📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 রমযানে জান্নাতকে সজ্জিত করা হয়

📄 রমযানে জান্নাতকে সজ্জিত করা হয়


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ : إِنَّ الْجَنَّةَ لَتُبَخَّرُ وَتُزَيَّنُ مِنَ الْحَوْلِ إِلَى الْحَوْلِ لِدُخُولِ شَهْرِ رَمَضَانَ، فَإِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ هَبَّتْ رِيحٌ مِنْ تَحْتِ الْعَرْشِ، يُقَالُ لَهَا الْمُثِيرَةُ فَتُصَفِّقُ وَرَقَ أَشْجَارِ الْجَنَّةِ وَحِلَقَ الْمَصَارِيعِ، فَيُسْمَعُ لِذَلِكَ طَنِينٌ لَمْ يَسْمَعِ السَّامِعُونَ أَحْسَنَ مِنْهُ، فَتَبْرُزُ الْحُورُ الْعِينُ حَتَّى يَقُمْنَ عَلَى شُرَفِ الْجَنَّةِ، فَيُنَادِينَ هَلْ مِنْ خَاطِبٍ إِلَى اللهِ تَعَالَى، فَيُزَوِّجَهُ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَ تَعَالَى مِنَّا، ثُمَّ يَقُلْنَ: يَا رَضْوَانُ مَا هَذِهِ اللَّيْلَةُ? فَيُجِيبُهُنَّ بِالتَّلْبِيَةِ، فَيَقُولُ : يَا خَيْرَاتٍ حِسَانٍ هَذِهِ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ وَيَقُولُ اللهُ: يَا رَضْوَانُ افْتَحْ أَبْوَابَ الْجِنَانِ لِلصَّائِمِينَ مِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ ﷺ وَيَقُولُ : يَا مَالِكُ أَغْلِقْ أَبْوَابَ الْجَحِيمِ عَنِ الصَّائِمِينَ مِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ ﷺ وَيَقُولُ : يَا جِبْرِيلُ اهْبِطْ إِلَى الْأَرْضِ فَصَفِّدْ مَرَدَةَ الشَّيْطَانِ وَغُلَّهُمْ بِالْأَغْلَالِ، ثُمَّ اقْذِفْهُمْ فِي لُجَجِ الْبِحَارِ حَتَّى لَا يُفْسِدُوا عَلَى أُمَّةِ حَبِيبِي مُحَمَّدٍ صِيَامَهُمْ، فَيَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى فِي كُلَّ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ : هَلْ مِنْ سَائِلٍ، فَأُعْطِيَهُ سُؤْلَهُ، هَلْ مِنْ تَائِبٍ فَأَتُوبَ عَلَيْهِ، هَلْ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ فَأَغْفِرَ لَهُ? ثُمَّ يُنَادِي : مَنْ يُقْرِضُ الْمَلِيَّ غَيْرَ الْعَدُومِ فِي الْوَفِيِّ غَيْرِ الظُّلُومِ.

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছেন, রমযান মাস উপলক্ষে সারা বছর জান্নাতকে সাজানো হয়। রমযানের প্রথম রাত এলে আরশের নিচ থেকে এক ধরনের স্নিগ্ধ বায়ু প্রবাহিত হয়, যাকে মুছীরা বলা হয়। সে বাতাসে জান্নাতের বৃক্ষসমূহ নেচে ওঠে এবং দরজাসমূহ কেঁপে ওঠে। তখন এমন মধুর শব্দ ভেসে আসে, যার থেকে উত্তম শব্দ কেউ শোনেনি। এতে আনত নয়না হুরগণ জান্নাত থেকে বের হয়ে আসে। জান্নাতের কিনারায় এসে বলতে থাকে, আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য বিয়ের প্রস্তাবকারী কেউ আছো, যার সঙ্গে তিনি আমাদের বিয়ে দিবেন? অতঃপর জান্নাতের প্রধান প্রহরী রিযওয়ানকে ডেকে বলে, রিযওয়ান! আজ কীসের রাত? রিযওয়ান বলে, হে অনিন্দ্য সুন্দরীগণ! আজ রমযানের প্রথম রাত। আল্লাহ রিযওয়ান কে ডেকে বলেন, রিযওয়ান! মুহাম্মাদের উম্মতের রোযাদারদের জন্য জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দাও। জাহান্নামের প্রধান প্রহরী মালেককে ডেকে বলেন, হে মালেক! মুহাম্মাদের উম্মতের রোযাদারদের জন্য জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দাও। জিবরাঈলকে বলেন, হে জিবরাঈল! জমিনে অবতরণ কর এবং দুষ্ট শয়তানদেরকে বেড়ি পরিয়ে সমুদ্রের গভীরে নিক্ষেপ কর, যাতে আমার হাবীব মুহাম্মাদের উম্মতের সিয়াম পালনে বিঘ্নতা সৃষ্টি করতে না পারে। রমযানের প্রতি রাতে তিনি ডেকে বলেন, আছো কোনো প্রার্থনা কারী যার প্রার্থনা আমি কবুল করবো? আছো কোনো তাওবাকারী, যার তাওবা আমি কবুল করবো? আছো কোনো ইস্তিগফারকারী যাকে আমি ক্ষমা করবো? অতঃপর একজন ঘোষক ঘোষণা করে, কে আল্লাহকে ঋণ দিবে, যিনি অঢেল ধন-সম্পদের অধিকারী, যিনি পূর্ণরূপে দানকারী।

