📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 রমযান সারা বছরের কাফফারা স্বরূপ

📄 রমযান সারা বছরের কাফফারা স্বরূপ


عَنْ خَيْثَمَةَ، قَالَ: كَانُوا يَقُولُونَ: مِنْ رَمَضَانَ إِلَى رَمَضَانَ، وَالْحَجِّ إِلَى الْحَجِّ، وَالْجُمْعَةِ إِلَى الْجُمْعَةِ، وَالصَّلَاةِ إِلَى الصَّلَاةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ مَا اجْتُنِبَتِ الْكَبَائِرُ.
হযরত খায়সামা রহ. থেকে ইমাম শাবী রহ. উক্তি নকল করে বলেন, উম্মতের মহান ব্যক্তিরা বলতেন, এক রজমযান থেকে অপর রমযান, এক জুমআ থেকে অপর জুমআ এবং এক নামায থেকে অপর নামায 'কবীরাহ গুনাহ ব্যতীত মধ্যবর্তী সময়ের যাবতীয় গুনাহের কাফফারা স্বরূপ।

عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ إِذَا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ: مَرْحَبًا بِمُطَهِّرِنَا، فَرَمَضَانُ خَيْرٌ كُلُّهُ صِيَامُ نَهَارِهِ وَقِيَامُ لَيْلِهِ، وَالنَّفَقَةُ فِيهِ كَالنَّفَقَةِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ.
রমযান মাস উপস্থিত হলে হযরত উমর রাযি. বলতেন, স্বাগতম হে আমাদেরকে পবিত্রকারী মাস! রমযানের পুরোটাই কল্যাণময়। এর দিনগুলোতে রোযা এবং রাত গুলো ইবাদত। এ মাসে সদকা করা জিহাদের জন্য ব্যয়ের সমতুল্য।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : مَنْ صَامَ رَمَضَانَ وَقَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের নিয়তে রমযানের রোযা রাখবে এবং তারাবীহের নামাজে কিয়াম করবে আল্লাহ তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ: قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: كُلُّ حَسَنَةٍ يَعْمَلُهَا ابْنُ آدَمَ تُضَاعَفُ لَهُ مِنْ عَشْرَةٍ إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ إِلَّا الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ وَشَرَابَهُ مِنْ أَجْلِي، وَالصَّوْمُ جُنَّةٌ، وَلِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ الْإِفْطَارِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ يَوْমَ الْقِيَامَةِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, আল্লাহ তা'আলা বলেন, মানুষ যে ভালো কাজই করে, আল্লাহ তা দশ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন। আর রোযার বিনিময়ে আমি স্বয়ং দান করি। কারণ, সে আমার জন্য তার প্রবৃত্তিকে দমন করেছে, পানাহার বর্জন করেছে। রোযা হলো, ঢাল স্বরূপ। রোযাদারের দু'টি আনন্দ রয়েছে। একটি ইফতারের আনন্দ এবং অপরটি কিয়ামতের দিন তার রবের সঙ্গে সাক্ষাতের আনন্দ।

টিকাঃ
৭০৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-১৯০১; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৭৬০।
৭০৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-১৯০৪; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১১৫১; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৭৬৪।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 শবে কদর : হাজার মাসের তুলনায় উত্তম রাত্রি

