📄 হারাম সম্পদ দ্বারা সদকা করা
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ : مَا يَكْسِبُ الْعَبْدُ مَالًا مِنَ الْحَرَامِ، فَيَتَصَدَّقُ بِهِ، فَلَا يُؤْجَرُ عَلَيْهِ، وَلَا يُنْفِقُ مِنْهُ، فَلَا يُبَارَكُ فِيهِ وَلَا يَتْرُكُهُ خَلْفَ ظَهْرِهِ إِلَّا كَانَ زَادَهُ إِلَى النَّارِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, অবৈধ উপায়ে সম্পদ যদি কেউ দান করে, তাহলে সে তার কোনো প্রতিদান পাবে না। যে খাতেই ব্যয় করুক, তাতে বরকত হবে না। আর সে যা রেখে মারা যায়, তার জন্য তা জাহান্নামের পাথেয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন- أَنفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ অর্থ: তোমরা খরচ কর, ওই হালাল সম্পদ থেকে যা তোমরা উপার্জন কর এবং আমি তোমাদের জন্য জমিন থেকে যা উৎপন্ন করি।
নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- "مَا أَكَلَ أَحَدٌ طَعَامًا قَطُّ خَيْرًا مِنْ أَنْ يَأْكُلَ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ، وَإِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَامُ كَانَ يَأْكُلُ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ". إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللَّهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ، فَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} [المؤمنون: ٥١] ، وَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} [البقرة: ٥٧] ، ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ، ثُمَّ يَمُدُّ يَدَهُ إِلَى السَّمَاءِ: يَا رَبِّ، يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَামٌ، وَغُذِّيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ".
অনুবাদ: মানুষের সর্বোত্তম উপার্জন হচ্ছে তার নিজ হাতের উপার্জন। আল্লাহর নবী দাউদ আলাহিস সালাম-ও নিজ হাতেই উপার্জন করতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র। তাই পবিত্র বস্তু ছাড়া তিনি গ্রহণ করেন না। আল্লাহ তা'আলা সাধারণ মুমিনদের সেই নির্দেশই দিয়েছেন, যে নির্দেশ তিনি তাঁর রাসূলগণকে করেছেন। তিনি বলেছেন- “হে রাসূলগণ, তোমরা পবিত্র রিজিকই খাও।" (সূরা মুমিনূন: আয়াত-৫১) অপরদিকে তিনি বলেছেন- “হে মুমিনগণ, আমার দেওয়া রিজিক থেকে পবিত্র রিজিক তোমরা খাও।" (সূরা বাকারা: আয়াত-১৭২) এরপর তিনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে (দুআ কবুলের উদ্দেশ্যে) লম্বা-লম্বা সফর করছে। তার চুল এলোমেলো, ধূলিমলিন। সে আসমানের দিকে দুই হাত উঁচু করে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাচ্ছে- 'হে রব! হে রব!...' অথচ সে যা খায় তা হারাম, যা পান করে তা হারাম, যা পরিধান করে তা হারাম, যেখানে শোয় তা হারাম, তার যাওয়া-আসার উপকরণ- সবই হারাম। তাহলে কীভাবে তার দোয়া কবুল হবে!? এমন এক যামানা আসবে যখন মানুষ হালাল-হারাম বাছবিচার করে উপার্জন করবে না।
টিকাঃ
৭৫. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৩৬৭২; শুআবুল ঈমান: হাদীস-৫৫২৪; মুস্তাদরাকে হাকেম: হাদীস- ৭৩০১; হাদীসটির সনদ হাসান (মুহতামাল) [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/২৩১]।
৭৬. সূরা বাকারা ২৬৭
৭৭. সহীহ বুখারী: ৪/২০৭২; মুসনাদে আহমাদ: ৪০/১৩১-১৩২।
৭৮. সহীহ মুসলিম: ২/১০১৫।
৭৯. সুনানে নাসায়ী: ৭/২৪৩। হাদীসটির সনদ সহীহ (শায়েখ আস-সায়্যিদ আল-আরাবী, মুহাক্কিক, তাম্বীহুল গাফিলীন, মাকতাবাতুল ঈমান, মিশর)
📄 লেনদেনে কম-বেশি করা সুদ
عَنْ أَبِي رَافِعٍ، قَالَ: بَعَثَ خُلْخَالًا فِضَّةٌ مِنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، فَوَضَعَ الْخُلْخَالَ فِي كِفَّةٍ وَالدَّرَاهِمَ فِي كِفَّةٍ، فَكَانَ الْخُلْخَالُ أَثْقَلَ مِنْهَا يَسِيرًا، فَأَخَذَ مِقْرَاضًا فَقُلْتُ: الزَّيَادَةُ لَكَ يَا خَلِيفَةَ رَسُولِ اللهِ، قَالَ: لَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: الزَّائِدُ وَالْمُسْتَزِيدُ فِي النَّارِ.
