📄 জিবরাঈল আ.-এর ভাষায় জাহান্নামের বিবরণ
হাদীসে এসেছে, একদা রাসূল ﷺ হযরত জিবরাঈল আ.-কে বললেন, আমাকে জাহান্নামের কিছু বিবরণ দিন। জিবরাঈল আ. বললেন, মুহাম্মাদ! জাহান্নাম হবে নিকষ কালো এবং অন্ধকার। তার আগুনের সুঁই পরিমাণ যদি পৃথিবীতে পড়ে তাহলে গোটা পৃথিবী পুড়ে যাবে। জাহান্নামীদের পরিধেয় পোশাকের একটি যদি আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তার দুর্গন্ধে পৃথিবীর সমস্ত প্রাণী মারা যাবে। জাহান্নামের যাক্কুমের এক ফোঁটা রস যদি পৃথিবীতে পড়ে, তাহলে পৃথিবীর জীবনোপকরণ ধ্বংস হয়ে যাবে। কুরআনে বর্ণিত জাহান্নামের উনিশজন ফেরেশতাদের কেউ একজন যদি পৃথিবীতে আসে তাহলে তার বীভৎস রূপ দেখে পৃথিবীর সকল মানুষ মারা যাবে। কুরআনে বর্ণিত জাহান্নামের জিঞ্জিরের অগ্নি স্ফুলিঙ্গের সামান্য যদি পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হয়, তাহলে গোটা জমিন ধ্বসে যাবে।
রাসূল এই বর্ণনা শুনে বললেন, জিবরাঈল! যথেষ্ট হয়েছে, এবার থাম। এরপর রাসূল কাঁদতে লাগলেন। হযরত জিবরাঈল আ.ও কাঁদলেন। রাসূল বললেন, জিবরাঈল! আপনি কাঁদছেন কেন? আপনার তো আল্লাহর দরবারে বড় মর্যাদা। জিবরাঈল আ. বললেন, আল্লাহর দরবারে আমার এই অবস্থান যে টিকে থাকবে তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? হতে পারে যে হারূত, মারূত এবং অভিশপ্ত ইবলিসের মত পথভ্রষ্ট হয়ে যাবো।
আল্লাহর দরবারে জিবরাঈলের এত উঁচু অবস্থান থাকা সত্ত্বেও তিনি কাঁদেন, তাহলে যে গুনাহগার, তার অবস্থা কেমন হওয়া চাই!
📄 নসীহত
সুতরাং জীবন ও সুস্বাস্থ্য দ্বারা প্রতারিত হয়ো না। কারণ, পৃথিবী এক দিন ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু গুনাহ থেকে যাবে, ফলে দীর্ঘ আযাব ভোগ করতে হবে। যিনা থেকে বেঁচে থাক। কারণ, যিনা আল্লাহর ক্রোধ ও বেদনাদায়ক শাস্তি বয়ে আনে। আর সবচেয়ে বড় যিনা হলো, যা সর্বদা করা হয়। কোনো কোনো মানুষ তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে এরপরও তার সাথে থাকে, লজ্জার ভয়ে তা প্রকাশ করে না। কিন্তু কিয়ামতের দিন সে সবার সামনে লজ্জিত হবে। সুতরাং দুনিয়ার লজ্জার ভয় পরিহার করে যিনার জন্য তাওবা কর। কারণ, মৃত্যুর পর অনুতপ্ত হলে কোনো কাজে আসবে না। বরং জীবদ্দশার অনুতাপই কাজে আসবে। যে মুমিনগণ তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে আল্লাহ তাদের প্রশংসা করে বলেছেন-
ওয়াল্লাযীনা হুম লিফুরূজ্বিহিম হাফিজুন। ইল্লা আলা আযওয়া-জ্বিহিম আও মা মালাকাত আইমা-নুহুম ফাইন্নাহুম গইরু মালূমীন। ফামানিব তাগা ওয়ারা-আ যা-লিকা ফাউলা-ইকা হুমুল আদূনা।
অর্থ: আর যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে, তাদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত, এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। তবে কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা হবে সীমালঙ্ঘনকারী।
অর্থাৎ, যারা উল্লিখিত বৈধপন্থা ছাড়া ভিন্ন পথ অবলম্বন করবে, তারা না- ফরমান। এ আয়াত থেকে এ কথাও বুঝা যায় যে, হস্তমৈথন করাও না জায়েয। হাদীসে এসেছে, হস্তমৈথুনকারীদের হাত কিয়ামতের দিন গর্ভবতী থাকবে। সেই সাথে একথা বুঝা গেল যে, পুংমৈথুনও না জায়েয।
