📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 তিন ব্যক্তির দ্বিগুণ সওয়াব

📄 তিন ব্যক্তির দ্বিগুণ সওয়াব


عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : ثَلَاثَةٌ كُلُّهُمْ لَهُمْ أَجْرَانِ : رَجُلٌ كَانَتْ لَهُ جَارِيَةٌ فَأَدَّبَهَا، فَأَحْسَنَ تَأْدِيبَهَا، ثُمَّ أَعْتَقَهَا فَتَزَوَّجَهَا فَلَهُ أَجْرَانِ، وَرَجُلٌ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ يُؤْمِنُ بِنَبِيِّهِ فَأَدْرَكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَآمَنَ بِهِ، فَلَهُ أَجْرَانِ. وَرَجُلٌ لَهُ مَمْلُوكٌ أَدَّى حَقَّ اللَّهِ تَعَالَى، وَحَقَّ مَوَالِيهِ فَلَهُ أَجْرَانِ.
হযরত আবূ মূসা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, তিন ব্যক্তি দ্বিগুণ সওয়াব পাবে। ১. যে ব্যক্তি তার দাসীকে উত্তম শিক্ষা দিবে, তারপর আজাদ করে দিয়ে বিয়ে করবে, সে দ্বিগুন প্রতিদান পাবে। ২. যে আহলে কিতাব তার নিজের নবীর প্রতিও ঈমান রাখে অতঃপর নবী মুহাম্মাদ ﷺ এর সাক্ষাত পেয়ে তার প্রতিও ঈমান আনে, সেও দ্বিগুণ প্রতিদান পাবে। ৩. যে দাস আল্লাহর হক আদায় করে ও তার মনিবের হকও আদায় করে, সেও দ্বিগুণ প্রতিদান পাবে।

হযরত হাসান বসরী রহ. কে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোনো গোলামকে যদি তার মনিব কাজে পাঠায় এবং ইতোমধ্যে জুমআর ওয়াক্ত উপস্থিত হয় তাহলে সে প্রথমে কোন কাজটি করবে? তিনি বললেন, প্রথমে তার মনিবের কাজ শেষ করবে। ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, যদি নামাযের পর্যাপ্ত সময় থাকে তাহলে প্রথমে মনিবের কাজ শেষ করবে। কিন্তু যদি আশঙ্কা থাকে যে, মনিবের কাজ শেষ করতে গেলে তার নামায ছুটে যাবে। তাহলে সে আগে নামায আদায় করে নিবে। কারণ, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, লা ত্বোয়ায়াতা লিমাসলুক্বি ফী মাসিয়াতিল খা-লিক্বি অর্থাৎ, কোনো মানুষের আদেশ পালন করতে গিয়ে স্রষ্টার নাফরমানী করা যাবে না। মনিবের উচিত দাসদের প্রতি সদয় আচরণ করা এবং তাদের উপর সাধ্যাতীত কোনো কাজ চাপিয়ে না দেওয়া। কারণ, স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা তার বান্দার উপর সাধ্যাতীত কোনো কাজ চাপিয়ে দেননি। অনুরূপ মনিবের উচিত দাস-দাসীদের সাথে ভালো ব্যবহার করা। কারণ, ভালো ব্যবহার ভালো মুমিনের লক্ষণ。

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّهُ رَأَى كِسْرَةَ خُبْزٍ مُلْقَاةً، فَقَالَ لِغُلَامِهِ: ارْفَعْ وَأَمِطْ عَنْهَا الْأَذَى فَلَمَّا أَمْسَى وَأَرَادَ أَنْ يُفْطِرَ قَالَ لِغُلَامِهِ: مَا فَعَلْتَ بِالْكِسْرَةِ? قَالَ: أَكْلَتُهَا. قَالَ: اذْهَبْ فَأَنْتَ حُرٌّ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ : مَنْ وَجَدَ كِسْرَةً فَرَفَعَهَا وَأَكَلَهَا لَمْ تَصِلُ إِلَى جَوْفِهِ حَتَّى يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। একবার তিনি পথিমধ্যে একটি রুটির টুকরা পড়ে থাকতে দেখে তার গোলামকে বললেন, রুটির টুকরাটি উঠিয়ে পরিস্কার করে নাও। সন্ধ্যায় ইফতারের সময় হলে তিনি গোলামকে ডেকে বললেন, রুটির টুকরাটি কোথায়? সে বলল, খেয়ে ফেলেছি। তখন তিনি বললেন, যাও, তোমাকে আজাদ করে দিলাম। কারণ, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি পড়ে থাকা খাবার উঠিয়ে খেয়ে নেয়, তার পেটে সে খাবার পৌঁছার আগেই আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ যাকে ক্ষমা করে দেন আমি তাকে দাস বানিয়ে রাখতে পছন্দ করি না।

টিকাঃ
৪০. পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে。
৪১. সহীহ বুখারী: হাদীস-৯৭; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৫৪。
৪২. ত্ববারানী আওসাত: ৪/৩২১; সিয়ারু আলামীন নুবালা : ১৩/৩৯২। হাদীসটি সহীহ [মুনাবী, ইবনুল কায়্যিম, ইবনে হাজার, সুয়ূতী প্রমুখ; তাখরীজুল মিশকাত: ৩/৪৬৫]।
৪৩. তারিখে জুরজান : ১/৩৭১; ইবনে হাজার আসকালানী হাদীসটিকে জাল বলেছেন [আল-মাতালেবুল আলিয়া: ৩/৭৪]।

ফন্ট সাইজ
15px
17px