📄 কুরআনের সুপারিশ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّهُ قَالَ : الْقُرْآنُ شَافِعُ مُشَفَعُ، وَمَاحِلُ مُصَدَّقُ فَمَنْ جَعَلَهُ أَمَامَهُ قَادَهُ إِلَى الْجَنَّةِ، وَمَنْ جَعَلَهُ خَلْفَهُ سَاقَهُ إِلَى النَّارِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, কুরআন সুপারিশকারী এবং তার সুপারিশ কবুল করাও হবে। অনুরূপ কুরআন অভিযোগকারী এবং তার অভিযোগ গ্রহণ করা হবে। যে ব্যক্তি কুরআনকে সম্মুখে রাখবে অর্থাৎ, কুরআনের বিধান মেনে চলবে, কুরআন তাকে পথ দেখিয়ে জান্নাতে নিয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পিছনে রাখবে। অর্থাৎ, কুরআনের বিধান অনুসারে জীবনযাপন করবে না, কুরআন তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে।
عَنْ نَافِعِ بْنِ عَبْدِ الْحَارِثِ وَكَانَ عَامِلَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عَلَى مَكَّةَ، فَخَرَجَ يَتَلَقَّى عُمَرَ فِي بَعْضِ حَاجَاتِهِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ : مَنِ اسْتَعْمَلْتَ عَلَى مَكَّةَ، قَالَ : عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي أَبْزِيّ . قَالَ لَهُ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ : تَسْتَعْمِلُ رَجُلًا مِنَ الْمَوَالِي عَلَى قُرَيْشٍ؟ قَالَ : يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنِّي لَمْ أَدَعْ خَلْفِي أَحَدًا أَقْرَأَ لِلْقُرْآنِ مِنْهُ، قَالَ لَهُ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ : نَعَمْ، إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى رَفَعَ بِالْقُرْآنِ رِجَالًا، وَوَضَعَ رِজَالًا وَإِنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي أَبْرَى مِمَّنْ رَفَعَهُ اللَّهُ بِالْقُرْآنِ।
হযরত উমর রাযি.-এর শাসন আমলে হযরত নাফে' ইবনে হারিস মক্কার গভর্নর ছিলেন। একবার কোনো কাজে খলীফা উমরের সাথে সাক্ষাৎ করতে মদীনায় গেলেন। উমর রাযি. তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, মক্কায় তোমার জায়গায় কাকে রেখে এসেছ? তিনি বললেন, আব্দুর রহমান ইবনে আবু আবযাকে। উমর রাযি. বললেন, কুরাইশদের উপর একজন দাসকে কীভাবে দায়িত্বশীল বানালে? তিনি বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আমার জায়গায় আমি যাকে দায়িত্বশীল নিযুক্ত করেছি সে বর্তমান সময়ের কুরআনের বিজ্ঞদের অন্যতম। উমর রাযি. বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহ কুরআনের মাধ্যমে কাউকে উপরে উঠান আবার কাউকে নিচে নামান। কুরআনের মাধ্যমে যারা উঁচু মাকাম লাভ করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে আবু আবুযা তাঁদের একজন।
টিকাঃ
২১৫. সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস-১২৪; হিলইয়াতুল আউলিয়া ৪/১০৮; হাদীসটি সহীহ [আত্-তারগীব, মুনযিরী: ২/২৯৮]।
📄 কুরআনের প্রতি হরফে দশ নেকি
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَডِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمْ، قَالَ : إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ مَأْدُبَةُ اللهِ فَتَعَلَّمُوا مَأْدُبَةَ اللهِ تَعَالَى مَا اسْتَطَعْتُمْ، إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ حَبْلُ اللهِ الْمَتِينُ، وَنُورٌ مُبِينٌ، وَشِفَاءُ نَافِعُ، وَعِصْمَةٌ لِمَنْ تَمَسَّكَ بِهِ، وَمَنْجَاةٌ لِمَنْ تَبِعَهُ لَا يَعْوَجُ فَيُقَوَّمُ وَلَا يَزِيعُ فَيُسْتَعْتَبُ، وَلَا تَنْقَضِي عَجَائِبُهُ، وَلَمْ يَخْلُقُ عَنْ كَثْرَةِ التَّرْدَادِ اتْلُوهُ فَإِنَّ اللهَ تَعَالَى يَأْجُرُكُمْ عَلَى تِلَاوَتِهِ بِكُلِّ حَرْفٍ عَشْرَ حَسَنَاتٍ، أَمَا إِنِّي لَا أَقُولُ : الم عَشَرَةٌ وَلَكինِ الْأَلِفُ عَشَرَةٌ، وَاللَّامُ عَشَرَةٌ، وَالْمِيمُ عَشَرَةُ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, কুরআন