📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দুনিয়ার দৃষ্টান্ত

📄 দুনিয়ার দৃষ্টান্ত


عَنْ أَبِي كَبْشَةَ الْأَنْمَارِيَّ، قَالَ : ضَرَبَ لَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثَلَ الدُّنْيَا كَمَثَلِ أَرْبَعَةِ رِجَالٍ، رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ عِلْمًا، وَآتَاهُ مَالًا، فَهُوَ يَعْمَلُ بِعِلْمِهِ فِي مَالِهِ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ عِلْمًا وَلَمْ يُؤْتِهِ مَالًا فَيَقُولُ : لَوْ أَنَّ اللهَ تَعَالَى آتَانِي مِثْلَ مَا آتَى فُلАНًا لَفَعَلْتُ فِيهِ مِثْلَ مَا يَفْعَلُ، فَهُمَا فِي الْأَجْرِ سَوَاءٌ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ مَالًا وَلَمْ يُؤْتِهِ عِلْمًا فَهُوَ يَمْنَعُهُ مِنْ حَقِّهِ، وَيُنْفِقُهُ فِي الْبَاطِلِ، وَرَجُلٌ لَمْ يُؤْتِهِ مَالًا وَلَمْ يُؤْتِهِ عِلْمًا فَيَقُولُ: لَوْ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى آتَانِي مِثْلَ مَا آتَى فُلАНًا، لَفَعَلْتُ فِيهِ مِثْلَ مَا يَفْعَلُ، فَهُمَا فِي الْوِزْرِ سَوَاءٌ.
হযরত আবূ কাবশা আনসারী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, দুনিয়ার উদাহরণ চার ব্যক্তির ন্যায়। ১. আল্লাহ যাকে সম্পদ এবং ইলম উভয়ই দান করেছেন এবং সে জ্ঞান ইলম অনুসারে সম্পদ ব্যয় করে। ২. আল্লাহ যাকে ইলম দিয়েছেন কিন্তু সম্পদ দেননি। সে মনে মনে বলে, আল্লাহ যদি আমাকে অমুকের মত সম্পদ দান করতেন তাহলে আমি তার মত কাজ করতাম। তারা উভয় সমান প্রতিদান পাবে। ৩. আল্লাহ যাকে সম্পদ দিয়েছেন কিন্তু ইলম দেননি। তাই সে তার হক আদায় করে না এবং অসৎ পথে তার সম্পদ ব্যয় করে। ৪. আল্লাহ যাকে সম্পদ দেননি এবং ইলমও দেননি। সে মনে মনে ভাবে, আল্লাহ যদি আমাকে অমুকের মত সম্পদ দান করতেন তাহলে আমিও তার মত কাজ করতাম। তারা উভয়ে গুনাহের ক্ষেত্রে সমান।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাত ও তার অধিবাসীগণ

📄 জান্নাত ও তার অধিবাসীগণ


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَغُرَفًا يُرَى ظَاهِرُهَا مِنْ بَاطِنِهَا وَبَاطِنُهَا مِنْ ظَاهِرِهَا. قِيلَ: وَمَنْ سُكَّانُهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ? قَالَ: الَّذِينَ يُطْعِمُونَ الطَّعَامَ، وَيُطِيبُونَ الْكَلَامَ، وَيُدِيمُونَ الصِّيَامَ، وَيُفْشُونَ السَّلَامَ، وَيُصَلُّونَ بِاللَّيْلِ، وَالنَّاسُ نِيَامٌ. قَالُوا: يَا রَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هَؤُلَاءِ أَهْلُ ذَلِكَ، وَمَنْ يُطِيقُ ذَلِكَ? قَالَ : فَمَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ للهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَ اللَّهُ أَكْبَرُ، فَقَدْ أَطَابَ الْكَلَامَ، وَمَنْ أَطْعَمَ أَهْلَهُ، فَقَدْ أَطْعَمَ الطَّعَامَ، وَمَنْ صَامَ رَمَضَانَ فَقَدْ أَدَامَ الصَّيَامَ، وَمَنْ لَقِيَ أَخَاهُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَقَدْ أَفْشَى السَّلَامَ، وَمَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ الْآخِرَةَ وَالْفَجْرَ، فَقَدْ صَلَّى بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ. يَعْنِي الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى وَالْمَجُوسَ.
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, জান্নাতে এমন কিছু ঘর রয়েছে বাহির থেকে যার ভেতর দেখা যায় এবং ভিতর থেকেও বাহির দেখা যায়। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন হে আল্লাহর রাসূল! সেখানে কারা থাকবে? রাসূল ইরশাদ করলেন, যারা অন্ন দান করে, ভালো কথা বলে, সারা বছর রোযা রাখে, সালামের প্রচার-প্রসার ঘটায় এবং সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামায পড়ে। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, এই আমলকারীদের এ প্রতিদান সত্য। তবে এটা কি কারো পক্ষে সম্ভব? রাসূল ইরশাদ করলেন- সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লা-হি ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লাহু আকবার। যে ব্যক্তি এই দোয়া পাঠ করবে, সে ভালো কথা বলা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হবে, যে তার পরিবারের ব্যয়ভার বহন করবে, সে অন্নদানকারী বলে বিবেচিত হবে, যে তার মুসলমান ভাইয়ের সাথে সাক্ষাত হলে তাকে সালাম দিবে, সে সালামের বিস্তারকারী হবে, যে ব্যক্তি ইশা আর ফজরের নামায আদায় করবে সে সারা রাত নামায আদায়কারী বলে গণ্য হবে। আল্লাহ তা'আলা ভালো জানেন।

টিকাঃ
৩১. সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২২৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩২৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন。
৩২. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫২৭, ২৪৮৫; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৩৩৮。

ফন্ট সাইজ
15px
17px