📄 এক মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের হক
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ : أَرْبَعٌ مِنْ حَقِّ الْمُسْلِمِينَ عَلَيْكَ أَنْ تُعِينَ مُحْسِنَهُمْ، وَأَنْ تَسْتَغْفِرَ لِمُذْنِبِهِمْ، وَأَنْ تَدْعُوَ لِمُدْبِرِهِمْ، وَأَنْ تُحِبَّ تَائِبَهُمْ.
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, তোমার উপর মুসলমানদের চারটি হক রয়েছে। যথা- ১. নেককারদের সহযোগিতা করা। ২. গুনাহগারদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। ৩. জেহাদ থেকে পলায়নকারীদের জন্য দোয়া করা। ৪. তওবাকারীকে ভালোবাসা।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ : لِلْمُسْلِمِ عَلَى أَخِيهِ سِتُّ خِصَالٍ وَاجِبَةٍ، إِنْ تَرَكَ مِنْهَا وَاحِدَةً، فَقَدْ تَرَكَ حَقًّا وَاجِبًا، إِذَا دَعَاهُ أَنْ يُجِيبَهُ، وَإِذَا مَرِضَ أَنْ يَعُودَهُ، وَإِذَا مَاتَ أَنْ يَحْضُرَهُ، وَإِذَا لَقِيَهُ أَنْ يُسَلِّمَ عَلَيْهِ، وَإِذَا اسْتَنْصَحَهُ أَنْ يَنْصَحَهُ، وَإِذَا عَطَسَ أَنْ يُشَمِّتَهُ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, এক মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের ছয়টি হক রয়েছে। যদি সে তার একটিও বাদ দেয় তাহলে তার একটি ওয়াজিব ছাড়ার গুনাহ হবে। যথা- ১. আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়া। ২. অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া। ৩. মৃত্যুবরণ করলে দাফনে শরীক হওয়া। ৪. পথে দেখা হলে সালাম দেওয়া। ৫. পরামর্শ চাইলে ভালো পরামর্শ দেওয়া। ৬. হাঁচি দিয়ে (আলহামদুলিল্লাহ) বললে তার উত্তরে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা।
টিকাঃ
১১৮. আল-ফিরদাউস: হাদীস-১৪৯৯।
১১৯. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৭৩৬; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-১৪৩৩।
📄 মাখলুকের প্রতি দয়া
عَن أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ قَالَ مَا بَعَثَ اللَّهُ نَبِيًّا إِلَّا رَعَى الْغَنَمَ فَقَالَ أَصْحَابُهُ وَأَنْتَ فَقَالَ نَعَمْ كُنْتُ أَرْعَاهَا عَلَى قَرَارِيطَ لِأَهْلِ مَكَّةَ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা যে নবী পাঠিয়েছেন, তিনি মেষ চরিয়েছেন। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও মেষ চড়িয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমিও কয়েক কিরাত (মুদ্রা) এর বিনিময়ে মক্কাবাসীর মেষ চরিয়েছি।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, নবীদের মেষ চরানোর রহস্য হলো, পশু চরাতে দিয়ে দেখেছেন, সৃষ্টির প্রতি তাঁদের কতটুকু দয়া আছে। যখন দেখা গেছে যে, তারা পশুর প্রতিও দয়াবান, তখন মানুষকে দীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য তাদেরকে নবী বানিয়ে দিয়েছেন।
এক বর্ণনায় আছে, হযরত মূসা আ. আল্লাহকে জিজ্ঞেস করলেন, রব! কোন গুণের কারণে আপনি আমাকে মনোনীত করেছেন? তিনি বললেন, আমার সৃষ্টির প্রতি তোমার দয়া দেখে। তুমি শুআইবের মেষপাল চরাতে। একদিন একটি মেষ পাল থেকে হারিয়ে গেলে তুমি তাকে খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলে। অবশেষে তা পেয়ে তুমি কোলে তুলে নিলে আর বললে, আরে তুই নিজেও ক্লান্ত হলি, আমাকেও ক্লান্ত করলি!! আমার সৃষ্টির প্রতি তোমার এই দয়া দেখেই আমি তোমাকে নবুওয়াত দান করেছি।
টিকাঃ
১২০. সহীহ বুখারী: হাদীস-২২৬২; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-২১৮৯।
📄 মুসলমানের সহযোগিতা করা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : مَنْ سَتَرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ فِي الدُّنْيَا سَتَرَهُ اللهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَمَنْ نَفَّسَ عَنْ مُسْلِمٍ كَرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا، نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَتَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَ اللهُ تَعَالَى فِي عَوْنِ الْعَبْدِ مَا دَامَ الْعَبْدُ فِي عَوْنِ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ.
হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ তা'আলা দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুসলিম ভাইয়ের বিপদ দূর করবে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার বিপদ দূর করবেন। বান্দা যতক্ষণ তার মুসলিম ভাইয়ের সহযোগিতা করে, আল্লাহ তা'আলাও ততক্ষণ তার সহযোগিতা করতে থাকেন।
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ : وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ مِنَ الْخَيْرِ.
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেন, সেই সত্ত্বার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে তার মুসলিম ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে।
عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : إِنَّ اللهَ تَعَالَى لَا يَرْحَمُ مَنْ لَا يَرْحَمُ، وَلَا يَغْفِرُ لِمَنْ لَا يَغْفِرُ وَلَا يَتُوبُ عَلَى مَنْ لَا يَتُوبُ.