📄 শবে কদর : হাজার মাসের তুলনায় উত্তম রাত্রি


عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آخِرَ يَوْمٍ مِنْ شَعْبَانَ فَقَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّهُ قَدْ أَظَلَّكُمْ شَهْرٌ عَظِيمٌ مُبَارَكٌ، শাহারুন ফীহি লাইলাতুল ক্বাদরি, ওয়াহিয়া খাইরুম মিন আলফি শাহরিন, শাহারুন ফারাদ্বাল্লা-হু সিয়ামাহু, ওয়াজায়ালা ক্বিয়া-মা লাইলিহি তাতওয়উয়ান, ফামান তাতওয়াআ ফীহি বিখাসলাতিন মিনাল খাইরি কানা কামানি আদদওয়া ফারিদ্বাতান ফীমা সিওয়াহু, ওয়ামান আদদওয়া ফারিদ্বাতান ফীহি কানা কামানি আদদওয়া সাবয়ীনা ফারিদ্বাতান ফীমা সিওয়াহু, শাহারু হুদায়িন, ওয়াহুয়া শাহারুস সবরি, ওয়াসসবরু ছাওয়াবুহুল জন্নাহ, ওয়াহুয়া শাহারুল মুওয়াসাহ, ওয়াসাহারুন ইউযাদ ফিহি রিজক্বল মুমিনি, মান ফাত্তওয়ারা ফীহি সায়িমান কানা লাহু ইতকু রাক্বাবাহ, ওয়ামাগফিরাতুন লিজুনূবিহী। ক্বলনা: ইয়া রাসূলাল্লা-হি লাইসা কুল্লুনা ইয়াজিদু মা ইউফাত্ত্বিরু বিসিসসায়িমা। ক্বালা: ইউতী ল্লা-হু হাজা ছাওয়াবা লিমান ফাত্তওয়ারা সায়িমান আলা মাযক্বাতি লাবানিন, আও তামরাতিন, আও শারবাতি মাইয়িন, ওয়ামান আশবাআ সায়িমান কানা লাহু মাগফিরাতান লিজুনূবিহী, ওয়াসাক্বাহু রাব্বুহু মিন হাওদ্বী শারবাতাল লা ইয়াজমাউ বায়দাহা হাত্তা ইয়াদখুলুল জন্নাহ, ওয়াকানা লাহু মিছলু আজরিহী মিন গাইরি আইঁ ইয়ানক্বুসা মিন আজরিহী শাইউন, ওয়াহুয়া শাহারুন আওয়্যালুহু রহমাতুন ওয়াআওসাতুহু মাগফিরাতুন, ওয়াআখিরুহু ইতকুম মিনান নারি, ওয়ামান খাফফাফা আন মামলুকিহী ফীহি আতক্বাহুল্লা-হু মিনান নারি।

হযরত সালমান ফারসী রাযি. বলেন, রাসূল ﷺ শাবানের শেষ দিনে আমাদেরকে নসীহত করে বললেন, হে লোকসকল! তোমাদের নিকটে মহান বরকতময় মাস হাযির হয়েছে। তাতে রয়েছে লাইলাতুল কদর। তা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এ মাসে আল্লাহ দিনে রোযা ফরয করেছেন এবং রাতে তারাবীহের কিয়াম নফল করেছেন। এ মাসের একটি নফল অন্য মাসের একটি ফরযতুল্য। আর একটি ফরজ অন্য মাসের সত্তরটি ফরযের তুল্য। এ মাস ধৈর্য, সহমর্মিতার মাস। ধৈর্যের প্রতিদান হলো, জান্নাত। এ মাসে মুমিনের রিযিক বাড়িয়ে দেয়া হয়। যে এ মাসে রোযাদারকে ইফতার করাবে, সে একটি দাস মুক্ত করার সওয়াব পাবে এবং মাগফিরাত লাভ করবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! রোজাদারকে ইফতার করানোর সাধ্য আমাদের প্রত্যেকের নেই। রাসূল ﷺ বললেন, কেউ যদি দুধ কিংবা খেজুর অথবা এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও রোযাদারকে ইফতার করায়, আল্লাহ তাকে এ সওয়াব দান করবেন। আর যে রোযাদারকে তৃপ্তিসহকারে ইফতার করাবে, আল্লাহ তার যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দিবেন এবং তাকে আমার হাউজ থেকে পানি পান করাবেন, যার পর সে জান্নাতে প্রবেশ পর্যন্ত আর পিপাসার্ত হবে না। আর সে উক্ত রোযাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে, এতে রোযাদারের সওয়াবে কোনো কমতি আসবে না। এ মাসের প্রথম (দশ দিন) রহমতের, মধ্যবর্তী (দশ দিন) মাগফিরাতের এবং শেষ (দশ দিন) জাহান্নাম থেকে মুক্তির। এ মাসে যে ব্যক্তি তার অধীনস্থের কাজ কমিয়ে দেবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন।

