📄 শেষ আমলই গ্রহণযোগ্য
عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ كَعْبِ الْقُرَظِيَّ، قَالَ: قَامَ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَبَضَ كَفَّهُ الْيُمْنَى، ثُمَّ قَالَ: كِتَابٌ كَتَبَ اللهُ تَعَالَى فِيهِ أَهْلَ الْجَنَّةِ بِأَسْمَائِهِمْ، وَأَنْسَابِهِمْ وَلَا يُزَادُ فِيهِمْ وَلَا يُنْقَصُ، وَلَيَعْمَلَنَّ أَهْلُ السَّعَادَةِ بِعَمَلِ أَهْلِ الشَّقَاءِ حَتَّى يُقَالَ بِأَنَّهُمْ مِنْهُمْ بَلْ هُمْ، ثُمَّ يَسْتَنْقِذَهُمُ اللَّهُ تَعَالَى بِقَضَائِهِ، مِنَ الشَّقَاءِ إِلَى السَّعَادَةِ قَبْلَ الْمَوْتِ، وَلَوْ بِفَوَاقِ نَاقَةٍ، وَلَيَعْمَلَنَّ أَهْلُ الشَّقَاءِ بِعَمَلِ أَهْلِ السَّعَادَةِ، حَتَّى يُقَالَ كَأَنَّهُمْ مِنْهُمْ بَلْ هُمْ اللَّهُ مِنْهُمْ، ثُمَّ اللهُ قَبْلَ الْمَوْتِ، وَلَوْ بِفَوَاقِ نَاقَةٍ، السَّعِيدُ مَنْ سَعِدَ بِقَضَاءِ اللَّهِ تَعَالَى وَالْأَعْمَالُ بِالْخَوَاتِيمِ.
হযরত মুহাম্মাদ ইবনে কাব কুরজী রহ. থেকে বর্ণিত। একদা রাসূল ﷺ মিম্বারে দাঁড়ালেন এবং ডান হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করে বললেন, এটি একটি গ্রন্থ যাতে আল্লাহ তা'আলা জান্নাতবাসীদের নাম ও বংশ পরিচয়সহ লিখে রেখেছেন। তাতে কোনো যোগও হবে না এবং বিয়োগও হবে না। এরপর বাম হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করে বললেন, এটি একটি গ্রন্থ যাতে আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামবাসীদের নাম ও বংশ পরিচয়সহ লিখে রেখেছেন। তাতে কোনো যোগও হবে না এবং বিয়োগও হবে না। কোনো কোনো জান্নাতবাসী জাহান্নামীদের মতো করতে থাকবে, এমনকি এক সময় মনে হতে থাকবে সে জাহান্নামীই হয়ে গেছে। অতঃপর মৃত্যুর সামান্য পূর্বে হলেও আল্লাহ তা'আলা নিজস্ব ফায়সালা দ্বারা তাকে জাহান্নাম থেকে জান্নাতের পথে নিয়ে আসবেন। অনুরূপ কোনো কোনো জাহান্নামী জান্নাতীদের কাজ করতে থাকবে এমনকি এক সময় মনে হবে সে জান্নাতীই হয়ে গেছে। অতঃপর মৃত্যুর সামান্য পূর্বে হলেও আল্লাহ তাকে স্বীয় ফয়সালা দ্বারা জান্নাত থেকে জাহান্নামের পথে নিয়ে আসবেন। আর সমস্ত আমল শেষ অবস্থার উপর নির্ভরশীল।
টিকাঃ
৮৯. হাদীসটির সনদ জয়ীফ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৭/২১৩]।
📄 বিদায় হজ্জে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী
عَنْ فُضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ : أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِالْمُؤْمِنِ الْمُؤْمِنُ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَى أَمْوَالِهِمْ، وَأَنْفُسِهِمْ، وَالْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ النَّاسُ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالْمُجَاهِدُ مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ فِي طَاعَةِ اللَّهِ تَعَالَى، وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ الذُّنُوبَ وَالْخَطَايَا.
হযরত ফাজালা ইবনে ওবায়েদ রাযি. বর্ণনা করেন, বিদায় হজ্বে রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আমি কি তোমাদেরকে বলব, প্রকৃত মুমিন কে? প্রকৃত মুমিন হলো সে, যাকে মানুষ নিজেদের জানমালের ব্যাপারে বিশ্বাস করে। আর প্রকৃত মুসলিম হলো সে, যার মুখ ও হাত থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে। প্রকৃত মুজাহিদ সে, যে আল্লাহর অনুগত্য করার জন্য নিজের নফসের সাথে জিহাদ করে। আর প্রকৃত মুহাজির সে, যে গুনাহ বর্জন করে।
হযরত আবুদ দারদা রাযি. বলেন- اعْبُدُوا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ كَأَنَّكُمْ تَرَوْنَهُ، وَعُدُّوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ الْمَوْتَى، وَاعْلَمُوا أَنَّ قَلِيلًا يُغْنِيكُمْ خَيْرٌ مِنْ كَثِيرٍ يُلْهِيكُمْ، وَاعْلَمُوا أَنَّ الْبِرَّ لَا يَبْلَى وَأَنَّ الْإِثْمَ لَا يُنْسَى.
