📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 যিকির বিপদাপদ থেকে মুক্তির উপকরণ

📄 যিকির বিপদাপদ থেকে মুক্তির উপকরণ


এক ব্যক্তি হযরত ফুযাইল ইবনে ইয়ায রহ.-এর নিকট এসে বলল, আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন, আমি তোমাকে পাঁচটি উপদেশ দিচ্ছি, সেগুলো ভালোভাবে স্মরণ রেখো। যথা-
১. কোনো বিপদ এলে ভাববে, এটাই আল্লাহর ফায়সালা ছিল। তাহলে কারো প্রতি তোমার অভিযোগ থাকবে না।
২. সর্বদা নিজের জবানকে হেফাজত করবে। তাহলে মানুষ তোমার থেকে আর তুমি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে।
৩. আল্লাহ যে রিযিকের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার প্রতি আস্থা রাখবে। তাহলেই তুমি প্রকৃত মুমিন হতে পারবে।
৪. মৃত্যুর জন্য সদা প্রস্তুত থাকবে। যেন উদাসীন অবস্থায় তোমার মৃত্যু না হয়।
৫. বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করবে। তাহলে যাবতীয় অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে।

হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহ.-এর ঘটনা বর্ণিত আছে। তিনি একবার দেখলেন, এক ব্যক্তি দুনিয়াবী আলোচনা করছে। তাকে তিনি বললেন, এ আলোচনায় কি কোনো লাভের আশা কর? সে বলল, না। এরপর তিনি বললেন, তুমি কি নিশ্চিত যে, এ কথা বললে তোমাকে শাস্তি দেওয়া হবে না? সে বলল, না। তিনি বললেন, তাহলে এমন আলোচনা কেন করছ, যাতে তুমি না সওয়াবের আশা করতে পার, না তার শাস্তি থেকে মুক্তির নিশ্চিয়তা? বরং তুমি বেশি বেশি আল্লাহর যিকির কর।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 যিকিরের বরকত

📄 যিকিরের বরকত


عَنْ كَعْبُ الْأَحْبَارِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: إِنَّا نَجِدُ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى الْمُنَزَّلِ عَلَى أَنْبِيَائِهِ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ: مَنْ شَغَلَهُ ذِكْرِي عَنْ مَسْأَلَتِي أَعْطَيْتُهُ فَوْقَ مَا أُعْطِي السَّائِلِينَ.
হযরত কা'ব আল-আহবার রহ. বলেন, আসমানী গ্রন্থে আমরা পাই, আল্লাহ তা'আলা বলেন, যে ব্যক্তি যিকিরে ব্যস্ত থাকার কারণে আমার নিকট চাইতে পারে না আমি তাকে প্রার্থনাকারীদের থেকেও বেশি দান করব।

হযরত ফুযাইল ইবনে ইয়ায রহ. বলেন-
إِنَّ الْبَيْتَ الَّذِي يُذْكَرُ فِيهِ اسْمُ اللهِ تَعَالَى، يُضِيءُ لِأَهْلِ السَّمَاءِ كَمَا يُضِيءُ الْمِصْبَاحُ لِأَهْلِ الْبَيْتِ الْمُظْلِمِ، وَإِنَّ الْبَيْتَ الَّذِي لَا يُذْكَرُ فِيهِ اسْمُ اللَّهِ تَعَالَى يُظْلِمُ عَلَى أَهْلِهِ.
যে ঘরে আল্লাহর যিকির হয়, ফেরেশতারা সেটাকে রাতের অন্ধকারে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো দেখতে পায়। আর যে ঘরে আল্লাহর যিকির হয় না তা থাকে অন্ধকার।

