📄 জুলুমের পরিণাম
হযরত মাইমুন ইবনে মেহরান রহ. বলেন, অনেক লোক কুরআন পাঠ করে আর নিজের উপর অভিশাপ দেয়। উপস্থিত লোকেরা জিজ্ঞেস করল, তা কিভাবে? তিনি বললেন, সে কুরআনে পাঠ করে— أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ অর্থ: নিশ্চয় জালেমদের উপর রয়েছে আল্লাহর লানত। অথচ সে নিজেই জালেম। তাহলে সে নিজের উপর অভিশাপ দিল না।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, জুলুম হলো, সবচেয়ে বড় গুনাহ। কারণ, যে সব গুনাহের সম্পর্ক আল্লাহ ও বান্দার সাথে আশা করা যায় যে, সেগুলো আল্লাহ তা'আলা নিজ অনুগ্রহে ক্ষমা করে দিবেন। কিন্তু যে সব গুনাহের সম্পর্ক মানুষের সাথে, তা উক্ত ব্যক্তির থেকে ক্ষমা না নিলে আল্লাহর কাছে তার ক্ষমা পাওয়া যাবে না। সুতরাং কেউ যদি কারো উপর জুলুম করে থাকে, সে যেন দুনিয়াতেই মজলুমের সাথে তার মীমাংসা করে নেয়। আর তা সম্ভব না হলে তার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া ও ক্ষমা চাওয়া। হতে পারে এর ফলে সে মুক্তি পাবে।
হযরত মাইমূন ইবনে মেহরান রহ. বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি কারো উপর জুলুম করে এবং মজলুমের সাথে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেও কোনো কারণে সফল না হয়, তাহলে সে যেন প্রতি নামাযের পর আল্লাহর নিকট তার জন্য ইস্তিগফার করে। তাহলে আশা করা যায়, সে দায়মুক্ত হয়ে যাবে।
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ : قَالَ : مَنْ أَعَانَ ظَالِمًا عَلَى ظُلْمِهِ، أَوْ لَقَنَهُ حُجَّةً يَدْحَضُ بِهَا حَقَّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ، فَقَدْ جَاءَ بِغَضَبٍ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى وَعَلَيْهِ وِزْرُهَا.
হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, যে ব্যক্তি অত্যাচারীকে তার অত্যাচারে সাহায্য করে, কিংবা কাউকে এমন যুক্তি শিখিয়ে দেয়, যার মাধ্যমে অন্যের হক নষ্ট করা যায়, তাহলে তাকেও এর গুনাহের বোঝা বহন করতে হবে এবং তার উপর আল্লাহর গজব নাযিল হবে।
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ لِلْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ: مَنْ أَجْهَلُ النَّاسِ? قَالَ الْأَحْنَفُ: مَنْ بَاعَ آخِرَتَهُ بِدُنْيَاهُ. وَقَالَ عُمَرُ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ : أَلَا أُنَبِّئُكَ بِأَجْهَلَ مِنْ هُذَا? قَالَ : بَلَى يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ: مَنْ بَاعَ آخِرَتَهُ بِدُنْيَا غَيْرِهِ.
হযরত উমর রাযি. একদা হযরত আহনাফ ইবনে কায়েস রহ. কে জিজ্ঞেস করলেন, কোন ব্যক্তি সবচেয়ে বড় মূর্খ? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি নিজের দুনিয়ার বিনিময়ে নিজের আখেরাত বিক্রি করে দেয়। হযরত উমর বললেন, তুমি কি জানতে চাও এর চেয়েও বড় মূর্খ আছে? তিনি বললেন, অবশ্যই, হে আমীরুল মুমিনীন! উমর রাযি. বললেন, যে ব্যক্তি অন্যের দুনিয়ার বিনিময়ে নিজের আখেরাত বিক্রি করে দেয়, সে ব্যক্তি এর চেয়েও বড় মূর্খ।
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انْصُرْ أَخَاكَ ظَالِمًا أَوْ مَظْلُومًا فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ أَنْصُرُهُ إِذَا كَانَ مَظْلُومًا أَفَرَأَيْتَ إِذَا كَانَ ظَالِمًا كَيْفَ أَنْصُرُهُ قَالَ تَحْجُرُهُ أَوْ تَمْنَعُهُ مِنْ الظُّلْمِ فَإِنَّ ذَلِكَ نَصْرُهُ.
