📄 হযরত ঈসা আ.-এর উক্তি
عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ : بَلَغَنِي أَنَّ عِيسَى صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ قَالَ: لَا تُكْثِرُوا الْكَلَامَ فِي غَيْرِ ذِكْرِ اللهِ، فَتَقْسُوَ قُلُوبُكُمْ، وَالْقَلْبُ الْقَاسِي بَعِيدٌ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى وَلَكِنْ لَا تَعْلَمُونَ، وَلَا تَنْظُرُوا فِي عُيُوبِ النَّاسِ، كَأَنَّكُمْ أَرْبَابٌ وَانْظُرُوا إِلَيْهَا كَأَنَّكُمْ عَبِيدٌ، وَإِنَّمَا النَّاسُ رَجُلَانِ مُبْتَلًى وَمُعَافًى، فَارْحَمُوا صَاحِبَ الْبَلَاءِ وَاحْمَدُوا الله על العافية
হযরত মালেক ইবনে আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। হযরত ঈসা আ. বলেন-
১. আল্লাহর যিকির বেশি বেশি কর। অনর্থক আলোচনা কর না। কারণ, এতে তোমাদের অন্তর কঠোর হয়ে যাবে। আর কঠোর অন্তর আল্লাহ তা'আলা থেকে অনেক দূরে থাকে। কিন্তু তোমরা তা বুঝতে পার না।
২. তোমরা মনিবের মত ভাব নিয়ে অন্যের দোষের দিকে তাকিয়ো না। বরং কৃতদাস মনিবের দোষ দেখার মতো মানুষের দোষ দেখবে।
৩. মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত: বিপদগ্রস্ত এবং বিপদমুক্ত। বিপদগ্রস্তের প্রতি দয়া করবে এবং বিপদমুক্তের জন্য আল্লাহর শোকর আদায় করবে।
📄 হযরত তাউস রহ.-এর উক্তি
عَنْ أَبِي عُبَيْدِ اللهِ الشَّامِيِّ، قَالَ: اسْتَأْذَنْتُ عَلَى طَاوُوسَ، فَخَرَجَ شَيْخٌ كَبِيرٌ فَقَالَ لِي: أَنَا هُوَ. فَقُلْتُ لَهُ: لَئِنْ كُنْتَ أَنْتَ هُوَ، فَإِنَّكَ إِذًا لَخَرِفٌ. فَقَالَ: إِنَّ الْعَالِمَ لَا يَخْرَفُ، فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ. فَقَالَ لِي: سَلْ وَأَوْجِزْ. فَقُلْتُ لَهُ: إِنْ لِي أَوْجَزْتُ لَكَ. فَقَالَ: إِنْ شِئْتَ جَمَعْتُ لَكَ التَّوْرَاةِ، وَالْإِنْجِيلَ، وَالْفُرْقَانَ فِي ثَلَاثِ كَلِمَاتٍ فَعَلْتُ. فَقُلْتُ: وَدِدْتُ ذَلِكَ فَقَالَ: خَفِ اللَّهَ خَوْفًا لَا يَكُونُ أَحَدٌ أَخْوَفَ عِنْدَكَ مِنْهُ، وَرَجُهُ رَجَاءً هُوَ أَشَدُّ مِنْ خَوْفِكَ إِيَّاهُ، وَأَحِبَّ لِغَيْرِكَ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ.
হযরত আবূ আব্দুল্লাহ শামী রহ. বলেন, আমি হযরত তাউস রহ.-এর বাড়িতে গেলাম। তাউসের নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলে এক বয়োবৃদ্ধ লোক বেরিয়ে এসে বলল, আমিই তাউস। আমি কিছুটা হতাশ হয়ে বললাম, আপনি যদি তাউস হয়ে থাকেন তাহলে তো বার্ধক্যের কারণে আপনার স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বললেন, আলেমদের স্মৃতিশক্তি কখনো দুর্বল হয় না। তারপর তাঁর কাছে গিয়ে বসলাম। তিনি বললেন, যা বলবে সংক্ষেপে বলবে। আমি বললাম, আপনি যদি সংক্ষেপে উত্তর দেন আমিও সংক্ষেপে প্রশ্ন করব। তিনি বললেন, আমি কুরআন, তাওরাত, ইঞ্জিলের যাবতীয় বাণীর সারনির্যাস তিন বাক্যে তোমাকে বলে দিতে পারি। আমি বললাম, আমি সেটাই জানতে চাই। তিনি বললেন-
১. আল্লাহকে এত ভয় কর যে, তার চেয়ে বেশি আর কাউকে ভয় কর না। ২. আল্লাহর প্রতি তোমার ভয়ের চেয়ে আশা বেশি রাখ। ৩. নিজের জন্য যা পছন্দ কর, অন্যের জন্য তাই পছন্দ কর।
📄 তিনটি পছন্দনীয় বিষয়
عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : ثَلَاثُ مَنْ جَمَعَهُنَّ جَمَعَ الْإِيمَانَ كُلَّهُ، الْإِنْفَاقُ فِي الْإِقْتَارِ، وَالْإِنْصَافُ مِنْ نَفْسِهِ، وَإِفْشَاءُ السَّلَامِ عَلَى الْخَلَائِقِ.
হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যার মাঝে তিনটি গুণ থাকবে তার ঈমান পরিপূর্ণতা লাভ করবে। যথা- ১. অভাবের সময় দান করা। ২. নিজের উপর ইনসাফ করা। ৩. মানুষকে বেশি বেশি সালাম করা।
عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّهُ قَالَ: أَحَبُّ الْأُمُورِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى ثَلَاثَةٌ: الْعَفْوُ عِنْدَ الْمَقْدِرَة، وَالْقَصْدُ فِي الْجِدَةِ، وَالرِّفْقُ بِعِبَادِ اللَّهِ تَعَالَى، وَمَا رَفَقَ أَحَدٌ بِعِبَادِ اللَّهِ إِلَّا رَفَقَ اللَّهُ بِهِ.
হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ. বলেন, তিনটি আমল আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়। যথা- ১. ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করা। ২. মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। ৩. আল্লাহর বান্দাদের প্রতি দয়া করা। যে ব্যক্তি আল্লাহর বান্দাদের প্রতি দয়া করবে আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি দয়া করবেন।
📄 যাবতীয় কল্যাণের উৎস
عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: أَوْحَى اللَّهُ إِلَى آدَمَ، يَا آدَمُ أَرْبَعٌ هُنَّ جِمَاعٌ لَكَ وَلِوَلَدِكَ يَعْنِي جِمَاعُ الْخَيْرِ، وَاحِدَةٌ لِي، وَوَاحِدَةٌ لَكَ، وَوَاحِدَةٌ بَيْنِي وَبَيْنَكَ، وَوَاحِدَةٌ بَيْنِي وَبَيْنَ النَّاسِ، فَأَمَّا الَّتِي لِي فَأَنْ تَعْبُدَنِي وَلَا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا، وَأَمَّا الَّتِي لَكَ فَعَمَلُكَ أَجْزِيكَ بِهِ حِينَ أَفْقَرَ مَا تَكُونَ إِلَيْهِ، وَأَمَّا الَّتِي بَيْنِي وَبَيْنَكَ فَمِنْكَ الدُّعَاءُ وَعَلَيَّ الْإِجَابَةُ، وَأَمَّا الَّتِي بَيْنَكَ وَبَيْنَ النَّاسِ، فَاصْحَبْهُمْ بِالَّذِي تُحِبُّ أَنْ يَصْحَبُوكَ بِهِ.
হযরত হাসান রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা হযরত আদম আ.-এর নিকট ওহী পাঠালেন, হে আদম! চারটি বিষয় এমন, যা তোমার এবং তোমার বংশের জন্য কল্যাণকর। তার একটি আমার সাথে সম্পৃক্ত, দ্বিতীয়টি তোমার সাথে সম্পৃক্ত, তৃতীয়টি আমার ও তোমার উভয়ের সাথে সম্পৃক্ত এবং চতুর্থটি তোমার ও অন্যান্য মানুষের সাথে সম্পৃক্ত।
১. আমার সাথে সম্পৃক্ত বিষয়টি হলো, আমার ইবাদত কর, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরীক কর না।
২. যে বিষয়টি তোমার সাথে সম্পৃক্ত তা হলো, আমল করা। তুমি আমল করবে, আর আমি তোমার সবচেয়ে অসহায় মুহূর্তে তার প্রতিদান দিব।
৩. আর যে বিষয়টি আমার ও তোমার সাথে যুক্ত তা হলো, দোয়া করা। দোয়া করা তোমার কাজ আর তাতে সাড়া দেওয়া আমার কাজ।
৪. যে বিষয়টি তোমার ও অন্যান্য মানুষের সাথে সম্পৃক্ত তা হলো, তুমি মানুষের সাথে এমন আচরণ কর, যেমন আচরণ তুমি মানুষের থেকে কামনা কর।