টিকাঃ
৭০৫. সহীহ ইবনে খুযাইমা: হাদীস-১৮৮৭, আত-তারগিব হাদীস-১৭২৬; শুআবুল ঈমান হাদীস- ৩৬০৮; হাফেয আইনী বলেছেন, সনদটি সহীহ নয় (বরং জয়ীফ) [উমদাতুল ক্বারী: ১০/৩৮৩]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 রমযানের বরকতসমূহ

📄 রমযানের বরকতসমূহ


عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: مَا مِنْ عَبْدٍ صَامَ رَمَضَانَ فِي إِنْصَاتٍ وَسُكُوتٍ، وَذَكَرَ اللهُ تَعَالَى، وَأَحَلَّ حَلَالَهُ وَحَرَّمَ حَرَامَهُ، وَلَمْ يَرْتَكِبْ فِيهِ فَاحِشَةً إِلَّا انْسَلَخَ مِنْ رَمَضَانَ يَوْمَ يَنْسَلِخُ، إِلَّا وَقَدْ غُفِرَتْ لَهُ ذُنُوبُهُ كُلُّهَا وَيُبْنَى لَهُ بِكُلِّ تَسْبِيحَةٍ وَتَهْلِيلَةٍ، بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ مِنْ زُمُرُّدَةٍ خَضْرَاءَ فِي جَوْفِهَا يَاقُوتَةٌ حَمْرَاءُ، فِي جَوْفِ تِلْكَ الْيَاقُوتَةِ خَيْمَةٌ مِنْ دُرَّةٍ مُجَوَّفَةٍ، فِيهَا زَوْجَةٌ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ، عَلَيْهَا سِوارَانِ مِنْ ذَهَبٍ مُوَشَّحٍ بِيَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ تُضِيءُ لَهَا الْأَرْضُ.

হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখবে, নীরবতা অবলম্বণ করবে, আল্লাহর যিকির করবে, হালালকে হালাল জানবে এবং হারামকে হারাম জানবে, অশ্লীল কর্মে না জড়াবে, মাস শেষে সে এমন পবিত্র হয়ে যাবে, যেন তার গুনাই ছিল না। তার প্রতিটি তাসবীহ ও তাহলীলের বিনিময়ে জান্নাতে একটি সবুজ যমরুদ পাথর দিয়ে বাড়ি বানানো হবে, যার ভিতরের অংশ হবে লাল ইয়াকূতের। তাতে থাকবে ডাগর নয়না এক সঙ্গিনী। তার হাতে দু'টি স্বর্ণের চুড়ি থাকবে, যা লাল ইয়াকৃত দ্বারা সজ্জিত হবে। সেটার আলোয় পুরা দুনিয়া আলোকিত হয়ে যাবে।

عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : وَقَدْ دَنَا شَهْرُ رَمَضَانَ لَوْ يَعْلَمُ الْعِبَادُ مَا فِي رَمَضَانَ لَتَمَنَّتْ أُمَّتِي أَنْ يَكُونَ سَنَةً. فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ خُزَاعَةَ: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ بِمَا فِيهِ، قَالَ : إِنَّ الْجَنَّةَ لَتُزَيَّنُ لِرَمَضَانَ مِنَ الْحَوْلِ إِلَى الْحَوْلِ، فَإِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ هَبَّتْ رِيحٌ مِنْ تَحْتِ الْعَرْشِ فَصَفَّقَتْ وَرَقَ أَشْجَارِ الْجَنَّةِ، فَتَنْظُرُ الْحُورُ إِلَى ذَلِكَ، وَيَقُلْنَ يَا رَبُّ اجْعَلْ لَنَا فِي هُذَا الشَّهْرِ مِنْ عِبَادِكَ أَزْوَاجًا تَقُرُّ أَعْيُنُنَا بِهِمْ، وَتَقُرُّ أَعْيُنُهُمْ بِنَا، فَمَا مِنْ عَبْدٍ صَامَ رَمَضَانَ إِلَّا زُوِّجَ زَوْجَتَيْنِ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ، فِي خَيْمَةٍ مِنْ دُرَّةٍ مُجَوَّفَةٍ، مِمَّا نَعَتَ اللَّهُ تَعَالَى فِي كِتَابِهِ: حُورٌ مَقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ (الرحمن : ৭২) وَ عَلَى كُلِّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ سَبْعُونَ حُلَّةً لَيْسَ فِيهَا حُلَّةٌ عَلَى لَوْنِ الْأُخْرَى، وَيُعْطَى سَبْعِينَ لَوْنًا مِنَ الطِّيبِ وَكُلُّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ عَلَى سَرِيرٍ مِنْ يَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ مَنْسُوجَةٍ بِالدُّرِّ عَلَى كُلِّ سَرِيرٍ سَبْعُونَ فِرَاشًا بَطَائِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ، لِكُلِّ امْرَأَةٍ سَبْعُونَ وَصِيفَةً هَذَا بِكُلِّ يَوْমٍ صَامَهُ مِنْ رَمَضَانَ سِوَى مَا عَمِلَ مِنَ الْحَسَنَاتِ.

হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ রমযান নিকটবর্তী হলে বলতেন, বান্দা যদি জানতো রমযানের কী ফযীলত রয়েছে, তাহলে আমার উম্মত পুরো বছর জুড়ে এ বিধানের আকাঙ্ক্ষা করত। খুযাআ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এ মাসের ফযীলত সম্পর্কে আমাদেরকে কিছু বলুন। তিনি বললেন, রমযান উপলক্ষে বছরের শুরু থেকেই জান্নাতকে সজ্জিত করা হয়, রমাযানের প্রথম রাতে আরশের নিচ থেকে এক ধরনের স্নিগ্ধ বাতাস প্রবাহিত হয়, জান্নাতের বৃক্ষগুলো ঝিরঝির শব্দ করতে থাকে, হুরগণ তা দেখে বলে হে রব! এ মাসে আমাদের জন্য আপনার বান্দাদের থেকে স্বামী নির্ধারণ করুন, যাদেরকে দেখে আমাদের চক্ষু শীতল হবে এবং আমাদেরকে দেখে যাদের চোখ শীতল হবে। যে ব্যক্তি রোযা রাখবে, আল্লাহ তার সঙ্গে দু'জন ডাগর নয়না হুরের বিয়ে দিবেন। যাদের সম্পর্কে কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, حُورٌ مَقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ অর্থ: তারা হুর তাঁবুতে সুরক্ষিত। তাদের প্রত্যেকেই সত্তর জোড়া পোশাক পরিধান করে থাকে, যার একটির রঙ অপরটি থেকে ভিন্ন এবং তাকে সত্তর ধরনের সুগন্ধি দেওয়া হবে। তাদের প্রত্যেকেই মণি-মুক্তায় সজ্জিত লাল ইয়াকূতের পালঙ্কে বসা থাকবে। আর প্রতিটি পালঙ্কে থাকবে সত্তরটি রেশমি চাদর। প্রতিটি নারীর জন্য সত্তরজন সেবিকা। এ হলো রমযানের রোযার বিনিময়। এ ছাড়া অন্যান্য আমল তো আছে-ই।