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে অত্যাচারী হোক অথবা অত্যাচারিত। তিনি (আনাস রাযি.) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অত্যাচারিতকে সাহায্য করার বিষয়টি তো বুঝলাম; কিন্তু অত্যাচারীকে কিভাবে সাহায্য করব? তিনি বললেন, তুমি তাকে অত্যাচার করা হতে বাধা দেবে, তাহলেই তাকে সাহায্য করা হবে।
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، مَا أَحْسَنْتُ إِلَى أَحَدٍ، وَلَا أَسَأْتُ إِلَيْهِ لِأَنَّ اللهَ تَعَالَى يَقُولُ : مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ أَسَاءَ فَعَلَيْهَا (فصلت : ৪৬) يَعْنِي إِنْ أَحْسَنْتُ إِلَى أَحَدٍ، فَقَدْ أَحْسَنْتُ إِلَى نَفْسِي، وَإِنْ أَسَأْتُ إِلَى أَحَدٍ فَقَدْ أَسَأْتُ إِلَى نَفْسِي.
হযরত আলী রাযি. বলেন, আমি কারো সাথে ভালো ব্যবহার করিনি এবং কারো সাথে দুর্ব্যবহারও করিনি। কারণ, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন— مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ وَمَنْ أَسَاءَ فَعَلَيْهَا অর্থ: যে ব্যক্তি সৎ কাজ করে সে তা তার নিজের জন্য করে, আর খারাপ কাজ করলে তা তার জন্যই থাকবে। সুতরাং কোনো ভালো কাজ করলে তার ফল আমি ভোগ করব আর খারাপ কাজ করলে তার শাস্তি আমাকেই ভোগ করতে হবে।
টিকাঃ
১০৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৯৫২; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২২৫৫।
১০৪. সূরা হা-মীম: আয়াত-৪৬
📄 নবীজীর আদর্শ
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: كَانَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ لَهُ حَاجَةٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَرَادَ أَنْ يَلْقَاهُ عَلَى خَلَاءٍ، فَيُبْدِي لَهُ حَاجَتَهُ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْعَسْكَرِ بِالْبَطْحَاءِ، وَكَانَ يَجِيءُ مِنَ اللَّيْلِ، فَيَطُوفُ حَتَّى إِذَا كَانَ فِي وَجْهِ الصُّبْحِ رَجَعَ فَصَلَّى صَلَاةَ الْغَدَاةِ، قَالَ: فَحَبَسَهُ الطَّوَافُ ذَاتَ لَيْلَةٍ حَتَّى أَصْبَحَ، فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَى رَاحِلَتِهِ عَرَضَ لَهُ الرَّجُلُ، فَأَخَذَ بِخِطَامِ نَاقَتِهِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لِي إِلَيْكَ حَاجَةٌ، قَالَ : دَعْنِي فَإِنَّكَ سَتُدْرِكُ حَاجَتَكَ. فَأَبَى فَلَمَّا خَشِيَ أَنْ يَحْبِسَهُ خَفَقَهُ بِالسَّوْطِ خَفْقَةً، ثُمَّ مَضَى، فَصَلَّى صَلَاةَ الْغَدَاةِ، فَلَمَّا انْتَقَلَ أَقْبَلَ بِوَجْهِهِ عَلَى الْقَوْمِ وَاجْتَمَعَ الْقَوْمُ حَوْلَهُ فَقَالَ: أَيْنَ الَّذِي جَلَدْتُهُ آنِفًا ? فَأَعَادَهَا إِنْ كَانَ فِي الْقَوْمِ فَلْيَقُمْ. فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَقُولُ : أَعُوذُ بِاللهِ تَعَالَى ثُمَّ بِرَسُولِهِ، وَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ: ادْنُ مِنِّي. حَتَّى دَنَا مِنْهُ، فَجَلَسَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَنَاوَلَهُ السَّوْطَ، وَقَالَ : خُذْ بِجِلْدَتِكَ فَاقْتَصَّ مِنِّي، فَقَالَ : أَعُوذُ بِاللهِ أَنْ أَجْلِدَ نَبِيَّهُ. قَالَ : خُذْ بِجِلْدَتِكَ فَاقْتَصَّ مِنِّي لَا بَأْسَ، فَقَالَ : أَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ أَجْلِدَ نَبِيَّهُ. قَالَ : لَا إِلَّا أَنْ تَعْفُوَ. فَأَلْقَى السَّوْطَ، وَقَالَ : قَدْ عَفَوْتُ يَا رَسُولَ اللهِ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ : يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ وَلَا يَظْلِمُ أَحَدٌ مِنْكُمْ مُؤْمِنًا، إِلَّا انْتَقَمَ اللَّهُ مِنْهُ يَوْমَ الْقِيَامَةِ.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মুহাজির সাহাবীর রাসূল ﷺ-এর নিকট কোনো প্রয়োজন ছিল। তার ইচ্ছা ছিল, একান্তে রাসূলের সাথে সাক্ষাৎ করবেন এবং প্রয়োজনের কথাটাও বলবেন। কিন্তু তিনি সে সুযোগ পেলেন না। কারণ, রাসূল তখন বাতহা যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলেন। রাসূল রাত্রে ঘুরে ফিরে দেখতেন আর ভোর হলে ফিরে এসে ফজরের নামায আদায় করতেন। একদিন তাঁর দেরি হয়ে গেল। তিনি তাড়াহুড়া করে উটের পিঠে চড়তেই উক্ত সাহাবী উটের লাগাম চেপে ধরলেন। অতঃপর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট আমার কিছু প্রয়োজন ছিল। তিনি বললেন, এখন আমাকে যেতে দাও, তোমার প্রয়োজন পূর্ণ করা হবে। কিন্তু সে লাগাম ধরেই রইল। রাসূল বুঝতে পারলেন যে, সে আটকে রাখবে। তাই তিনি তাকে চাবুক দিয়ে হালকা খোঁচা দিয়ে চলে গেলেন। তারপর ফজরের নামায আদায় করলেন। সকাল হলে তিনি সবাইকে সমবেত করে বললেন, কিছুক্ষণ আগে যাকে আমি চাবুক মেরেছিলাম, সে কোথায়? তিনি কয়েকবার একই ঘোষণা দিয়ে বললেন, সে যদি এখানে থেকে থাকে তাহলে দাঁড়াও। তখন উক্ত ব্যক্তি দাঁড়িয়ে গেল। বলতে লাগল, আমি আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের নিকট আশ্রয় চাই। রাসূল তাকে সাহস দিয়ে বললেন, এগিয়ে আস, কাছে আস!! সে রাসূলের কাছে আসল। রাসূল তার সামনে বসলেন এবং তার হাতে চাবুক দিয়ে বললেন, চাবুক নাও এবং আমার কাছ থেকে কিসাস (বদলা) গ্রহণ কর। সাহাবী বললেন, আল্লাহর নবীকে চাবুক মারা থেকে আমি আল্লাহর নিকট পানাহ চাই। রাসূল বললেন, কোনো অসুবিধা নেই, তুমি বদলা নাও। সে এবারও বলল, আল্লাহর রাসূলকে চাবুক মারা থেকে আমি আল্লাহর নিকট পানাহ চাই। তখন রাসূল বললেন, তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দাও। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ক্ষমা করে দিলাম। অতঃপর রাসূল ইরশাদ করলেন, হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর। তোমাদের কেউ যদি কোনো মুমিনের উপর জুলুম করে তাহলে সে অবশ্যই কিয়ামতের দিন তার প্রতিশোধ নিবে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ لَتُؤَدُّنَّ الْحُقُوقَ إِلَى أَهْلِهَا يَوْমَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُقْتَصَّ لِلشَّاةِ الْجَمَّاءِ مِنَ الشَّاةِ الْقَرْنَاءِ
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেন, তোমরা হকদারের নিকট হক পৌঁছে দাও। অর্থাৎ, মাজলুমের থেকে মাফ নিয়ে নাও। কারণ, কিয়ামতের দিন, শিংছাড়া প্রাণীর জন্য শিংওয়ালা প্রাণীর থেকে প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
অ্যান্নাাল মাজলূমীনা হুমুল মুফলিহূনা ইয়াওমাল ক্বিয়া-মাতি অর্থাৎ, মজলুমরাই কিয়ামতের দিন সফলকাম হবে।
টিকাঃ
১০৮. মুসনাদে হুমাইদী: হাদীস-৯৫৫৫।
১০৯. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৫৮২; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৭২০৪।
📄 বিদ্বানদের উক্তি
عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ رَحْمَةُ اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِ، أَنَّهُ قَالَ: إِنْ لَقِيتَ اللَّهَ تَعَالَى بِسَبْعِينَ ذَنْبًا فِيمَا بَيْنَكَ وَبَيْنَ اللَّهِ تَعَالَى أَهْوَنُ عَلَيْكَ مِنْ أَنْ تَلْقَاهُ بِذَنْبٍ وَاحِدٍ فِيمَا بَيْنَكَ وَبَيْنَ الْعِبَادِ.
