রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী করীম ইরশাদ করেন, মুনাফিক ছাড়া অন্য কেউ এই তিন ব্যক্তিকে অসম্মান করতে পারে না। যথা- ১. ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ। ২. বয়োবৃদ্ধ মুসলিম। ৩. কুরআনের ধারক-বাহক।

টিকাঃ
২২৩. সূরা আনআম: আয়াত-১৯
২২৪. সুনানে আবী দাউদ হাদীস- ১৪৬৪; সুনানে তিরমিযী হাদীস- ২৯১৪; মুসনাদে আহমাদ: ১১/৪০৩; সাননে ইবনে মাজাহ হাদীস- ৩৭৮০; হাদীসটি সহীহ [শুয়াইব আরনাউত]।

ফন্ট সাইজ
15px
17px