📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আসমানের ফেরেশতাদের দুআ

📄 আসমানের ফেরেশতাদের দুআ


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ فِي السَّمَاءِ مَلَكَيْنِ مَا لَهُمَا عَمَلٌ ، إِلَّا يَقُولُ أَحَدُهُمَا اللَّهُمَّ أَعْطِ لِمُنْفِقٍ خَلَفًا، وَيَقُولُ الْآخَرُ : اللَّهُمَّ عَجِّلْ لِمُمْسِكٍ تَلَفًا.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, আসমানে দুই জন ফেরেশতা আছে। তাদের কাজ হলো, একজন সারাক্ষণ এই দোয়া করতে থাকেন যে, হে আল্লাহ! দানকারীকে তার প্রতিদান দান করুন। অন্যজন বলতে থাকে, হে আল্লাহ! কৃপণের সম্পদ ধ্বংস করে দিন।

টিকাঃ
২৯. সহীহ বুখারী: হাদীস-১৪৪২; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১০১০।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পরিবারের জন্য ব্যয় করার ফযীলত

📄 পরিবারের জন্য ব্যয় করার ফযীলত


عَنْ مَكْحُول رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ طَلَبَ الدُّنْيَا حَلَالًا اسْتِعْفাফًا عَنِ الْمَسْأَلَةِ، وَسَعْيًا عَلَى عِيَالِهِ، وَتَعَطَّفًا عَلَى جَارِهِ، جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَوَجْهُهُ كَالْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، وَمَنْ طَلَبَ الدُّنْيَا حَلَالًا، مُكَاثِرًا، مُفَاخِرًا، مُرَائِيًا لَقِيَ اللهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ.
হযরত মাকহুল রহ. থেকে বর্ণিত। নবী করীম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মানুষের কাছে হাত পাতা থেকে বাঁচার জন্য, পরিবারের ব্যয়ভার বহন করার জন্য এবং প্রতিবেশীকে সহযোগিতা করার জন্য হালাল উপায়ে সম্পদ উপার্জন করে, কিয়ামতের দিন তার চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে। আর যে ব্যক্তি হালাল উপায়ে নিছক দুনিয়া অর্জন বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে উপার্জন করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার উপর ক্রুদ্ধ হয়ে থাকবেন।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قُلْتُ: يَا রَسُولَ اللَّهِ رَغِيفٌ أَتَصَدَّقُ بِهِ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمْ مِائَةُ رَكْعَةٍ تَطَوُّعًا? قَالَ : رَغِيفٌ تَتَصَدَّقُ بِهِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ مِائَتَيْ رَكْعَةٍ تَطَوُّعًا. قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ قَضَاءُ حَاجَةِ الْمُسْلِمِ أَحَبُّ لِي مِنْ أَلْفِ رَكْعَةٍ تَطَوُّعًا. قَالَ: قُلْتُ : تَرْكُ لُقْمَةٍ مِنَ الْحَرَامِ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمْ أَلْفُ رَكْعَةٍ تَطَوُّعًا? قَالَ : تَرْكُ لُقْمَةٍ مِنْ حَرَامِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَلْفَيْ رَكْعَةٍ تَطَوُّعًا . قَالَ : قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ: تَرْكُ الْغِيبَةِ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمْ أَلْفُ رَكْعَةٍ تَطَوُّعًا? قَالَ: تَرْكُ الْغِيبَةِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ عَشْرَةِ آلافٍ رَكْعَةٍ تَطَوُّعًا. قَالَ : قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ: قَضَاءُ حَاجَةِ الْأَرْمَلَةِ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمْ عَشْرَةُ آلافٍ رَকْعَةٍ تَطَوُّعًا? قَالَ: قَضَاءُ حَاجَةِ الْأَرْمَلَةِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ ثَلَاثِينَ أَلْفِ رَكْعَةٍ تَطَوُّعًا. قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ الْجُلُوسُ مَعَ الْعِيَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمِ الْجُلُوسُ فِي الْمَسْجِدِ? قَالَ: الْجُلُوسُ سَاعَةً عِنْدَ الْعِيَالِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنَ الاعْتِكَافِ فِي مَسْجِدِي هَذَا قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ: التَّفَقَةُ عَلَى الْعِيَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمِ النَّفَقَةُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ? قَالَ: دِرْهَمٌ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ عَلَى الْعِيَالِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَلْفِ دِينَارٍ فِي سَبِيلِ اللهِ. قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ : بِرُّ الْوَالِدَيْنِ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمْ عِبَادَةُ أَلْفِ سَنَةٍ? قَالَ: يَا أَنَسُ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ، إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا، فَبِرُّ الْوَالِدَيْنِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ عِبَادَةِ أَلْفَيْ أَلْفِ سَنَةٍ.
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা আমি রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করলাম, এক টুকরো রুটি দান করা আপনার নিকট উত্তম? নাকি একশত রাকাআত নফল নামায পড়া উত্তম? রাসূল ইরশাদ করলেন, এক টুকরো রুটি দান করা আমার নিকট দুই শত রাকাআত নফল নামায পড়ার চেয়েও উত্তম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোনো মুসলমানের প্রয়োজন পূরণ করা আপনার নিকট উত্তম নাকি একশত রাকাআত নফল নামায পড়া উত্তম? তিনি ইরশাদ করলেন, কোনো মুসলমানের প্রয়োজন পূরণ করা আমার নিকট এক হাজার রাকাআত নফল নামাযের চেয়েও উত্তম। আমি বললাম, এক লোকমা হারাম বর্জন করা আপনার নিকট উত্তম নাকি এক হাজার রাকাআত নফল নামায পড়া উত্তম? তিনি ইরশাদ করলেন, এক লোকমা হারাম থেকে বেঁচে থাকা আমার নিকট দুই হাজার রাকাআত নফল নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। তিনি বললেন, হারাম বর্জন করা আমার নিকট দু'হাজার রাকাআত নফল নামায থেকেও উত্তম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! গীবত থেকে বেঁচে থাকা আপনার নিকট অধিক প্রিয় নাকি এক হাজার রাকাআত নফল নামায পড়া অধিক প্রিয়? তিনি ইরশাদ করলেন, গীবত থেকে বেঁচে থাকা আমার নিকট দশ হাজার রাকাআত নফল নামায পড়া থেকেও অধিক প্রিয়। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সহযোগিতা করা আপানার কাছে অধিক প্রিয় নাকি দশ হাজার রাকাআত নফল নামায পড়া অধিক প্রিয়? তিনি ইরশাদ করলেন, কোনো অসহায় বা বিধবাকে সহযোগিতা করা আমার নিকট ত্রিশ হাজার রাকাআত নফল নামায পড়ার চেয়েও অধিক প্রিয়। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! পরিবারের সাথে বসে সময় কাটানো আপনার নিকট প্রিয় নাকি মসজিদে বসে সময় কাটানো প্রিয়? তিনি ইরশাদ করলেন, পরিবারের সাথে এক মুহূর্ত কাটানো আমার নিকট আমার এই মসজিদে এতেকাফ করার চেয়েও অধিক প্রিয়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! পরিবারের জন্য খরচ করা আপনার নিকট প্রিয় নাকি আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা অধিক প্রিয়? তিনি ইরশাদ করলেন- পরিবারের জন্য এক দিরহাম ব্যয় করা আমার নিকট আল্লাহর রাস্তায় এক হাজার দীনার ব্যয় করার চেয়েও অধিক প্রিয়। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! বাবা মার হক আদায় করা আপনার নিকট প্রিয়? নাকি এক হাজার বছর ইবাদত করা অধিক প্রিয়? রাসূল বললেন, আনাস! সত্য সমাগত, মিথ্যা অপসৃত। শোন, পিতা-মাতার হক আদায় করা আমার নিকট বিশ হাজার বছর ইবাদত করার চেয়েও অধিক প্রিয়।

