📄 দুআ কবুল হওয়ার সময়
বর্ণিত আছে, হযরত মূসা আ. একবার আল্লাহ তা'আলাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, রব! কখন দোয়া করলে আপনি কবুল করবেন? আল্লাহ বললেন, মূসা! তুমি আমার বান্দা আর আমি তোমার রব, যখনই তুমি আমাকে ডাকবে তখনই আমি তোমার ডাকে সাড়া দিব। হযরত মূসা আ. কয়েকবার একই প্রশ্ন করলে আল্লাহ তাঁকে বললেন, তাহলে মধ্যরাতে আমার নিকট দোয়া করবে। কারণ, এই সময় আমি জালিমের দুআও কবূল করি।
বর্ণিত আছে, একদা হযরত রাবেয়া রহ. একটি গোরস্থানে গেলেন। এক ব্যক্তি তাঁকে দোয়া করতে বলল। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন, আল্লাহর আনুগত্য কর এবং তাঁর নিকট বেশি বেশি দোয়া কর। কারণ, কোনো অসহায় ব্যক্তি তাঁর নিকট দোয়া করলে, তা কবুল করেন।
عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ: يَقُولُ اللهُ تَعَالَى: مَنْ شَغَلَهُ ذِكْرِي عَنْ مَسْأَلَتِي أَعْطَيْتُهُ أَفْضَلَ مَا أُعْطِي السَّائِلِينَ.
হযরত মালেক ইবনুল হারিস রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার যিকিরে ব্যস্ত থাকার কারণে যে ব্যক্তি আমার নিকট চাইতে পারে না, আমি তাকে প্রার্থনাকারীদের থেকেও বেশি দান করি।
বর্ণিত আছে, হযরত মূসা আ. একবার আল্লাহ তা'আলাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, রব! কখন দোয়া করলে আপনি কবুল করবেন? আল্লাহ বললেন, মূসা! তুমি আমার বান্দা আর আমি তোমার রব, যখনই তুমি আমাকে ডাকবে তখনই আমি তোমার ডাকে সাড়া দিব। হযরত মূসা আ. কয়েকবার একই প্রশ্ন করলে আল্লাহ তাঁকে বললেন, তাহলে মধ্যরাতে আমার নিকট দোয়া করবে। কারণ, এই সময় আমি জালিমের দুআও কবূল করি।
বর্ণিত আছে, একদা হযরত রাবেয়া রহ. একটি গোরস্থানে গেলেন। এক ব্যক্তি তাঁকে দোয়া করতে বলল। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন, আল্লাহর আনুগত্য কর এবং তাঁর নিকট বেশি বেশি দোয়া কর। কারণ, কোনো অসহায় ব্যক্তি তাঁর নিকট দোয়া করলে, তা কবুল করেন।
عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ: يَقُولُ اللهُ تَعَالَى: مَنْ شَغَلَهُ ذِكْرِي عَنْ مَسْأَلَتِي أَعْطَيْتُهُ أَفْضَلَ مَا أُعْطِي السَّائِلِينَ.
