📄 দাস দাসীর সঙ্গে ভালো আচরণ
عَنْ أَبِي ذَرِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : إِخْوَانُكُمْ خَوَلُكُمْ جَعَلَهُمُ اللَّهُ تَحْتَ أَيْدِيكُمْ، فَمَنْ كَانَ أَخُوهُ تَحْتَ يَدِهِ، فَلْيُطْعِمْهُ مِمَّا يَأْكُلُ، وَيُلْبِسْهُ مِمَّا يَلْبَسُ، وَلَا تُكَلِّفُوهُمْ فَوْقَ طَاقَتِهِمْ، فِيمَا تَسْتَعْمِلُونَهُمْ فَإِنْ كَلَّفْتُمُوهُمْ فَأَعِينُوهُمْ.
হযরত আবু যর গেফারী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, তোমাদের কৃতদাসরা তোমাদের ভাই, আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের মালিক বানিয়েছেন। কোন ব্যক্তি যদি তার ভাইয়ের মালিকানা লাভ করে, তাহলে সে যেন নিজে যা খায় তাকে তাই খেতে দেয়, নিজে যা পরিধান করে তাকে তাই পরতে দেয়। তোমরা তোমাদের কৃতদাসদের উপর সাধ্যাতীত কোনো বোঝা চাপিয়ে দিয়ো না। যদি তাদের দিয়ে কোনো কঠিন কাজ করাও তাহলে নিজেরাও তাদের সহযোগিতা করবেন।
টিকাঃ
৩৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬০৫০; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৬৬১; সুনানে আবু দাউদ: হাদীস-৫১৬১
📄 গোলামের সঙ্গে অসদ্ব্যবহারকারীর পরিণতি
عَنْ أَبِي بَكْرِ الصِّدِّيقُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ سَيِّئُ الْمَلَكَةِ أَكْرِمُوهُمْ إِكْرَامَكُمْ أَوْلَادَكُمْ وَأَطْعِمُوهُمْ مِمَّا تَأْكُلُونَ. قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ: مَا يَنْفَعُنَا مِنَ الدُّنْيَا? قَالَ: فَرَسٌ تَرْبِطُهُ تُقَاتِلُ عَلَيْهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَمَمْلُوكٌ يَكْفِيكَ، وَإِذَا صَلَّى فَهُوَ أَخُوكَ.
হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, বদচরিত্র মনিব জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তোমরা নওকর-চাকরদেরকে নিজের সন্তানের মতো যত্ন কর, নিজেরা যা খাও তাদের তাই খেতে দাও। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! দুনিয়ার কী জিনিস আমাদের উপকারে আসবে? তিনি ইরশাদ করলেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের উদ্দেশ্যে পালিত ঘোড়া এবং একটি গোলামই যথেষ্ট। কৃতদাস যদি নামাযী হয় তাহলে সে তোমার ভাই।
হাদীস শরীফে এসেছে জনৈক সাহাবী রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করলেন- كَمْ تَعْفُو عَنِ الْخَادِمِ ? قَالَ : كُلَّ يَوْمٍ سَبْعِينَ مَرَّةً. দিনে কতবার গোলামকে ক্ষমা করব? তিনি ইরশাদ করলেন, দিনে সত্তর বার দাসকে ক্ষমা করবে।
عَنْ قَتَادَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: كَانَ مِنْ آخِرِ كَلَامِ النَّبِيِّ ﷺ الصَّلَاةَ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ. يَعْنِي عَلَيْكُمْ بِمُحَافَظَةِ الصَّلَوَاتِ، وَتَعَاهُدِ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ.
