📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সুদের গুনাহ ও পরিণতি

📄 সুদের গুনাহ ও পরিণতি


عَنْ عَطَاءِ الْخُرَاسَانِي، أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ سَلَامٍ، قَالَ: الرِّبَا اثْنَانِ وَسَبْعُونَ حُوبًا، يَعْنِي إِثْمًا وَأَصْغَرُهَا حُوبًا كَمَنْ أَتَى أُمَّهُ فِي الْإِسْلَامِ، وَدِرْهَمٌ مِنَ الرِّبَا شَرٌّ مِنْ بِضْعٍ وَثَلَاثِينَ زَنْيَةٍ، قَالَ: وَيَأْذَنُ اللَّهُ تَعَالَى بِالْقِيَامِ لِلْبَرِّ، وَالْفَاجِرِ يَوْমَ الْقِيَامَةِ إِلَّا آكِلَ الرِّبَا، فَإِنَّهُ لَا يَقُومُ كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ يَعْنِي كَالْمَجْنُونِ كُلَّمَا قَامَ سَقَطَ.

আতা রহ. থেকে বর্ণিত। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রাযি. বলেন, সুদের সত্তরটি গুনাহ রয়েছে। তন্মধ্যে সব চেয়ে ছোট গুনাহ হলো, মুসলমান অবস্থায় আপন মায়ের সাথে যিনা করা। সুদের এক দিরহাম সাইত্রিশবার যিনার চেয়েও মারাত্মক। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন নেককার এবং গুনাহগারকে তার সামনে দাঁড়ানোর অনুমতি দিবেন। কিন্তু সুদখোরকে সে সুযোগ দিবেন না। সে মাতাল ও পাগলের মত হয়ে দাঁড়াবে। যখনই দাঁড়াতে যাবে পড়ে যাবে।

عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : آخِرُ مَا نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ آيَةُ الرِّبَا فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَلَمْ يُفَسِّرْهَا لَنَا، فَدَعُوا الرِّبَا وَالرِّيبَةَ يَعْنِي الْكَبِيرَةَ وَالصَّغِيرَةَ.

হযরত উমর রাযি. বলেন, সুদের বিধান, কুরআনের সর্বশেষ নাযিলকৃত বিধান। রাসূল ﷺ-এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার পূর্বেই তার ইন্তেকাল হয়ে যায়। সুতরাং তোমরা ছোট বড় সব ধরনের সুদ থেকে বেঁচে থাক।

টিকাঃ
৭৩. শুআবুল ঈমান: হাদীস-৫৫১৪; জামে মামার ইবনে রাশেদ : ১০/৪৬১; আত-তারগীব, মুনযিরী: হাদীস-২৮৪৮; আল্লামা মুনযিরী মাওকুফ সনদকে সহীহ বলেছেন তবে হাদীসের প্রথম অংশের মারফু বর্ণনাও সহীহ (সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-২২৭৫; মারাসীলে ইবনে আবি হাতেম: হাদীস-৯১৬]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সুদখোর অভিশপ্ত

📄 সুদখোর অভিশপ্ত


عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا ، أَنَّهُ قَالَ : لَعَنَ رَسُولُ اللهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَشَاهِدَيْهِ، وَكَاتِبَهُ، وَالْوَاشِمَةَ، وَالْمُسْتَوْشِمَةَ، وَالْمُحَلَّلَ، وَالْمُحَلَّلَ لَهُ، وَمَانِعَ الصَّدَقَةِ.

