📄 প্রিয় ও অপ্রিয় বান্দা
বর্ণিত আছে, হযরত মূসা আ. আল্লাহকে জিজ্ঞেস করলেন, রব! আপনার প্রিয় বান্দা ও অপ্রিয় বান্দা চেনার উপায় কী? আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করলেন, যাকে আমি ভালোবাসি তাকে এর নিদর্শন হিসাবে দুটি আলামত দান করি। মূসা আ. বললেন, আলামত দু'টি কী কী? আল্লাহ তা'আলা বললেন-
১. তাকে আমার কথা স্মরণ করিয়ে দেই, ফলে সে আমাকে স্মরণ করে এবং আমিও ফেরেশতাদের নিকট তার কথা স্মরণ করি।
২. তাকে হারাম ও আমার অপছন্দনীয় কাজ থেকে বিরত রাখি। যাতে আমার আযাব ও শাস্তি থেকে রক্ষা পায়।
মূসা! আর আমি যে বান্দাকে অপছন্দ করি তার জন্যও দু'টি আলামত দান করি। মূসা আ. বললেন, রব! কী সে আলামত দু'টি? আল্লাহ তা'আলা বললেন-
১. তাকে আমার যিকির থেকে উদাসীন করে রাখি।
২. তাকে প্রবৃত্তির উপর সোপর্দ করে দেই। ফলে সে নানা হারাম কাজে জড়িয়ে পরে। আর এক সময় আমার আযাবে পতিত হয়।
عَنْ أَبِي الْمُلَيْحِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ رَدِيفَهُ عَلَى دَابَّةٍ فَعَثَرَتْ بِهِمَا الدَّابَّةُ فَقَالَ الرَّجُلُ : تَعِسَ الشَّيْطَانُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَقُلْ تَعِسَ الشَّيْطَانُ فَإِنَّهُ عِنْدَ ذَلِকে يَتَعَاظَمُ حَتَّى يَكُونَ مِلْءَ الْبَيْتِ، وَلَكِنْ قُلْ بِسْمِ اللَّهِ فَإِنَّهُ يَصْغَرُ عِنْدَ ذَلِكَ حَتَّى يَكُونَ مِثْلَ الذُّبَابِ.
হযরত আবূ মালিহ তার বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন, জনৈক সাহাবী রাসূল ﷺ-এর পিছনে বাহনের পিঠে ছিলেন। বাহনটি হোঁচট খেলে উক্ত সাহাবী বললেন, শয়তান নিপাত যাক। রাসূল ﷺ বললেন, 'শয়তান নিপাত যাক' এমন বল না। কারণ, এতে শয়তান গর্বিত হয়। এমনকি ফুলে প্রায় ঘরের সমান হয়ে যায়। বরং 'বিসমিল্লাহ' বল। কারণ, এতে শয়তান মাছির সমান ছোট হয়ে যায়।
টিকাঃ
১৬০. আমালুল ইয়াওম ওয়াল-লাইলাহ লি-নাসায়ী: হাদীস-৫৫৫; মুস্তাদরাকে হাকেম: ৪/২৯২; হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন আর যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।
📄 মজলিসের কাফ্ফারা
عَنْ نَافِعٍ، عَنْ جُبَيْرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : كَفَّارَةُ الْمَجْلِسِ إِذَا أَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقُومَ مِنْ مَجْلِسِهِ أَنْ يَقُولُ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ، وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ، فَإِنْ كَانَ مَجْلِسَ ذِكْرٍ كَانَ كَالطَّابِعِ عَلَيْهِ إِلَى يَوْমِ الْقِيَامَةِ، وَإِنْ كَانَ مَجْلِسَ لَغْوٍ كَانَ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهُ.
হযরত নাফে রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, মজলিস থেকে উঠে যাওয়ার সময় এই দোয়া পড়বে-
সুবহা-নাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লা আনতা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইকা
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, আপনার নিকট ক্ষমা চাই এবং আপনার নিকট তওবা করছি।
উক্ত মজলিস যদি যিকিরের মজলিস হয়ে থাকে, তাহলে এই দোয়া কিয়ামত পর্যন্ত তার সীলমোহর হয়ে থাকবে। আর যদি অনর্থক আলোচনার হয়ে থাকে তাহলে এই দোয়া তার জন্য গুনাহের কাফফারা হবে।
টিকাঃ
১৬১. সুনানে তিরমিযী হাদীস-৩৪৩৩; সুনানে আবী দাউদ হাদীস-৪৮৫৯; হাফেজ ইবনে হাজার হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন [আল-মাতালেবুল আলিয়াহ: ৪/২৬]।
📄 বাজারে আল্লাহর যিকির
হযরত উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশের সময় এই দোয়া পাঠ করবে- لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. অর্থ: এক আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তার কোনো শরীক নেই, সমস্ত প্রশংসা ও রাজত্ব তার। তিনিই জীবন ও মৃত্যু দান করেন, তার হাতেই যাবতীয় কল্যাণ এবং তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। আল্লাহ তাকে দশ লাখ নেকি দান করবেন, তার দশ লাখ গুনাহ মাফ করে দিবেন এবং দশ লাখ মর্তবা বাড়িয়ে দিবেন। বর্ণিত এই হাদীস শোনার পর হযরত কুতাইবা রহ. প্রতিদিন দলবল নিয়ে বাজারে যেতেন এবং এই দোয়া পড়ে আবার ফিরে আসতেন।
টিকাঃ
১৬২. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৪২৮; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-২২৩৫; হাদীসটি সহীহ।
📄 যিকির সর্বশ্রেষ্ঠ এবাদত
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, আল্লাহর যিকির হলো, সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। কারণ, আল্লাহ তা'আলা সব ইবাদতের জন্য সময় ও পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কিন্তু যিকিরের কোনো পরিমাণ বা সময় নির্ধারণ করে দেননি। বরং বেশি বেশি যিকির করতে বলেছেন। যেমন, কুরআনে এসেছে- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا অর্থ: হে মুমিনগণ, তোমরা বেশি বেশি আল্লাহর যিকির কর। অর্থাৎ, তোমরা সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকির কর।
মানুষের চার অবস্থা। সে এর যে কোনো এক অবস্থাতেই থাকে-
১. এবাদতরত অবস্থায়। যদি ইবাদতরত অবস্থায় থাকে তাহলে আল্লাহ যে তাকে ইবাদতের তাওফীক দিয়েছেন এর জন্য শুকরিয়া আদায় করতে হবে এবং আল্লাহ যেন তার ইবাদত কবুল করেন তার জন্য দোয়া করতে হবে। আর এর নামই যিকির।
২. নাফরমানি বা গুনাহে লিপ্ত অবস্থায়। বান্দা যদি গুনাহে লিপ্ত থাকে তাহলে তা থেকে তওবা করতে হবে। আর এটাই যিকির।
৩. সচ্ছল অবস্থায়। আল্লাহ যদি তাকে সুখে রাখেন তাহলে শোকর আদায় করতে হবে। আর শোকর আদায় করাই যিকির।
৪. অসচ্ছল অবস্থায়। বান্দা যদি অভাব-অনটনে থাকে তাহলে তাকে সবর ইখতিয়ার করতে হবে। আর এটাও এক ধরনের যিকির।
টিকাঃ
১৬৩. সূরা আহযাব ৪১