হযরত কাতাদা রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃত্যুশয্যায় রাসূল ﷺ-এর শেষ উপদেশ ছিল নামায এবং তোমরা কৃতদাসদের প্রতি যত্নবান হও।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: دَخَلَتِ امْرَأَةُ النَّارَ فِي هِرَّةٍ لَهَا رَبَطَتْهَا فِي الْبَيْتِ لَمْ تُطْعِمْهَا، وَلَمْ تَسْقِهَا، وَلَمْ تُرْسِلْهَا فَتَأْكُلَ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ حَتَّى مَاتَتْ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, এক নারী এক বিড়ালের কারণে জাহান্নামে গেছে। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল। তাকে খানা-পানি দেয়নি এবং ছেড়েও দেয়নি যে, সে নিজে শিকার করে খাবে। ফলে একসময় বিড়ালটি মারা গেল。
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَحِمَهُ اللهُ، قَالَ : مَرَّ النَّبِيُّ ﷺ بِبَعِيرٍ مَعْقُولٍ صَدْرَ النَّهَارِ، فَقَدْ قَضَى حَاجَتَهُ، ثُمَّ رَجَعَ وَالْبَعِيرُ عَلَى حَالِهِ فَقَالَ لِصَاحِبِهِ : أَمَا عَلَفْتَ الْبَعِيرَ هُذَا الْيَوْمَ? قَالَ: لَا. قَالَ : أَمَا إِنَّهُ لَيُحَاجُّكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ. يَعْنِي يُخَاصِمُكَ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত। একদা রাসূল দিনের শুরুভাগে একটি উটের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন। উটটি বাঁধা ছিল। ফেরার পথে তিনি উটটিকে আপন অবস্থায় দেখতে পেয়ে উটের মালিককে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, আজ উটকে খাবার দিয়েছো? সে বলল, না। রাসূল ইরশাদ করলেন, কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর নিকট তোমার বিরুদ্ধে এর অভিযোগ করবে。
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ، قَالَ فِي خُطْبَتِهِ: أَيُّهَا النَّاسُ اللَّهَ اللهَ فِيمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ أَطْعِمُوهُمْ مِمَّا تَأْكُلُونَ، وَأَلْبِسُوهُمْ مِمَّا تَلْبَسُونَ، وَلَا تُكَلِّفُوهُمْ مَا لَا يُطِيقُونَ فَإِنَّهُمْ لَحْمٌ وَدَمٌ، وَخَلْقٌ أَمْثَالُكُمْ، أَلَا مَنْ ظَلَمَهُمْ فَأَنَا خَصْمُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَاللَّهُ حَاكِمُهُمْ.
হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল একদা খুতবা দানকালে ইরশাদ করলেন, হে লোকসকল! তোমরা কৃতদাসদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। নিজেরা যা খাও তাদেরকে তাই খেতে দাও, নিজেরা যা পরিধান কর তাদেরকে তাই পরতে দাও এবং তাদের উপর সাধ্যাতীত কোনো কাজ চাপিয়ে দিয়ো না। কারণ, তারা তোমাদের মতই রক্ত মাংসের মানুষ। শুনে রাখ! যে ব্যক্তি কৃতদাসের উপর জুলুম করবে কিয়ামতের দিন আমি তার বিরুদ্ধে বাদী হবো। আর আল্লাহ হাকিম হবেন।
টিকাঃ
৩৫. সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৩৬৯১; সুনানে তিরমিযী হাদীস-১৯৪৬। হাদীসটির সনদ জয়ীফ [শুয়াইব আরনাউত]。
৩৬. সুনানে আবূ দাউদ: হাদীস-৫১৬৪; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৯৪৯। হাদীসটি সহীহ。
৩৭. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৫১৫৬; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-২৬৯৮। হাদীসটি সহীহ [বুসিরী ও শুয়াইব আরনাউত প্রমুখ]
৩৮. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩৩১৮; সহীহ মুসলিম ২৬১৯。
৩৯. হাদীসটি ত্ববারানী উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন [মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৮/১৯৬]।
📄 তিন ব্যক্তির দ্বিগুণ সওয়াব
عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : ثَلَاثَةٌ كُلُّهُمْ لَهُمْ أَجْرَانِ : رَجُلٌ كَانَتْ لَهُ جَارِيَةٌ فَأَدَّبَهَا، فَأَحْسَنَ تَأْدِيبَهَا، ثُمَّ أَعْتَقَهَا فَتَزَوَّجَهَا فَلَهُ أَجْرَانِ، وَرَجُلٌ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ يُؤْمِنُ بِنَبِيِّهِ فَأَدْرَكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَآمَنَ بِهِ، فَلَهُ أَجْرَانِ. وَرَجُلٌ لَهُ مَمْلُوكٌ أَدَّى حَقَّ اللَّهِ تَعَالَى، وَحَقَّ مَوَالِيهِ فَلَهُ أَجْرَانِ.