হযরত আলী রাযি. ইরশাদ করেন, রাসূল ﷺ অভিশাপ দিয়েছেন সুদদাতাকে, সুদগ্রহীতাকে, সুদের চুক্তিলেখককে, সুদের সাক্ষীদ্বয়কে, উল্কি অঙ্কনকারীকে, উল্কিগ্রহণকারীকে, বিয়ের হিলা কারীকে এবং বিয়ের হিলা গ্রহণকারীকে, সদকায় বারণকারীকে।

টিকাঃ
৭৪. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-২০৭৭; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৮৪৪; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক : হাদীস-১০৭৯১; হাদীসটি হাসান [শুয়াইব আরনাউত]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 হারাম সম্পদ দ্বারা সদকা করা

📄 হারাম সম্পদ দ্বারা সদকা করা


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ : مَا يَكْسِبُ الْعَبْدُ مَالًا مِنَ الْحَرَامِ، فَيَتَصَدَّقُ بِهِ، فَلَا يُؤْجَرُ عَلَيْهِ، وَلَا يُنْفِقُ مِنْهُ، فَلَا يُبَارَكُ فِيهِ وَلَا يَتْرُكُهُ خَلْفَ ظَهْرِهِ إِلَّا كَانَ زَادَهُ إِلَى النَّارِ.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, অবৈধ উপায়ে সম্পদ যদি কেউ দান করে, তাহলে সে তার কোনো প্রতিদান পাবে না। যে খাতেই ব্যয় করুক, তাতে বরকত হবে না। আর সে যা রেখে মারা যায়, তার জন্য তা জাহান্নামের পাথেয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন- أَنفِقُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ অর্থ: তোমরা খরচ কর, ওই হালাল সম্পদ থেকে যা তোমরা উপার্জন কর এবং আমি তোমাদের জন্য জমিন থেকে যা উৎপন্ন করি।

নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- "مَا أَكَلَ أَحَدٌ طَعَامًا قَطُّ خَيْرًا مِنْ أَنْ يَأْكُلَ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ، وَإِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَامُ كَانَ يَأْكُلُ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ". إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللَّهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ، فَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} [المؤمنون: ٥١] ، وَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} [البقرة: ٥٧] ، ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ، ثُمَّ يَمُدُّ يَدَهُ إِلَى السَّمَاءِ: يَا رَبِّ، يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَামٌ، وَغُذِّيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ".

অনুবাদ: মানুষের সর্বোত্তম উপার্জন হচ্ছে তার নিজ হাতের উপার্জন। আল্লাহর নবী দাউদ আলাহিস সালাম-ও নিজ হাতেই উপার্জন করতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র। তাই পবিত্র বস্তু ছাড়া তিনি গ্রহণ করেন না। আল্লাহ তা'আলা সাধারণ মুমিনদের সেই নির্দেশই দিয়েছেন, যে নির্দেশ তিনি তাঁর রাসূলগণকে করেছেন। তিনি বলেছেন- “হে রাসূলগণ, তোমরা পবিত্র রিজিকই খাও।" (সূরা মুমিনূন: আয়াত-৫১) অপরদিকে তিনি বলেছেন- “হে মুমিনগণ, আমার দেওয়া রিজিক থেকে পবিত্র রিজিক তোমরা খাও।" (সূরা বাকারা: আয়াত-১৭২) এরপর তিনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে (দুআ কবুলের উদ্দেশ্যে) লম্বা-লম্বা সফর করছে। তার চুল এলোমেলো, ধূলিমলিন। সে আসমানের দিকে দুই হাত উঁচু করে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাচ্ছে- 'হে রব! হে রব!...' অথচ সে যা খায় তা হারাম, যা পান করে তা হারাম, যা পরিধান করে তা হারাম, যেখানে শোয় তা হারাম, তার যাওয়া-আসার উপকরণ- সবই হারাম। তাহলে কীভাবে তার দোয়া কবুল হবে!? এমন এক যামানা আসবে যখন মানুষ হালাল-হারাম বাছবিচার করে উপার্জন করবে না।

টিকাঃ
৭৫. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৩৬৭২; শুআবুল ঈমান: হাদীস-৫৫২৪; মুস্তাদরাকে হাকেম: হাদীস- ৭৩০১; হাদীসটির সনদ হাসান (মুহতামাল) [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/২৩১]।
৭৬. সূরা বাকারা ২৬৭
৭৭. সহীহ বুখারী: ৪/২০৭২; মুসনাদে আহমাদ: ৪০/১৩১-১৩২।
৭৮. সহীহ মুসলিম: ২/১০১৫।
৭৯. সুনানে নাসায়ী: ৭/২৪৩। হাদীসটির সনদ সহীহ (শায়েখ আস-সায়্যিদ আল-আরাবী, মুহাক্কিক, তাম্বীহুল গাফিলীন, মাকতাবাতুল ঈমান, মিশর)

