📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নিজেকে কষ্ট না দেওয়া

📄 নিজেকে কষ্ট না দেওয়া


হযরত আবূ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াজিদ রহ. বলেন, তোমরা প্রিয়জনকে কষ্ট দিয়ো না। উপস্থিত লোকেরা বলল, কেউ কি তার প্রিয়জনকে কষ্ট দেয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ, মানুষের সবচেয়ে প্রিয় হলো, তার নিজের আত্মা। আর আল্লাহর নাফরমানী করা মানে হলো, তাকে কষ্ট দেওয়া।

জনৈক আরেফের নিকট কেউ উপদেশ চাইলে তিনি বললেন, তোমার রবের সাথে দুর্ব্যবহার কর না। মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার কর না এবং তোমার নিজের সাথেও দুর্ব্যবহার কর না। রবের সাথে দুর্ব্যবহারের অর্থ হলো, তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদতে লেগে যাওয়া। মানুষের সাথে দুর্ব্যবহারের অর্থ হলো, অন্যের কাছে তার বদনাম করা। নিজের সাথে দুর্ব্যবহারের অর্থ হলো, ফরজ বিধান পালনে অবহেলা করা।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জনৈক ব্যক্তির তাওবা

📄 জনৈক ব্যক্তির তাওবা


হযরত কাহমাস ইবনুল হাসান রহ. বলেন, আমি একটি গুনাহ করে তার জন্য চল্লিশ বছর কেঁদেছি। উপস্থিত লোকেরা জিজ্ঞেস করল, সে গুনাহটি কী? তিনি বললেন, আমার এক ভাই আমার নিকট বেড়াতে এলো। আমি তার জন্য একটি মাছ ক্রয় করি। তিনি খেলেন। অতঃপর আমি আমার প্রতিবেশীর দেয়াল থেকে এক টুকরা মাটি এনে তা দিয়ে হাত পরিস্কার করি।

নবী করীম ইরশাদ করেন- أَعْظَمُ الذُّنُوبِ عِنْدَ اللهِ تَعَالَى أَصْغَرُهَا عِنْدَ النَّاسِ، وَأَصْغَرُ الذُّنُوبِ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى، أَعْظَمُهَا عِنْدَ النَّاسِ.
আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহকে মানুষ ছোট গুনাহ মনে করে। আর আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ছোট গুনাহকে মানুষ বড় গুনাহ মনে করে। অর্থাৎ, গুনাহগার যখন কোনো গুনাহকে বড় মনে করে আল্লাহকে ভয় করে, তখন সে গুনাহ যতই বড় হোক আল্লাহর কাছে ছোট হয়ে যায়। পক্ষান্তরে গুনাহগার যখন কোনো গুনাহকে গুনাহ মনে না করে তখন তা তার চোখে যত ছোটই হোক না কেন, আল্লাহর কাছে তা অনেক বড় হয়ে যায়।

যেমন জনৈক সাহাবী রাযি. বলেন, অবিরাম গুনাহলিপ্ত থাকলে কোনো গুনাহ-ই ছোট থাকে না। পক্ষান্তরে সর্বদা তাওবা করলে কোনো গুনাহ-ই বড় থাকে না। হযরত আওয়াম ইবনে হাওশাব রহ. বলেন, গুনাহের পর চারটি কাজ গুনাহের চেয়েও মারাত্মক। যথা-
১. الإِسْتِصْغَارُ অর্থাৎ, গুনাহকে তুচ্ছ জ্ঞান করা।
২. وَالإِغْتِرَارُ অর্থাৎ, গুনাহ করে আত্মপ্রবঞ্চনায় ভোগা।
৩. وَالإِسْتِبْشَارُ অর্থাৎ, গুনাহ করে আনন্দিত হওয়া।
৪. وَالْإِصْرَارُ অর্থাৎ, অবিরাম গুনাহ করতে থাকা।

টিকাঃ
৯৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৪৮৩; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২২৮৪।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 গুনাহের ক্ষতিসমূহ

📄 গুনাহের ক্ষতিসমূহ


ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, নিম্নোক্ত আয়াত যেন কাউকে বিভ্রান্ত না করে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন- مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا وَمَنْ جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزِي إِلَّا مِثْلَهَا وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ অর্থ: যে ব্যক্তি একটি নেক আমল নিয়ে আসবে সে তার দশগুন প্রতিদান পাবে, আর যে ব্যক্তি একটি গুনাহ করবে তাকে তার সমপরিমাণ প্রতিদানই দেওয়া হবে। তাদের সাথে কোনো প্রকার অবিচার করা হবে না।

