📄 মুসলমানের সহযোগিতা করা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : مَنْ سَتَرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ فِي الدُّنْيَا سَتَرَهُ اللهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَمَنْ نَفَّسَ عَنْ مُسْلِمٍ كَرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا، نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَتَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَ اللهُ تَعَالَى فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا دَامَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ.
হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ তা'আলা দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুসলিম ভাইয়ের বিপদ দূর করবে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার বিপদ দূর করবেন। বান্দা যতক্ষণ তার মুসলিম ভাইয়ের সহযোগিতা করে, আল্লাহ তা'আলাও ততক্ষণ তার সহযোগিতা করতে থাকেন।
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ : وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ مِنَ الْخَيْرِ.
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেন, সেই সত্ত্বার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে তার মুসলিম ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে।
عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : إِنَّ اللهَ تَعَالَى لَا يَرْحَمُ مَنْ لَا يَرْحَمُ، وَلَا يَغْفِرُ لِمَنْ لَا يَغْفِرُ وَلَا يَتُوبُ عَلَى مَنْ لَا يَتُوبُ.
হযরত উমর রাযি. বলেন, যে ব্যক্তি অন্যের প্রতি দয়া করে না আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না। যে ব্যক্তি অন্যকে ক্ষমা করে না আল্লাহও তাকে ক্ষমা করবেন না। যে ব্যক্তি অন্যের ওযর কবুল করে না আল্লাহও তার তওবা কবুল করেন না।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ ارْحَمُوا أَهْلَ الْأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ.
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেন, দয়াবানদের প্রতিই আল্লাহ দয়া করে থাকেন। জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া কর, আসমানে যিনি আছেন, তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।
عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ لَا يَرْحَمُ النَّاسَ لَا يَرْحَمُهُ اللَّهُ.
জারির ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেন, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না আল্লাহ তা'আলাও তার প্রতি দয়া করবেন না।
عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّهُ قَالَ : ذُكِرَ لَنَا أَنَّ فِي الْإِنْجِيلِ مَكْتُوبًا يَا ابْنَ آدَمَ كَمَا تَرْحَمُ فَكَذَلِكَ تُرْحَمُ وَكَيْفَ تَرْجُو أَنْ يَرْحَمَكَ اللَّهُ وَأَنْتَ لَا تَرْحَمُ عِبَادَهُ?
কাতাদা রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইঞ্জিল শরীফে আছে, হে আদমের সন্তান! তুমি যেমন দয়া করবে তোমার প্রতিও তেমনি দয়া করা হবে। তুমি যদি আল্লাহর বান্দাদের প্রতি দয়া না-করতে পার তাহলে কীভাবে আশা কর, আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করবেন?
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ كَانَ يَتَبَّعُ الصَّبْيَانَ، فَيَشْتَرِيَ مِنْهُمُ الْعَصَافِيرَ، فَيُرْسِلَهَا وَيَقُولُ اذْهَبِي فَعِيشِي وَقَالَ شَقِيقُ الزَّاهِدُ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى : إِذَا ذَكَرْتَ الرَّجُلَ بِالسُّوءِ، فَلَم් تَهْتَمَّ لَهُ تَرَحُمًا، فَأَنْتَ أَسْوَأُ حَالًا مِنْهُ، وَإِذَا ذَكَرْتَ الرَّجُلَ الصَّالِحَ، فَلَمْ تَجِدْ فِي قَلْبِكَ حَلَاوَةَ طَاعَةِ رَبِّكَ، فَأَنْتَ رَجُلُ سُوءٍ.
হযরত আবুদ দারদা রাযি.-এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে। তিনি শিশুদের থেকে পাখি ক্রয় করে নিয়ে সেগুলো ছেড়ে দিয়ে বলতেন, যাও মুক্তভাবে জীবন যাপন কর। হযরত শাকীক বলখী রহ. বলেন, কারো সমালোচনা করার সময় যদি তুমি তার প্রতি সহমর্মিতা বোধ না কর, তাহলে বুঝবে যে, তুমি নিজে তার চেয়ে খারাপ অবস্থার মুখোমুখি হবে। আর কোনো নেক আলোচনার সময় যদি তুমি মনে আল্লাহর আনুগত্যের স্বাদ অনুভব না কর, তাহলে বুঝবে যে, তুমি গুনাহগার।
টিকাঃ
১২১. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৬৯৯; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-১৪৫৫; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৪২৫।
১২২. সহীহ বুখারী: হাদীস-১৩; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৪৫।