হযরত আবু রাফে' রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত আবূ বকর রাযি.-এর নিকট রুপার নূপুর বিক্রি করলাম। তিনি এক পাল্লায় নূপুর এবং অপর পাল্লায় দিরহাম রাখলেন। এতে নূপুর একটু বেশী হলো। তিনি কাঁচি এনে তা কাটতে উদ্যত হলেন। আমি বললাম, খলীফা! আমি অতিরিক্ত অংশটুকু আপনাকে দিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি, বেশি প্রদানকারী এবং গ্রহণকারী উভয়ে জাহান্নামী।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَعُبَادَةُ بْنِ الصَّامِتِ، وَأَبُو هُرَيْرَةَ، وَغَيْرُهُمْ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: الْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ مِثْلًا بِمِثْلٍ، وَالْفَضْلُ رِبًا، وَالْحِنْطَةُ بِالْحِنْطَةِ مِثْلًا بِمِثْلٍ وَالْفَضْلُ رِبًا. ثُمَّ قَالَ : فَمَنْ زَادَ أَوِ اسْتَزَادَ فَقَدْ أَرْبَى.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী, উবাদা ইবনুস সামেত এবং আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, রুপার বিনিময়ে রুপা সমান সমান করে বিক্রি কর। কারণ, অতিরিক্ত অংশ সুদ হবে। গমের বিনিময়ে গম, সমান সমান করে বিক্রি কর। কারণ, অতিরিক্ত অংশ সুদ হবে। তারপর ইরশাদ করলেন, যে অতিরিক্ত প্রদান করল এবং যে অতিরিক্ত গ্রহণ করল তারা সুদের লেনদেন করল।
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: كُنَّا نَدَعُ تِسْعَةَ أَعْشَارٍ مِنَ الْحَلَالِ مَخَافَةَ الرِّبَا.
হযরত মাসউদ রাযি. বলেন, এক ভাগ সুদের ভয়ে আমরা হালাল নয় ভাগও ছেড়ে দিতাম। হযরত উমর রাযি. থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কথিত আছে- مَا ظَهَرَ الزَّنَى وَأَكْلُ الرِّبَا فِي بَلَدٍ إِلَّا خَرِبَ অর্থাৎ যে শহরে যিনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সুদ ব্যাপক হয়ে যায় উক্ত শহর ধ্বংস হয়ে যায়।
টিকাঃ
৮০. মুসনাদে আহমাদ : হাদীস-৮৫; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক : হাদীস-১৪৫৬৯; হাদীসটির সনদ অত্যন্ত দুর্বল [শুয়াইব আরনাউত]।
৮১. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৫৮৪; সহীহ বুখারী: হাদীস-২১৯৭।
📄 ব্যবসায়ীর জন্য লেন দেন সংক্রান্ত মাসআলা জানা থাকা
পূর্বসূরী যেমন ইমাম আবূ হানিফা, সুফিয়ান সাওরী ও অন্যান্য ওলামায়ে কেরাম বলেন, প্রত্যেক ওই আমল যা ফরয, তার ইলম অর্জন করাও ফরয অথবা যা বৈধ তা পালন করা ফরয। তারা আরো বলেন, ক্রয় বিক্রয়, বিবাহ, তালাক, হায়েয, নেফাস ও উপার্জনের ইলম অর্জন করা আবশ্যক।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ
হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরয।
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : مَنِ اتَّجَرَ قَبْلَ أَنْ يَتَفَقَّهَ فِي الدِّينِ، فَقَدِ ارْتَطَمَ فِي الرِّبَا، ثُمَّ ارْتَطَمَ ثُمَّ ارْتَطَمَ، يَعْنِي غَرِقَ فِيهِ.