টিকাঃ
৩০. হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৩/১১০। আবু নুয়াইম আসবাহানী হাদীসটিকে গরীব বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দুনিয়ার দৃষ্টান্ত

📄 দুনিয়ার দৃষ্টান্ত


عَنْ أَبِي كَبْشَةَ الْأَنْمَارِيَّ، قَالَ : ضَرَبَ لَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثَلَ الدُّنْيَا كَمَثَلِ أَرْبَعَةِ رِجَالٍ، رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ عِلْمًا، وَآتَاهُ مَالًا، فَهُوَ يَعْمَلُ بِعِلْمِهِ فِي مَالِهِ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ عِلْمًا وَلَمْ يُؤْتِهِ مَالًا فَيَقُولُ : لَوْ أَنَّ اللهَ تَعَالَى آتَانِي مِثْلَ مَا آتَى فُلАНًا لَفَعَلْتُ فِيهِ مِثْلَ مَا يَفْعَلُ، فَهُمَا فِي الْأَجْرِ سَوَاءٌ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ مَالًا وَلَمْ يُؤْتِهِ عِلْمًا فَهُوَ يَمْنَعُهُ مِنْ حَقِّهِ، وَيُنْفِقُهُ فِي الْبَاطِلِ، وَرَجُلٌ لَمْ يُؤْتِهِ مَالًا وَلَمْ يُؤْتِهِ عِلْمًا فَيَقُولُ: لَوْ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى آتَانِي مِثْلَ مَا آتَى فُلАНًا، لَفَعَلْتُ فِيهِ مِثْلَ مَا يَفْعَلُ، فَهُمَا فِي الْوِزْرِ سَوَاءٌ.
হযরত আবূ কাবশা আনসারী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, দুনিয়ার উদাহরণ চার ব্যক্তির ন্যায়। ১. আল্লাহ যাকে সম্পদ এবং ইলম উভয়ই দান করেছেন এবং সে জ্ঞান ইলম অনুসারে সম্পদ ব্যয় করে। ২. আল্লাহ যাকে ইলম দিয়েছেন কিন্তু সম্পদ দেননি। সে মনে মনে বলে, আল্লাহ যদি আমাকে অমুকের মত সম্পদ দান করতেন তাহলে আমি তার মত কাজ করতাম। তারা উভয় সমান প্রতিদান পাবে। ৩. আল্লাহ যাকে সম্পদ দিয়েছেন কিন্তু ইলম দেননি। তাই সে তার হক আদায় করে না এবং অসৎ পথে তার সম্পদ ব্যয় করে। ৪. আল্লাহ যাকে সম্পদ দেননি এবং ইলমও দেননি। সে মনে মনে ভাবে, আল্লাহ যদি আমাকে অমুকের মত সম্পদ দান করতেন তাহলে আমিও তার মত কাজ করতাম। তারা উভয়ে গুনাহের ক্ষেত্রে সমান।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাত ও তার অধিবাসীগণ

📄 জান্নাত ও তার অধিবাসীগণ


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَغُرَفًا يُرَى ظَاهِرُهَا مِنْ بَاطِنِهَا وَبَاطِنُهَا مِنْ ظَاهِرِهَا. قِيلَ: وَمَنْ سُكَّانُهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ? قَالَ: الَّذِينَ يُطْعِمُونَ الطَّعَامَ، وَيُطِيبُونَ الْكَلَامَ، وَيُدِيمُونَ الصِّيَامَ، وَيُفْشُونَ السَّلَامَ، وَيُصَلُّونَ بِاللَّيْلِ، وَالنَّاسُ نِيَامٌ. قَالُوا: يَا রَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هَؤُلَاءِ أَهْلُ ذَلِكَ، وَمَنْ يُطِيقُ ذَلِكَ? قَالَ : فَمَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ للهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَ اللَّهُ أَكْبَرُ، فَقَدْ أَطَابَ الْكَلَامَ، وَمَنْ أَطْعَمَ أَهْلَهُ، فَقَدْ أَطْعَمَ الطَّعَامَ، وَمَنْ صَامَ رَمَضَانَ فَقَدْ أَدَامَ الصَّيَامَ، وَمَنْ لَقِيَ أَخَاهُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَقَدْ أَفْشَى السَّلَامَ، وَمَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ الْآخِرَةَ وَالْفَجْرَ، فَقَدْ صَلَّى بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ. يَعْنِي الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى وَالْمَجُوسَ.
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, জান্নাতে এমন কিছু ঘর রয়েছে বাহির থেকে যার ভেতর দেখা যায় এবং ভিতর থেকেও বাহির দেখা যায়। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন হে আল্লাহর রাসূল! সেখানে কারা থাকবে? রাসূল ইরশাদ করলেন, যারা অন্ন দান করে, ভালো কথা বলে, সারা বছর রোযা রাখে, সালামের প্রচার-প্রসার ঘটায় এবং সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামায পড়ে। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, এই আমলকারীদের এ প্রতিদান সত্য। তবে এটা কি কারো পক্ষে সম্ভব? রাসূল ইরশাদ করলেন- সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লা-হি ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লাহু আকবার। যে ব্যক্তি এই দোয়া পাঠ করবে, সে ভালো কথা বলা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হবে, যে তার পরিবারের ব্যয়ভার বহন করবে, সে অন্নদানকারী বলে বিবেচিত হবে, যে তার মুসলমান ভাইয়ের সাথে সাক্ষাত হলে তাকে সালাম দিবে, সে সালামের বিস্তারকারী হবে, যে ব্যক্তি ইশা আর ফজরের নামায আদায় করবে সে সারা রাত নামায আদায়কারী বলে গণ্য হবে। আল্লাহ তা'আলা ভালো জানেন।

টিকাঃ
৩১. সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪২২৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩২৫। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন。
৩২. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৫২৭, ২৪৮৫; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৩৩৮。

ফন্ট সাইজ
15px
17px