📄 হযরত আদম আ.-এর তাওবা
বলা হয়, পাঁচটি কারণে হযরত আদম আ.-এর তাওবা কবুল করা হয়েছে। আর পাঁচ কারণে ইবলিসের তাওবা কবুল করা হয়নি।
আদম আ.-এর তাওবা কবুল করার পাঁচ কারণ হলো-
১. أَقَرَّ عَلَى نَفْسِهِ بِالذَّنْبِ অর্থাৎ, তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন।
২. وَنَدِمَ عَلَيْهِ অর্থাৎ, তার জন্য অনুতপ্ত হয়েছেন।
৩. وَلَامَ نَفْسَهُ অর্থাৎ, নিজেই নিজের সমালোচনা করেছেন।
৪. وَأَسْرَعَ بِالتَّوْبَةِ অর্থাৎ, দ্রুত তাওবা করেছেন
৫. وَلَمْ يَقْنَطُ مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ تَعَالَى অর্থাৎ, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হননি।
ইবলিসের তাওবা কবুল না হওয়ার পাঁচ কারণ হলো-
১. لَمْ يُقِرَّ عَلَى نَفْسِهِ অর্থাৎ, ইবলীস নিজের অপরাধ স্বীকার করেনি।
২. وَلَمْ يَنْدَمُ عَلَيْهِ অর্থাৎ, গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়নি।
৩. وَلَمْ يَكُمْ نَفْسَهُ অর্থাৎ, নিজেকে তিরস্কার করেনি।
৪. وَلَمْ يُسْرِعُ فِي التَّوْبَةِ অর্থাৎ, তাওবা করেনি।
৫. وَقَنَطُ مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ تَعَالَى অর্থাৎ, সে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়েছে।
সুতরাং যার অবস্থা আদম আ.-এর অবস্থার মত হবে তার তাওবা কবুল হবে আর যার অবস্থা ইবলিসের মত হবে, তার তাওবা কবুল হবে না।
📄 হযরত ইবরাহীম বিন আদহামের উক্তি
عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى أَنَّهُ قَالَ : لَأَنْ أَدْخُلَ النَّارَ، وَقَدْ أَطَعْتُ اللَّهَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَدْخُلَ الْجَنَّةَ، وَقَدْ عَصَيْتُ اللهَ تَعَالَى।
হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহ. বলেন, আল্লাহর আনুগত্য করে জাহান্নামে যাওয়া আমার নিকট অধিক প্রিয় আল্লাহর নাফরমানী করে জান্নাতে যাওয়ার চেয়ে।
📄 এক গোলামের তাওবা
عَنْ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ مَرَّ بِعُتْبَةَ الْغُلَامِ فِي بَرْدِ شَدِيدٍ، وَعَلَى عُتْبَةَ قَمِيصُ خَلِقُ، وَهُوَ قَائِمٌ يَتَفَكَّرُ وَهُوَ يَتَرَبَّحُ عَرَقًا، فَقَالَ لَهُ مَالِكٌ: مَا الَّذِي أَوْقَفَكَ فِي هُذَا الْمَوْضِعِ قَالَ: يَا مُعَلِّمِي هُذَا مَوْضِعُ عَصَيْتُ اللهَ تَعَالَى فِيهِ، يَعْنِي أَنَّهُ كَانَ يَتَفَكَّرُ فِي ذَنْبِهِ، وَهُوَ يَسِيلُ مِنْهُ الْعَرَقُ حَيَاءٌ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى।
হযরত মালেক বিন দীনার রহ. থেকে বর্ণিত। একদা তিনি প্রচণ্ড শীতের মধ্যে উতবা নামের এক যুবককে দেখতে পেলেন। তার শরীরে ছিল, পুরোনো পোশাক। পথিমধ্যে সে বিষণ্ণ মনে দাঁড়িয়ে আছে। আর শীতের মধ্যেও তার শরীর দিয়ে দর দর করে ঘাম ঝরছে। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেন এখানে দাঁড়িয়ে আছ? সে বলল, উস্তাদ! এই সে স্থান যেখানে আমি আল্লাহর নাফরমানী করেছিলাম। অর্থাৎ, যে স্থানে সে আল্লাহর নাফরমানী করেছে, সে স্থানে দাঁড়িয়েই তাওবা করছে এবং আল্লাহর ভয়ে তার দেহ থেকে প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও দরদর করে ঘাম ঝরছে।
📄 হযরত মাকছুল শাম রহ.-এর উক্তি
হযরত মাকহুল শামী রহ. বলেন, প্রতি রাতে ঘুমানোর পূর্বে বিছানায় শুয়ে সারাদিনের কাজের হিসাব নেওয়া উচিত। যদি ভালো কাজ করে থাকে তাহলে আল্লাহর শুকর আদায় করবে। আর যদি কোনো গুনাহ করে থাকে তাহলে আল্লাহর নিকট তাওবা করবে। আর যে এরূপ করে না, সে ওই ব্যবসায়ীর মতো যে তার ব্যবসার কোনো হিসাব নিকাশ রাখে না। ফলে নিজের অজান্তে এক সময় দেউলিয়া হয়ে যায়।