হযরত আলী রাযি. বলেন, যে ব্যক্তি সম্পূর্ণরূপে দীন জানার পূর্বে ব্যবসা শুরু করে সে সুদে জড়িত হয়ে পড়বেই। বরং এক সময় তাতে নিমজ্জিত হয়ে যাবে।
عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ : قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ: لَا يَبِيعَنَّ فِي أَسْوَاقِنَا هَذِهِ قَوْمٌ لَمْ يَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ، وَلَمْ يُوفُوا الْكَيْلَ وَالْمِيزَانَ.
আলা ইবনে আব্দুর রহমান তার পিতা থেকে দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, হযরত উমর রাযি. বলেন, দীনের মাসআলা-মাসায়েল সম্পর্কে যার জ্ঞান নেই এবং যে সঠিকভাবে ওজন করে না, সে যেন আমাদের এই বাজারে বেচা-কেনা না করে।
সুফিয়ান সওরী রহ. বলেন- لَا تَنْظُرَنَّ إِلَى زِيِّ أَهْلِ السُّوقِ فَإِنَّ تَحْتَ ثِيَابِهِمْ ذِئَابًا অর্থাৎ, বাজারের লোকদের বাহ্যিক দিক দেখে ধোঁকায় পড়ো না। তাদের পোশাকের নিচে নেকড়ে লুকিয়ে আছে। তিনি আরও বলতেন- إِيَّاكُمْ وَجِيرَانَ الْأَعْنِيَاءِ، وَقُرَّاءَ الْأَسْوَاقِ، وَعُلَمَاءَ الْأَمْرَاءِ অর্থাৎ, ধনীদের প্রতিবেশী, বাজারের ক্বারী এবং দরবারী আলেমদের থেকে বেঁচে থেকো।
মুহাম্মদ বিন শিমাল রহ. বাজারে গিয়ে বলতেন- يَا أَهْلَ السُّوقِ سُوقُكُمْ كَاسِدٌ، وَبَيْعُكُمْ فَاسِدٌ، وَجَارُكُمْ حَاسِدٌ، وَمَأْوَاكُمُ النَّارُ. অর্থাৎ, হে বাজারের লোকজন! তোমাদের বাজার হলো ক্ষতির বাজার; তোমাদের বেচাকেনা ফাসেদ; তোমাদের প্রতিবেশী হিংসুক এবং তোমাদের ঠিকানা জাহান্নাম।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا ، أَنَّهُ قَالَ : كَسَبُ الْحَلَالِ أَشَدُّ مِنْ نَقْلِ الْجَبَلِ إِلَى الْجَبَلِ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হালাল উপার্জন করা পাহাড় থেকে পাহাড় স্থানান্তরিত করার চেয়ে কঠিন।
عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : مَا أَعْلَمُ الْيَوْمَ شَيْئًا أَقَلَّ مِنْ دِرْهَمٍ طَيِّبٍ يُنْفَقُ، وَأَخٍ يُسْكَنُ إِلَيْهِ فِي الْإِسْلَامِ، وَعَامِلٍ يَعْمَلُ عَلَى السُّنَّةِ، وَمَا يَزْدَادُونَ إِلَّا قِلَّةً وَلَوْ وَجَدْنَا دِرْهَمًا مِنَ الْحَلَالِ، لَاسْتَشْفَيْنَا بِهِ مَرْضَانَا.
