📄 যে সকল দোয়া কবূল করা হয়
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَدْعُو بِدُعَاءِ إِلَّا اسْتُجِيبَ لَهُ، فَإِمَّا أَنْ يُعَجَّلَ لَهُ فِي الدُّنْيَا، وَإِمَّا أَنْ يُدَّخَرَ لَهُ فِي الْآخِرَةِ وَإِمَّا أَنْ يُكَفِّرَ مِنْ ذُنُوبِهِ بِقَدْرِ مَا دَعَا مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, গুনাহ বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার দোয়া ছাড়া মুসলমান যে দুআই করুক আল্লাহ তা'আলা তার দোয়া কবুল করেন। তাকে হয় তো দুনিয়াতেই তা দিয়ে দিবেন কিংবা পরকালের জন্য জমা করে রাখবেন অথবা এর বিনিময়ের পরিমাণ অনুসারে তার গুনাহ মাফ করে দিবেন।
عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّهُ قَالَ : إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ عَرَضَ اللَّهُ تَعَالَى كُلَّ دَعْوَةٍ دَعَا بِهَا الْعَبْدُ فِي الدُّنْيَا، فَلَمْ يُجَبْ بِهَا فَيَقُولُ لَهُ : عَبْدِي دَعَوْتَنِي يَوْمَ كَذَا، فَأَمْسَكْتُ عَلَيْكَ دَعْوَتَكَ، فَهُذَا الثَّوَابُ مَكَانَ ذَلِكَ الدُّعَاءِ فَلَا يَزَالُ الْعَبْدُ يُعْطِي مِنَ الثَّوَابِ حَتَّى يَتَمَنَّى أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ أَجَابَهُ دَعْوَةً قَطُّ।
হযরত ইয়াযিদ রাকাশী রাযি. বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা বান্দার দুনিয়াতে করা দুআসমূহ তার সামনে পেশ করবেন। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, বান্দা! দুনিয়াতে অমুক অমুক দিন এ দোয়া করেছিলে। আমি তোমার আখেরাতের জন্য এসব দোয়া জমা করে রেখেছিলাম। এই নাও তার সওয়াব। এভাবে বান্দাকে তার প্রতিটি দুআর বিনিময়ে সওয়াব দেওয়া হবে। ফলে বান্দা এ সময় কামনা করবে, হায়! দুনিয়াতে যদি কোনো দুআই কবুল না হতো!
টিকাঃ
১৬৯. তিরমিযী: হাদীস-৩৫৭৩; মুসনাদে আহমাদ: ৩৭/৪৪৮; হাদীসটি সহীহ।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَدْعُو بِدُعَاءِ إِلَّا اسْتُجِيبَ لَهُ، فَإِمَّا أَنْ يُعَجَّلَ لَهُ فِي الدُّنْيَا، وَإِمَّا أَنْ يُدَّخَرَ لَهُ فِي الْآخِرَةِ وَإِمَّا أَنْ يُكَفِّرَ مِنْ ذُنُوبِهِ بِقَدْرِ مَا دَعَا مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, গুনাহ বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার দোয়া ছাড়া মুসলমান যে দুআই করুক আল্লাহ তা'আলা তার দোয়া কবুল করেন। তাকে হয় তো দুনিয়াতেই তা দিয়ে দিবেন কিংবা পরকালের জন্য জমা করে রাখবেন অথবা এর বিনিময়ের পরিমাণ অনুসারে তার গুনাহ মাফ করে দিবেন।
عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّهُ قَالَ : إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ عَرَضَ اللَّهُ تَعَالَى كُلَّ دَعْوَةٍ دَعَا بِهَا الْعَبْدُ فِي الدُّنْيَا، فَلَمْ يُجَبْ بِهَا فَيَقُولُ لَهُ : عَبْدِي دَعَوْتَنِي يَوْمَ كَذَا، فَأَمْسَكْتُ عَلَيْكَ دَعْوَتَكَ، فَهُذَا الثَّوَابُ مَكَانَ ذَلِكَ الدُّعَاءِ فَلَا يَزَالُ الْعَبْدُ يُعْطِي مِنَ الثَّوَابِ حَتَّى يَتَمَنَّى أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ أَجَابَهُ دَعْوَةً قَطُّ।
হযরত ইয়াযিদ রাকাশী রাযি. বলেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা বান্দার দুনিয়াতে করা দুআসমূহ তার সামনে পেশ করবেন। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, বান্দা! দুনিয়াতে অমুক অমুক দিন এ দোয়া করেছিলে। আমি তোমার আখেরাতের জন্য এসব দোয়া জমা করে রেখেছিলাম। এই নাও তার সওয়াব। এভাবে বান্দাকে তার প্রতিটি দুআর বিনিময়ে সওয়াব দেওয়া হবে। ফলে বান্দা এ সময় কামনা করবে, হায়! দুনিয়াতে যদি কোনো দুআই কবুল না হতো!
