📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 শাওয়ালের রোযা

📄 শাওয়ালের রোযা


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ صَامَ شَهْرَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ بِسِتٍّ مِنْ شَوَّالٍ، فَكَأَنَّمَا صَامَ الدَّهْرَ كُلَّهُ.

قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ : حَتَّى أَحْسِبَ لَكُمْ، فَصَوْمُ رَمَضَانَ يَكُونُ ثَلَاثَ مِائَةِ يَوْمٍ وَسِتَّةَ أَيَّامٍ وَسِتِّينَ يَوْمًا، لِأَنَّ اللهَ تَعَالَى قَالَ : مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا (الأنعام : ১৬০) وَكُلُّ يَوْمٍ يَقُومُ مَقَامَ عَشْرَةِ أَيَّامٍ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখল অতঃপর শাওয়াল মাসের ছয় রোযা রাখলো, সে যেন সারা বছর রোযা রাখল।

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বলেন, আমি তোমাদের হিসাব করে দিচ্ছি, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
মাজ্ব জ্বা-আ বিলহাসানাতি ফালাহূ আশরু আমছা-লিহা
অর্থ: যে ব্যক্তি একটি নেক আমল করবে তাকে তার দশ গুন সওয়াব দান করা হবে।

সুতরাং রমযান মাসের ত্রিশ রোযা হবে তিন শত দিনের রোযা। আর শাওয়ালের ছয় রোযা ষাট রোযা। এই দুই রোযা মিলে হলো তিন শত ষাট দিন অর্থাৎ, সারা বছরের রোযা। এই কারণে রমযানের রোযা ও শাওয়ালের ছয় রোযাকে সারা বছরের রোযা বলা হয়েছে।

ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, এই ছয় রোযা রাখাকে কেউ কেউ মাকরূহ বলেছেন। কারণ, এতে নাসারা বা খ্রিষ্টানদের সাথে সাদৃশ্য তৈরি হয়। হযরত ইবরাহীম নাখাঈ রহ. কে এই ছয় রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এই রোযা ঋতুমতী নারীদের জন্য। (কারণ, তারা মাসিকের কারণে সারা মাস রোযা রাখতে পারে না) আবার কেউ বলেন, এই ছয় রোযা বিরতি দিয়ে রাখা উত্তম। তাহলে খ্রিষ্টানদের সাথে সাদৃশ্য থাকবে না। তবে আমার মতে, এই ছয় রোযা সুন্নাত। পৃথক পৃথক বা লাগাতার রাখাতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ, ঈদের মাধ্যমে উভয় রোযার মাঝে পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে।

টিকাঃ
২৩. কাশফুল আস্তার লিল-বায্যার : হাদীস-১০৬০; হাদীসটির সনদ সহীহ [মাজমা: ৩/১৮৩]
২৪. সূরা আনআম: আয়াত-১৬০
২৫. সুনানে তিরমিযী : হাদীস-৭৪৪; সুনানে আবী দাউদ : হাদীস-২৪২১; সুনানে ইবনে মাজাহ : হাদীস-১৭২৬। হাদীসটি সহীহ। তবে ইমাম আবূ দাউদ হাদীসটিকে মানসুখ বলেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী বলেছেন, রাসূল সা. প্রথমত আহলে কিতাবদের সাথে সাজুয্যতা করে শনিবার রোজা রাখতেন পরে আহলে কিতাবদের বিরোধিতার নির্দেশ দেন। আর শুধুমাত্র শনিবার রোজা রাখতে নিষেধ করেন। আবু দাউদ হয়তো প্রথম আমলের হাদীসটিকে মানসুখ বলেছেন। [আত-তালখীসুল হাবীর: ২/৪৭০ (৯৩৮)]।

ফন্ট সাইজ
15px
17px