টিকাঃ
১৫৯. খলকে আফআলিল ইবাদ লিল-বুখারী: পৃষ্ঠা-১০৫; শুআবুল ঈমান: হাদীস-৫৭২

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 প্রিয় ও অপ্রিয় বান্দা

📄 প্রিয় ও অপ্রিয় বান্দা


বর্ণিত আছে, হযরত মূসা আ. আল্লাহকে জিজ্ঞেস করলেন, রব! আপনার প্রিয় বান্দা ও অপ্রিয় বান্দা চেনার উপায় কী? আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করলেন, যাকে আমি ভালোবাসি তাকে এর নিদর্শন হিসাবে দুটি আলামত দান করি। মূসা আ. বললেন, আলামত দু'টি কী কী? আল্লাহ তা'আলা বললেন-
১. তাকে আমার কথা স্মরণ করিয়ে দেই, ফলে সে আমাকে স্মরণ করে এবং আমিও ফেরেশতাদের নিকট তার কথা স্মরণ করি।
২. তাকে হারাম ও আমার অপছন্দনীয় কাজ থেকে বিরত রাখি। যাতে আমার আযাব ও শাস্তি থেকে রক্ষা পায়।
মূসা! আর আমি যে বান্দাকে অপছন্দ করি তার জন্যও দু'টি আলামত দান করি। মূসা আ. বললেন, রব! কী সে আলামত দু'টি? আল্লাহ তা'আলা বললেন-
১. তাকে আমার যিকির থেকে উদাসীন করে রাখি।
২. তাকে প্রবৃত্তির উপর সোপর্দ করে দেই। ফলে সে নানা হারাম কাজে জড়িয়ে পরে। আর এক সময় আমার আযাবে পতিত হয়।

عَنْ أَبِي الْمُلَيْحِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ رَدِيفَهُ عَلَى دَابَّةٍ فَعَثَرَتْ بِهِمَا الدَّابَّةُ فَقَالَ الرَّجُلُ : تَعِسَ الشَّيْطَانُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَقُلْ تَعِسَ الشَّيْطَانُ فَإِنَّهُ عِنْدَ ذَلِকে يَتَعَاظَمُ حَتَّى يَكُونَ مِلْءَ الْبَيْتِ، وَلَكِنْ قُلْ بِسْمِ اللَّهِ فَإِنَّهُ يَصْغَرُ عِنْدَ ذَلِكَ حَتَّى يَكُونَ مِثْلَ الذُّبَابِ.
হযরত আবূ মালিহ তার বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন, জনৈক সাহাবী রাসূল ﷺ-এর পিছনে বাহনের পিঠে ছিলেন। বাহনটি হোঁচট খেলে উক্ত সাহাবী বললেন, শয়তান নিপাত যাক। রাসূল ﷺ বললেন, 'শয়তান নিপাত যাক' এমন বল না। কারণ, এতে শয়তান গর্বিত হয়। এমনকি ফুলে প্রায় ঘরের সমান হয়ে যায়। বরং 'বিসমিল্লাহ' বল। কারণ, এতে শয়তান মাছির সমান ছোট হয়ে যায়।

টিকাঃ
১৬০. আমালুল ইয়াওম ওয়াল-লাইলাহ লি-নাসায়ী: হাদীস-৫৫৫; মুস্তাদরাকে হাকেম: ৪/২৯২; হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন আর যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মজলিসের কাফ্ফারা

📄 মজলিসের কাফ্ফারা


عَنْ نَافِعٍ، عَنْ جُبَيْرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : كَفَّارَةُ الْمَجْلِسِ إِذَا أَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقُومَ مِنْ مَجْلِسِهِ أَنْ يَقُولُ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ، وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ، فَإِنْ كَانَ مَجْلِسَ ذِكْرٍ كَانَ كَالطَّابِعِ عَلَيْهِ إِلَى يَوْমِ الْقِيَامَةِ، وَإِنْ كَانَ مَجْلِسَ لَغْوٍ كَانَ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهُ.
হযরত নাফে রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, মজলিস থেকে উঠে যাওয়ার সময় এই দোয়া পড়বে-
সুবহা-নাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লা আনতা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইকা
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, আপনার নিকট ক্ষমা চাই এবং আপনার নিকট তওবা করছি।
উক্ত মজলিস যদি যিকিরের মজলিস হয়ে থাকে, তাহলে এই দোয়া কিয়ামত পর্যন্ত তার সীলমোহর হয়ে থাকবে। আর যদি অনর্থক আলোচনার হয়ে থাকে তাহলে এই দোয়া তার জন্য গুনাহের কাফফারা হবে।

টিকাঃ
১৬১. সুনানে তিরমিযী হাদীস-৩৪৩৩; সুনানে আবী দাউদ হাদীস-৪৮৫৯; হাফেজ ইবনে হাজার হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন [আল-মাতালেবুল আলিয়াহ: ৪/২৬]।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية