📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জনৈক ব্যক্তির তাওবা

📄 জনৈক ব্যক্তির তাওবা


হযরত কাহমাস ইবনুল হাসান রহ. বলেন, আমি একটি গুনাহ করে তার জন্য চল্লিশ বছর কেঁদেছি। উপস্থিত লোকেরা জিজ্ঞেস করল, সে গুনাহটি কী? তিনি বললেন, আমার এক ভাই আমার নিকট বেড়াতে এলো। আমি তার জন্য একটি মাছ ক্রয় করি। তিনি খেলেন। অতঃপর আমি আমার প্রতিবেশীর দেয়াল থেকে এক টুকরা মাটি এনে তা দিয়ে হাত পরিস্কার করি।

নবী করীম ইরশাদ করেন- أَعْظَمُ الذُّنُوبِ عِنْدَ اللهِ تَعَالَى أَصْغَرُهَا عِنْدَ النَّاسِ، وَأَصْغَرُ الذُّنُوبِ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى، أَعْظَمُهَا عِنْدَ النَّاسِ.
আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহকে মানুষ ছোট গুনাহ মনে করে। আর আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ছোট গুনাহকে মানুষ বড় গুনাহ মনে করে। অর্থাৎ, গুনাহগার যখন কোনো গুনাহকে বড় মনে করে আল্লাহকে ভয় করে, তখন সে গুনাহ যতই বড় হোক আল্লাহর কাছে ছোট হয়ে যায়। পক্ষান্তরে গুনাহগার যখন কোনো গুনাহকে গুনাহ মনে না করে তখন তা তার চোখে যত ছোটই হোক না কেন, আল্লাহর কাছে তা অনেক বড় হয়ে যায়।

যেমন জনৈক সাহাবী রাযি. বলেন, অবিরাম গুনাহলিপ্ত থাকলে কোনো গুনাহ-ই ছোট থাকে না। পক্ষান্তরে সর্বদা তাওবা করলে কোনো গুনাহ-ই বড় থাকে না। হযরত আওয়াম ইবনে হাওশাব রহ. বলেন, গুনাহের পর চারটি কাজ গুনাহের চেয়েও মারাত্মক। যথা-
১. الإِسْتِصْغَارُ অর্থাৎ, গুনাহকে তুচ্ছ জ্ঞান করা।
২. وَالإِغْتِرَارُ অর্থাৎ, গুনাহ করে আত্মপ্রবঞ্চনায় ভোগা।
৩. وَالإِسْتِبْشَارُ অর্থাৎ, গুনাহ করে আনন্দিত হওয়া।
৪. وَالْإِصْرَارُ অর্থাৎ, অবিরাম গুনাহ করতে থাকা।

টিকাঃ
৯৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৪৮৩; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২২৮৪।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 গুনাহের ক্ষতিসমূহ

📄 গুনাহের ক্ষতিসমূহ


ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, নিম্নোক্ত আয়াত যেন কাউকে বিভ্রান্ত না করে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا وَمَنْ جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزِي إِلَّا مِثْلَهَا وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ অর্থ: যে ব্যক্তি একটি নেক আমল নিয়ে আসবে সে তার দশগুন প্রতিদান পাবে, আর যে ব্যক্তি একটি গুনাহ করবে তাকে তার সমপরিমাণ প্রতিদানই দেওয়া হবে। তাদের সাথে কোনো প্রকার অবিচার করা হবে না।

কারণ, একটি নেকি করলে তার দশগুন প্রতিদান পাওয়া যাবে এমন বলা হয়নি। বরং শর্তযুক্ত করে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন একটি নেকি নিয়ে হাজির হতে পারবে সে একটি নেকির সওয়াব দশগুন পাবে। কিন্তু কিয়ামতের দিন নেকি নিয়ে হাজির হওয়া অনেক কঠিন। আর একটি গুনাহের শাস্তি তার অনুরূপ হবে ঠিক। কিন্তু তাদের আরো দশটি মন্দ দিক আছে। যথা-
১. বান্দার গুনাহ তার রবকে ক্রুদ্ধ করে, অথচ রব যে কারো সাথে যে কোনো ধরনের আচরণ করতে সক্ষম।
২. বান্দার গুনাহ তার রবের সবচেয়ে বড় শত্রু ইবলীসকে খুশি করে।
৩. গুনাহ বান্দাকে সবচেয়ে উত্তম স্থান জান্নাত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
৪. গুনাহ মানুষকে নিকৃষ্টতম স্থান জাহান্নামের নিকটবর্তী করে দেয়।
৫. গুনাহ করে মানুষ তার সবচেয়ে প্রিয়জন অর্থাৎ, নিজের আত্মার সাথে দুর্ব্যবহার করে।
৬. গুনাহের ফলে মানুষের নফস অপবিত্র হয়ে যায়, অথচ আল্লাহ প্রতিটি মানুষকে পবিত্র করে সৃষ্টি করেছেন।
৭. গুনাহ করে মানুষ তার সাথে থাকা হেফাজতকারী ফেরেশতাদেরকে কষ্ট দেয়।
৮. গুনাহ করে রাসূল ﷺ-এর পবিত্র আত্মাকে কষ্ট দেয়।
৯. গুনাহ করে মানুষ রাত-দিনকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষী বানায় এবং তাদেরকে কষ্ট দেয়।
১০. গুনাহ করে বান্দা সমস্ত মানুষ এবং অন্যান্য সৃষ্টির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে।

মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা এভাবে হয় যে, গুনাহের কারণে তার সাক্ষ্য অগ্রহণযোগ্য হয়ে যায়। এতে অনেকের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। আর বিশেষ করে অন্যান্য সৃষ্টির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা এভাবে যে, গুনাহ করলে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়, দেশে খরা দেখা দেয়, এতে সকল সৃষ্টিই কষ্ট পায়।

বলা হয়, সবচেয়ে বড় কৃপণ সে ব্যক্তি, যে নিজের সাথে কৃপণতা করে। অথচ তাতে তার সৌভাগ্য নিহিত। আর সবচেয়ে বড় জালেম সে ব্যক্তি, যে আল্লাহর নাফরমানী করে নিজের উপর জুলুম করে। কারণ, আল্লাহর নাফরমানি করা মানে নিজেকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা। জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, সাবধান! গুনাহ থেকে বেঁচে থাক। কারণ, গুনাহ খুবই অমঙ্গলজনক, যা কামানের গোলার মতো ছুটে এসে আনুগত্যের দেয়ালে আঘাত করে। ফলে প্রবৃত্তির চাহিদার বাতাসের ঝাপটা ভেতরে প্রবেশ করে এবং মারেফাতের প্রদীপ নিভিয়ে দেয়।

টিকাঃ
৯৪. সূরা আন আম ১৬০
৯৭. সূরা নিসা ১২৩
৯৮. সূরা আনআম: আয়াত-১৬০
৯৯. সূরা নাযিআত: আয়াত-৪০-৪১

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ইলম দ্বারা উপকৃত না হওয়ার কারণ

📄 ইলম দ্বারা উপকৃত না হওয়ার কারণ


জনৈক দরবেশকে জিজ্ঞেস করা হলো, কী কারণে আমরা জ্ঞানার্জন করেও উপকৃত হতে পারি না? তিনি বললেন, পাঁচটি কারণে। যথা-
১. عَلَيْكُمْ قَدْ أَنْعَمَ اللَّهُ فَلَمْ تَشْكُرُوهُ অর্থাৎ, আল্লাহর নেয়ামত পেয়ে তোমরা তার শুকর আদায় কর না।
২. إِذَا أَذْنَبْتُمْ فَلَمْ تَسْتَغْفِرُوهُ অর্থাৎ, নাফরমানী করে তার জন্য তাওবা কর না।
৩. لَمْ تَعْمَلُوا بِمَا عَلِمْتُمْ مِنَ الْعِلْمِ অর্থাৎ, ইলম অনুসারে আমল কর না।
৪. صَحِبْتُمُ الْأَخْيَارَ وَلَمْ تَقْتَدُوا بِهِمْ অর্থাৎ, নেককারদের সোহবত লাভ করেও তাদের আদর্শ গ্রহণ কর না।
৫. دَفَنْتُمُ الْأَمْوَاتَ فَلَمْ تَعْتَبِرُوا بِهِمْ অর্থাৎ, মৃতদের নিজহাতে দাফন করেও তা থেকে শিক্ষাগ্রহণ কর না।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আসমানের পাঁচজন ফেরেশতার ঘোষণা