হযরত সুফইয়ান সাওরী রহ. বলেন, যে গুনাহের সম্পর্ক বান্দার ও তার রবের সাথে এমন সত্তরটি গুনাহ নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করা অনেক সহজ। কিন্তু যে গুনাহের সম্পর্ক বান্দার সাথে এমন একটি গুনাহ নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করা অনেক কঠিন।
عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ أَنَّهُ قَالَ : لَا يَنْبَغِي لِلرَّجُلِ إِذَا كَانَ عَلَيْهِ دَيْنٌ أَنْ يَصْطَبِغَ بِالزَّيْتِ أَوْ بِأَقَلَّ مِنْهُ مَا لَمْ يَقْضِ دَيْنَهُ.
হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহ. বলেন, যার উপর ঋণ রয়েছে, ঋণ আদায় করার পূর্বে তার গায়ে তেল মাখা বা এর চেয়ে তুচ্ছ খরচও করা উচিত নয়।
عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ ، قَالَ : قِرَاءَةُ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللهِ تَعَالَى، وَالْعَمَلُ بِهَا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَخْتِمَ الْقُرْآنَ أَلْفَ مَرَّةً، وَإِدْخَالُ السُّرُورِ عَلَى الْمُؤْمِنِ، وَقَضَاءُ حَاجَتِهِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ عِبَادَةِ الْعُمْرِ كُلِّهِ، وَتَرْكُ الدُّنْيَا وَرَفْضُهَا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ بِعِبَادَةِ أَهْلِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، وَتَرْكُ دَانِقٍ مِنْ حَرَامِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ مِائَةِ حَجَّةٍ مِنْ حَلَالٍ.
হযরত ফুযাইল ইবনে ইয়ায রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলার কিতাবের একটি আয়াত তিলাওয়াত করা এবং এর উপর আমল করা আমার নিকট কুরআন এক হাজার বার খতম করা থেকেও অধিক প্রিয়। কোনো মুমিনকে খুশি করা এবং তার প্রয়োজন পূরণ করা আমার নিকট আসমান-জমিন ভরে আল্লাহর ইবাদত করা থেকেও অধিক প্রিয়। দুনিয়াকে ত্যাগ করা আমার নিকট আসমান-জমিনের অধিবাসীদের ন্যায় ইবাদত করা থেকেও অধিক প্রিয়। এক পয়সা হারাম থেকে বেঁচে থাকা আমার নিকট হালাল পয়সায় এক শত হজ্ব করার চেয়েও অধিক প্রিয়।
📄 তিনটি বিষয় ঈমান থেকে মাহরূম করে দেয়
عَنْ أَبِي بَكْرِ الْوَرَّاقِ، أَنَّهُ قَالَ : أَكْثَرُ مَا يَنْزِعُ مِنَ الْقَلْبِ الْإِيمَانَ ظُلْمُ الْعِبَادِ
হযরত আবু বকর ওয়াররাক রহ. বলেন, মানুষের উপর জুলুম করা অনেক সময় ঈমান থেকে মাহরূম হওয়ার কারণ হয়।
সুইলা আবু ক্ব-সিমিল হাকীয়মু হাল মিন যানবিন ইয়ানজিউল ই-মা-না মিনাল আবদি? ক্বালা: নাআম ছালা-ছাতু আশইয়া-আ তানজিউল ই-মা-না মিনাল ইবা-দি: আওয়্যালুহা: তারকুশ শুকরি আলাল ইসলা-মি, ওয়াস ছা-নী: তারকুল খাউফি আলা যিহাবিল ইসলা-মি ওয়াস ছা-লিছু: আয জুলমু আলা আহলিল ইসলা-মি।
হযরত আবুল কাসেম বিন হাকীম রহ. কে জিজ্ঞেস করা হলো, এমন কোনো গুনাহ আছে যার কারণে মুমিনের ঈমান ছিনিয়ে নেওয়া হয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনটি কারণে মানুষের অন্তর থেকে ঈমান ছিনিয়ে নেওয়া হয়। যথা- ১. ইসলাম গ্রহণ করেও শোকর আদায় না করা। ২. ঈমান চলে যাওয়ার ভয় না থাকা। ৩. মুসলমানদের উপর জুলুম করা।