📄 যিকিরের ফযীলত
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم : أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِخَيْرِ أَعْمَالِكُمْ وَأَزْكَاهَا عِنْدَ مَلِيكِكُمْ، وَأَرْفَعِهَا فِي دَرَجَاتِكُمْ وَخَيْرٍ لَكُمْ مِنْ إِنْفَاقِ الذَّهَبِ وَالْوَرِقِ وَخَيْرٍ لَكُمْ مِنْ أَنْ تَلْقَوْا عَدُوَّكُمْ فَتَضْرِبُوا أَعْنَاقَهُمْ وَيَضْرِبُوا أَعْنَاقَكُمْ، ذِكْرُ اللَّهِ.
হযরত আবুদ দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন আমলের কথা বলব না- যা তোমাদের প্রভুর নিকট খুবই প্রিয়, সর্বোত্তম, প্রতিদানের দিক দিয়ে বেশি, আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে শত্রুকে পরাজিত করা এবং শত্রুরা তোমাদেরকে শহীদ করার চেয়ে উত্তম এবং সোনা-দানা ব্যয় করার চেয়েও বেশি উত্তম? তারা বলল, সেটা কী হে আবু দারদা! তিনি বললেন, আল্লাহর যিকির।
عَنْ أَبِي جَعْفَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : الْأَعْمَالُ ثَلَاثَةٌ : إِنْصَافُ الرَّجُلِ مِنْ نَفْسِهِ، وَمُوَاسَاةُ الْأَخِ فِي الْمَالِ، وَذِكْرُ اللَّهِ تَعَالَى.
হযরত আবু জাফর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কঠিন কাজ হলো তিনটি। যথা- ১. নিজের উপর ইনসাফ করা। ২. সম্পদ বন্টনে ভাইয়ের সাথে ইনসাফ করা। ৩. আল্লাহর যিকির।
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: مَا عَمِلَ ابْنُ آدَمَ عَمَلًا أَنْجَى لَهُ مِنْ عَذَابِ اللَّهِ تَعَالَى مِنْ ذِكْرِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ . قِيلَ: وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ? قَالَ: وَلَا الْجِهَادُ في سَبِيلِ اللهِ، لِأَنَّ اللهَ تَعَالَى يَقُولُ: وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ (العنكبوت : ৪৫)
হযরত মুআয ইবনে জাবাল রাযি. বলেন, মানুষকে আল্লাহর আযাব থেকে সবচেয়ে বেশি রক্ষা করতে পারে যে আমল, তা হলো, আল্লাহর যিকির। কেউ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও কি নয়? তিনি বলেলেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়। কারণ, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহর যিকির সবচেয়ে বড়।
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ، قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ? قَالَ : أَنْ تَمُوتَ وَلِسَانُكَ رَطْبٌ بِذِكْرِ اللهِ.
হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূলকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বললেন, আল্লার যিকিরে সিক্ত জিভ নিয়ে মৃত্যুবরণ করা।
হযরত মালেক বিন দীনার রহ. বলেন- مَنْ لَمْ يَأْنَسُ بِحَدِيثِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ عَنْ حَدِيثِ الْمَخْلُوقِينَ، فَقَدْ قَلَّ عَمَلُهُ، وَعَمِيَ قَلْبُهُ، وَضَيَّعَ عُمُرُهُ। যে ব্যক্তি আল্লাহর যিকিরের স্বাদ পায় না, বুঝতে হবে তার আমল কম এবং তার অন্তর অন্ধ হয়ে গেছে এবং তার জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : ذِكْرُ اللَّهِ عَلَمُ الْإِيمَانِ، وَبَرَاءَةٌ مِنَ النِّفَاقِ، وَحِصْنٌ مِنَ الشَّيْطَانِ، وَحِرْزٌ مِنَ النَّارِ.