হযরত মালেক ইবনুল হারিস রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার যিকিরে ব্যস্ত থাকার কারণে যে ব্যক্তি আমার নিকট চাইতে পারে না, আমি তাকে প্রার্থনাকারীদের থেকেও বেশি দান করি।
📄 দুআ কবূল না হওয়ার কারণসমূহ
জনৈক দরবেশকে জিজ্ঞেস করা হলো, অনেক সময় আমাদের দোয়া কবুল করা হয় না। অথচ আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ অর্থ: তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। তিনি বললেন, তোমাদের সাতটি স্বভাব তোমাদের দুআকে আকাশে উঠতে দেয় না। লোকেরা বলল সেগুলো কী কী? তিনি বললেন-
১. তোমরা তোমাদের রবকে রাগান্বিত করে রেখেছো। অতঃপর অনুতপ্ত হয়ে তাঁর জন্য তওবা করনি। অর্থাৎ, তোমরা এমন আমল কর, যার কারণে তিনি রাগান্বিত হন।
২. তোমরা দাবি কর যে, তোমরা আল্লাহর দাস অথচ তোমরা গোলামের মতো আচরণ কর না। অর্থাৎ, দাস মনিবের সাথে যে আচরণ করে, তোমরা আল্লাহর সাথে সে আচরণ কর না।
৩. তোমরা কুরআন পাঠ কর কিন্তু উপলব্ধি কর না ও সে অনুসারে আমল কর না।
৪. তোমরা দাবি কর যে, তোমরা নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর উম্মত। অথচ তাঁর সুন্নতের অনুসরণ কর না। অর্থাৎ, তোমরা মন চাহি যথেচ্ছা আমল কর, সুন্নতের প্রতি ভ্রুক্ষেপ কর না।
৫. তোমরা বল, দুনিয়া আল্লাহর নিকট মাছির ডানার সমান মূল্যবানও নয়, অথচ তোমরা দুনিয়ার পিছনে পড়ে থাক।
৬. তোমরা বল, দুনিয়া ধ্বংসশীল অথচ এমন কাজ কর, যাতে মনে হয়, তোমরা চিরদিন দুনিয়াতে থাকবে।
৭. তোমরা দাবি কর যে, পরকাল দুনিয়া থেকে উত্তম। অথচ তোমরা দুনিয়াকে প্রাধান্য দাও, পরকাল নয়।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, দোয়া করার পূর্বে পেটকে হারাম খাবার থেকে পবিত্র করে নিতে হবে। কারণ, হারাম ভোগ দোয়া কবুলের প্রধান বাধা। অন্যথায় দোয়া কবুল হবে না।
عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَدْعُو اللَّهَ فَلَا يَسْتَجِيبُ لِي دُعَائِي. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَا سَعْدُ اجْتَنِبِ الْحَرَامَ، فَإِنَّ كُلَّ بَطْنٍ دَخَلَ فِيهِ لُقْمَةٌ مِنْ حَرَامِ لَا يُسْتَجَابُ دُعَاؤُهُ أَرْبَعِينَ يَوْمًا.
সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর নিকট দোয়া করি কিন্তু তিনি আমার দোয়া কবুল করেন না। তখন নবীজী বললেন, হে সাদ! হারাম থেকে বিরত থাকো। কারণ, যে অন্তরে হারামের এক লোকমা পরিমাণ খাবারও প্রবেশ করে, তার দোয়া চল্লিশ দিন পর্যন্ত কবুল হয় না।
টিকাঃ
১৭২. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১০১৫; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৯৮৯; ত্ববারানী আওসাত হাদীস-৫০২৬।
জনৈক দরবেশকে জিজ্ঞেস করা হলো, অনেক সময় আমাদের দোয়া কবুল করা হয় না। অথচ আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ অর্থ: তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। তিনি বললেন, তোমাদের সাতটি স্বভাব তোমাদের দুআকে আকাশে উঠতে দেয় না। লোকেরা বলল সেগুলো কী কী? তিনি বললেন-
১. তোমরা তোমাদের রবকে রাগান্বিত করে রেখেছো। অতঃপর অনুতপ্ত হয়ে তাঁর জন্য তওবা করনি। অর্থাৎ, তোমরা এমন আমল কর, যার কারণে তিনি রাগান্বিত হন।
২. তোমরা দাবি কর যে, তোমরা আল্লাহর দাস অথচ তোমরা গোলামের মতো আচরণ কর না। অর্থাৎ, দাস মনিবের সাথে যে আচরণ করে, তোমরা আল্লাহর সাথে সে আচরণ কর না।
