📄 ইবলিসের হাতিয়ার
হযরত আবূ মুহাম্মদ রহ. বলেন, ইবলীস একদা আল্লাহ তা'আলাকে বলল-
১. হে আল্লাহ! আপনি মানুষকে ঘর দিয়েছেন যেখানে তারা আপনার যিকির করে, আমার ঘর কী? আল্লাহ তা'আলা বললেন, তোর ঘর হলো, গোসলখানা।
২. ইবলীস বলল, আল্লাহ! আপনি তাদেরকে বিভিন্ন মজলিস দিয়েছেন, আমার মজলিস কী? আল্লাহ বললেন, তোর মজলিস হলো, বাজার।
৩. ইবলিস বলল, আপনি মানুষকে তিলাওয়াতের জন্য কুরআন দিয়েছেন, আমার তিলাওয়াতের জিনিস কী? আল্লাহ বললেন, তোর তিলাওয়াতের জিনিস হলো, কবিতা।
৪. ইবলিস বলল, মানুষকে আপনি কথা দান করেছেন, আমার কথা কী? আল্লাহ বললেন, তোর কথা হলো, মিথ্যা।
৫. ইবলিস বলল, মানুষকে আযান দান করেছেন, আমার জন্য কী? আল্লাহ বললেন, তোর জন্য বাদ্যযন্ত্র।
৬. ইবলিস বলল, আল্লাহ! তাদের জন্য বিভিন্ন রাসূল পাঠিয়েছেন, আমার জন্য কী? আল্লাহ বললেন, তোর জন্য অসৎ ধর্মগুরু।
৭. ইবলিস বলল, আপনি তাদেরকে কিতাব দিয়েছেন, আমার কী কী? আল্লাহ বললেন, তোর কিতাব হস্তরেখা।
৮. ইবলিস বলল, আপনি তাদেরকে জাল দান করেছেন, আমার জাল কী? আল্লাহ বললেন, তোর জাল হলো, নারী।
৯. ইবলিস বলল, আপনি তাদেরকে খাবার দান করেছেন, আমার খাবার কী? আল্লাহ বললেন, যে খাবারে আমার নাম নেওয়া হবে না, তাই তোর খাবার।
১০. ইবলিস বলল, আপনি তাদেরকে পানীয় দান করেছেন, আমার পানীয় কী? আল্লাহ বললেন, তোর পানীয় যাবতীয় নেশাজাতীয় দ্রব্য।
টিকাঃ
১৫৮ শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে মুনকার বা বাতিল বলেছেন [সিলসিলাহ জয়ীফাহ: ১৫৬৪]।
📄 যিকির বিপদাপদ থেকে মুক্তির উপকরণ
এক ব্যক্তি হযরত ফুযাইল ইবনে ইয়ায রহ.-এর নিকট এসে বলল, আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন, আমি তোমাকে পাঁচটি উপদেশ দিচ্ছি, সেগুলো ভালোভাবে স্মরণ রেখো। যথা-
১. কোনো বিপদ এলে ভাববে, এটাই আল্লাহর ফায়সালা ছিল। তাহলে কারো প্রতি তোমার অভিযোগ থাকবে না।
২. সর্বদা নিজের জবানকে হেফাজত করবে। তাহলে মানুষ তোমার থেকে আর তুমি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে।
৩. আল্লাহ যে রিযিকের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার প্রতি আস্থা রাখবে। তাহলেই তুমি প্রকৃত মুমিন হতে পারবে।
৪. মৃত্যুর জন্য সদা প্রস্তুত থাকবে। যেন উদাসীন অবস্থায় তোমার মৃত্যু না হয়।
৫. বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করবে। তাহলে যাবতীয় অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে।
হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহ.-এর ঘটনা বর্ণিত আছে। তিনি একবার দেখলেন, এক ব্যক্তি দুনিয়াবী আলোচনা করছে। তাকে তিনি বললেন, এ আলোচনায় কি কোনো লাভের আশা কর? সে বলল, না। এরপর তিনি বললেন, তুমি কি নিশ্চিত যে, এ কথা বললে তোমাকে শাস্তি দেওয়া হবে না? সে বলল, না। তিনি বললেন, তাহলে এমন আলোচনা কেন করছ, যাতে তুমি না সওয়াবের আশা করতে পার, না তার শাস্তি থেকে মুক্তির নিশ্চিয়তা? বরং তুমি বেশি বেশি আল্লাহর যিকির কর।
📄 যিকিরের বরকত
عَنْ كَعْبُ الْأَحْبَارِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: إِنَّا نَجِدُ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى الْمُنَزَّلِ عَلَى أَنْبِيَائِهِ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ: مَنْ شَغَلَهُ ذِكْرِي عَنْ مَسْأَلَتِي أَعْطَيْتُهُ فَوْقَ مَا أُعْطِي السَّائِلِينَ.