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহর যিকির হলো, ঈমান ও মুনাফিকী থেকে মুক্তির আলামত। আল্লাহর যিকির মানুষকে শয়তান ও জাহান্নাম থেকে হেফাজত করে।
টিকাঃ
১৪৮. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৩৩৭৭; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৩৭৯০; মুয়াত্তা মালেক: ৫৬৪; মুসনাদে আহমাদ: ৩৬/৩৩; হাদীসটি সহীহ [শুয়াইব আরনাউত]।
১৪৯. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ: হাদীস-৩৪৩৪; আয-যুহদ লি-ইবনে মুবারক: ২৫৭।
১৫০. সূরা আনকাবুত: আয়াত-৪৫
১৫১. ত্ববারানী কাবীর ২০/১০৭; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস-৮১৮; হাদীসটি হাসান [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/৭৪]।
১৫২. উপরিউক্ত শব্দে আমরা হাদীসটি পাইনি। তবে, ঈমানের আলামত নামাজ; এই শব্দে কিছু হাদীস এসেছে [আল-ফিরদাউস: ৩/৪১; মুসনাদে কুযায়ী: ১/১৩১]
📄 হযরত ইয়াহইয়া আ.-এর ইরশাদ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا ، أَنَّهُ قَالَ: لَمَّا بَعَثَ اللَّهُ يَحْيَى بْنَ زَكَرِيَّا، عَلَيْهِمَا السَّلَامُ، إِلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ، أَمَرَهُ بِأَنْ يَأْمُرَهُمْ بِخَمْسِ خِصَالٍ، وَيَضْرِبَ لَهُمْ بِكُلِّ خَصْلَةٍ مَثَلًا. أَمَرَهُمْ أَنْ يَعْبُدُوا اللهَ وَلَا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَضَرَبَ لَهُمْ مَثَلًا فَقَالَ: مَثَلُ الشَّرْكِ كَمَثَلِ رَجُلٍ اشْتَرَى عَبْدًا مِنْ خَالِصِ مَالِهِ، ثُمَّ أَسْكَنَهُ دَارًا وَزَوَّجَهُ جَارِيَةً لَهُ، وَدَفَعَ إِلَيْهِ مَالًا، وَأَمَرَهُ أَنْ يُتَّجِرَ فِيهِ، وَيَأْكُلَ مِنْهُ مَا يَكْفِيهِ، وَيُؤَدِّي إِلَيْهِ فَضْلَ الرَّبْحِ، فَعَمَدَ الْعَبْدُ إِلَى فَضْلِ رِبْحِهِ، فَجَعَلَ يُعْطِيهِ لِعَدُوِّ سَيِّدِهِ، وَيُعْطِي لِسَيِّدِهِ مِنْهُ شَيْئًا يَسِيرًا، فَأَيُّكُمْ يَرْضَى بِمِثْلِ هُذَا الْعَبْدِ، وَأَمَرَهُمْ بِالصَّلَاةِ، وَضَرَبَ لَهُمْ مَثَلًا: فَقَالَ: مَثَلُ الصَّلَاةِ كَمَثَلِ رَجُلٍ اسْتَأْذَنَ عَلَى مَلِكٍ مِنَ الْمُلُوكِ، فَأَذِنَ لَهُ فَدَخَلَ عَلَيْهِ، فَأَقْبَلَ الْمَلِكُ عَلَيْهِ بِوَجْهِهِ لِيَسْمَعَ مَقَالَتَهُ، وَيَقْضِيَ حَاجَتَهُ فَجَعَلَ يَلْتَفِتُ يَمِينًا وَشِمَالًا، وَلَمْ يَهْتَمَّ لِقَضَاءِ حَاجَتِهِ، فَأَعْرِضَ عَنْهُ الْمَلِكُ وَلَمْ يَقْضِ حَاجَتَهُ، وَأَمَرَهُمْ بِالصِّيَامِ وَضَرَبَ لَهُمْ مَثَلًا فَقَالَ: مَثَلُ الصَّائِمِ، كَمَثَلِ رَجُلٍ لَبِسَ جُبَّةً لِلْقِتَالِ، وَأَخَذَ سِلَاحَهُ، فَلَمْ يَصِلْ إِلَيْهِ عَدُوُّهُ، وَلَمْ يَعْمَلْ فِيهِ سِلَاحُ عَدُوِّهِ، وَأَمَرَهُمْ بِالصَّدَقَةِ وَضَرَبَ لَهُمْ مَثَلًا فَقَالَ: مَثَلُ الصَّدَقَةِ كَمَثَلِ رَجُلٍ أَسَرَهُ الْعَدُوُّ، فَاشْتَرَى مِنْهُ نَفْسَهُ بِثَمَنٍ مَعْلُومٍ، فَجَعَلَ يَعْمَلُ فِي بِلَادِهِمْ، وَيُؤَدِّي إِلَيْهِمْ مِنْ كَسْبِهِ مِنَ الْقَلِيلِ وَالْكَثِيرِ حَتَّى فَدَى نَفْسَهُ مِنْهُمْ فَعَتَقَ وَفَكَ مِنْهُمْ رَقَبَتَهُ، وَأَمَرَهُمْ بِذِكْرِ اللَّهِ وَضَرَبَ لَهُمْ مَثَلًا فَقَالَ مَثَلُ الذِّكْرِ كَمَثَلِ قَوْمٍ لَهُمْ حِصْنٌ، وَبِقُرْبِهِمْ عَدُوٌّ، فَجَاءَهُمْ عَدُوُّهُمْ، فَدَخَلُوا حِصْنَهُمْ، وَأَغْلَقُوا عَلَيْهِمْ بَابَهُ، فَحَصَّنُوا أَنْفُسَهُمْ مِنَ الْعَدُوِّ. ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَأَنَا آمُرُكُمْ بِهَذِهِ الْخِصَالِ الْخَمْسِ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ تَعَالَى بِهِنَّ يَحْيَى عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ، وَآمُرُكُمْ بِخَمْسِ خِصَالٍ أُخْرَى أَمَرَنِي اللَّهُ تَعَالَى بِهِنَّ عَلَيْكُمْ بِالْجَمَاعَةِ وَالسَّمْعِ، وَالطَّاعَةِ، وَالْهِجْرَةِ، وَالْجِهَادِ، وَمَنْ دَعَا بِدُعَاءِ الْجَاهِلِيَّةِ، فَهُوَ خَشَبٌ فِي قَعْرِ جَهَنَّمَ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, আল্লাহ তা'আলা হযরত ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া আ. কে যখন বনী ইসরাঈলের নিকট পাঠালেন, তখন বলে দিলেন, তুমি তাদেরকে পাচঁটি কাজ করার আদেশ দেবে এবং প্রতিটি আদেশ একটি করে উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিবে। যথা-
১. তিনি তাদেরকে আল্লাহর ইবাদত করা এবং তার সাথে অন্য কিছুকে শরীক না করার আদেশ দিলেন। এর দৃষ্টান্ত পেশ করে বললেন, শিরকের উদাহরণ হলো, এক ব্যক্তি নিজস্ব টাকায় একটি গোলাম ক্রয় করল, থাকার জন্য তাকে আলাদা একটি বাড়ি দিল, একটি দাসীর সাথে তার বিয়ে দিল এবং ব্যবসার জন্য কিছু মূলধন দিয়ে বলল, এগুলো দিয়ে ব্যবসা করবে ও তার লভ্যাংশ দিয়ে জীবন যাপন করবে, আর অতিরিক্ত যা থাকবে তা মালিককে দিয়ে দিবে। অতঃপর গোলাম তার ব্যবসার বড় লভ্যাংশ মনিবের শত্রুকে দিল। আর মনিবকে দিল সামান্য অংশ। তোমাদের কোনো মুনিব গোলামের এ আচরণ মেনে নিতে পারবে?
২. তিনি তাদেরকে নামায আদায়ের আদেশ দিলেন। নামাযের দৃষ্টান্ত পেশ করে বললেন, নামাযের উদাহরণ হলো, এক ব্যক্তি বাদশাহর দরবারে প্রবেশ করে নিজ প্রয়োজন বলার অনুমতি চাইলো। বাদশাহ অনুমতি দিলেন। বাদশাহ যখন তার কথা শোনার জন্য এবং তার প্রয়োজন মিটানোর জন্য তার প্রতি মনোযোগ দিলেন তখন দেখা গেল, সে ডানে-বামে তাকাতে লাগল। বাদশাহর প্রতি তার কোনো মনযোগ নেই। এতে বাদশাহ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
৩. তিনি তাদেরকে রোযা পালনের আদেশ দিলেন। রোযার দৃষ্টান্ত পেশ করে বললেন, রোযাদারের উদাহরণ হলো, সে যোদ্ধার ন্যায়, যে যুদ্ধের পোশাক পরে অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধের জন্য বের হয়, অস্ত্র-সজ্জিত থাকার কারণে শত্রু তার কোনো ক্ষতিই করতে পারে না।
৪. তিনি তাদেরকে সদকার আদেশ দিলেন। সদকার দৃষ্টান্ত পেশ করে বললেন, সদকার উদাহরণ হলো, এক ব্যক্তি শত্রুর হাতে বন্দী হলো। সে নির্দিষ্ট পরিমাণ মুক্তিপণ আদায়ের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলো। ফলে তারা তাকে ছেড়ে দিল। সে শত্রুভূমিতে অর্থ উপার্জন করে মুক্তিপণ আদায় করতে লাগল। আর এভাবে সে সম্পূর্ণ মুক্তিপণ আদায় করে দাসত্ব থেকে মুক্তি পেল।
৫. তিনি তাদেরকে আল্লাহর যিকিরের আদেশ দিলেন। যিকিরের দৃষ্টান্ত পেশ করে বললেন, যিকিরের উদাহরণ হলো, এক সম্প্রদায় শত্রুদের হাত থেকে নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য একটি দুর্গ নির্মাণ করল। কিন্তু একদিন শত্রুরা এসে তাদের সে দুর্গ দখল করে নিল। তারা দুর্গে প্রবেশ করে দুর্গের ফটক বন্ধ করে দিল। কিন্তু তারপরও তারা শত্রুর হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম হলো না।