তোমরা আল্লাহর ইবাদত এভাবে কর, যেন তোমরা তাঁকে দেখছো। আর নিজেদেরকে মৃত মনে কর। মনে রেখো! যথেষ্ট পরিমাণ স্বল্প সম্পদ (আল্লাহর ইবাদত থেকে) উদাসীনকারী অধিক সম্পদ থেকে উত্তম। আরো জেনে রাখো! নেক আমল কখনো পুরোনো হয় না এবং পাপকাজ কখনো ভালো হয় না।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : الْبِرُّ لَا يَبْلَى، وَالْإِثْمُ لَا يُنْسَى، وَالدَّيَّانُ لَا يَفْنَى، وَكُنْ كَمَا شِئْتَ.
হযরত ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, নেক আমল কখনো পুরোনো হবে না। পাপকাজ কখনো ভুলানো হয় না এবং কর্মের বিনিময় দানকারী কখনো মৃত্যুবরণ করে না। তুমি যেমন চাও তেমন হও। অর্থাৎ, তুমি যেমন করবে তেমনই ফল পাবে। ভালো কাজ করলে ভালো ফল এবং মন্দ করলে মন্দফল।
যেমন আল্লাহ ইরশাদ করেন- إِنْ أَحْسَنْتُمْ أَحْسَنْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ وَإِنْ أَسَأْتُمْ فَلَهَا অর্থ: যদি তোমরা ভালো কাজ কর তাহলে তা নিজেদের জন্যই করবে, আর যদি মন্দকাজ কর তাহলেও তা নিজেদের জন্যই।
অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলা কারো উপর অবিচার করেন না। কেউ নেক কাজ করলে তার একটি নেকিও কমিয়ে দেন না এবং কাউকে বিনা অপরাধে শাস্তি দেন না। তিনি স্পষ্টভাবে তাঁর পথ বর্ণনা করে দিয়েছেন, তা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রতিটি জাতির কাছে নবী পাঠিয়েছেন। তারা জান্নাত ও জাহান্নামের পথ বাতলে দিয়েছেন।
টিকাঃ
৯০. সুনানে তিরমিযী হাদীস-১৬২১; মুসনাদে আহমাদ হাদীস-২৩৯৫৮; সহীহ ইবনে হিব্বান: হাদীস-৪৮৬২; হাদীসটি সহীহ [ইমাম তিরমিযী, শুয়াইব আরনাউত]।
৯১. মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: হাদীস-২০২৬২; হাদীসটি মুরসাল সহীহ [ফাতহুল বারী: ১৩/৪৬৬]
৯২. সূরা ইসরা: আয়াত-৭
📄 হযরত আদম আ.-এর তাওবা
বলা হয়, পাঁচটি কারণে হযরত আদম আ.-এর তাওবা কবুল করা হয়েছে। আর পাঁচ কারণে ইবলিসের তাওবা কবুল করা হয়নি।
আদম আ.-এর তাওবা কবুল করার পাঁচ কারণ হলো-
১. أَقَرَّ عَلَى نَفْسِهِ بِالذَّنْبِ অর্থাৎ, তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন।
২. وَنَدِمَ عَلَيْهِ অর্থাৎ, তার জন্য অনুতপ্ত হয়েছেন।
৩. وَلَامَ نَفْسَهُ অর্থাৎ, নিজেই নিজের সমালোচনা করেছেন।
৪. وَأَسْرَعَ بِالتَّوْبَةِ অর্থাৎ, দ্রুত তাওবা করেছেন
৫. وَلَمْ يَقْنَطُ مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ تَعَالَى অর্থাৎ, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হননি।
ইবলিসের তাওবা কবুল না হওয়ার পাঁচ কারণ হলো-
১. لَمْ يُقِرَّ عَلَى نَفْسِهِ অর্থাৎ, ইবলীস নিজের অপরাধ স্বীকার করেনি।
২. وَلَمْ يَنْدَمُ عَلَيْهِ অর্থাৎ, গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়নি।
৩. وَلَمْ يَكُمْ نَفْسَهُ অর্থাৎ, নিজেকে তিরস্কার করেনি।
৪. وَلَمْ يُسْرِعُ فِي التَّوْبَةِ অর্থাৎ, তাওবা করেনি।
৫. وَقَنَطُ مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ تَعَالَى অর্থাৎ, সে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়েছে।
সুতরাং যার অবস্থা আদম আ.-এর অবস্থার মত হবে তার তাওবা কবুল হবে আর যার অবস্থা ইবলিসের মত হবে, তার তাওবা কবুল হবে না।
📄 হযরত ইবরাহীম বিন আদহামের উক্তি
عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى أَنَّهُ قَالَ : لَأَنْ أَدْخُلَ النَّارَ، وَقَدْ أَطَعْتُ اللَّهَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَدْخُلَ الْجَنَّةَ، وَقَدْ عَصَيْتُ اللهَ تَعَالَى।
হযরত ইবরাহীম বিন আদহাম রহ. বলেন, আল্লাহর আনুগত্য করে জাহান্নামে যাওয়া আমার নিকট অধিক প্রিয় আল্লাহর নাফরমানী করে জান্নাতে যাওয়ার চেয়ে।