হযরত আবূ মূসা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, তিন ব্যক্তি দ্বিগুণ সওয়াব পাবে। ১. যে ব্যক্তি তার দাসীকে উত্তম শিক্ষা দিবে, তারপর আজাদ করে দিয়ে বিয়ে করবে, সে দ্বিগুন প্রতিদান পাবে। ২. যে আহলে কিতাব তার নিজের নবীর প্রতিও ঈমান রাখে অতঃপর নবী মুহাম্মাদ ﷺ এর সাক্ষাত পেয়ে তার প্রতিও ঈমান আনে, সেও দ্বিগুণ প্রতিদান পাবে। ৩. যে দাস আল্লাহর হক আদায় করে ও তার মনিবের হকও আদায় করে, সেও দ্বিগুণ প্রতিদান পাবে।
হযরত হাসান বসরী রহ. কে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোনো গোলামকে যদি তার মনিব কাজে পাঠায় এবং ইতোমধ্যে জুমআর ওয়াক্ত উপস্থিত হয় তাহলে সে প্রথমে কোন কাজটি করবে? তিনি বললেন, প্রথমে তার মনিবের কাজ শেষ করবে। ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, যদি নামাযের পর্যাপ্ত সময় থাকে তাহলে প্রথমে মনিবের কাজ শেষ করবে। কিন্তু যদি আশঙ্কা থাকে যে, মনিবের কাজ শেষ করতে গেলে তার নামায ছুটে যাবে। তাহলে সে আগে নামায আদায় করে নিবে। কারণ, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, লা ত্বোয়ায়াতা লিমাসলুক্বি ফী মাসিয়াতিল খা-লিক্বি অর্থাৎ, কোনো মানুষের আদেশ পালন করতে গিয়ে স্রষ্টার নাফরমানী করা যাবে না। মনিবের উচিত দাসদের প্রতি সদয় আচরণ করা এবং তাদের উপর সাধ্যাতীত কোনো কাজ চাপিয়ে না দেওয়া। কারণ, স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা তার বান্দার উপর সাধ্যাতীত কোনো কাজ চাপিয়ে দেননি। অনুরূপ মনিবের উচিত দাস-দাসীদের সাথে ভালো ব্যবহার করা। কারণ, ভালো ব্যবহার ভালো মুমিনের লক্ষণ。
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّهُ رَأَى كِسْرَةَ خُبْزٍ مُلْقَاةً، فَقَالَ لِغُلَامِهِ: ارْفَعْ وَأَمِطْ عَنْهَا الْأَذَى فَلَمَّا أَمْسَى وَأَرَادَ أَنْ يُفْطِرَ قَالَ لِغُلَامِهِ: مَا فَعَلْتَ بِالْكِسْرَةِ? قَالَ: أَكْلَتُهَا. قَالَ: اذْهَبْ فَأَنْتَ حُرٌّ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ : مَنْ وَجَدَ كِسْرَةً فَرَفَعَهَا وَأَكَلَهَا لَمْ تَصِلُ إِلَى جَوْفِهِ حَتَّى يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। একবার তিনি পথিমধ্যে একটি রুটির টুকরা পড়ে থাকতে দেখে তার গোলামকে বললেন, রুটির টুকরাটি উঠিয়ে পরিস্কার করে নাও। সন্ধ্যায় ইফতারের সময় হলে তিনি গোলামকে ডেকে বললেন, রুটির টুকরাটি কোথায়? সে বলল, খেয়ে ফেলেছি। তখন তিনি বললেন, যাও, তোমাকে আজাদ করে দিলাম। কারণ, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি পড়ে থাকা খাবার উঠিয়ে খেয়ে নেয়, তার পেটে সে খাবার পৌঁছার আগেই আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ যাকে ক্ষমা করে দেন আমি তাকে দাস বানিয়ে রাখতে পছন্দ করি না।
টিকাঃ
৪০. পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে。
৪১. সহীহ বুখারী: হাদীস-৯৭; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৫৪。
৪২. ত্ববারানী আওসাত: ৪/৩২১; সিয়ারু আলামীন নুবালা : ১৩/৩৯২। হাদীসটি সহীহ [মুনাবী, ইবনুল কায়্যিম, ইবনে হাজার, সুয়ূতী প্রমুখ; তাখরীজুল মিশকাত: ৩/৪৬৫]।
৪৩. তারিখে জুরজান : ১/৩৭১; ইবনে হাজার আসকালানী হাদীসটিকে জাল বলেছেন [আল-মাতালেবুল আলিয়া: ৩/৭৪]।