ইউনুস ইবনে উবাইদ রহ. বলেন- ১. হালাল উপার্জনের একটি দিরহাম, ২. এমন মুসলমান ভাই, যার কাছে শান্তি পাওয়া যায়, ৩. এমন ব্যক্তি, যে সুন্নাতের অনুসারী-এদের থেকে বিরল বস্তু আর কিছু নেই। এগুলো আরও বিরল হতে থাকবে। আমরা যদি হালাল উপার্জনের একটি দিরহামও পাই, তাহলে তার মাধ্যমে আমাদের রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে সুস্থ করে তুলতে পারব।
টিকাঃ
৮২. সুনানে ইবনে মাজাহ : হাদীস-২২৪; মুসনাদে বায্যার : হাদীস-৬৭৪৬; ইমাম নববী ও ইবনুল কাইয়ুম প্রমুখ বলেন, হাদীসটির সনদ জয়ীফ হলেও অর্থ ও মর্ম সহীহ (মানসুরাত: ২৮৭]
📄 ধ্বংসের কয়েকটি কারণ
আযাব-গযব আসার কারণ
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ، قَالَ : إِنَّمَا يُؤْذَنُ فِي هَلَاكِ الْقَرْنِ إِذَا اسْتَحَلُّوا أَرْبَعًا : إِذَا نَقَصُوا الْمِيزَانَ، وَبَخَسُوا الْمِكْيَالَ، وَأَظْهَرُوا الزَّنَى وَأَكَلُوا الرِّبَا؛ لِأَنَّهُمْ إِذَا أَظْهَرُوا الزَّنَى أَصَابَهُمُ الْوَبَاءُ، وَإِذَا نَقَصُوا الْمِيزَانَ وَبَخَسُوا الْمِكْيَالَ مُنِعُوا الْقَطْرَ وَإِذَا أَكَلُوا الرِّبَا جُرَّدَ عَلَيْهِمُ السَّيْفُ.
হযরত আব্দুর রহমান ইবন সাবেত রহ. বলেন, কোনো জনপদবাসী যখন তিনটি অপরাধে লিপ্ত হয় তখন তাদের দিকে ধ্বংস ধেয়ে আসে। যথা- ১. যখন তারা মাপে কম দিতে শুরু করে। ২. যখন তারা প্রকাশ্যে ব্যভিচার করে। ৩. যখন তারা সুদের লেনদেন শুরু করে। কারণ, যখন তারা যিনায় জড়িত হয়ে পড়বে তখন তাদের জনপদে মহামারী দেখা দিবে। যখন তারা মাপে কম দিতে শুরু করবে তখন বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাবে। আর যখন সুদের লেনদেন করতে শুরু করবে, তখন তাদের মাঝে হত্যা ব্যাপক হয়ে যাবে। এতগুলো দুর্যোগ দেখা দেওয়ার পর কোনো জনপদ নিরাপদ থাকতে পারে?
عَنْ عُبَيْدِ الْمُحَارِبِيِّ، قَالَ: كُنْتُ أَمْشِي خَلْفَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ فِي السُّوقِ، وَمَعَهُ الدَّرَّةُ فَإِنْ رَأَى رَجُلًا لَا يُوفِي الْكَيْلَ ضَرَبَهُ وَقَالَ : أَوْفِ الْكَيْلَ.
উবাইদ মুহারিবী রহ. বলেন, আমি হযরত আলী রাযি.-এর পিছনে পিছনে বাজারে যেতাম। তার হাতে একটি ছড়ি থাকত। কাউকে ওজনে কম দিতে দেখতে তিনি তাকে প্রহার করতেন, আর বলতেন, পন্য ওজনে দাও।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّهُ قَالَ : يَا مَعْشَرَ الْأَعَاجِمِ، إِنَّكُمْ وَلَّيْتُمْ أَمْرَيْنِ بِهِمَا أُهْلِكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ مِنَ الْقُرُونِ الْمَاضِيَةِ الْمِكْيَالُ وَالْمِيزَانُ.
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. বলতেন, হে অনারব! তোমাদেরকে এমন দুটি বিষয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর কারণে তোমাদের পূর্ববর্তীরা ধ্বংস হয়ে গেছে। ১. পরিমাপ ২. ওজন।