হলো, আল্লাহ তা'আলার পরিবেশিত দস্তরখান। তাই সাধ্যমত তা থেকে আহরণ কর। এই কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে মজবুত রশি, উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা, উপকারী আরোগ্য, এর সাথে সম্পৃক্তদের জন্য রক্ষাকবচ, তার অনুসারীর জন্য নাজাতের ওসিলা। কুরআন কখনো কাউকে বক্র রাস্তা বা বিপদে ঠেলে দেয় না। কুরআনের মুজিযা শেষ হবার নয়। বারংবার পড়ার ফলে তা পুরোনো হয় না। তোমরা বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত কর। প্রতিটি হরফের বিনিময়ে আল্লাহ তোমাদেরকে দশ নেকি দান করবেন। আমি বলি না যে, আলিফ লাম মীম এর বিনিময়ে দশটি নেকি দেয়া হবে, বরং আলিফ এর বিনিময়ে দশটি লাম এর বিনিময়ে দশটি এবং মীম এর বিনিময়ে দশটি নেকি দেয়া হবে।
টিকাঃ
২১৭. মুস্তাদরাকে হাকেম: হাদীস-২০৪০; সুনানে বাইহাকী: হাদীস-১৯৩৩; হাদীসটির মারফু বর্ণনা জয়ীফ তবে এটি ইবনে মাসউদের বক্তব্য হিসেবে সহীহ [আল-ইতহাফ : ৬/৩২৮; তাখরীজে আকীদাতুত ত্বহাবী লি-শুয়াইব আরনাউত: হাদীস-০৯]।
📄 আল্লাহর প্রশংসিত ও ফেরেশতাদের আলোচিত ব্যক্তি
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمْ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: مَنْ نَفْسَ عَنْ أَخِيهِ الْمُؤْمِن كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الْآخِرَةِ، وَمَنْ يَسَّرَ عَلَى مُعْسِرٍ يَسَّرَ اللهُ عَلَيْهِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَ اللهُ فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا دَامَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ. وَمَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللهُ لَهُ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ، وَمَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللهِ، يَتْلُونَ كِتَابَ اللهِ تَعَالَى، وَيَتَدَارَسُونَهُ فِيمَا بَيْنَهُمْ، إِلَّا نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ، وَحَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ، وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ تَعَالَى فِيمَنْ عِنْدَهُ.
আবূ হুরায়রা রাযি. কর্তৃক বর্ণিত। নবী করীম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের একটি পার্থিব দুর্ভোগ দূরীভূত করবে, আল্লাহ তা'আলা তার কিয়ামতের দিনের দুর্ভোগসমূহের মধ্যে কোনো একটি দুর্ভোগ দূর করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো ঋণ পরিশোধে অক্ষম ব্যক্তির প্রতি কোমল আচরণ করবে, আল্লাহ তা'আলা দুনিয়া ও আখেরাতে তার প্রতি কোমল আচরণ করবেন। আর যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা তার মুসলিম ভাইয়ের সহযোগিতা করতে থাকে, আল্লাহ তা'আলাও সে বান্দার সাহায্য করতে থাকেন। যে ব্যক্তি (দীনী) জ্ঞান অর্জন করার জন্য পথ চলে, তার জন্য আল্লাহ তা'আলা জান্নাতর পথ সহজ করে দেন। আর যখনই কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর কোনো এক ঘরে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে ও নিজেদের মধ্যে তা অধ্যয়ন করে, তখনই (আল্লাহর পক্ষ থেকে) তাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হয়, তাদেরকে (আল্লাহর) রহমত আচ্ছাদিত করে নেয়, ফেরেস্তাগণ তাদেরকে ঘিরে নেয় এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তী (ফেরেস্তা) দের মধ্যে তাদের কথা আলোচনা করেন।
টিকাঃ
২১৮. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৬৯৯; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৯৪৫; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-২২৫।
📄 হাফেজের মর্যাদা
عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنِ اسْتَظْهَرَ الْقُرْآنَ خَفَّفَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عَنْ أَبَوَيْهِ الْعَذَابَ وَإِنْ كَانَا كَافِرَيْنِ.
