📄 তিনটি বিষয় ঈমান থেকে মাহরূম করে দেয়
عَنْ أَبِي بَكْرِ الْوَرَّاقِ، أَنَّهُ قَالَ : أَكْثَرُ مَا يَنْزِعُ مِنَ الْقَلْبِ الْإِيمَانَ ظُلْمُ الْعِبَادِ
হযরত আবু বকর ওয়াররাক রহ. বলেন, মানুষের উপর জুলুম করা অনেক সময় ঈমান থেকে মাহরূম হওয়ার কারণ হয়।
সুইলা আবু ক্ব-সিমিল হাকীয়মু হাল মিন যানবিন ইয়ানজিউল ই-মা-না মিনাল আবদি? ক্বালা: নাআম ছালা-ছাতু আশইয়া-আ তানজিউল ই-মা-না মিনাল ইবা-দি: আওয়্যালুহা: তারকুশ শুকরি আলাল ইসলা-মি, ওয়াস ছা-নী: তারকুল খাউফি আলা যিহাবিল ইসলা-মি ওয়াস ছা-লিছু: আয জুলমু আলা আহলিল ইসলা-মি।
হযরত আবুল কাসেম বিন হাকীম রহ. কে জিজ্ঞেস করা হলো, এমন কোনো গুনাহ আছে যার কারণে মুমিনের ঈমান ছিনিয়ে নেওয়া হয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনটি কারণে মানুষের অন্তর থেকে ঈমান ছিনিয়ে নেওয়া হয়। যথা- ১. ইসলাম গ্রহণ করেও শোকর আদায় না করা। ২. ঈমান চলে যাওয়ার ভয় না থাকা। ৩. মুসলমানদের উপর জুলুম করা।
📄 ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : أَوْصَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ رَجُلًا بِثَلَاثٍ فَقَالَ لَهُ : أَكْثِرْ ذِكْرَ الْمَوْتِ يَشْغَلْكَ عَمَّا سِوَاهُ، وَعَلَيْكَ بِالشُّكْرِ فَإِنَّهُ زِيَادَةٌ فِي النَّعْمَةِ وَعَلَيْكَ بِالدُّعَاءِ فَإِنَّهُ لَا تَدْرِي مَتَى يُسْتَجَابُ لَكَ، وَأَنْهَاكَ عَنْ ثَلَاثٍ، لَا تَنْقُضْ عَهْدًا، وَلَا تُعِنْ عَلَى نَقْضِهِ، وَإِيَّاكَ وَالْبَغْيَ فَإِنَّ مَنْ بُغِيَ عَلَيْهِ لَيَنْصُرَنَّهُ اللَّهُ، وَإِيَّاكَ وَالْمَكْرَ، فَإِنَّهُ لَا يَحِيقُ الْمَكْرُ السَّيِّئُ إِلَّا بِأَهْلِهِ.
হযরত আনাস রাযি. বলেন, রাসূল ﷺ এক ব্যক্তিকে তিনটি কাজ করার উপদেশ দিলেন। যথা-
১. বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ কর, তাহলে তোমার মনে ভিন্ন চিন্তা প্রবেশ করবে না।
২. আল্লাহর নেয়ামতের শোকর আদায় কর। কারণ, শোকর আদায় করলে নেয়ামত বৃদ্ধি পায়।
৩. সবসময় দুআয় মগ্ন থাকবে। কারণ, তুমি জান না, কখন তোমার দোয়া কবুল করা হবে।
এবং রাসূল ﷺ তাকে তিনটি কাজ থেকে নিষেধ করলেন-
১. প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ কর না এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতে কাউকে সহযোগিতা কর না।
২. কারো উপর জুলুম কর না। কারণ, যার উপর জুলুম করবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই সাহায্য করবেন।
৩. কারো বিরুদ্ধে খারাপ ষড়যন্ত্র কর না। কারণ, খারাপ ষড়যন্ত্র সবসময় ষড়যন্ত্রকারীকেই আক্রান্ত করে।
📄 মুমিনদেরকে কষ্ট দেওয়া
হযরত যায়েদ ইবনে সামুরা রহ. বলেন, সমুদ্রের পারের মতো জাহান্নামের কিছু পার রয়েছে, যাতে উটের মত বৃহৎ সাপ এবং গাধার মত বড় বিচ্ছু আছে। জাহান্নামীরা যখন জাহান্নামের আযাবে অতিষ্ঠ হয়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাইতে থাকবে তখন তাদের বলা হবে, তোমরা জাহান্নামের পারে চলে যাও। তারা পারে গেলে সেখানের সাপ ও বিচ্ছুগুলো তাদের মুখ, জিহ্বা ইত্যাদি দংশন করতে থাকবে। সেখান থেকে বাঁচার জন্য তারা পুনরায় জাহান্নামে ফিরে যেতে চাইবে। তখন তাদের গায়ে চুলকানি দেখা দিবে। তারা চুলকাতে চুলকাতে চামড়া ছিঁড়ে গায়ের হাড় বের করে ফেলবে। তাদেরকে বলা হবে, এটা হলো, মুমিনকে কষ্ট দেওয়ার শাস্তি। আল্লাহ তা'আলা এর প্রতি ইঙ্গিত করেই বলেন—
زِدْنَاهُمْ عَذَابًا فَوْقَ الْعَذَابِ بِمَا كَانُوا يُفْسِدُونَ.
অর্থ: তারা যে ফাসাদ করত তার জন্য আমি তাদেরকে আযাবের পর আযাব বাড়িয়ে দিব।
عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ : كَفَى بِالْمُؤْمِنِ مِنَ الْغَيِّ ثَلَاثُ، يَعِیبُ عَلَى النَّاسِ بِمَا يَأْتِي بِهِ . وَيُبْصِرُ مِنْ عُيُوبِهِمْ مَا لَا يُبْصِرُ مِنْ عُيُوبِ نَفْسِهِ، وَيُؤْذِي جَلِيسَهُ فِيمَا لَا يَعْنِيهِ.
হযরত ইবনে উমর রাযি. বলেন, মানুষ পথভ্রষ্ট হওয়ার জন্য তিনটি স্বভাবই যথেষ্ট।
১. নিজে যে কাজ করে, অন্যকে তার জন্য দোষারোপ করা।
২. নিজের দোষ না দেখে অন্যের দোষ দেখা।
৩. নিজের সঙ্গীদের কষ্ট দেওয়া।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ يُنَادِي مُنَادٍ مِنْ تَحْتِ الْعَرْشِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ، مَا كَانَ لِي قِبَلَكُمْ فَقَدْ وَهَبْتُهُ لَكُمْ، وَبَقِيَتِ التَّبِعَاتُ فَتَوَاهَبُوهَا وَادْخُلُوا الْجَنَّةَ بِرَحْمَتِي.
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন আরশের নিচে এক ঘোষক ঘোষণা করে বলবে, হে মুহাম্মাদ ﷺ-এর উম্মত! তোমাদের উপর আমার যে হক ছিল, তা আমি ক্ষমা করে দিয়েছি। এখন তোমরা একে অপরের হক পরিশোধ করে আমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ কর।
টিকাঃ
১১০. সূরা নাহল ৮৮
১১১. মুসনাদুল ফিরদাউস: হাদীস-৪৪৭১; শায়েখ শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে জাল বলেছেন [তাখরীজে শরহে সুন্নাহ: হাদীস-৩৪৬৫]।