📄 সুদের ব্যাপক বিস্তার
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يَبْقَى أَحَدٌ إِلَّا أَكَلَ الرِّبَا. قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ كُلُّهُمْ يَأْكُلُونَ الرِّبَا؟ قَالَ: مَنْ لَمْ يَأْكُلْ مِنْهُ يُصِيبُهُ مِنْ غُبَارِهِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, এমন এক সময় আসবে যখন সবাই সুদ খাবে। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, তখন সবাই সুদ খাবে? রাসূল ইরশাদ করলেন, হ্যাঁ, সবাই সুদ খাবে। যে ব্যক্তি না খাবে তার গায়েও সুদের গন্ধ লাগবে। অর্থাৎ, কোনো না কোনোভাবে সুদের প্রক্রিয়ার সাথে সে জড়িত থাকবে। হয় সে সুদের চুক্তির লেখক হবে, নয় তার সাক্ষী হবে, না হয় সুদের লেনদেনে সে খুশি থাকবে, অথবা তার হাদিয়া গ্রহণ করবে বা দাওয়াত খাবে। এ ব্যক্তিও উক্ত সুদের অংশ পাবে। যেমন, আবূ বকর রাযি. বলেছেন, লেনদেনে অতিরিক্ত দানকারী ও গ্রহণকারী উভয়ই জাহান্নামী।
হাদীসের মর্মার্থ হলো, সুদ এতো ব্যাপক হবে যে, তাতে হিলা করা হবে। ফলে কোনো না কোনোভাবে মানুষের সম্পদগুলো সুদের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকবে। সুতরাং ব্যবসায়ীর উচিত ব্যবসা করার পূর্বে এতটুকু ইলমে দীন অর্জন করা যার দ্বারা সে ব্যবসা করতে পারে এবং সুদে জড়িয়ে না পড়ে, হালাল-হারাম নির্ণয় করতে পারে, তার সম্পদ হারামের সাথে মিলিয়ে না ফেলে এবং হারাম না খায়। আর হালাল ও হারাম, সন্দেহযুক্ত বস্তু ও বিশেষ বিধানযুক্ত বস্তু, সত্য ও মিথ্যা, সংশয় ও নিশ্চয়তা, সুন্নাত ও বিদআত, কুফর ও ঈমান -এগুলোর স্বরূপ ইলম ছাড়া জানা অসম্ভব।
যেমন, হযরত হাসান ইবনে আলী রাযি. থেকে প্রসিদ্ধ একটি হাদীসে রয়েছে, তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এই কথাটি মুখস্থ করে নিয়েছি, যেটি তিনি একবার বা দুইবার বলেছেন- “যে বিষয় তোমার মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে, তা ছেড়ে দিয়ে যার ব্যাপারে তুমি নিঃসন্দেহ, তা গ্রহণ কর। কারণ, ইয়াকীন ও সত্য হচ্ছে স্বস্তি আর সন্দেহ ও মিথ্যা হচ্ছে অস্থিরতা ও অস্বস্তি।"
আর ব্যবসায়ীদেরকে মাপের ব্যাপারে খুবই সর্তক থাকতে হবে। কারণ, কুরআনে এ ব্যাপারে কঠিন হুঁশিয়ারী এসেছে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ الَّذِينَ إِذَا اکْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُونَ ، وَإِذَا كَالُوهُمْ أَوْ وَزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ أَلَا يَظُنُّ أُولَئِكَ أَنَّهُمْ مَّبْعُوثُونَ لِيَوْمٍ عَظِيمٍ يَوْমَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ
অর্থ: ধ্বংস মাপে কমদানকারীদের জন্য, যারা নিজেদের জন্য যখন মেপে নেয় তখন পরিপূর্ণ রূপে নেয়, আর যখন (অন্যদেরকে) মেপে দেয় তখন তারা কম দেয়। তাদের কি মনে হয় না যে তাদেরকে এক কঠিন দিনে পুনরুত্থিত করা হবে? যে দিন সমস্ত মানুষ জগতের প্রভুর সামনে দাঁড়াবে?
টিকাঃ
৮৩. সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-২২৭৮; সুনানে আবী দাউদ হাদীস-৩৩৩১; শরহে সুন্নাহ: হাদীস-২০৫৫; সনদ জয়ীফ [শুয়াইব আরনাউত, আলবানী]
৮৪. মুসনাদে আহমাদ: ১/২০; সুনানে নাসায়ী : ৮/৩২৭; সুনানে তিরমিযী, হাদীস-২৫১৮। ইমাম তিরমিযী রহ. বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।
📄 আয়াতের শানে নুযুল
রাসূল ﷺ মদিনায় এসে দেখতে পেলেন যে, তারা মাপে কম দেয় এবং নেওয়ার সময় বেশি নেয়। তখন রাসূল ﷺ বললেন, ধ্বংস তোমাদের জন্য। তোমরা মাপে কম দাও। তখন আল্লাহ তা'আলা উক্ত আয়াত নাযিল করলেন। আয়াতে 'ওয়াইল' দ্বারা উদ্দেশ্য কী এ ব্যাপারে একাধিক উক্তি পাওয়া যায়। যথা- ১. কেউ বলেন, কঠিন শাস্তি। ২. আবার কেউ বলেন, এটা একটি জাহান্নামের নাম। সুতরাং মাপে কমদানকারী ও বেশিগ্রহণকারী উক্ত জাহান্নামে থাকবে।
টিকাঃ
৮৫. সূরা মুতাফফিফীন: আয়াত- ১-৫
৮৬. সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-২২২৩; সনদ হাসান [যাওয়াদে ইবনে মাজাহ]।
📄 দুনিয়ায় আল্লাহর দাঁড়ি-পাল্লা
আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَوُضِعَ الْكِتَابُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هَذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا
অর্থ: আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত দেখবেন। তারা বলবে, হায়রে এটা কী ধরনের কিতাব (আমলনামা) ছোট-বড় কোনো গুনাহই লিখতে ছাড়েনি। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না।
عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : إِنَّ الْعَدْلَ مِيزَانُ اللهِ تَعَالَى فِي الْأَرْضِ، فَمَنْ أَخَذَهُ قَادَهُ إِلَى الْجَنَّةِ، وَمَنْ تَرَكَهُ سَاقَهُ إِلَى النَّارِ.
হযরত উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, দুনিয়ার ন্যায় হলো, আল্লাহর দাঁড়িপাল্লা। যে ব্যক্তি তা আঁকড়ে ধরবে সে জান্নাতে যাবে, আর যে তা বর্জন করবে সে জাহান্নামে যাবে। জেনে রাখো! বাদশাহর পক্ষ থেকে প্রজাদের প্রতি ইনসাফ করা কর্তব্য। আর প্রজাদের কর্তব্য পরস্পরে ইনসাফ করা। সুতরাং তোমরা ন্যায় পরায়ণতাকে আঁকড়ে ধরো। তাহলেই মুক্তি পাবে।
টিকাঃ
৮৭. সূরা কাহফ ৪৯