📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 তিন ধরনের ঋণের যিম্মাদারী আল্লাহর

📄 তিন ধরনের ঋণের যিম্মাদারী আল্লাহর


ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, আমার পিতার কাছ থেকে শুনেছি। একদা সাবেত বুনানী হযরত আনাস রাযি.-এর দরবারে ছিলেন। আনাস রাযি. বললেন, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা'আলা তিন ব্যক্তির ঋণের দায়িত্ব নিয়েছেন। যথা-
১. যে ব্যক্তি পাপকর্ম থেকে বেঁচে থাকার জন্য বিয়ে করতে ঋণ নিয়েছে। যদি উক্ত ঋণ পরিশোধ করার পূর্বে তার মৃত্যু হয়ে যায় তাহলে আল্লাহ তা'আলা নিজ দায়িত্বে কিয়ামতের দিন সে ঋণ পরিশোধ করে দিবেন।
২. যে ব্যক্তি মুসলমানদের জিহাদের সহযোগিতা করার জন্য ঋণ নিয়েছে।
৩. যে কোনো মৃত ব্যক্তির কাফন দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য ঋণ নিয়েছে। আল্লাহ তা'আলা কিয়ামাতের দিন তার পাওনাদারদের সন্তুষ্ট করে দিবেন।
সাবেত আল-বুনানী রহ. হযরত হাসান বসরী রহ.-এর নিকট গমন করলেন এবং আনাস রাযি.-এর মুখে শোনা হাদীসটি তাকে শুনালেন। তখন হাসান বসরী রহ. বললেন, আনাস রাযি. বৃদ্ধ হয়ে গেছেন, তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে গেছে তাই সে এর চেয়ে উত্তম বিষয়টির কথা ভুলে গেছেন। আল্লাহ তা'আলা ওই তিন ব্যক্তির সাথে আরেক ব্যক্তির ঋণের দায়িত্ব নিয়েছেন। তা হলো, যে ব্যক্তি পরিবারের খরচ বহন করতে ঋণ নিয়েছে এবং পরিশোধ করার চেষ্টাও করেছে। কিন্তু পরিশোধ করার পূর্বেই ইন্তেকাল করেছে। তার ঋণের দায়িত্বও আল্লাহর। কিয়ামতের দিন পাওনাদাররা তার সাথে কোনো বিবাদ করতে পারবে না।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আসমানের ফেরেশতাদের দুআ

📄 আসমানের ফেরেশতাদের দুআ


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ فِي السَّمَاءِ مَلَكَيْنِ مَا لَهُمَا عَمَلٌ ، إِلَّا يَقُولُ أَحَدُهُمَا اللَّهُمَّ أَعْطِ لِمُنْفِقٍ خَلَفًا، وَيَقُولُ الْآخَرُ : اللَّهُمَّ عَجِّلْ لِمُمْسِكٍ تَلَفًا.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, আসমানে দুই জন ফেরেশতা আছে। তাদের কাজ হলো, একজন সারাক্ষণ এই দোয়া করতে থাকেন যে, হে আল্লাহ! দানকারীকে তার প্রতিদান দান করুন। অন্যজন বলতে থাকে, হে আল্লাহ! কৃপণের সম্পদ ধ্বংস করে দিন।

টিকাঃ
২৯. সহীহ বুখারী: হাদীস-১৪৪২; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১০১০।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পরিবারের জন্য ব্যয় করার ফযীলত

