📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 হামদ, সানা ও তাকবীর

📄 হামদ, সানা ও তাকবীর


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَيْرٍ، قَالَ : مَنْ قَالَ الْحَمْدُ للهِ تُفْتَحُ لَهُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَالتَّكْبِيرُ يَمْلَأُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، وَالتَّسْبِيحُ اللَّهِ تَعَالَى لَا يَنْتَهِي إِلَى ثَوَابِهِ عِلْمُ أَحَدٍ دُونَ اللَّهِ تَعَالَى. قَالَ اللهُ تَعَالَى: إِذَا ذَكَرَنِي عَبْدِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي، وَإِذَا ذَكَرَنِي وَحْدَهُ ذَكَرْتُهُ وَحْدِي، وَإِذَا ذَكَرَنِي فِي مَلَا ذَكَرْتُهُ فِي مَلَا أَحْسَنَ مِنْهُ، وَأَكْرَمَ. وَقَالَ: مَا مِنْ عَبْدٍ يَضَعُ جَنْبَهُ عَلَى الْفِرَاشِ، فَيَذْكُرُ اللهَ تَعَالَى فَيُدْرِكُهُ النَّوْمُ، وَهُوَ كَذَلِكَ إِلَّا كُتِبَ ذَاكِرًا إِلَى أَنْ يَسْتَيْقِظَ.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমায়ের রহ. বলেন, যে ব্যক্তি الْحَمْدُ للهِ বলে, তার জন্য আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি আল্লাহু আকবার বলে, তাকে আসমান জমিনের সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হয়। আর যে ব্যক্তি سُبْحَانَ اللهِ বলবে, তাকে কী পরিমাণ সওয়াব দান করা হবে তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, বান্দা যখন মনে মনে আমাকে স্মরণ করে আমিও মনে মনে তাকে স্মরণ করি। বান্দা যখন একাকী আমাকে স্মরণ করে আমিও একাকী তাকে স্মরণ করি। আর বান্দা যখন কোনো মজলিসে আমাকে স্মরণ করে আমিও তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ মজলিসে তাকে স্মরণ করি। তিনি আরো বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি শয়নকালে যিকির করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে, তাহলে যতক্ষণ সে ঘুমিয়ে থাকে আল্লাহ তাকে যিকিরের সওয়াব দান করেন।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, বান্দাকে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা স্মরণ করার অর্থ হলো, ক্ষমা করা। বান্দা যখন আল্লাহকে স্মরণ করে, আল্লাহ তা'আলা তাকে মাফ করে দেন।

টিকাঃ
১৫৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-৭৪০৫; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৬৭৫।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 যিকিরের তাওফীক আল্লাহর পক্ষ থেকেই

📄 যিকিরের তাওফীক আল্লাহর পক্ষ থেকেই


عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: الذِّكْرُ بَيْنَ الذِّكْرَيْنِ وَالْإِسْلَامُ بَيْنَ السَّيْفَيْنِ، وَالذَّنْبُ بَيْنَ الْفَرْضَيْن.
হযরত আলী রাযি. বলেন, যিকির দুই যিকিরের মাধ্যমে হয় অর্থাৎ, আল্লাহ যদি বান্দাকে যিকিরের তাওফীক দান করেন তাহলে বান্দা যিকির করতে পারে। এরপর যখন যিকির করে তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। তিনি আরো বলেন, ইসলাম দুই তরবারীর মাঝে। অর্থাৎ, ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তরবারী দ্বারা জিহাদ মুসলমানদের লড়াই হয়। তারপর সে যদি (আল্লাহ না করুন) মুরতাদ হয়ে যায় তাহলে তরবারী দিয়েই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, গুনাহ দু'টি ফরজ বিধানের মাঝে। অর্থাৎ, গুনাহ না করা বান্দার উপর ফরয ছিল। আর কেউ গুনাহ করেই ফেলে তাহলে তার উপর তওবা করা আরেকটি ফরজ বিধান।

আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ অর্থ: আত্মগোপন করে থাকা শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন- এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, শয়তান মানুষের অন্তরে প্ররোচনা দিতে থাকে। আর যখন বান্দা আল্লাহর যিকির করে তখন শয়তান চলে যায়। বান্দা আল্লাহর যিকির থেকে উদাসীন হলে সে আবার প্ররোচনা দিতে থাকে।

রাসূল ﷺ বলেন- لِكُلِّ شَيْءٍ صِقَالٌ، وَصِقَالُ الْقَلْبِ ذِكْرُ اللَّهِ تَعَالَى প্রত্যেক জিনিস উজ্জ্বল করার একটি যন্ত্র আছে। আর অন্তর উজ্জ্বল করার যন্ত্র হলো আল্লাহর যিকির।

عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ، أَنَّهُ قَالَ: إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ فَسَلَّمَ، قَالَ الشَّيْطَانُ: لَا مَقِيلَ، يَعْنِي لَمْ يَبْقَ لِي هَهُنَا مَوْضِعُ قَرَارٍ، وَإِذَا أَتَى بِطَعَامٍ فَذَكَرَ اللهَ تَعَالَى، قَالَ الشَّيْطَانُ : لَا مَقِيلَ، وَلَا مَطْعَمَ، وَلَا مَشْرَبَ، فَيَخْرُجُ خَائِبًا.
ইবরাহিম নাখাঈ রহ. বলেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, মানুষ ঘরে ঢুকে যদি সালাম করে তাহলে শয়তান বলে, এখানে আমার থাকার জায়গা নেই। আর খাওয়ার সময় যদি আল্লাহর নাম নিয়ে খাওয়া শুরু করে তাহলে শয়তান বলে, এখানেও থাকার সুযোগ নেই এবং খাবারেরও সুযোগ নেই। এই বলে ব্যর্থ মনোরথ হয়ে সে ঘর থেকে বের হয়ে যায়।

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، قَالَ: إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ طَعَامًا فَلْيَقُلْ : بِسْمِ اللَّهِ، فَإِنْ نَسِيَ فِي أَوَّلِهِ فَلْيَقُلْ فِي آخِرِهِ.
হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল ইরশাদ করেন, খাবারের সময় তোমরা বিসমিল্লাহ বলে শুরু করবে। যদি কেউ শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায় তাহলে সে যেন খাবারের শেষে بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ বলে নেয়।

عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ طَعَامًا، وَلَمْ يَقُلْ بِسْمِ اللَّهِ أَكَلَ الشَّيْطَانُ مَعَهُ ، وَإِذَا ذَكَرَ اسْمَ اللهِ تَعَالَى مَنَعَ الشَّيْطَانَ مِنْ بَقِيَّةِ طَعَامِهِ، وَتَقَايَا مَا أَكَلَ، وَاسْتَأْنَفَ طَعَامًا جَدِيدًا.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাবারের শুরুতে যদি কেউ বিসমিল্লাহ না বলে, তাহলে শয়তান তার সাথে খেতে থাকে। খাবারের মধ্যখানে যখন বিসমিল্লাহ বলে, তখন শয়তান খেতে পারে না। বরং সে যা খেয়েছিল তা বমি করে দেয় এবং নতুন খাবারের সন্ধান করে।

টিকাঃ
১৫৫. শুআবুল ঈমান: হাদীস-৫২২; আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব: ২/৩৯৬।
১৫৬. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২০১৮।
১৫৭. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৩৭৬৭; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৮৫৮; হাদীসটি সহীহ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ইবলিসের হাতিয়ার