১২৩. সুনানে তিরমিযী : হাদীস-১৯২৪; সুনানে আবী দাউদ : হাদীস-৪৯৪১। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন。
১২৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬০১৩; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৩১৯।
📄 হযরত ঈসা আ.-এর উক্তি
عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ : بَلَغَنِي أَنَّ عِيسَى صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ قَالَ: لَا تُكْثِرُوا الْكَلَامَ فِي غَيْرِ ذِكْرِ اللهِ، فَتَقْسُوَ قُلُوبُكُمْ، وَالْقَلْبُ الْقَاسِي بَعِيدٌ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى وَلَكِنْ لَا تَعْلَمُونَ، وَلَا تَنْظُرُوا فِي عُيُوبِ النَّاسِ، كَأَنَّكُمْ أَرْبَابٌ وَانْظُرُوا إِلَيْهَا كَأَنَّكُمْ عَبِيدٌ، وَإِنَّمَا النَّاسُ رَجُلَانِ مُبْتَلًى وَمُعَافًى، فَارْحَمُوا صَاحِبَ الْبَلَاءِ وَاحْمَدُوا الله על العافية
হযরত মালেক ইবনে আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। হযরত ঈসা আ. বলেন-
১. আল্লাহর যিকির বেশি বেশি কর। অনর্থক আলোচনা কর না। কারণ, এতে তোমাদের অন্তর কঠোর হয়ে যাবে। আর কঠোর অন্তর আল্লাহ তা'আলা থেকে অনেক দূরে থাকে। কিন্তু তোমরা তা বুঝতে পার না।
২. তোমরা মনিবের মত ভাব নিয়ে অন্যের দোষের দিকে তাকিয়ো না। বরং কৃতদাস মনিবের দোষ দেখার মতো মানুষের দোষ দেখবে।
৩. মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত: বিপদগ্রস্ত এবং বিপদমুক্ত। বিপদগ্রস্তের প্রতি দয়া করবে এবং বিপদমুক্তের জন্য আল্লাহর শোকর আদায় করবে।
📄 হযরত তাউস রহ.-এর উক্তি
عَنْ أَبِي عُبَيْدِ اللهِ الشَّامِيِّ، قَالَ: اسْتَأْذَنْتُ عَلَى طَاوُوسَ، فَخَرَجَ شَيْخٌ كَبِيرٌ فَقَالَ لِي: أَنَا هُوَ. فَقُلْتُ لَهُ: لَئِنْ كُنْتَ أَنْتَ هُوَ، فَإِنَّكَ إِذًا لَخَرِفٌ. فَقَالَ: إِنَّ الْعَالِمَ لَا يَخْرَفُ، فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ. فَقَالَ لِي: سَلْ وَأَوْجِزْ. فَقُلْتُ لَهُ: إِنْ لِي أَوْجَزْتُ لَكَ. فَقَالَ: إِنْ شِئْتَ جَمَعْتُ لَكَ التَّوْرَاةِ، وَالْإِنْجِيلَ، وَالْفُرْقَانَ فِي ثَلَاثِ كَلِمَاتٍ فَعَلْتُ. فَقُلْتُ: وَدِدْتُ ذَلِكَ فَقَالَ: خَفِ اللَّهَ خَوْفًا لَا يَكُونُ أَحَدٌ أَخْوَفَ عِنْدَكَ مِنْهُ، وَرَجُهُ رَجَاءً هُوَ أَشَدُّ مِنْ خَوْفِكَ إِيَّاهُ، وَأَحِبَّ لِغَيْرِكَ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ.
হযরত আবূ আব্দুল্লাহ শামী রহ. বলেন, আমি হযরত তাউস রহ.-এর বাড়িতে গেলাম। তাউসের নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলে এক বয়োবৃদ্ধ লোক বেরিয়ে এসে বলল, আমিই তাউস। আমি কিছুটা হতাশ হয়ে বললাম, আপনি যদি তাউস হয়ে থাকেন তাহলে তো বার্ধক্যের কারণে আপনার স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বললেন, আলেমদের স্মৃতিশক্তি কখনো দুর্বল হয় না। তারপর তাঁর কাছে গিয়ে বসলাম। তিনি বললেন, যা বলবে সংক্ষেপে বলবে। আমি বললাম, আপনি যদি সংক্ষেপে উত্তর দেন আমিও সংক্ষেপে প্রশ্ন করব। তিনি বললেন, আমি কুরআন, তাওরাত, ইঞ্জিলের যাবতীয় বাণীর সারনির্যাস তিন বাক্যে তোমাকে বলে দিতে পারি। আমি বললাম, আমি সেটাই জানতে চাই। তিনি বললেন-
১. আল্লাহকে এত ভয় কর যে, তার চেয়ে বেশি আর কাউকে ভয় কর না। ২. আল্লাহর প্রতি তোমার ভয়ের চেয়ে আশা বেশি রাখ। ৩. নিজের জন্য যা পছন্দ কর, অন্যের জন্য তাই পছন্দ কর।
📄 তিনটি পছন্দনীয় বিষয়
عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : ثَلَاثُ مَنْ جَمَعَهُنَّ جَمَعَ الْإِيمَانَ كُلَّهُ، الْإِنْفَاقُ فِي الْإِقْتَارِ، وَالْإِنْصَافُ مِنْ نَفْسِهِ، وَإِفْشَاءُ السَّلَامِ عَلَى الْخَلَائِقِ.
হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যার মাঝে তিনটি গুণ থাকবে তার ঈমান পরিপূর্ণতা লাভ করবে। যথা- ১. অভাবের সময় দান করা। ২. নিজের উপর ইনসাফ করা। ৩. মানুষকে বেশি বেশি সালাম করা।
عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّهُ قَالَ: أَحَبُّ الْأُمُورِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى ثَلَاثَةٌ: الْعَفْوُ عِنْدَ الْمَقْدِرَة، وَالْقَصْدُ فِي الْجِدَةِ، وَالرِّفْقُ بِعِبَادِ اللَّهِ تَعَالَى، وَمَا رَفَقَ أَحَدٌ بِعِبَادِ اللَّهِ إِلَّا رَفَقَ اللَّهُ بِهِ.
হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহ. বলেন, তিনটি আমল আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয়। যথা- ১. ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করা। ২. মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা। ৩. আল্লাহর বান্দাদের প্রতি দয়া করা। যে ব্যক্তি আল্লাহর বান্দাদের প্রতি দয়া করবে আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি দয়া করবেন।