কারণ, একটি নেকি করলে তার দশগুন প্রতিদান পাওয়া যাবে এমন বলা হয়নি। বরং শর্তযুক্ত করে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন একটি নেকি নিয়ে হাজির হতে পারবে সে একটি নেকির সওয়াব দশগুন পাবে। কিন্তু কিয়ামতের দিন নেকি নিয়ে হাজির হওয়া অনেক কঠিন। আর একটি গুনাহের শাস্তি তার অনুরূপ হবে ঠিক। কিন্তু তাদের আরো দশটি মন্দ দিক আছে। যথা-
১. বান্দার গুনাহ তার রবকে ক্রুদ্ধ করে, অথচ রব যে কারো সাথে যে কোনো ধরনের আচরণ করতে সক্ষম।
২. বান্দার গুনাহ তার রবের সবচেয়ে বড় শত্রু ইবলীসকে খুশি করে।
৩. গুনাহ বান্দাকে সবচেয়ে উত্তম স্থান জান্নাত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
৪. গুনাহ মানুষকে নিকৃষ্টতম স্থান জাহান্নামের নিকটবর্তী করে দেয়।
৫. গুনাহ করে মানুষ তার সবচেয়ে প্রিয়জন অর্থাৎ, নিজের আত্মার সাথে দুর্ব্যবহার করে।
৬. গুনাহের ফলে মানুষের নফস অপবিত্র হয়ে যায়, অথচ আল্লাহ প্রতিটি মানুষকে পবিত্র করে সৃষ্টি করেছেন।
৭. গুনাহ করে মানুষ তার সাথে থাকা হেফাজতকারী ফেরেশতাদেরকে কষ্ট দেয়।
৮. গুনাহ করে রাসূল ﷺ-এর পবিত্র আত্মাকে কষ্ট দেয়।
৯. গুনাহ করে মানুষ রাত-দিনকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষী বানায় এবং তাদেরকে কষ্ট দেয়।
১০. গুনাহ করে বান্দা সমস্ত মানুষ এবং অন্যান্য সৃষ্টির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে।

মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা এভাবে হয় যে, গুনাহের কারণে তার সাক্ষ্য অগ্রহণযোগ্য হয়ে যায়। এতে অনেকের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। আর বিশেষ করে অন্যান্য সৃষ্টির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা এভাবে যে, গুনাহ করলে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়, দেশে খরা দেখা দেয়, এতে সকল সৃষ্টিই কষ্ট পায়।

বলা হয়, সবচেয়ে বড় কৃপণ সে ব্যক্তি, যে নিজের সাথে কৃপণতা করে। অথচ তাতে তার সৌভাগ্য নিহিত। আর সবচেয়ে বড় জালেম সে ব্যক্তি, যে আল্লাহর নাফরমানী করে নিজের উপর জুলুম করে। কারণ, আল্লাহর নাফরমানি করা মানে নিজেকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা। জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, সাবধান! গুনাহ থেকে বেঁচে থাক। কারণ, গুনাহ খুবই অমঙ্গলজনক, যা কামানের গোলার মতো ছুটে এসে আনুগত্যের দেয়ালে আঘাত করে। ফলে প্রবৃত্তির চাহিদার বাতাসের ঝাপটা ভেতরে প্রবেশ করে এবং মারেফাতের প্রদীপ নিভিয়ে দেয়।

টিকাঃ
৯৪. সূরা আন আম ১৬০
৯৭. সূরা নিসা ১২৩
৯৮. সূরা আনআম: আয়াত-১৬০
৯৯. সূরা নাযিআত: আয়াত-৪০-৪১

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ইলম দ্বারা উপকৃত না হওয়ার কারণ

📄 ইলম দ্বারা উপকৃত না হওয়ার কারণ


জনৈক দরবেশকে জিজ্ঞেস করা হলো, কী কারণে আমরা জ্ঞানার্জন করেও উপকৃত হতে পারি না? তিনি বললেন, পাঁচটি কারণে। যথা-
১. عَلَيْكُمْ قَدْ أَنْعَمَ اللَّهُ فَلَمْ تَشْكُرُوهُ অর্থাৎ, আল্লাহর নেয়ামত পেয়ে তোমরা তার শুকর আদায় কর না।
২. إِذَا أَذْنَبْتُمْ فَلَمْ تَسْتَغْفِرُوهُ অর্থাৎ, নাফরমানী করে তার জন্য তাওবা কর না।
৩. لَمْ تَعْمَلُوا بِمَا عَلِمْتُمْ مِنَ الْعِلْمِ অর্থাৎ, ইলম অনুসারে আমল কর না।
৪. صَحِبْتُمُ الْأَخْيَارَ وَلَمْ تَقْتَدُوا بِهِمْ অর্থাৎ, নেককারদের সোহবত লাভ করেও তাদের আদর্শ গ্রহণ কর না।
৫. دَفَنْتُمُ الْأَمْوَاتَ فَلَمْ تَعْتَبِرُوا بِهِمْ অর্থাৎ, মৃতদের নিজহাতে দাফন করেও তা থেকে শিক্ষাগ্রহণ কর না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px