রাসূল বলেন- রজমুন শাহারু উম্মাতি, ওয়াফাদ্বলুহু আলা সায়িরিশ শুহূরি কাফাদ্বলি উম্মাতি আলা সায়িরিল উমামি, ওয়া শায়বা-নু শাহরী ওয়া ফাদ্বলুহু আলা সায়িরিশ শুহূরি কা ফাদ্বলী আলা সায়িরিল আম্বিয়া-ই ওয়া রমাযোয়া-নু শাহারুল্লাহি ওয়াফাদ্বলুহু আলা সায়িরিশ শুহুরি কাফাদ্বলিল্লা-হি আলা খালক্বিহী। রজব হলো, আমার উম্মতের মাস। অন্যান্য মাসের উপর এ মাসের শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, অন্যান্য উম্মতের উপর আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব যেমন। শাবান হলো, আমার মাস। অন্যান্য মাসের উপর এ মাসের শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, অন্যান্য নবীগণের উপর রাসূল ﷺ-এর শ্রেষ্ঠত্ব যেমন। রমযান হলো, আল্লাহর মাস। অন্যান্য মাসের উপর এ মাসের শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, সৃষ্টিকুলের উপর আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব যেমন।

عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ، وَإِذَا النَّاسُ يَتَلَاحَوْنَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: جِئْتُ وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ أُخْبِرَكُمْ بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ غَيْرَ أَنِّي خَشِيتُ أَنْ تَتَّكِلُوا عَلَيْهَا، وَعَسَى أَنْ يَكُونَ خَيْرًا، فَاطْلُبُوهَا فِي الْعَشْرِ فِي تِسْعٍ بَقَيْنَ، وَفِي سَبْعٍ بَقَيْنَ، وَفِي خَمْسٍ بَقَيْنَ، وَفِي ثَلَاثٍ بَقَيْنَ، وَفِي آخِرِ لَيْلَةٍ تَبْقَى وَمِنْ أَمَارَتِهَا أَنَّهَا لَيْلَةٌ بَلِجَةٌ سَمْحَةٌ لَا حَارَّةٌ وَلَا بَارِدَةٌ تَطْلُعُ الشَّمْسُ فِي صَبِيحَتِهَا لَيْسَ لَهَا شُعَاعٌ مَنْ قَامَهَا إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غَفَرَ اللهُ لَهُ مَا كَانَ بَقْلَ ذَلِكَ مِنْ ذَنْبٍ.
হযরত হাসান রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ একদিন বের হয়ে এলেন। দেখতে পেলেন, লোকেরা পরস্পর ঝগড়া করছে। তখন তিনি বললেন, লাইলাতুল কুদর সম্পর্কে তোমাদেরকে জানাতে বের হয়েছিলাম। কিন্তু আমার আশঙ্কা হয় যে, তোমরা এর উপর ভরসা করে অন্যান্য রাতে আমলের ব্যাপারে অলসতা করবে। এটা অতি কল্যানময় রাত্রি। সুতরাং তোমরা শেষ দশ রাতে তা তালাশ কর অথবা অবশিষ্ট ৯/৭/৫/৩/ কিংবা শেষ রাতে তালাশ কর। ওই রাত হবে পরিষ্কার ও ঝকঝকে। তাতে অতি ঠান্ডা থাকবে না এবং অতি গরমও থাকবে না। পরের দিন সূর্যের আলো তীক্ষ্ম হবে না। যে এ রাতে ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কিয়াম করবে, আল্লাহ তার যাবতীয় গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।

ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, এ রাতে ইবাদত করা এবং দিনে রোযা রাখার জন্য ঈমান ও ইহতিসাবকে শর্ত করা হয়েছে। ঈমান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, এ রাতের সওয়াবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। আর ইহতিসাব অর্থ হলো, সর্বাত্বভাবে আল্লাহমুখী হওয়া, আল্লাহকে ভয় করা। তাই রাসূল কর্তৃক বর্ণিত সওয়াব ও ফযীলত অর্জন হওয়ার জন্য শর্ত হলো, সর্বপ্রকার গুনাহ থেকে নিজেকে হেফাজত করা। এসব করার পর মনে এ আশা রাখা যে, আল্লাহ আমাদের রোযা কবুল করেছেন। আর এ ভয়ও রাখা যে, আল্লাহ তা কবুল করেননি।