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 লেনদেনে কম-বেশি করা সুদ

📄 লেনদেনে কম-বেশি করা সুদ


عَنْ أَبِي رَافِعٍ، قَالَ: بَعَثَ خُلْخَالًا فِضَّةٌ مِنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، فَوَضَعَ الْخُلْخَالَ فِي كِفَّةٍ وَالدَّرَاهِمَ فِي كِفَّةٍ، فَكَانَ الْخُلْخَالُ أَثْقَلَ مِنْهَا يَسِيرًا، فَأَخَذَ مِقْرَاضًا فَقُلْتُ: الزَّيَادَةُ لَكَ يَا خَلِيفَةَ رَسُولِ اللهِ، قَالَ: لَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: الزَّائِدُ وَالْمُسْتَزِيدُ فِي النَّارِ.

হযরত আবু রাফে' রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত আবূ বকর রাযি.-এর নিকট রুপার নূপুর বিক্রি করলাম। তিনি এক পাল্লায় নূপুর এবং অপর পাল্লায় দিরহাম রাখলেন। এতে নূপুর একটু বেশী হলো। তিনি কাঁচি এনে তা কাটতে উদ্যত হলেন। আমি বললাম, খলীফা! আমি অতিরিক্ত অংশটুকু আপনাকে দিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি, বেশি প্রদানকারী এবং গ্রহণকারী উভয়ে জাহান্নামী।

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَعُبَادَةُ بْنِ الصَّامِتِ، وَأَبُو هُرَيْرَةَ، وَغَيْرُهُمْ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: الْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ مِثْلًا بِمِثْلٍ، وَالْفَضْلُ رِبًا، وَالْحِنْطَةُ بِالْحِنْطَةِ مِثْلًا بِمِثْلٍ وَالْفَضْلُ رِبًا. ثُمَّ قَالَ : فَمَنْ زَادَ أَوِ اسْتَزَادَ فَقَدْ أَرْبَى.

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী, উবাদা ইবনুস সামেত এবং আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, রুপার বিনিময়ে রুপা সমান সমান করে বিক্রি কর। কারণ, অতিরিক্ত অংশ সুদ হবে। গমের বিনিময়ে গম, সমান সমান করে বিক্রি কর। কারণ, অতিরিক্ত অংশ সুদ হবে। তারপর ইরশাদ করলেন, যে অতিরিক্ত প্রদান করল এবং যে অতিরিক্ত গ্রহণ করল তারা সুদের লেনদেন করল।

عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: كُنَّا نَدَعُ تِسْعَةَ أَعْشَارٍ مِنَ الْحَلَالِ مَخَافَةَ الرِّبَا.

হযরত মাসউদ রাযি. বলেন, এক ভাগ সুদের ভয়ে আমরা হালাল নয় ভাগও ছেড়ে দিতাম। হযরত উমর রাযি. থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কথিত আছে- مَا ظَهَرَ الزَّنَى وَأَكْلُ الرِّبَا فِي بَلَدٍ إِلَّا خَرِبَ অর্থাৎ যে শহরে যিনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সুদ ব্যাপক হয়ে যায় উক্ত শহর ধ্বংস হয়ে যায়।

টিকাঃ
৮০. মুসনাদে আহমাদ : হাদীস-৮৫; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক : হাদীস-১৪৫৬৯; হাদীসটির সনদ অত্যন্ত দুর্বল [শুয়াইব আরনাউত]।
৮১. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৫৮৪; সহীহ বুখারী: হাদীস-২১৯৭।

ফন্ট সাইজ
15px
17px