📄 আসমানের পাঁচজন ফেরেশতার ঘোষণা


رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: مَا مِنْ يَوْمٍ إِلَّا وَيَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ خَمْسٌ مِنَ الْمَلَائِكَةِ. أَحَدُهُمْ بِمَكَّةَ، وَالثَّانِي: بِالْمَدِينَةِ. وَالثَّالِثُ : بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ، وَالرَّابِعُ: بِمَقَابِرِ الْمُسْلِمِينَ. وَالْخَامِسُ: بِأَسْوَاقِ الْمُسْلِمِينَ . فَأَمَّا الَّذِي يَنْزِلُ بِمَكَّةَ فَيُنَادِي : أَلَا مَنْ تَرَكَ فَرَائِضَ اللَّهِ تَعَالَى، فَقَدْ خَرَجَ مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ تَعَالَى وَأَمَّا الَّذِي يَنْزِلُ بِالْمَدِينَةِ فَيُنَادِي أَلَا مَنْ تَرَكَ سُنَنَ النَّبِيِّ ﷺ فَقَدْ خَرَجَ مِنْ شَفَاعَتِهِ، وَأَمَّا الَّذِي يَنْزِلُ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَيُنَادِي أَلَا مَنِ اكْتَسَبَ مَالًا حَرَامًا لَمْ يَقْبَلِ اللهُ تَعَالَى سَائِرَ عَمَلِهِ، وَأَمَّا الَّذِي يَنْزِلُ بِمَقَابِرِ الْمُسْلِمِينَ، فَيُنَادِي يَا أَهْلَ الْمَقَابِرِ بِمَاذَا تَغْتَبِطُونَ? وَ عَلَى مَاذَا تَنْدَمُونَ? فَيَقُولُونَ : نَدَامَتُنَا عَلَى مَا فَاتَ مِنْ أَعْمَارِنَا، وَنَغْتَبِطُ بِأَهْلِ الْجَمَاعَاتِ لِقِرَاءَتِهِمْ كَلَامَ اللَّهِ تَعَالَى، وَتَذَاكُرِهِمْ بِالْعِلْمِ وَصَلَوَاتِهِمْ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاسْتِغْفَارِهِمْ لِذُنُوبِهِمْ وَنَحْنُ لَا نَقْدِرُ عَلَى شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ، وَأَمَّا الَّذِي يَنْزِلُ فِي الْأَسْواقِ، فَيُنَادِي وَيَقُولُ: يَا مَعْشَرَ النَّاسِ مَهْلًا، مَهْلًا فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى سَطْوَاتٍ وَنِقْمَاتٍ فَمَنْ خَشِيَ سَطْوَاتِهِ، وَنِقْمَاتِهِ فَلْيُدَاوِ جِرَاحَتَهُ حَتَّى يَتُوبَ مِنْ ذُنُوبِهِ شَوَّقْنَاكُمْ فَلَمْ تَشْتَاقُوا وَخَوَّفْنَاكُمْ فَلَمْ تَخَافُوا لَوْلَا رِجَالٌ خُشَعٌ وَصِبْيَانٌ رُضَعٌ وَبَهَائِمُ رُتَّعٌ، وَشُيُوখٌ رُكَّعٌ، لَصُبَّ عَلَيْكُمُ الْعَذَابُ صَبًّا.

রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, প্রতিদিন পাঁচজন ফেরেশতা দুনিয়াতে নেমে আসে। একজন অবতরণ করেন মক্কায়, দ্বিতীয়জন মদীনায়, তৃতীয়জন বাইতুল মুকাদ্দাসে, চতুর্থজন মুসলমানদের গোরস্থানে এবং পঞ্চমজন বাজারে।
মক্কায় অবতরণকারী ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন, যে ব্যক্তি ফরজ বিধানগুলো ছেড়ে দেবে সে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবে।
মদীনায় অবতরণকারী ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন, যে ব্যক্তি নবী ﷺ-এর সুন্নতের অনুসরণ ছেড়ে দিবে, সে তার শাফায়াত বা সুপারিশ থেকে বঞ্চিত হবে।
বাইতুল মুকাদ্দাসে অবতরণকারী ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন, যে ব্যক্তি হারাম উপায়ে উপার্জন করবে আল্লাহ তা'আলা তার কোনো আমল কবুল করবেন না।
গোরস্থানে অবতরণকারী ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন, হে কবরবাসীরা! তোমরা আজ কীসের জন্য অনুতপ্ত? কাদের ঈর্ষা কর? তারা বলে, আমাদের বিগত জীবনের জন্য অনুতপ্ত। আর যে জীবিত আজ কুরআন তিলাওয়াত করছে, ইলমের আলোচনা করছে, নবী ﷺ-এর উপর দরূদ পাঠ করছে এবং নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইছে, তাদের প্রতি আমাদের খুব ঈর্ষা হয়। কারণ, আজ আমরা চাইলেও এই আমলগুলো করতে পারি না।
বাজারে অবতরণকারী ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন, হে লোকসকল! দাঁড়াও! একটু ভাবো!! আল্লাহ তা'আলার ক্রোধ ও ক্ষমতার একটি বিষয় আছে। যদি তোমরা তাঁর ক্রোধ থেকে বেঁচে থাকতে চাও এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় কর। তাহলে তোমাদের ক্ষতগুলোর চিকিৎসা কর এবং আল্লাহর কাছে তাওবা কর। আমরা তোমাদেরকে নেক আমলের ভয় দেখিয়েছি কিন্তু তোমরা ভয় পাওনি, তোমাদেরকে নেক আমলের প্রতি উৎসাহিত করেছি কিন্তু তোমরা উৎসাহিত হওনি, তোমাদেরকে আযাবের ভয় দেখিয়েছি কিন্তু তোমরা ভয় পাওনি। যদি কিছু খোদাভীরু লোক, নিরীহ শিশু, জীব-জানোয়ার, নামাযী ও বৃদ্ধরা না থাকত তাহলে অবশ্যই তোমাদের উপর আল্লাহর আযাব নেমে আসত।