হযরত উমর রাযি. বলেন, যে ব্যক্তি অন্যের প্রতি দয়া করে না আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না। যে ব্যক্তি অন্যকে ক্ষমা করে না আল্লাহও তাকে ক্ষমা করবেন না। যে ব্যক্তি অন্যের ওযর কবুল করে না আল্লাহও তার তওবা কবুল করেন না।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ ارْحَمُوا أَهْلَ الْأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ.
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেন, দয়াবানদের প্রতিই আল্লাহ দয়া করে থাকেন। জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া কর, আসমানে যিনি আছেন, তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।
عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ لَا يَرْحَمُ النَّاسَ لَا يَرْحَمُهُ اللَّهُ.
জারির ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেন, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না আল্লাহ তা'আলাও তার প্রতি দয়া করবেন না।
عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّهُ قَالَ : ذُكِرَ لَنَا أَنَّ فِي الْإِنْجِيلِ مَكْتُوبًا يَا ابْنَ آدَمَ كَمَا تَرْحَمُ فَكَذَلِكَ تُرْحَمُ وَكَيْفَ تَرْجُو أَنْ يَرْحَمَكَ اللَّهُ وَأَنْتَ لَا تَرْحَمُ عِبَادَهُ?
কাতাদা রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইঞ্জিল শরীফে আছে, হে আদমের সন্তান! তুমি যেমন দয়া করবে তোমার প্রতিও তেমনি দয়া করা হবে। তুমি যদি আল্লাহর বান্দাদের প্রতি দয়া না-করতে পার তাহলে কীভাবে আশা কর, আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করবেন?
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ كَانَ يَتَبَّعُ الصَّبْيَانَ، فَيَشْتَرِيَ مِنْهُمُ الْعَصَافِيرَ، فَيُرْسِلَهَا وَيَقُولُ اذْهَبِي فَعِيشِي وَقَالَ شَقِيقُ الزَّاهِدُ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى : إِذَا ذَكَرْتَ الرَّجُلَ بِالسُّوءِ، فَلَم් تَهْتَمَّ لَهُ تَرَحُمًا، فَأَنْتَ أَسْوَأُ حَالًا مِنْهُ، وَإِذَا ذَكَرْتَ الرَّجُلَ الصَّالِحَ، فَلَمْ تَجِدْ فِي قَلْبِكَ حَلَاوَةَ طَاعَةِ رَبِّكَ، فَأَنْتَ رَجُلُ سُوءٍ.
হযরত আবুদ দারদা রাযি.-এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে। তিনি শিশুদের থেকে পাখি ক্রয় করে নিয়ে সেগুলো ছেড়ে দিয়ে বলতেন, যাও মুক্তভাবে জীবন যাপন কর। হযরত শাকীক বলখী রহ. বলেন, কারো সমালোচনা করার সময় যদি তুমি তার প্রতি সহমর্মিতা বোধ না কর, তাহলে বুঝবে যে, তুমি নিজে তার চেয়ে খারাপ অবস্থার মুখোমুখি হবে। আর কোনো নেক আলোচনার সময় যদি তুমি মনে আল্লাহর আনুগত্যের স্বাদ অনুভব না কর, তাহলে বুঝবে যে, তুমি গুনাহগার।
টিকাঃ
১২১. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৬৯৯; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-১৪৫৫; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৪২৫।
১২২. সহীহ বুখারী: হাদীস-১৩; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৪৫।
১২৩. সুনানে তিরমিযী : হাদীস-১৯২৪; সুনানে আবী দাউদ : হাদীস-৪৯৪১। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন。
১২৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬০১৩; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৩১৯।
📄 হযরত ঈসা আ.-এর উক্তি
عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ : بَلَغَنِي أَنَّ عِيسَى صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ قَالَ: لَا تُكْثِرُوا الْكَلَامَ فِي غَيْرِ ذِكْرِ اللهِ، فَتَقْسُوَ قُلُوبُكُمْ، وَالْقَلْبُ الْقَاسِي بَعِيدٌ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى وَلَكِنْ لَا تَعْلَمُونَ، وَلَا تَنْظُرُوا فِي عُيُوبِ النَّاسِ، كَأَنَّكُمْ أَرْبَابٌ وَانْظُرُوا إِلَيْهَا كَأَنَّكُمْ عَبِيدٌ، وَإِنَّمَا النَّاسُ رَجُلَانِ مُبْتَلًى وَمُعَافًى، فَارْحَمُوا صَاحِبَ الْبَلَاءِ وَاحْمَدُوا الله על العافية
হযরত মালেক ইবনে আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। হযরত ঈসা আ. বলেন-
১. আল্লাহর যিকির বেশি বেশি কর। অনর্থক আলোচনা কর না। কারণ, এতে তোমাদের অন্তর কঠোর হয়ে যাবে। আর কঠোর অন্তর আল্লাহ তা'আলা থেকে অনেক দূরে থাকে। কিন্তু তোমরা তা বুঝতে পার না।
২. তোমরা মনিবের মত ভাব নিয়ে অন্যের দোষের দিকে তাকিয়ো না। বরং কৃতদাস মনিবের দোষ দেখার মতো মানুষের দোষ দেখবে।
৩. মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত: বিপদগ্রস্ত এবং বিপদমুক্ত। বিপদগ্রস্তের প্রতি দয়া করবে এবং বিপদমুক্তের জন্য আল্লাহর শোকর আদায় করবে।