টিকাঃ
১৬৯. তিরমিযী: হাদীস-৩৫৭৩; মুসনাদে আহমাদ: ৩৭/৪৪৮; হাদীসটি সহীহ।
📄 দুআ ও ইবাদত
হযরত নুমান ইবনে বশীর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, الدُّعاء هُوَ الْعِبَادَةُ অর্থাৎ, দুআও এবাদত। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেন,
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ.
অর্থ: আর তোমাদের রব বলেন, আমাকে ডাক তোমাদের ডাকে আমি সাড়া দিব। যারা অহঙ্কার করে আমার ইবাদত থেকে বিরত থাকে তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
হযরত আবূ যর গিফারী রাযি. বলেন- يَكْفِي مِنَ الدُّعَاءِ مَعَ الْبِرِّ مِثْلَ مَا يَكْفِي الطَّعَامَ مِنَ الْمِلْحِ। খাবারের জন্য যতটুকু লবণ প্রয়োজন নেক আমলের জন্য ততটুকু দোয়া প্রয়োজন।
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: لَا يَزَالُ الْعَبْدُ بِخَيْرِ مَا لَمْ يَسْتَعْجِلْ. قَالُوا : وَكَيْفَ يَسْتَعْجِلُ يَا رَسُولَ اللهِ? قَالَ : يَقُولُ دَعَوْتُ اللَّهَ فَلَمْ يَسْتَجِبْ لِي.
হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, বান্দা ততক্ষণ ভালো থাকে যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাড়াহুড়ার মানে কী? তিনি বললেন, এ কথা বলা যে, আমি দোয়া করলাম, কিন্তু দোয়া কবুল হলো না।
عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِي يَعُودُهُ، وَهُوَ مَرِيضٌ فَقِيلَ لِأَبِي عُثْمَانَ: يَا أَبَا عُثْمَانَ ادْعُ اللَّهَ بِدَعَوَاتٍ، فَقَدْ بَلَغْتَ فِي دُعَاءِ الْمَرِيضِ مَا قِيلَ فِيهِ. قَالَ: فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَتِلَا آيَاتٍ مِنْ كِتَابِ اللهِ تَعَالَى، وَصَلَّى عَلَى النَّبِيِّ ﷺ ثُمَّ رَفَعَ يَدَهُ، وَرَفَعْنَا أَيْدِيَنَا فَدَعَا فَلَمَّا وَضَعْنَا أَيْدِيَنَا قَالَ: أَبْشِرُوا فَوَ اللَّهِ لَقَدِ اسْتَجَابَ اللَّهُ لَكُمْ، فَقَالَ لَهُ الْحَسَنُ أَتَأْتَلِي عَلَى اللَّهِ? قَالَ: نَعَمْ يَا حَسَنُ، لَوْ حَدَّثْتَنِي بِحَدِيثٍ لَصَدَّقْتُكَ فَكَيْفَ لَا أُصَدِّقُهُ وَهُوَ يَقُولُ: ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ (غافر : ৬০) لَمَّا خَرَجُوا قَالَ الْحَسَنُ: إِنَّهُ لَأَفْقَهُ مِنِّي.
হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত। আবূ উসমান নাহদী রহ. অসুস্থ হলে তিনি তাঁকে দেখতে গেলেন। জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আবু উসমান! আমাদের জন্য দোয়া করুন। অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া কবুল হওয়া সম্পর্কে আপনি জানেন। তিনি আল্লাহর হামদ পাঠ করলেন, কুরআনের কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন, নবী ﷺ-এর উপর দরূদ পড়লেন এবং হাত তুলে দোয়া করলেন। আমরাও তাঁর সাথে হাত উঠালাম। দোয়া শেষ হলে তিনি বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর, তোমাদের দোয়া কবুল করা হয়েছে। হযরত হাসান বসরী রহ. তাঁকে বললেন, আপনি আল্লাহর কসম করে বলতে পারবেন, দোয়া কবুল হয়েছে? তিনি বললেন, অবশ্যই হে হাসান! আপনি কোনো কথা বললে, আমরা তা বিশ্বাস করি। তাহলে আল্লাহ তা'আলার কথা কিভাবে অবিশ্বাস করব। আল্লাহ তা'আলা বলেন- ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ অর্থ : তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। তারা ঘর থেকে বের হলে হাসান বসরী রহ. বললেন, নিশ্চয় তিনি আমার চেয়ে বড় জ্ঞানী।
টিকাঃ
১৭০. সূরা হা-মীম: আয়াত-৬০। সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৯৬৯; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস- ১৪৭৯; তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
১৭১. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৩৪০; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭৩৫।
হযরত নুমান ইবনে বশীর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, الدُّعاء هُوَ الْعِبَادَةُ অর্থাৎ, দুআও এবাদত। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেন,
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ.
অর্থ: আর তোমাদের রব বলেন, আমাকে ডাক তোমাদের ডাকে আমি সাড়া দিব। যারা অহঙ্কার করে আমার ইবাদত থেকে বিরত থাকে তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
হযরত আবূ যর গিফারী রাযি. বলেন- يَكْفِي مِنَ الدُّعَاءِ مَعَ الْبِرِّ مِثْلَ مَا يَكْفِي الطَّعَامَ مِنَ الْمِلْحِ। খাবারের জন্য যতটুকু লবণ প্রয়োজন নেক আমলের জন্য ততটুকু দোয়া প্রয়োজন।
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: لَا يَزَالُ الْعَبْدُ بِخَيْرِ مَا لَمْ يَسْتَعْجِلْ. قَالُوا : وَكَيْفَ يَسْتَعْجِلُ يَا رَسُولَ اللهِ? قَالَ : يَقُولُ دَعَوْتُ اللَّهَ فَلَمْ يَسْتَجِبْ لِي.
হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, বান্দা ততক্ষণ ভালো থাকে যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাড়াহুড়ার মানে কী? তিনি বললেন, এ কথা বলা যে, আমি দোয়া করলাম, কিন্তু দোয়া কবুল হলো না।
عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِي يَعُودُهُ، وَهُوَ مَرِيضٌ فَقِيلَ لِأَبِي عُثْمَانَ: يَا أَبَا عُثْمَانَ ادْعُ اللَّهَ بِدَعَوَاتٍ، فَقَدْ بَلَغْتَ فِي دُعَاءِ الْمَرِيضِ مَا قِيلَ فِيهِ. قَالَ: فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَتِلَا آيَاتٍ مِنْ كِتَابِ اللهِ تَعَالَى، وَصَلَّى عَلَى النَّبِيِّ ﷺ ثُمَّ رَفَعَ يَدَهُ، وَرَفَعْنَا أَيْدِيَنَا فَدَعَا فَلَمَّا وَضَعْنَا أَيْدِيَنَا قَالَ: أَبْشِرُوا فَوَ اللَّهِ لَقَدِ اسْتَجَابَ اللَّهُ لَكُمْ، فَقَالَ لَهُ الْحَسَنُ أَتَأْتَلِي عَلَى اللَّهِ? قَالَ: نَعَمْ يَا حَسَنُ، لَوْ حَدَّثْتَنِي بِحَدِيثٍ لَصَدَّقْتُكَ فَكَيْفَ لَا أُصَدِّقُهُ وَهُوَ يَقُولُ: ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ (غافر : ৬০) لَمَّا خَرَجُوا قَالَ الْحَسَنُ: إِنَّهُ لَأَفْقَهُ مِنِّي.
হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত। আবূ উসমান নাহদী রহ. অসুস্থ হলে তিনি তাঁকে দেখতে গেলেন। জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আবু উসমান! আমাদের জন্য দোয়া করুন। অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া কবুল হওয়া সম্পর্কে আপনি জানেন। তিনি আল্লাহর হামদ পাঠ করলেন, কুরআনের কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন, নবী ﷺ-এর উপর দরূদ পড়লেন এবং হাত তুলে দোয়া করলেন। আমরাও তাঁর সাথে হাত উঠালাম। দোয়া শেষ হলে তিনি বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর, তোমাদের দোয়া কবুল করা হয়েছে। হযরত হাসান বসরী রহ. তাঁকে বললেন, আপনি আল্লাহর কসম করে বলতে পারবেন, দোয়া কবুল হয়েছে? তিনি বললেন, অবশ্যই হে হাসান! আপনি কোনো কথা বললে, আমরা তা বিশ্বাস করি। তাহলে আল্লাহ তা'আলার কথা কিভাবে অবিশ্বাস করব। আল্লাহ তা'আলা বলেন- ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ অর্থ : তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। তারা ঘর থেকে বের হলে হাসান বসরী রহ. বললেন, নিশ্চয় তিনি আমার চেয়ে বড় জ্ঞানী।
টিকাঃ
১৭০. সূরা হা-মীম: আয়াত-৬০। সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৯৬৯; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস- ১৪৭৯; তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
১৭১. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৩৪০; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৭৩৫।
📄 দুআ কবুল হওয়ার সময়
বর্ণিত আছে, হযরত মূসা আ. একবার আল্লাহ তা'আলাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, রব! কখন দোয়া করলে আপনি কবুল করবেন? আল্লাহ বললেন, মূসা! তুমি আমার বান্দা আর আমি তোমার রব, যখনই তুমি আমাকে ডাকবে তখনই আমি তোমার ডাকে সাড়া দিব। হযরত মূসা আ. কয়েকবার একই প্রশ্ন করলে আল্লাহ তাঁকে বললেন, তাহলে মধ্যরাতে আমার নিকট দোয়া করবে। কারণ, এই সময় আমি জালিমের দুআও কবূল করি।
বর্ণিত আছে, একদা হযরত রাবেয়া রহ. একটি গোরস্থানে গেলেন। এক ব্যক্তি তাঁকে দোয়া করতে বলল। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন, আল্লাহর আনুগত্য কর এবং তাঁর নিকট বেশি বেশি দোয়া কর। কারণ, কোনো অসহায় ব্যক্তি তাঁর নিকট দোয়া করলে, তা কবুল করেন।
عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ: يَقُولُ اللهُ تَعَالَى: مَنْ شَغَلَهُ ذِكْرِي عَنْ مَسْأَلَتِي أَعْطَيْتُهُ أَفْضَلَ مَا أُعْطِي السَّائِلِينَ.