رَوَى أَبُو ذَرِّ الْغِفَارِيُّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : صُمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا كَانَ لَيْلَةُ الثَّالِثِ وَالْعِشْرِينَ قَامَ وَصَلَّى حَتَّى مَضَى ثُلُثُ اللَّيْلِ، ثُمَّ لَمَّا كَانَتْ لَيْلَةُ الرَّابِعِ وَالْعِشْرِينَ لَمْ يَخْرُجْ إِلَيْنَا، فَلَمَّا كَانَتْ لَيْلَةُ الْخَامِسِ وَالْعِشْرِينَ خَرَجَ إِلَيْنَا وَصَلَّى بِنَا حَتَّى مَضَى شَطْرُ اللَّيْلِ فَقُلْنَا : لَوْ نَفَلْتَنَا لَيْلَتَنَا هَذِهِ. فَقَالَ : إِنَّهُ مَنْ خَرَجَ وَقَامَ مَعَ الْإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ. ثُمَّ لَمْ يُصَلِّ بِنَا فِي اللَّيْلَةِ السَّادِسَةِ وَالْعِشْرِينَ، فَلَمَّا كَانَتْ لَيْلَةُ السَّابِعِ وَالْعِشْرِينَ قَامَ وَجَمَعَ أَهْلَهُ وَصَلَّى بِنَا حَتَّى خَشِينَا أَنْ يَفُوتَنَا الْفَلَاحُ قُلْنَا : وَمَا الْفَلَاحُ? قَالَ : السَّحُورُ.
হযরত আবূ যর গিফারী রাযি. বলেন, আমরা রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে রোযা রেখেছি। যখন তেইশতম রাতে তিনি বের হয়ে এলেন, কিয়াম করলেন এবং রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত নামায পড়ালেন। চব্বিশতম রাতে তিনি আমাদের মাঝে এলেন না। পঁচিশতম রাতে তিনি বের হয়ে এলেন এবং রাতের অর্ধেক পর্যন্ত আমাদের নিয়ে নামায পড়লেন। আমরা বললাম, যদি আপনি আমাদের নিয়ে পুরো রাত্রি নফল পড়াতেন। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি ইশার নামায জামাতে পড়ে তাকে পুরো রাত ইবাদত করার সওয়াব দেওয়া হয়। এরপর তিনি ছাব্বিশতম রাতে আমাদের মাঝে এলেন না। সাতাশতম রাতে এলেন এবং নামায পড়ালেন। নামায এতটা দীর্ঘ করলেন, আমাদের আশঙ্কা হলো যে, সাহরী বাদ পড়ে যায় কিনা।