হযরত ইয়াজিদ ইবনে আবূ হাবিব রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কুরআন মুখস্থ করবে তার পিতা-মাতা যদি কাফেরও হয় আল্লাহ তাদের শাস্তি লাঘব করে দিবেন।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ : مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فَكَأَنَّمَا أُدْرِجَتِ النُّبُوَّةُ بَيْنَ جَنْبَيْهِ إِلَّا أَنَّهُ لَا يُوحَى إِلَيْهِ، وَمَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فَرَأَى أَنَّ أَحَدًا مِنْ خَلْقِ اللَّهِ تَعَالَى أُعْطِيَ أَفْضَلُ مِمَّا أُعْطِيَ، فَقَدْ حَقَّرَ مَا عَظَّمَ اللهُ، وَعَظَمَ مَا حَقَّرَ اللَّهُ تَعَالَى، وَلَيْسَ يَنْبَغِي لِحَامِلِ الْقُرْآنِ أَنْ يَجْهَلَ، فِيمَنْ يَجْهَلُ وَلَا يَجِدُ فِيمَنْ يَجِدُ، وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَصْفَح.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কুরআনের ইলম হাসিল করল, নবুওয়াত যেন তার বুকে ঢুকে গেল। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, তার উপর ওহী নাযিল হয়নি। আর যে ব্যক্তি কুরআনের ইলম হাসিল করার পর মনে করে যে, কাউকে তার চেয়ে উত্তম জিনিস দান করা হয়েছে, তাহলে সে ওই নিয়ামতের অসম্মান করল- আল্লাহ যা সম্মানিত করেছেন। কুরআনের ধারক-বাহকের মূর্খতাসুলভ আচরণ করা, কারো সাথে রাগারাগি করা উচিত নয়। বরং তার উচিত সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন- যিনبغي لِحَامِلِ الْقُرْآنِ أَنْ يُعْرَفَ بِلَيْلِهِ، إِذَا النَّاسُ نَائِمُونَ، وَبِنَهَارِهِ يَصُومُ إِذَا النَّاسُ مُفْطِرُونَ، وَبِحُزْنِهِ إِذَا النَّاسُ يَفْرَحُونَ، وَبِحُزْنِهِ إِذَا النَّاسُ يَضْحَكُونَ، وَبِخُشُوعِهِ إِذَا النَّاسُ يَخْتَالُونَ، وَيَنْبَغِي لِحَامِلِ الْقُرْآنِ أَنْ يَكُونَ بَاكِيًا، حَزِينًا، حَلِيمًا، سَكِينًا، لَيِّنًا، وَلَا يَنْبَغِي لِحَامِلِ الْقُرْآنِ، أَنْ يَكُونَ حَافِيًا، وَلَا غَافِلًا، وَلَا صَيَّاحًا، وَلَا حَدِيدًا
রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে পড়ে, কুরআনের ধারক-বাহকের উচিত তখন ইবাদত করা। দিনে মানুষ যখন পানাহার করে তখন তার উচিত রোযা রাখা। মানুষ যখন আনন্দ উল্লাস করে তখন তার উচিত চিন্তা ফিকির করা। মানুষ যখন হাসি-তামাশায় মেতে থাকে তখন তার উচিত কান্না করা। মানুষ যখন অহংকার করে, তখন তার উচিত বিনয় অবলম্বন করা। কুরআনের বাহকের উচিত ক্রন্দনশীল, গম্ভীর, চিন্তাশীল, সহনশীল, শান্ত ও নম্র হওয়া। অভদ্র, উদাসীন, চিৎকারকারী এবং কঠোর না হওয়া।
টিকাঃ
২১৯. কিতাবুল মাজরূহীন : ২/৩১১; হাদীসটি জাল বলে প্রতীয়মান হয়। কেননা সনদে জাল হাদীস বর্ণনাকারী রাবী বিদ্যমান [আত-তানযীহ লি-ইবনে আররাক: ১/২৯৩]।
২২০. শুআবুল ঈমান: হাদীস-২৫৯০; মুস্তাদরাকে হাকেম: ১/৫৫২; হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আর যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।
২২১. শুআবুল ঈমান: হাদীস-১৮০৭১।