📄 ইবলিসের হাতিয়ার


হযরত আবূ মুহাম্মদ রহ. বলেন, ইবলীস একদা আল্লাহ তা'আলাকে বলল-
১. হে আল্লাহ! আপনি মানুষকে ঘর দিয়েছেন যেখানে তারা আপনার যিকির করে, আমার ঘর কী? আল্লাহ তা'আলা বললেন, তোর ঘর হলো, গোসলখানা।
২. ইবলীস বলল, আল্লাহ! আপনি তাদেরকে বিভিন্ন মজলিস দিয়েছেন, আমার মজলিস কী? আল্লাহ বললেন, তোর মজলিস হলো, বাজার।
৩. ইবলিস বলল, আপনি মানুষকে তিলাওয়াতের জন্য কুরআন দিয়েছেন, আমার তিলাওয়াতের জিনিস কী? আল্লাহ বললেন, তোর তিলাওয়াতের জিনিস হলো, কবিতা।
৪. ইবলিস বলল, মানুষকে আপনি কথা দান করেছেন, আমার কথা কী? আল্লাহ বললেন, তোর কথা হলো, মিথ্যা।
৫. ইবলিস বলল, মানুষকে আযান দান করেছেন, আমার জন্য কী? আল্লাহ বললেন, তোর জন্য বাদ্যযন্ত্র।
৬. ইবলিস বলল, আল্লাহ! তাদের জন্য বিভিন্ন রাসূল পাঠিয়েছেন, আমার জন্য কী? আল্লাহ বললেন, তোর জন্য অসৎ ধর্মগুরু।
৭. ইবলিস বলল, আপনি তাদেরকে কিতাব দিয়েছেন, আমার কী কী? আল্লাহ বললেন, তোর কিতাব হস্তরেখা।
৮. ইবলিস বলল, আপনি তাদেরকে জাল দান করেছেন, আমার জাল কী? আল্লাহ বললেন, তোর জাল হলো, নারী।
৯. ইবলিস বলল, আপনি তাদেরকে খাবার দান করেছেন, আমার খাবার কী? আল্লাহ বললেন, যে খাবারে আমার নাম নেওয়া হবে না, তাই তোর খাবার।
১০. ইবলিস বলল, আপনি তাদেরকে পানীয় দান করেছেন, আমার পানীয় কী? আল্লাহ বললেন, তোর পানীয় যাবতীয় নেশাজাতীয় দ্রব্য।

টিকাঃ
১৫৮ শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে মুনকার বা বাতিল বলেছেন [সিলসিলাহ জয়ীফাহ: ১৫৬৪]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 যিকির বিপদাপদ থেকে মুক্তির উপকরণ

📄 যিকির বিপদাপদ থেকে মুক্তির উপকরণ


এক ব্যক্তি হযরত ফুযাইল ইবনে ইয়ায রহ.-এর নিকট এসে বলল, আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন, আমি তোমাকে পাঁচটি উপদেশ দিচ্ছি, সেগুলো ভালোভাবে স্মরণ রেখো। যথা-
১. কোনো বিপদ এলে ভাববে, এটাই আল্লাহর ফায়সালা ছিল। তাহলে কারো প্রতি তোমার অভিযোগ থাকবে না।
২. সর্বদা নিজের জবানকে হেফাজত করবে। তাহলে মানুষ তোমার থেকে আর তুমি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে।
৩. আল্লাহ যে রিযিকের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার প্রতি আস্থা রাখবে। তাহলেই তুমি প্রকৃত মুমিন হতে পারবে।
৪. মৃত্যুর জন্য সদা প্রস্তুত থাকবে। যেন উদাসীন অবস্থায় তোমার মৃত্যু না হয়।
৫. বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করবে। তাহলে যাবতীয় অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে।

হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহ.-এর ঘটনা বর্ণিত আছে। তিনি একবার দেখলেন, এক ব্যক্তি দুনিয়াবী আলোচনা করছে। তাকে তিনি বললেন, এ আলোচনায় কি কোনো লাভের আশা কর? সে বলল, না। এরপর তিনি বললেন, তুমি কি নিশ্চিত যে, এ কথা বললে তোমাকে শাস্তি দেওয়া হবে না? সে বলল, না। তিনি বললেন, তাহলে এমন আলোচনা কেন করছ, যাতে তুমি না সওয়াবের আশা করতে পার, না তার শাস্তি থেকে মুক্তির নিশ্চিয়তা? বরং তুমি বেশি বেশি আল্লাহর যিকির কর।

ফন্ট সাইজ
15px
17px