📄 পরিবারের জন্য ব্যয় করার ফযীলত


عَنْ مَكْحُول رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ طَلَبَ الدُّنْيَا حَلَالًا اسْتِعْفাফًا عَنِ الْمَسْأَلَةِ، وَسَعْيًا عَلَى عِيَالِهِ، وَتَعَطَّفًا عَلَى جَارِهِ، جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَوَجْهُهُ كَالْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ، وَمَنْ طَلَبَ الدُّنْيَا حَلَالًا، مُكَاثِرًا، مُفَاخِرًا، مُرَائِيًا لَقِيَ اللهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ.
হযরত মাকহুল রহ. থেকে বর্ণিত। নবী করীম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মানুষের কাছে হাত পাতা থেকে বাঁচার জন্য, পরিবারের ব্যয়ভার বহন করার জন্য এবং প্রতিবেশীকে সহযোগিতা করার জন্য হালাল উপায়ে সম্পদ উপার্জন করে, কিয়ামতের দিন তার চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে। আর যে ব্যক্তি হালাল উপায়ে নিছক দুনিয়া অর্জন বা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে উপার্জন করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার উপর ক্রুদ্ধ হয়ে থাকবেন।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قُلْتُ: يَا রَسُولَ اللَّهِ رَغِيفٌ أَتَصَدَّقُ بِهِ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمْ مِائَةُ رَكْعَةٍ تَطَوُّعًا? قَالَ : رَغِيفٌ تَتَصَدَّقُ بِهِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ مِائَتَيْ رَكْعَةٍ تَطَوُّعًا. قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ قَضَاءُ حَاجَةِ الْمُسْلِمِ أَحَبُّ لِي مِنْ أَلْفِ رَكْعَةٍ تَطَوُّعًا. قَالَ: قُلْتُ : تَرْكُ لُقْمَةٍ مِنَ الْحَرَامِ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمْ أَلْفُ رَكْعَةٍ تَطَوُّعًا? قَالَ : تَرْكُ لُقْمَةٍ مِنْ حَرَامِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَلْفَيْ رَكْعَةٍ تَطَوُّعًا . قَالَ : قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ: تَرْكُ الْغِيبَةِ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمْ أَلْفُ رَكْعَةٍ تَطَوُّعًا? قَالَ: تَرْكُ الْغِيبَةِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ عَشْرَةِ آلافٍ رَكْعَةٍ تَطَوُّعًا. قَالَ : قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ: قَضَاءُ حَاجَةِ الْأَرْمَلَةِ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمْ عَشْرَةُ آلافٍ رَকْعَةٍ تَطَوُّعًا? قَالَ: قَضَاءُ حَاجَةِ الْأَرْمَلَةِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ ثَلَاثِينَ أَلْفِ رَكْعَةٍ تَطَوُّعًا. قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ الْجُلُوسُ مَعَ الْعِيَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمِ الْجُلُوسُ فِي الْمَسْجِدِ? قَالَ: الْجُلُوسُ سَاعَةً عِنْدَ الْعِيَالِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنَ الاعْتِكَافِ فِي مَسْجِدِي هَذَا قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ: التَّفَقَةُ عَلَى الْعِيَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمِ النَّفَقَةُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ? قَالَ: دِرْهَمٌ يُنْفِقُهُ الرَّجُلُ عَلَى الْعِيَالِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَلْفِ دِينَارٍ فِي سَبِيلِ اللهِ. قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ : بِرُّ الْوَالِدَيْنِ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمْ عِبَادَةُ أَلْفِ سَنَةٍ? قَالَ: يَا أَنَسُ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ، إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا، فَبِرُّ الْوَالِدَيْنِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ عِبَادَةِ أَلْفَيْ أَلْفِ سَنَةٍ.
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা আমি রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করলাম, এক টুকরো রুটি দান করা আপনার নিকট উত্তম? নাকি একশত রাকাআত নফল নামায পড়া উত্তম? রাসূল ইরশাদ করলেন, এক টুকরো রুটি দান করা আমার নিকট দুই শত রাকাআত নফল নামায পড়ার চেয়েও উত্তম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোনো মুসলমানের প্রয়োজন পূরণ করা আপনার নিকট উত্তম নাকি একশত রাকাআত নফল নামায পড়া উত্তম? তিনি ইরশাদ করলেন, কোনো মুসলমানের প্রয়োজন পূরণ করা আমার নিকট এক হাজার রাকাআত নফল নামাযের চেয়েও উত্তম। আমি বললাম, এক লোকমা হারাম বর্জন করা আপনার নিকট উত্তম নাকি এক হাজার রাকাআত নফল নামায পড়া উত্তম? তিনি ইরশাদ করলেন, এক লোকমা হারাম থেকে বেঁচে থাকা আমার নিকট দুই হাজার রাকাআত নফল নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। তিনি বললেন, হারাম বর্জন করা আমার নিকট দু'হাজার রাকাআত নফল নামায থেকেও উত্তম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! গীবত থেকে বেঁচে থাকা আপনার নিকট অধিক প্রিয় নাকি এক হাজার রাকাআত নফল নামায পড়া অধিক প্রিয়? তিনি ইরশাদ করলেন, গীবত থেকে বেঁচে থাকা আমার নিকট দশ হাজার রাকাআত নফল নামায পড়া থেকেও অধিক প্রিয়। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সহযোগিতা করা আপানার কাছে অধিক প্রিয় নাকি দশ হাজার রাকাআত নফল নামায পড়া অধিক প্রিয়? তিনি ইরশাদ করলেন, কোনো অসহায় বা বিধবাকে সহযোগিতা করা আমার নিকট ত্রিশ হাজার রাকাআত নফল নামায পড়ার চেয়েও অধিক প্রিয়। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! পরিবারের সাথে বসে সময় কাটানো আপনার নিকট প্রিয় নাকি মসজিদে বসে সময় কাটানো প্রিয়? তিনি ইরশাদ করলেন, পরিবারের সাথে এক মুহূর্ত কাটানো আমার নিকট আমার এই মসজিদে এতেকাফ করার চেয়েও অধিক প্রিয়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! পরিবারের জন্য খরচ করা আপনার নিকট প্রিয় নাকি আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা অধিক প্রিয়? তিনি ইরশাদ করলেন- পরিবারের জন্য এক দিরহাম ব্যয় করা আমার নিকট আল্লাহর রাস্তায় এক হাজার দীনার ব্যয় করার চেয়েও অধিক প্রিয়। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! বাবা মার হক আদায় করা আপনার নিকট প্রিয়? নাকি এক হাজার বছর ইবাদত করা অধিক প্রিয়? রাসূল বললেন, আনাস! সত্য সমাগত, মিথ্যা অপসৃত। শোন, পিতা-মাতার হক আদায় করা আমার নিকট বিশ হাজার বছর ইবাদত করার চেয়েও অধিক প্রিয়।

