📄 আশুরার দিনের নামকরণ
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, আশুরার দিনকে আশুরা নাম করণের কারণ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। যথা-
কউ কেউ বলেন, এই দিনটি যেহেতু মুহাররমের দশম তারিখ তাই তাকে আশুরা বলা হয়। কেননা, আরবীতে "আশির” অর্থ দশ।
আবার কারো কারো মতে, আল্লাহ তা'আলা এই দিনে দশজন নবীকে দশটি কারামত দান করেছিলেন। তাই একে আশুরা বলা হয়। যথা-
১. এই দিনে আল্লাহ তা'আলা হযরত আদম আ.-এর তাওবা কবুল করেন।
২. এই দিনে হযরত ইদরীস আ. কে ঊর্ধ্বাকাশে তুলে নেওয়া হয়।
৩. এই দিনে নূহ আ.-এর কিশতি জুদি পর্বতে আসে।
৪. এই দিনে হযরত ইবরাহীম আ. জন্মগ্রহণ করেন এবং আল্লাহ তা'আলা এই দিনেই তাঁকে খলীল বা অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেন এবং তাঁকে আগুন থেকে মুক্তি দেন।
৫. এই দিনে আল্লাহ তা'আলা হযরত দাউদ আ.-এর তাওবা কবুল করেন।
৬. এই দিনে আল্লাহ তা'আলা ঈসা আ. কে আকাশে তুলে নেন।
৭. এই দিনে আল্লাহ তা'আলা ফেরআউনের কওম থেকে হযরত মূসা আ. কে মুক্তি দেন এবং ফিরআউনকে ধ্বংস করেন।
৮. এই দিনে আল্লাহ তা'আলা হযরত ইউনুছ আ.কে মাছের পেট থেকে মুক্তি দেন।
৯. এই দিনে আল্লাহ তা'আলা সুলায়মান আ.কে রাজত্ব ফিরিয়ে দেন।
১০. এই দিনে নবী মুহাম্মদ ﷺ জন্মগ্রহণ করেন।
কোনো কোনো বিশ্লেষক মনে করেন, আশুরা নাম করণের কারণ হলো, উম্মতে মুহাম্মাদীকে যে সম্মান দান করা হয়েছে, এ দিনটি তার এক দশমাংশ। সম্মান দশটি হলো-
১. রজব মাস। রজব আল্লাহর মাস। এই মাসের ফযীলত তেমন, উম্মতে মুহাম্মাদীর ফযীলত অন্যান্য উম্মতের উপর যেমন।
২. শাবান মাস। অন্যান্য মাসের উপর শাবান মাসের শ্রেষ্ঠত্ব তেমন অন্যান্য নবীগণের উপর রাসূল ﷺ-এর শ্রেষ্ঠত্ব যেমন।
৩. রমযান মাস। অন্যান্য মাসের উপর রমযান মাসের শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, সৃষ্টির উপর আল্লাহ তা'আলার শ্রেষ্ঠত্ব যেমন।
৪. কদরের রাত। এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
৫. ঈদুল ফিতরের দিন। এই দিন, রোযার প্রতিদান লাভের দিন।
৬. যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন। এই দিনগুলো আল্লাহর যিকিরের দিন।
৭. আরাফার দিন। আরাফার দিনের রোযা দুই বছরের গুনাহের কাফফারা স্বরূপ।
৮. কুরবানির দিন। এই দিনে আল্লাহর নামে পশু জবাই করা হয়।
৯. জুমআর দিন যা সপ্তাহের শ্রেষ্ঠতম দিন।
১০. আশুরার দিন। এই দিনের রোযার ফলে এক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।
এই উম্মতকে গুনাহমুক্ত করার জন্য আল্লাহ তা'আলা বিশেষভাবে তাদের এই দিন ও মাসগুলো দান করেছেন।