৩. তোমরা কুরআন পাঠ কর কিন্তু উপলব্ধি কর না ও সে অনুসারে আমল কর না।
৪. তোমরা দাবি কর যে, তোমরা নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর উম্মত। অথচ তাঁর সুন্নতের অনুসরণ কর না। অর্থাৎ, তোমরা মন চাহি যথেচ্ছা আমল কর, সুন্নতের প্রতি ভ্রুক্ষেপ কর না।
৫. তোমরা বল, দুনিয়া আল্লাহর নিকট মাছির ডানার সমান মূল্যবানও নয়, অথচ তোমরা দুনিয়ার পিছনে পড়ে থাক।
৬. তোমরা বল, দুনিয়া ধ্বংসশীল অথচ এমন কাজ কর, যাতে মনে হয়, তোমরা চিরদিন দুনিয়াতে থাকবে।
৭. তোমরা দাবি কর যে, পরকাল দুনিয়া থেকে উত্তম। অথচ তোমরা দুনিয়াকে প্রাধান্য দাও, পরকাল নয়।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, দোয়া করার পূর্বে পেটকে হারাম খাবার থেকে পবিত্র করে নিতে হবে। কারণ, হারাম ভোগ দোয়া কবুলের প্রধান বাধা। অন্যথায় দোয়া কবুল হবে না।
عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَدْعُو اللَّهَ فَلَا يَسْتَجِيبُ لِي دُعَائِي. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَا سَعْدُ اجْتَنِبِ الْحَرَامَ، فَإِنَّ كُلَّ بَطْنٍ دَخَلَ فِيهِ لُقْمَةٌ مِنْ حَرَامِ لَا يُسْتَجَابُ دُعَاؤُهُ أَرْبَعِينَ يَوْمًا.
সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর নিকট দোয়া করি কিন্তু তিনি আমার দোয়া কবুল করেন না। তখন নবীজী বললেন, হে সাদ! হারাম থেকে বিরত থাকো। কারণ, যে অন্তরে হারামের এক লোকমা পরিমাণ খাবারও প্রবেশ করে, তার দোয়া চল্লিশ দিন পর্যন্ত কবুল হয় না।
টিকাঃ
১৭২. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১০১৫; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৯৮৯; ত্ববারানী আওসাত হাদীস-৫০২৬।
📄 ফেরআউনের ধ্বংসের জন্য মূসা আ.-এর দুআ
হযরত মূসা আ. ফেরাউনের ধ্বংসের জন্য বদদোয়া করছিলেন। হযরত হারুন আ. তাঁর দুআয় আমিন, আমিন! বলছিলেন। আল্লাহ তা'আলা ওহী পাঠালেন, তোমাদের দু'জনের দোয়া কবুল করা হলো। সুতরাং উভয় অবিচল থাক। হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, প্রায় চল্লিশ বছর পর এর ফলাফল প্রকাশ পেয়েছিল।
হযরত মূসা আ. ফেরাউনের ধ্বংসের জন্য বদদোয়া করছিলেন। হযরত হারুন আ. তাঁর দুআয় আমিন, আমিন! বলছিলেন। আল্লাহ তা'আলা ওহী পাঠালেন, তোমাদের দু'জনের দোয়া কবুল করা হলো। সুতরাং উভয় অবিচল থাক। হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, প্রায় চল্লিশ বছর পর এর ফলাফল প্রকাশ পেয়েছিল।
📄 কল্যাণ-শূন্য ব্যক্তি
জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, চার ব্যক্তির মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। যথা- ১. যে ব্যক্তি রাসূল ﷺ-এর উপর দরূদ পাঠে কৃপণতা করে। ২. যে ব্যক্তি মুআযযিনের ডাকে সাড়া দেয় না। ৩. যে ভালো কাজে সহযোগিতা করে না। ৪. যে ব্যক্তি নামাযের পর নিজের জন্য এবং অন্যান্য মুমিনের জন্য দোয়া করে না।
জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, চার ব্যক্তির মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। যথা- ১. যে ব্যক্তি রাসূল ﷺ-এর উপর দরূদ পাঠে কৃপণতা করে। ২. যে ব্যক্তি মুআযযিনের ডাকে সাড়া দেয় না। ৩. যে ভালো কাজে সহযোগিতা করে না। ৪. যে ব্যক্তি নামাযের পর নিজের জন্য এবং অন্যান্য মুমিনের জন্য দোয়া করে না।