টিকাঃ
৩০. হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৩/১১০। আবু নুয়াইম আসবাহানী হাদীসটিকে গরীব বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দুনিয়ার দৃষ্টান্ত

📄 দুনিয়ার দৃষ্টান্ত


عَنْ أَبِي كَبْشَةَ الْأَنْمَارِيَّ، قَالَ : ضَرَبَ لَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثَلَ الدُّنْيَا كَمَثَلِ أَرْبَعَةِ رِجَالٍ، رَجُلٌ آتَاهُ اللهُ عِلْمًا، وَآتَاهُ مَالًا، فَهُوَ يَعْمَلُ بِعِلْمِهِ فِي مَالِهِ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ عِلْمًا وَلَمْ يُؤْتِهِ مَالًا فَيَقُولُ : لَوْ أَنَّ اللهَ تَعَالَى آتَانِي مِثْلَ مَا آتَى فُلАНًا لَفَعَلْتُ فِيهِ مِثْلَ مَا يَفْعَلُ، فَهُمَا فِي الْأَجْرِ سَوَاءٌ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ مَالًا وَلَمْ يُؤْتِهِ عِلْمًا فَهُوَ يَمْنَعُهُ مِنْ حَقِّهِ، وَيُنْفِقُهُ فِي الْبَاطِلِ، وَرَجُلٌ لَمْ يُؤْتِهِ مَالًا وَلَمْ يُؤْتِهِ عِلْمًا فَيَقُولُ: لَوْ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى آتَانِي مِثْلَ مَا آتَى فُلАНًا، لَفَعَلْتُ فِيهِ مِثْلَ مَا يَفْعَلُ، فَهُمَا فِي الْوِزْرِ سَوَاءٌ.
হযরত আবূ কাবশা আনসারী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, দুনিয়ার উদাহরণ চার ব্যক্তির ন্যায়। ১. আল্লাহ যাকে সম্পদ এবং ইলম উভয়ই দান করেছেন এবং সে জ্ঞান ইলম অনুসারে সম্পদ ব্যয় করে। ২. আল্লাহ যাকে ইলম দিয়েছেন কিন্তু সম্পদ দেননি। সে মনে মনে বলে, আল্লাহ যদি আমাকে অমুকের মত সম্পদ দান করতেন তাহলে আমি তার মত কাজ করতাম। তারা উভয় সমান প্রতিদান পাবে। ৩. আল্লাহ যাকে সম্পদ দিয়েছেন কিন্তু ইলম দেননি। তাই সে তার হক আদায় করে না এবং অসৎ পথে তার সম্পদ ব্যয় করে। ৪. আল্লাহ যাকে সম্পদ দেননি এবং ইলমও দেননি। সে মনে মনে ভাবে, আল্লাহ যদি আমাকে অমুকের মত সম্পদ দান করতেন তাহলে আমিও তার মত কাজ করতাম। তারা উভয়ে গুনাহের ক্ষেত্রে সমান।

ফন্ট সাইজ
15px
17px