📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নির্বাচিত চার দিন

📄 নির্বাচিত চার দিন


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدِ اخْتَارَ مِنَ الْأَيَّامِ أَرْبَعَةً، وَمِنَ الشُّهُورِ أَرْبَعَةً، وَمِنَ النِّسَاءِ أَرْبَعَةً، وَأَرْبَعَةً يَسْبِقُونَ إِلَى الْجَنَّةِ، وَأَرْبَعَةُ اشْتَاقَتْ إِلَيْهِمُ الْجَنَّةُ. أَمَّا الْأَيَّامُ : فَأَوَّلُهَا : يَوْمُ الْجُمُعَةِ فِيهَا سَاعَةٌ لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ، يَسْأَلُ اللهَ تَعَالَى شَيْئًا مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ إِلَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ إِيَّاهُ. وَالثَّانِي: يَوْمُ عَرَفَةَ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ عَرَفَةَ يُبَاهِي اللهُ تَعَالَى مَلَائِكَتَهُ، فَيَقُولُ يَا مَلَائِكَتِي انْظُرُوا إِلَى عِبَادِي جَاءُوا شُعْئًا غُبْرًا قَدْ أَنْفَقُوا الْأَمْوَالَ، وَأَتْعَبُوا الْأَبْدَانَ، اشْهَدُوا أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ. وَالثَّالثُ : يَوْمُ النَّحْرِ فَإِذَا كَانَ النَّحْرُ، وَقَرَّبَ الْعَبْدُ قُرْبَانَهُ، فَأَوَّلُ قَطْرَةٍ مِنَ الْقُرْبَانِ تَكُونُ كَفَّارَةً لِكُلِّ ذَنْبٍ عَمِلَهُ الْعَبْدُ، وَالرَّابِعُ: يَوْمُ الْفِطْرِ فَإِذَا صَامُوا شَهْرَ رَمَضَانَ، وَخَرَجُوا إِلَى عِيدِهِمْ يَقُولُ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لِمَلَائِكَتِهِ : إِنَّ كُلَّ عَامِلٍ يَطْلُبُ أَجْرَهُ وَعِبَادِي صَامُوا شَهْرَهُمْ، وَخَرَجُوا مِنْ عِيدِهِمْ يَطْلُبُونَ أَجْرَهُمْ أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ، وَيُنَادِي الْمُنَادِي يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ ارْجِعُوا فَقَدْ بَدَّلْتُ سَيِّئَاتِكُمْ حَسَنَاتٍ وَأَمَّا الشُّهُورُ فَشَهْرُ اللَّهِ الْأَصَمُّ رَجَبٌ، وَثَلَاثَةٌ مُتَوَالِيَاتٌ ذُو الْقِعْدَةِ وَذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ. وَأَمَّا النِّسَاءُ: فَمَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ، وَخَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ سَابِقَةُ نِسَاءِ الْعَالَمِينَ إِلَى الْإِيمَانِ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَآسِيَةٌ بِنْتُ مُزَاحِمٍ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ، وَفَاطِمَةُ بِنْتُ مُحَمَّدٍ سَيِّدَةُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ. وَأَمَّا السَّابِقُونَ فَلِكُلِّ قَوْمٍ سَابِقٌ إِلَى الْجَنَّةِ فَمُحَمَّدٌ سَابِقُ الْعَرَبِ، وَسَلْمَانُ سَابِقُ فَارِسٍ، وَصُهَيْبٌ سَابِقُ الرُّومِ، وَبِلَالٌ سَابِقُ الْحَبَشَةِ، وَأَمَّا الْأَرْبَعَةُ الَّتِي اشْتَاقَتْ إِلَيْهِمُ الْجَنَّةُ، فَأَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، وَسَلْمَانُ، وَعَمَّارُ بْنُ يَاسِرَ، وَالْمِقْدَادُ بْنُ الْأَسْوَدِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمْ.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আল্লাহ সমস্ত দিন থেকে চার দিনকে এবং সমস্ত মাস থেকে চার মাসকে এবং সকল নারী থেকে চার নারীকে নির্বাচন করেছেন। আর চার ব্যক্তি সবার আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং চার ব্যক্তির জন্য জান্নাত নিজে আগ্রহ প্রকাশ করবে। চার দিন হলো- ১. জুমআর দিন। এই দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে যাতে মানুষ আল্লাহর কাছে দুনিয়া বা আখেরাতের যাই চাইবে আল্লাহ তাকে তা দান করবেন। ২. আরাফার দিন। আরাফার দিনে আল্লাহ তা'আলা তাঁর ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করে বলেন, ফেরেশতারা! তাকিয়ে দেখ, আমার বান্দারা ক্লান্ত হয়ে, অর্থ ব্যয় করে ধূলিমলিন হয়ে আমার দরবারে হাজির হয়েছে। তোমরা সাক্ষী থাক, আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দিলাম। ৩. কুরবানীর দিন। এই দিন বান্দা যখন কুরবানী দেয় তখন তার পশুর রক্তের প্রথম ফোঁটা মাটিতে পড়ার আগেই তার গুনাহ মাফ হয়ে যায়। ৪. ঈদুল ফিতরের দিন। বান্দা যখন রমযানের রোযা পালন করে ঈদের দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হয়, আল্লাহ তখন ফেরেশতাদেরকে বলেন, প্রত্যেক শ্রমিকই তার পারিশ্রমিক চায়। আমার বান্দারা এক মাস রোযা রেখেছে এবং এখন তারা ঈদের নামাযের উদ্দেশ্যে বের হয়েছে। তারা তাদের প্রতিদান চায়। তোমরা সাক্ষী থাকো, আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দিলাম। তখন এক ফেরেশতা ডেকে বলবেন, হে উম্মতে মুহাম্মাদ! তোমরা ফিরে যাও, তোমাদের সমস্ত গুনাহ মাফ করে নেকি দ্বারা বদলে দেওয়া হয়েছে। চার মাস হলো- ১. রজব, ২. যিলকদ, ৩. যিলহজ ও ৪. মুহাররম। চার নারী হলো- ১. মারইয়াম বিনতে ইমরান ২. নারীদের প্রথম ঈমান আনয়নকারী খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ ৩. ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া বিনতে মুযাহিম ৪. জান্নাতী নারীদের নেত্রী ফাতেমা বিনতে মুহাম্মাদ যে চারজন সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা হলো- ১. আরবদের মধ্যে থেকে মুহাম্মদ ﷺ ২. পারসিকদের মধ্যে থেকে সালমান ফারসী রাযি. ৩. রোমানদের মধ্যে থেকে সুহাইব রাযি. ৪. হাবশীদের মধ্যে হযরত বেলাল রাযি. যে চার জনের জন্য জান্নাত নিজেই আগ্রহ দেখাবে তারা হলো-
১. আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবু তালেব রাযি. ২. হযরত সালমান রাযি. ৩. হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির রাযি. ৪. মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ রাযি।

হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত ফাতিমা রাযি. কে বললেন- يا فاطمة قومي إلى أُضْحِيَتِكِ فَاشْهَدِيها فَإِنَّ لَكِ بِكُلِّ قَطْرَةٍ تَقْطُرُ مِن دَمِهَا أَنْ يُغْفَرَ لَكِ ما سَلَفَ مِن ذنوبِكِ قُلْتُ يا رسولَ اللهِ أَلَنا خاصَّةً أهل البيت أو لنا وللمسلمين قال بل لنا وللمসلمين.

অনুবাদ: 'হে ফাতিমা, তোমার কুরবানীর পশুর পাশে গিয়ে দাঁড়াও এবং সেখানে উপস্থিত হও। কারণ, তার প্রতি ফোঁটা রক্তের বিনিময়ে তোমার পেছনের গুনাহ মাফ করা হবে।' ফাতিমা রাযি. বলেন, আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল, এটা কি শুধু আমরা যারা আহলে বাইত তাদের জন্যই? নাকি আমাদের জন্য এবং অন্যান্য মুসলমানদের জন্যেও?' তিনি বললেন, 'বরং আমাদের এবং সকল মুসলমানদের জন্যে।

আরেক হাদীসে এসেছে- عن عائشة قالت يا أيُّها النَّاسُ ضحوا وطيبوا بها أنفُسًا فَإِنِّي سَمِعْتُ رسول الله ﷺ يقول ما من عبد توجه بأُضْحَيَتِهِ إلى القبلة إلا كان دمها وفرتها وصوفها حسنات محضرات في ميزانه يوم القيامة فإنّ الدَّمَ وإن وقع في التراب فإنَّما يقع في حرز الله حتى يوفيه صاحبه يوم القيامة.

অনুবাদ: হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে লোকেরা, তোমরা কুরবানী কর এবং এর দ্বারা সন্তুষ্টি প্রকাশ কর। কারণ, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি নিজের কুরবানীর পশুকে (জবাইয়ের জন্য) কিবলামুখী করে, নিশ্চিতভাবে তার রক্ত, মল এবং পশমগুলো তার মীযানের পাল্লায় কিয়ামতের দিন ওঠানো হবে। কারণ, রক্ত যদিও মাটির ওপর পতিত হয়, কিন্তু আসলে সেটা আল্লাহর হেফাজতে থাকে, যাতে কিয়ামতের দিন তিনি তাকে তার সওয়াবের পূর্ণ প্রতিদান দেন।

টিকাঃ
৭২০. ইবনে আব্রাক হাদীসটিকে মুনকার/বাতিল বলেছেন [তানযীহুশ শারীয়াহ: ২/৬৪]।।
৭২১. মুস্তাদরাকে হাকেম ৪/২২২; আত-তারগীব, আসবাহানী: হাদীস-৩৪৮; আল্লামা হাইসামী, মুনযিরী, হাইতামী, মুল্লা আলী কারী ও ইবনুল মুলাক্কিনের ভাষ্যমতে, হাদীসটি জয়ীফ। যা ফাজায়েলের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য [আল-বাদরুল মুনীর ৯/৩০৩; মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৪/২০]।।
৭২২. সুনানে তিরমিযী হাদীস-১৪৯৩; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৩১২৬; হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী হাসান গরীব বলেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px