অতঃপর রাসূল ﷺ বললেন, হযরত ইয়াহইয়া তাঁর জাতিকে যে পাঁচটি আমলের আদেশ করে ছিলেন, আমিও তোমাদেরকে তা আদেশ করছি। তবে আমি তোমাদেরকে আরো পাচঁটি বিষয়ের আদেশ করছি। যথা-
১. সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকবে। ২. দায়িত্বশীলদের আনুগত্য করবে। ৩. দীন রক্ষার জন্য প্রয়োজনে হিজরত করবে। ৪. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে। ৫. জাহেলী প্রথা ফিরিয়ে আনবে না। যে ব্যক্তি জাহেলী প্রথা ফিরিয়ে আনবে সে জাহান্নামে যাবে।
টিকাঃ
১৫৩. সুনানে তিরমিযী: হাদীস নং-২৮৬৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৭১৭০; সহীহ ইবনে হিব্বান : হাদীস-৬২০০; ইমাম তিরমিযী হাদিসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
📄 হামদ, সানা ও তাকবীর
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَيْرٍ، قَالَ : مَنْ قَالَ الْحَمْدُ للهِ تُفْتَحُ لَهُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَالتَّكْبِيرُ يَمْلَأُ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، وَالتَّسْبِيحُ اللَّهِ تَعَالَى لَا يَنْتَهِي إِلَى ثَوَابِهِ عِلْمُ أَحَدٍ دُونَ اللَّهِ تَعَالَى. قَالَ اللهُ تَعَالَى: إِذَا ذَكَرَنِي عَبْدِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي، وَإِذَا ذَكَرَنِي وَحْدَهُ ذَكَرْتُهُ وَحْدِي، وَإِذَا ذَكَرَنِي فِي مَلَا ذَكَرْتُهُ فِي مَلَا أَحْسَنَ مِنْهُ، وَأَكْرَمَ. وَقَالَ: مَا مِنْ عَبْدٍ يَضَعُ جَنْبَهُ عَلَى الْفِرَاشِ، فَيَذْكُرُ اللهَ تَعَالَى فَيُدْرِكُهُ النَّوْمُ، وَهُوَ كَذَلِكَ إِلَّا كُتِبَ ذَاكِرًا إِلَى أَنْ يَسْتَيْقِظَ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমায়ের রহ. বলেন, যে ব্যক্তি الْحَمْدُ للهِ বলে, তার জন্য আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি আল্লাহু আকবার বলে, তাকে আসমান জমিনের সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হয়। আর যে ব্যক্তি سُبْحَانَ اللهِ বলবে, তাকে কী পরিমাণ সওয়াব দান করা হবে তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, বান্দা যখন মনে মনে আমাকে স্মরণ করে আমিও মনে মনে তাকে স্মরণ করি। বান্দা যখন একাকী আমাকে স্মরণ করে আমিও একাকী তাকে স্মরণ করি। আর বান্দা যখন কোনো মজলিসে আমাকে স্মরণ করে আমিও তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ মজলিসে তাকে স্মরণ করি। তিনি আরো বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি শয়নকালে যিকির করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ে, তাহলে যতক্ষণ সে ঘুমিয়ে থাকে আল্লাহ তাকে যিকিরের সওয়াব দান করেন।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, বান্দাকে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা স্মরণ করার অর্থ হলো, ক্ষমা করা। বান্দা যখন আল্লাহকে স্মরণ করে, আল্লাহ তা'আলা তাকে মাফ করে দেন।
টিকাঃ
১৫৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-৭৪০৫; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৬৭৫।
📄 যিকিরের তাওফীক আল্লাহর পক্ষ থেকেই
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: الذِّكْرُ بَيْنَ الذِّكْرَيْنِ وَالْإِسْلَامُ بَيْنَ السَّيْفَيْنِ، وَالذَّنْبُ بَيْنَ الْفَرْضَيْن.
হযরত আলী রাযি. বলেন, যিকির দুই যিকিরের মাধ্যমে হয় অর্থাৎ, আল্লাহ যদি বান্দাকে যিকিরের তাওফীক দান করেন তাহলে বান্দা যিকির করতে পারে। এরপর যখন যিকির করে তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। তিনি আরো বলেন, ইসলাম দুই তরবারীর মাঝে। অর্থাৎ, ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তরবারী দ্বারা জিহাদ মুসলমানদের লড়াই হয়। তারপর সে যদি (আল্লাহ না করুন) মুরতাদ হয়ে যায় তাহলে তরবারী দিয়েই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, গুনাহ দু'টি ফরজ বিধানের মাঝে। অর্থাৎ, গুনাহ না করা বান্দার উপর ফরয ছিল। আর কেউ গুনাহ করেই ফেলে তাহলে তার উপর তওবা করা আরেকটি ফরজ বিধান।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ অর্থ: আত্মগোপন করে থাকা শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন- এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, শয়তান মানুষের অন্তরে প্ররোচনা দিতে থাকে। আর যখন বান্দা আল্লাহর যিকির করে তখন শয়তান চলে যায়। বান্দা আল্লাহর যিকির থেকে উদাসীন হলে সে আবার প্ররোচনা দিতে থাকে।
রাসূল ﷺ বলেন- لِكُلِّ شَيْءٍ صِقَالٌ، وَصِقَالُ الْقَلْبِ ذِكْرُ اللَّهِ تَعَالَى প্রত্যেক জিনিস উজ্জ্বল করার একটি যন্ত্র আছে। আর অন্তর উজ্জ্বল করার যন্ত্র হলো আল্লাহর যিকির।
عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ، أَنَّهُ قَالَ: إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ فَسَلَّمَ، قَالَ الشَّيْطَانُ: لَا مَقِيلَ، يَعْنِي لَمْ يَبْقَ لِي هَهُنَا مَوْضِعُ قَرَارٍ، وَإِذَا أَتَى بِطَعَامٍ فَذَكَرَ اللهَ تَعَالَى، قَالَ الشَّيْطَانُ : لَا مَقِيلَ، وَلَا مَطْعَمَ، وَلَا مَشْرَبَ، فَيَخْرُجُ خَائِبًا.
ইবরাহিম নাখাঈ রহ. বলেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, মানুষ ঘরে ঢুকে যদি সালাম করে তাহলে শয়তান বলে, এখানে আমার থাকার জায়গা নেই। আর খাওয়ার সময় যদি আল্লাহর নাম নিয়ে খাওয়া শুরু করে তাহলে শয়তান বলে, এখানেও থাকার সুযোগ নেই এবং খাবারেরও সুযোগ নেই। এই বলে ব্যর্থ মনোরথ হয়ে সে ঘর থেকে বের হয়ে যায়।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، قَالَ: إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ طَعَامًا فَلْيَقُلْ : بِسْمِ اللَّهِ، فَإِنْ نَسِيَ فِي أَوَّلِهِ فَلْيَقُلْ فِي آخِرِهِ.
হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল ইরশাদ করেন, খাবারের সময় তোমরা বিসমিল্লাহ বলে শুরু করবে। যদি কেউ শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায় তাহলে সে যেন খাবারের শেষে بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ বলে নেয়।
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ طَعَامًا، وَلَمْ يَقُلْ بِسْمِ اللَّهِ أَكَلَ الشَّيْطَانُ مَعَهُ ، وَإِذَا ذَكَرَ اسْمَ اللهِ تَعَالَى مَنَعَ الشَّيْطَانَ مِنْ بَقِيَّةِ طَعَامِهِ، وَتَقَايَا مَا أَكَلَ، وَاسْتَأْنَفَ طَعَامًا جَدِيدًا.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাবারের শুরুতে যদি কেউ বিসমিল্লাহ না বলে, তাহলে শয়তান তার সাথে খেতে থাকে। খাবারের মধ্যখানে যখন বিসমিল্লাহ বলে, তখন শয়তান খেতে পারে না। বরং সে যা খেয়েছিল তা বমি করে দেয় এবং নতুন খাবারের সন্ধান করে।
টিকাঃ
১৫৫. শুআবুল ঈমান: হাদীস-৫২২; আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব: ২/৩৯৬।
১৫৬. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২০১৮।
১৫৭. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৩৭৬৭; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৮৫৮; হাদীসটি সহীহ।