সুতরাং প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য হলো, নিজেও যিনা থেকে বেঁচে থাকা এবং অন্যদেরকে বাঁচানো। কারণ, যিনার কারণে আল্লাহর ব্যাপক গযব আসে, মহামারী দেখা দেয়。
عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ كَعْبًا يَقُولُ لِابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا: إِذَا رَأَيْتُمُ السُّيُوفَ قَدْ أُعْرِيَتْ وَالدِّمَاءَ قَدْ أُهْرِقَتْ، فَاعْلَمُوا أَنَّ حُكْمَ اللَّهِ قَدْ ضُيِّعَ فِيهِمْ، فَانْتَقَمَ اللهُ بِبَعْضِهِمْ مِنْ بَعْضٍ، وَإِذَا رَأَيْتُمُ الْمَطَرَ قَدْ مُنِعَ، فَاعْلَمُوا أَنَّ النَّاسَ قَدْ مَنَعُوا الزَّكَاةَ، فَمَنَعَ اللَّهُ مَا عِنْدَهُ، وَإِذَا رَأَيْتُمُ الْوَبَاءَ قَدْ فَشَا فَاعْلَمُوا أَنَّ الزِّنَى قَدْ فَشَا.
ইকরিমা রাযি. বলেন, কাব রাযি. কে বলতে শুনেছি। তিনি হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. কে বলেন, যখন তরবারী কোষমুক্ত দেখবে এবং চারদিকে খুন হতে দেখবে, তখন বুঝবে, সমাজ আল্লাহর বিধান মানছে না। তাই আল্লাহ তাদের পরস্পরকে লাগিয়ে দিয়ে প্রতিশোধ গ্রহণ করছেন। আর যখন খরা দেখা দিবে, বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাবে তখন বুঝবে, মানুষ যাকাত দিচ্ছে না। আর যখন দেখবে, কোনো জাতিকে মহামারী আক্রান্ত করেছে, তখন বুঝবে, তাদের মাঝে যিনা ব্যাপক হয়ে গেছে।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ وَسَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ يَقُولُ إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي عَمَلُ قَوْمِ لُوطٍ
হযরত জাবের রাযি. বলেন, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মতের জন্য সবচেয়ে বেশি ভয় করি, কওমে লূতের আমলের।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ مَنْ وَجَدْتُمُوهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ فَاقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُولَ بِهِ
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, যাকে কওমে লূতের আমলরত পাবে, কৃত ও কর্তা উভয়কেই হত্যা করে দিবে।
টিকাঃ
৬৭. সূরা বাকারা: আয়াত-৬৮
৬৮. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৪৫৭; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-২০৯৩। হাদীসটি হাসান
৬৯. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৪৫৬; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪৪৬২; হাদীসটি সহীহ。
📄 চার কারণে আরশ কাঁপে
বলা হয়, চার কারণে আরশ কাঁপে। যথা- ১. অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা। ২. ফাসেকের প্রশংসা করা। ৩. মহিলা মহিলা সমকামিতা করা। ৪. পুরুষে পুরুষে সমকামিতা করা।
عَنْ صُهَيْبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا آمَنَ بِالْقُرْآنِ مَنْ اسْتَحَلَّ مَحَارِمَهُ
হযরত সুহাইব রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, যারা হারামকে হালাল মনে করে তারা কুরআনের প্রতি ঈমান আনেনি।
টিকাঃ
৭০. কিতাবুল মাজরূহীন: ১/৩৩৬; মাওযুয়াতে ইবনুল জাওযী: ৩/১১২; হাদীসটি জাল。
৭১. সুনানে তিরমিযী : হাদীস-২৯১৮; তাযকিরাহ, কুরতুবী : পৃষ্ঠা-১৪৮। ইমাম যাহাবী হাদীসটিকে মুনকার বলেছেন। তবে হাদীসটির অর্থ ও মর্ম সহীহ যেমনটি ইমাম কুরতুবী বলেছেন [মীযানুল এতেদাল: ৪/৫৬৮]।