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ خَرَجَ فِي أَوَّلِ جَوْفِ اللَّيْلِ فِي رَمَضَانَ، وَصَلَّى فِي الْمَسْجِدِ، وَصَلَّى النَّاسُ بِصَلَاتِهِ، فَأَصْبَحَ النَّاسُ يَتَحَدَّثُونَ بِ ذَلِكَ، وَكَثُرَ النَّاسُ فِي اللَّيْلَةِ الثَّانِيَةِ، فَصَلَّى وَصَلُّوا بِصَلَاتِهِ، فَلَمَّا كَانَتِ اللَّيْلَةُ الثَّالِثَةُ كَثُرَ النَّاسُ حَتَّى عَجَزَ الْمَسْجِدُ عَنْ أَهْلِهِ، فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ حَتَّى خَرَجَ لِصَلَاةِ الْفَجْرِ، فَلَمَّا صَلَّى الْفَجْرَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ وَقَالَ : إِنَّهُ لَمْ يَخْفَ عَلَيَّ شَأْنُكُمُ اللَّيْلَةَ، وَلَكِنِّي خَشِيتُ أَنْ يُعْزَمَ عَلَيْكُمْ صَلَاةُ اللَّيْلِ، فَتَعْجَزُوا عَنْ ذَلِكَ.
আয়িশা রাযি. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গভীর রাতে বের হয়ে মসজিদে সালাত আদায় করেন। কিছু সংখ্যক পুরুষ তাঁর পিছনে সালাত আদায় করেন। সকালে লোকেরা এ সম্পর্কে আলোচনা করেন। ফলে লোকেরা অধিক সংখ্যায় সমবেত হন। তিনি সালাত আদায় করেন এবং লোকেরা তার সঙ্গে সালাত আদায় করেন। সকালে তারা এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। তৃতীয় রাতে মসজিদে মুসল্লীর সংখ্যা আরো বেড়ে যায়। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে সালাত আদায় করেন এবং লোকেরা তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করেন। চতুর্থ রাতে মসজিদে মুসল্লীর সংকুলান হল না। কিন্তু তিনি রাতে আর বের না হয়ে ফজরের সালাতে বেরিয়ে আসলেন এবং সালাত শেষে লোকদের দিকে ফিরে প্রথমে তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য দেয়ার পর বললেন, শোন! তোমাদের (গতরাতের) অবস্থান আমার অজানা ছিল না। কিন্তু আমি এই সালাত তোমাদের উপর ফরজ হয়ে যাবার আশঙ্কা করছি (বিধায় বের হই নাই)। কেননা তোমরা তা আদায় করায় অপারগ হয়ে পড়তে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাত হলো আর ব্যাপারটি এভাবেই থেকে যায়।

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا : وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ يُرَغِّبُهُمْ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ بِعَزِيمَةٍ، فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ وَالْأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ فِي خِلَافَةِ أَبِي بَكْرٍ وَصَدْرٍ مِنْ خِلَافَةِ عُمَرَ، حَتَّى جَمَعَهُمْ عُمَرُ بْنِ الْخَطَّابِ عَلَى أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا.
হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, রাসূল ﷺ লোকদেরকে রাতের নামাযে উৎসাহ দিতেন। কিন্তু কঠোরভাবে আদেশ দিতেন না। বিষয়টি এমন রেখেই রাসূল ﷺ মৃত্যুবরণ করেন। হযরত আবু বকর ও উমর রাযি.-এর খেলাফতের কিছুকাল বিষয়টি এমনই ছিলো। পরবর্তীতে হযরত উবাই বিন কাব রাযি.-এর ইমামতিতে উমর ফারুক রাযি. জামাতের প্রবর্তন করেন।

عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : إِنَّمَا أَخَذَ عُمَرُ بْنِ الْخَطَّابِ هَذِهِ التَّرَاوِيحَ مِنْ حَدِيثٍ سَمِعَهُ مِنِّي. قَالُوا : وَمَا هُوَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ? قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ يَقُولُ : إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى حَوْلَ الْعَرْشِ مَوْضِعًا يُسَمَّى حَظِيرَةَ الْقُدْسِ، وَهُوَ مِنَ النُّورِ فِيهَا مَلَائِكَةٌ لَا يُحْصِي عَدَدَهُمْ إِلَّا اللَّهُ تَعَالَى يَعْبُدُونَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ، عِبَادَةً لَا يَفْتُرُونَ سَاعَةً، فَإِذَا كَانَ لَيَالِي شَهْرِ رَمَضَانَ اسْتَأْذَنُوا رَبَّهُمْ أَنْ يَنْزِلُوا إِلَى الْأَرْضِ، فَيُصَلُّونَ مَعَ بَنِي آدَمَ، فَيَنْزِلُونَ كُلَّ لَيْلَةٍ الْأَرْضَ فَكُلُّ مَنْ مَسَّهُمْ أَوْ مَسُّوهُ سَعِدَ سَعَادَةً لَا يَشْقَى بَعْدَهَا أَبَدًا فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ : عِنْدَ ذَلِكَ نَحْنُ أَحَقُّ بِهُذَا فَجَمَعَ النَّاسَ لِلتَّرَاوِيحَ وَنَصَبَهَا.
হযরত আলী রাযি. বলেন, উমর রাযি. তারাবীহের এই পদ্ধতি চালু করেছেন আমার থেকে এক হাদীস শুনে। লোকেরা বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! কী সে হাদীস? তিনি বললেন, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, আরশের পাশে নূরে পরিপূর্ণ একটি স্থান আছে, যাকে হাজিরাতুল কুদ্‌স বলা হয়। তাতে কত ফেরেশতা আছে তা আল্লাহই ভালো জানেন। সেখানে তারা আল্লাহর ইবাদত করেন। মুহূর্তের জন্য তারা ইবাদত থেকে গাফেল হন না। রমযানের রাত এলে তারা দুনিয়ায় নেমে আসার আবেদন করেন। প্রত্যেক মুমিনের সঙ্গে নামায আদায় করেন। যার সঙ্গেই তাদের সাক্ষাত হয়, সে চির সৌভাগ্যবান বলে গণ্য হয়। হযরত উমর রাযি. এ হাদীস শুনে বললেন, আমরাই তো এর অধিক হকদার। তাই তিনি লোকদেরকে একসঙ্গে জামাআতে তারাবীহ নামায পড়ার আদেশ জারি করলেন।

عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ خَرَجَ فِي لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ فَسَمِعَ الْقِرَاءَةَ فِي الْمَسَاجِدِ، وَرَأَى الْقَنَادِيلَ تَظْهَرُ فِي الْمَسَاجِدِ فَقَالَ : نَوَّرَ اللَّهُ قَبْرَ عُمَرَ كَمَا نَوَّرَ مَسَاجِدَنَا بِالْقُرْآنِ.
হযরত আলী রাযি. রমযানের এক রাতে বের হয়ে মসজিদ থেকে কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ শুনতে পেলেন। আর তিনি দেখলেন, মসজিদে অনেকগুলো প্রদীপ ঝলমল করছে। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ উমর রাযি.-এর কবরকে আলোকিত করুন, যেভাবে তিনি কুরআনের মাধ্যমে আমাদের মসজিদগুলোকে আলোকিত করেছেন।

টিকাঃ
৭০৬. সূরা রহমান: আয়াত-৭২
৭০৭. শুআবুল ঈমান: হাদীস- ৩৬৩৪; সহীহ ইবনে খুযাইমা: হাদীস-১৮৮৬; সনদটি জয়ীফ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৩/১৪৪]।।
৭০৮. তিন মাস তিন জনের সম্পর্কিত হাদীসগুলোকে মুহাদ্দিসীনে কেরাম বাতিল বলেছেন। আলাদাভাবে প্রত্যেক মাসের কিছু ফযীলত বিদ্যমান [আল-মানাবুল মুনীফ: হাদীস-৭৬; আল-আসরার হাদীস-৪৩৮; ফায়যুল কাদির: ৪/১৮]
৭০৯. মুসনাদে আহমাদ হাদীস-২২৭৬৫; আহাদীসে মুখতারাহ ৩৪২; হাদীসটি হাসান সহীহ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৩/১৭৮; সহীহ ইবনে খুযাইমা: হাদীস-২১৯০]।।
৭১০. সহীহ বুখারী: হাদীস-২০১২; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৭৬১; সুনানে তিরমিযী হাদীস-৮০৬। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে 'হাসান সহীহ' বলেছেন।
৭১১. সহীহ বুখারী: হাদীস-২০১২; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৭৫৯, ৭৬১।
৭১২. বুখারী: হাদীস-২০১০, মুসলিম হাদীস-৭৫৯। হাদীসের মান: সহীহ।
৭১৩. শুআবুল ঈমান: হাদীস-৩৬৯৬।

ফন্ট সাইজ
15px
17px