হযরত কা'ব আল-আহবার রহ. বলেন, আসমানী গ্রন্থে আমরা পাই, আল্লাহ তা'আলা বলেন, যে ব্যক্তি যিকিরে ব্যস্ত থাকার কারণে আমার নিকট চাইতে পারে না আমি তাকে প্রার্থনাকারীদের থেকেও বেশি দান করব।
হযরত ফুযাইল ইবনে ইয়ায রহ. বলেন-
إِنَّ الْبَيْتَ الَّذِي يُذْكَرُ فِيهِ اسْمُ اللهِ تَعَالَى، يُضِيءُ لِأَهْلِ السَّمَاءِ كَمَا يُضِيءُ الْمِصْبَاحُ لِأَهْلِ الْبَيْتِ الْمُظْلِمِ، وَإِنَّ الْبَيْتَ الَّذِي لَا يُذْكَرُ فِيهِ اسْمُ اللَّهِ تَعَالَى يُظْلِمُ عَلَى أَهْلِهِ.
যে ঘরে আল্লাহর যিকির হয়, ফেরেশতারা সেটাকে রাতের অন্ধকারে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো দেখতে পায়। আর যে ঘরে আল্লাহর যিকির হয় না তা থাকে অন্ধকার।
টিকাঃ
১৫৯. খলকে আফআলিল ইবাদ লিল-বুখারী: পৃষ্ঠা-১০৫; শুআবুল ঈমান: হাদীস-৫৭২
📄 প্রিয় ও অপ্রিয় বান্দা
বর্ণিত আছে, হযরত মূসা আ. আল্লাহকে জিজ্ঞেস করলেন, রব! আপনার প্রিয় বান্দা ও অপ্রিয় বান্দা চেনার উপায় কী? আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করলেন, যাকে আমি ভালোবাসি তাকে এর নিদর্শন হিসাবে দুটি আলামত দান করি। মূসা আ. বললেন, আলামত দু'টি কী কী? আল্লাহ তা'আলা বললেন-
১. তাকে আমার কথা স্মরণ করিয়ে দেই, ফলে সে আমাকে স্মরণ করে এবং আমিও ফেরেশতাদের নিকট তার কথা স্মরণ করি।
২. তাকে হারাম ও আমার অপছন্দনীয় কাজ থেকে বিরত রাখি। যাতে আমার আযাব ও শাস্তি থেকে রক্ষা পায়।
মূসা! আর আমি যে বান্দাকে অপছন্দ করি তার জন্যও দু'টি আলামত দান করি। মূসা আ. বললেন, রব! কী সে আলামত দু'টি? আল্লাহ তা'আলা বললেন-
১. তাকে আমার যিকির থেকে উদাসীন করে রাখি।
২. তাকে প্রবৃত্তির উপর সোপর্দ করে দেই। ফলে সে নানা হারাম কাজে জড়িয়ে পরে। আর এক সময় আমার আযাবে পতিত হয়।
عَنْ أَبِي الْمُلَيْحِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ رَدِيفَهُ عَلَى دَابَّةٍ فَعَثَرَتْ بِهِمَا الدَّابَّةُ فَقَالَ الرَّجُلُ : تَعِسَ الشَّيْطَانُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَقُلْ تَعِسَ الشَّيْطَانُ فَإِنَّهُ عِنْدَ ذَلِকে يَتَعَاظَمُ حَتَّى يَكُونَ مِلْءَ الْبَيْتِ، وَلَكِنْ قُلْ بِسْمِ اللَّهِ فَإِنَّهُ يَصْغَرُ عِنْدَ ذَلِكَ حَتَّى يَكُونَ مِثْلَ الذُّبَابِ.
হযরত আবূ মালিহ তার বাবার সূত্রে বর্ণনা করেন, জনৈক সাহাবী রাসূল ﷺ-এর পিছনে বাহনের পিঠে ছিলেন। বাহনটি হোঁচট খেলে উক্ত সাহাবী বললেন, শয়তান নিপাত যাক। রাসূল ﷺ বললেন, 'শয়তান নিপাত যাক' এমন বল না। কারণ, এতে শয়তান গর্বিত হয়। এমনকি ফুলে প্রায় ঘরের সমান হয়ে যায়। বরং 'বিসমিল্লাহ' বল। কারণ, এতে শয়তান মাছির সমান ছোট হয়ে যায়।
টিকাঃ
১৬০. আমালুল ইয়াওম ওয়াল-লাইলাহ লি-নাসায়ী: হাদীস-৫৫৫; মুস্তাদরাকে হাকেম: ৪/২৯২; হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন আর যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।