হযরত মালেক ইবনুল হারিস রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার যিকিরে ব্যস্ত থাকার কারণে যে ব্যক্তি আমার নিকট চাইতে পারে না, আমি তাকে প্রার্থনাকারীদের থেকেও বেশি দান করি।
বর্ণিত আছে, হযরত মূসা আ. একবার আল্লাহ তা'আলাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, রব! কখন দোয়া করলে আপনি কবুল করবেন? আল্লাহ বললেন, মূসা! তুমি আমার বান্দা আর আমি তোমার রব, যখনই তুমি আমাকে ডাকবে তখনই আমি তোমার ডাকে সাড়া দিব। হযরত মূসা আ. কয়েকবার একই প্রশ্ন করলে আল্লাহ তাঁকে বললেন, তাহলে মধ্যরাতে আমার নিকট দোয়া করবে। কারণ, এই সময় আমি জালিমের দুআও কবূল করি।
বর্ণিত আছে, একদা হযরত রাবেয়া রহ. একটি গোরস্থানে গেলেন। এক ব্যক্তি তাঁকে দোয়া করতে বলল। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন, আল্লাহর আনুগত্য কর এবং তাঁর নিকট বেশি বেশি দোয়া কর। কারণ, কোনো অসহায় ব্যক্তি তাঁর নিকট দোয়া করলে, তা কবুল করেন।
عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ: يَقُولُ اللهُ تَعَالَى: مَنْ شَغَلَهُ ذِكْرِي عَنْ مَسْأَلَتِي أَعْطَيْتُهُ أَفْضَلَ مَا أُعْطِي السَّائِلِينَ.
হযরত মালেক ইবনুল হারিস রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার যিকিরে ব্যস্ত থাকার কারণে যে ব্যক্তি আমার নিকট চাইতে পারে না, আমি তাকে প্রার্থনাকারীদের থেকেও বেশি দান করি।
📄 দুআ কবূল না হওয়ার কারণসমূহ
জনৈক দরবেশকে জিজ্ঞেস করা হলো, অনেক সময় আমাদের দোয়া কবুল করা হয় না। অথচ আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ অর্থ: তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। তিনি বললেন, তোমাদের সাতটি স্বভাব তোমাদের দুআকে আকাশে উঠতে দেয় না। লোকেরা বলল সেগুলো কী কী? তিনি বললেন-
১. তোমরা তোমাদের রবকে রাগান্বিত করে রেখেছো। অতঃপর অনুতপ্ত হয়ে তাঁর জন্য তওবা করনি। অর্থাৎ, তোমরা এমন আমল কর, যার কারণে তিনি রাগান্বিত হন।
২. তোমরা দাবি কর যে, তোমরা আল্লাহর দাস অথচ তোমরা গোলামের মতো আচরণ কর না। অর্থাৎ, দাস মনিবের সাথে যে আচরণ করে, তোমরা আল্লাহর সাথে সে আচরণ কর না।
৩. তোমরা কুরআন পাঠ কর কিন্তু উপলব্ধি কর না ও সে অনুসারে আমল কর না।
৪. তোমরা দাবি কর যে, তোমরা নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর উম্মত। অথচ তাঁর সুন্নতের অনুসরণ কর না। অর্থাৎ, তোমরা মন চাহি যথেচ্ছা আমল কর, সুন্নতের প্রতি ভ্রুক্ষেপ কর না।
৫. তোমরা বল, দুনিয়া আল্লাহর নিকট মাছির ডানার সমান মূল্যবানও নয়, অথচ তোমরা দুনিয়ার পিছনে পড়ে থাক।
৬. তোমরা বল, দুনিয়া ধ্বংসশীল অথচ এমন কাজ কর, যাতে মনে হয়, তোমরা চিরদিন দুনিয়াতে থাকবে।
৭. তোমরা দাবি কর যে, পরকাল দুনিয়া থেকে উত্তম। অথচ তোমরা দুনিয়াকে প্রাধান্য দাও, পরকাল নয়।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, দোয়া করার পূর্বে পেটকে হারাম খাবার থেকে পবিত্র করে নিতে হবে। কারণ, হারাম ভোগ দোয়া কবুলের প্রধান বাধা। অন্যথায় দোয়া কবুল হবে না।
عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَدْعُو اللَّهَ فَلَا يَسْتَجِيبُ لِي دُعَائِي. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَا سَعْدُ اجْتَنِبِ الْحَرَامَ، فَإِنَّ كُلَّ بَطْنٍ دَخَلَ فِيهِ لُقْمَةٌ مِنْ حَرَامِ لَا يُسْتَجَابُ دُعَاؤُهُ أَرْبَعِينَ يَوْمًا.
সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর নিকট দোয়া করি কিন্তু তিনি আমার দোয়া কবুল করেন না। তখন নবীজী বললেন, হে সাদ! হারাম থেকে বিরত থাকো। কারণ, যে অন্তরে হারামের এক লোকমা পরিমাণ খাবারও প্রবেশ করে, তার দোয়া চল্লিশ দিন পর্যন্ত কবুল হয় না।
টিকাঃ
১৭২. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১০১৫; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৯৮৯; ত্ববারানী আওসাত হাদীস-৫০২৬।
জনৈক দরবেশকে জিজ্ঞেস করা হলো, অনেক সময় আমাদের দোয়া কবুল করা হয় না। অথচ আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ অর্থ: তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব। তিনি বললেন, তোমাদের সাতটি স্বভাব তোমাদের দুআকে আকাশে উঠতে দেয় না। লোকেরা বলল সেগুলো কী কী? তিনি বললেন-
১. তোমরা তোমাদের রবকে রাগান্বিত করে রেখেছো। অতঃপর অনুতপ্ত হয়ে তাঁর জন্য তওবা করনি। অর্থাৎ, তোমরা এমন আমল কর, যার কারণে তিনি রাগান্বিত হন।
২. তোমরা দাবি কর যে, তোমরা আল্লাহর দাস অথচ তোমরা গোলামের মতো আচরণ কর না। অর্থাৎ, দাস মনিবের সাথে যে আচরণ করে, তোমরা আল্লাহর সাথে সে আচরণ কর না।
৩. তোমরা কুরআন পাঠ কর কিন্তু উপলব্ধি কর না ও সে অনুসারে আমল কর না।
৪. তোমরা দাবি কর যে, তোমরা নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর উম্মত। অথচ তাঁর সুন্নতের অনুসরণ কর না। অর্থাৎ, তোমরা মন চাহি যথেচ্ছা আমল কর, সুন্নতের প্রতি ভ্রুক্ষেপ কর না।
৫. তোমরা বল, দুনিয়া আল্লাহর নিকট মাছির ডানার সমান মূল্যবানও নয়, অথচ তোমরা দুনিয়ার পিছনে পড়ে থাক।
৬. তোমরা বল, দুনিয়া ধ্বংসশীল অথচ এমন কাজ কর, যাতে মনে হয়, তোমরা চিরদিন দুনিয়াতে থাকবে।
৭. তোমরা দাবি কর যে, পরকাল দুনিয়া থেকে উত্তম। অথচ তোমরা দুনিয়াকে প্রাধান্য দাও, পরকাল নয়।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, দোয়া করার পূর্বে পেটকে হারাম খাবার থেকে পবিত্র করে নিতে হবে। কারণ, হারাম ভোগ দোয়া কবুলের প্রধান বাধা। অন্যথায় দোয়া কবুল হবে না।
عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّهُ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَدْعُو اللَّهَ فَلَا يَسْتَجِيبُ لِي دُعَائِي. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَا سَعْدُ اجْتَنِبِ الْحَرَامَ، فَإِنَّ كُلَّ بَطْنٍ دَخَلَ فِيهِ لُقْمَةٌ مِنْ حَرَامِ لَا يُسْتَجَابُ دُعَاؤُهُ أَرْبَعِينَ يَوْمًا.
সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর নিকট দোয়া করি কিন্তু তিনি আমার দোয়া কবুল করেন না। তখন নবীজী বললেন, হে সাদ! হারাম থেকে বিরত থাকো। কারণ, যে অন্তরে হারামের এক লোকমা পরিমাণ খাবারও প্রবেশ করে, তার দোয়া চল্লিশ দিন পর্যন্ত কবুল হয় না।
টিকাঃ
১৭২. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১০১৫; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৯৮৯; ত্ববারানী আওসাত হাদীস-৫০২৬।