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ لَهَا: يَا عَائِشَةُ إِيَّاكِ وَمُحَقِّرَاتِ الذُّنُوبِ فَإِنَّ لَهَا مِنَ اللَّهِ تَعَالَى طَالِبًا.
হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল তাকে বললেন, হে আয়েশা! ছোট গুনাহ থেকেও বেঁচে থাক। কারণ, এর জন্যও আল্লাহর নিকট জবাব দিতে হবে।
বলা হয়, ছোট ছোট গুনাহগুলো, ছোট ছোট লাকড়ির ন্যায়। অনেকগুলো ছোট লাকড়ি একত্র করে আগুন লাগিয়ে দিলে বিশাল হয়ে যায়। বলা হয়, তাওরাতে লেখা ছিল, যে ব্যক্তি পুণ্যের চাষ করবে সে নিরাপত্তায় ফসল কাটবে। ইঞ্জিলে ছিল, যে ব্যক্তি গুনাহের চাষ করবে, অনুতাপ তার ফসল হবে। কুরআনেও অনুরূপ এসেছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন- مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ অর্থ: যে ব্যক্তি গুনাহ করবে তাকে তার বিনিময় দেওয়া হবে।

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ رَسُولٍ كَثِيرِ الذُّنُوبِ كَثِيرِ الْعَمَلِ أَعْجَبُ إِلَيْكَ أَمْ رَجُلٍ قَلِيلِ الذُّنُوبِ قَلِيلِ الْعَمَلِ قَالَ: مَا أُعْدِلُ بِالسَّلَامَةِ شَيْئًا، يَعْنِي قَلِيلَ الذُّنُوبِ أَعْجَبُ إِلَيَّ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. কে জিজ্ঞেস করা হলো কে উত্তম ব্যক্তি? যার গুনাহও অনেক এবং নেকিও অনেক সে ব্যক্তি? নাকি যার গুনাহও কম নেকিও কম সে ব্যক্তি? তিনি বললেন, যার গুনাহ কম নেকিও কম সে ব্যক্তি উত্তম। জনৈক ব্যক্তি বলেন, নেক আমল সাধারণ মানুষও করতে পারে। কিন্তু অসাধারণ সে, যে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারে।

ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, কুরআন পর্যালোচনা করলে বুঝা যায় যে, গুনাহ বর্জন নেকি অর্জন থেকে উত্তম। নেকির ক্ষেত্রে কিয়ামাতের দিন তা নিয়ে হাজির হওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে গুনাহের ক্ষেত্রে শুধু বর্জনের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا. অর্থ: যে ব্যক্তি নেক আমল নিয়ে আসবে তাকে তার দশগুন প্রতিদান দেওয়া হবে। গুনাহ বর্জন সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى فَإِنَّ الْجَنَّةَ হِيَ الْمَأْوَى অর্থ: যে ব্যক্তি নিজেকে প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে বিরত রাখবে নিশ্চয় জান্নাত হবে তার ঠিকানা। হাদীসে রাসূল বলেন, আল্লাহ তা'আলার নিষিদ্ধ বিষয়গুলো বর্জন করা, জিন ও ইনসানের ইবাদত থেকেও উত্তম।

টিকাঃ
৯৫. মীযানুল এতেদাল: ১/৯৮; হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৬/১০০ (হাদীসের কিছু অংশ)।
৯৬. সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৪২৪৩; মুসনাদে আহমাদ হাদীস-২৪৪১৫; সুনানে দারেমী: হাদীস-২৭২৯। হাদীসটি সহীহ [শুয়াইব আরনাউত]।।
৯৭. সূরা নিসা ১২৩
৯৮. সূরা আনআম: আয়াত-১৬০
৯৯. সূরা নাযিআত: আয়াত-৪০-৪১

ফন্ট সাইজ
15px
17px