📄 হযরত মাকছুল শাম রহ.-এর উক্তি
হযরত মাকহুল শামী রহ. বলেন, প্রতি রাতে ঘুমানোর পূর্বে বিছানায় শুয়ে সারাদিনের কাজের হিসাব নেওয়া উচিত। যদি ভালো কাজ করে থাকে তাহলে আল্লাহর শুকর আদায় করবে। আর যদি কোনো গুনাহ করে থাকে তাহলে আল্লাহর নিকট তাওবা করবে। আর যে এরূপ করে না, সে ওই ব্যবসায়ীর মতো যে তার ব্যবসার কোনো হিসাব নিকাশ রাখে না। ফলে নিজের অজান্তে এক সময় দেউলিয়া হয়ে যায়।
📄 আসমানী কিতাবে আল্লাহর বাণী
কোনো এক আসামানী কিতাবে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন- عَبْدِي إِنِّي مَلِكٌ لَا أَزُولُ، فَأَطِعْنِي فِيمَا أَمَرْتُكَ بِهِ ، وَانْتَهِ عَمَّا نَهَيْتُكَ عَنْهُ حَتَّى أَجْعَلَكَ حَيًّا لَا تَمُوتُ، عَبْدِي أَنَا الَّذِي إِذَا أَقُولُ لِلشَّيْءِ كُنْ فَيَكُونُ.
বান্দা! মনে রেখ আমি চির অধিষ্ঠিত সম্রাট, আমি যা আদেশ করি তা পালন কর। যা বারণ করি তা থেকে বিরত থাক। তাহলে আমি তোমাকে চিরঞ্জীব বানিয়ে দিব। আমি যখন কোনো জিনিসকে বলি হও, সাথে সাথে তা হয়ে যায়।
📄 নিজেকে কষ্ট না দেওয়া
হযরত আবূ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াজিদ রহ. বলেন, তোমরা প্রিয়জনকে কষ্ট দিয়ো না। উপস্থিত লোকেরা বলল, কেউ কি তার প্রিয়জনকে কষ্ট দেয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ, মানুষের সবচেয়ে প্রিয় হলো, তার নিজের আত্মা। আর আল্লাহর নাফরমানী করা মানে হলো, তাকে কষ্ট দেওয়া।
জনৈক আরেফের নিকট কেউ উপদেশ চাইলে তিনি বললেন, তোমার রবের সাথে দুর্ব্যবহার কর না। মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার কর না এবং তোমার নিজের সাথেও দুর্ব্যবহার কর না। রবের সাথে দুর্ব্যবহারের অর্থ হলো, তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কারো ইবাদতে লেগে যাওয়া। মানুষের সাথে দুর্ব্যবহারের অর্থ হলো, অন্যের কাছে তার বদনাম করা। নিজের সাথে দুর্ব্যবহারের অর্থ হলো, ফরজ বিধান পালনে অবহেলা করা।
📄 জনৈক ব্যক্তির তাওবা
হযরত কাহমাস ইবনুল হাসান রহ. বলেন, আমি একটি গুনাহ করে তার জন্য চল্লিশ বছর কেঁদেছি। উপস্থিত লোকেরা জিজ্ঞেস করল, সে গুনাহটি কী? তিনি বললেন, আমার এক ভাই আমার নিকট বেড়াতে এলো। আমি তার জন্য একটি মাছ ক্রয় করি। তিনি খেলেন। অতঃপর আমি আমার প্রতিবেশীর দেয়াল থেকে এক টুকরা মাটি এনে তা দিয়ে হাত পরিস্কার করি।
নবী করীম ইরশাদ করেন- أَعْظَمُ الذُّنُوبِ عِنْدَ اللهِ تَعَالَى أَصْغَرُهَا عِنْدَ النَّاسِ، وَأَصْغَرُ الذُّنُوبِ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى، أَعْظَمُهَا عِنْدَ النَّاسِ.
আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহকে মানুষ ছোট গুনাহ মনে করে। আর আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ছোট গুনাহকে মানুষ বড় গুনাহ মনে করে। অর্থাৎ, গুনাহগার যখন কোনো গুনাহকে বড় মনে করে আল্লাহকে ভয় করে, তখন সে গুনাহ যতই বড় হোক আল্লাহর কাছে ছোট হয়ে যায়। পক্ষান্তরে গুনাহগার যখন কোনো গুনাহকে গুনাহ মনে না করে তখন তা তার চোখে যত ছোটই হোক না কেন, আল্লাহর কাছে তা অনেক বড় হয়ে যায়।
যেমন জনৈক সাহাবী রাযি. বলেন, অবিরাম গুনাহলিপ্ত থাকলে কোনো গুনাহ-ই ছোট থাকে না। পক্ষান্তরে সর্বদা তাওবা করলে কোনো গুনাহ-ই বড় থাকে না। হযরত আওয়াম ইবনে হাওশাব রহ. বলেন, গুনাহের পর চারটি কাজ গুনাহের চেয়েও মারাত্মক। যথা-
১. الإِسْتِصْغَارُ অর্থাৎ, গুনাহকে তুচ্ছ জ্ঞান করা।
২. وَالإِغْتِرَارُ অর্থাৎ, গুনাহ করে আত্মপ্রবঞ্চনায় ভোগা।
৩. وَالإِسْتِبْشَارُ অর্থাৎ, গুনাহ করে আনন্দিত হওয়া।
৪. وَالْإِصْرَارُ অর্থাৎ, অবিরাম গুনাহ করতে থাকা।
টিকাঃ
৯৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৪৮৩; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২২৮৪।