টিকাঃ
৬৯৮. শুআবুল ঈমান: হাদীস-৩৬৯৫; আত-তারগীব লিল-আসবাহানী হাদীস-১৭৪১; ইবনে আররাক বলেন, হাদীসটি সহীহ নয়। অর্থাৎ, জয়ীফ [তানযীহুশ শারীয়াহ: ২/১৪৬]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ইফতারের সময় জাহান্নামীদেরকে মুক্তিদান

📄 ইফতারের সময় জাহান্নামীদেরকে মুক্তিদান


রমযানের প্রতি দিনের ইফতারের সময় আল্লাহ তা'আলা এমন দশ লক্ষ জাহান্নামীকে মুক্তি দান করেন, যাদের জন্য জাহান্নামের শান্তি অবধারিত হয়ে গিয়েছিল। জুমআর রাতে ও দিনে আরো দশ লক্ষ জাহান্নামীকে মুক্তি দান করেন, যাদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি অবধারিত ছিল। রমযানের শেষ দিনে পুরো মাস জুড়ে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের সমসংখ্যক বক্তিকে জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তি দেন। লাইলাতুল ক্বদরে আল্লাহর নির্দেশে জিবরাঈল আ. একদল ফেরেশতাসহ পৃথিবীতে অবতরণ করেন। তাঁর সঙ্গে একটি সবুজ পতাকা থাকে। তিনি তা কাবার উপরে স্থাপন করেন। তার ছয়শত ডানা আছে। যার দু'টি কেবল শবে কদরে প্রসারিত করেন। ডানা দু'টি প্রসারিত করলে পূর্ব পশ্চিম ছাড়িয়ে যায়। অতঃপর জিবরাঈল ফেরেশতাগণকে উম্মতের মধ্যে ছড়িয়ে দেন। তারা দাড়িয়ে বা বসে থাকেন। নামায ও যিকিররত সকলকে সালাম প্রদান করেন, মুসাফাহা করেন এবং তাদের দুআয় আমীন বলেন। সুবহে সাদিক পর্যন্ত এ কাজ অব্যাহত থাকে। সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার পর জিবরাঈল ফেরেশতাদেরকে ডেকে বলেন, হে ফেরেশতাগণ! ফিরে চলো, ফিরে যাও, তখন তারা বলতে থাকেন, হে জিবরাঈল! আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদের উম্মতের প্রয়োজন ও হাজাতসমূহের ব্যাপারে কী করলেন? তিনি বলেন, আল্লাহ তাদের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন এবং চার ধরনের ব্যক্তি ব্যতীত তাদের সকলকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। ফেরেশতাগণ বলেন, এ চার ধরনের ব্যক্তি কারা? তিনি বলেন- ১. মদে অভ্যস্ত ব্যক্তি। ২. পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান। ৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী। ৪. তিন দিনের অধিক সময় ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নকারী।

টিকাঃ
৬৯৯. শুআবুল ঈমান: হাদীস-৩৬৯৫।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ঈদুল ফিতরের রাত

📄 ঈদুল ফিতরের রাত


এরপর ঈদুল ফিতরের রাত আসে। এ রাতকে বলা হয় পুরস্কারের রাত্রি। ঈদের সকালে আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদেরকে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার নির্দেশ প্রদান করেন। তারা জমিনে নেমে আসেন এবং অলিগলিতে দাঁড়িয়ে উচ্চ আওয়াজে বলতে থাকেন, হে মুহাম্মাদের উম্মত! দয়াময় রবের নিকট চলো, তিনি তোমাদের বিপুল পরিমাণে দান করবেন এবং বড় গুনাহও ক্ষমা করে দিবেন। তাদের আওয়াজ জিন-ইনসান ব্যতীত সকলে শুনতে পায়। লোকেরা ঈদগাহে উপস্থিত হলে আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদেরকে বলেন, হে ফেরেশতগণ! যে শ্রমিক কাজ সমাপ্ত করে তার প্রতিদান কী হওয়া উচিত? তারা বলেন, হে রব! তার পূর্ণ পারিশ্রমিক দেওয়া চাই। তখন আল্লাহ বলেন, ফেরেশতাগণ! আমি তোমাদেরকে সাক্ষি রেখে বলছি, তাদের রমযান জুড়ে রোযা ও ইবাদতের বিনিময়ে আমি তাদেরকে আমার সন্তুষ্টি ও মাগফেরাত দান করলাম। অতঃপর আল্লাহ বলেন, হে বান্দাগণ! তোমরা আমার নিকট চাও। আজ তোমরা দীন ও দুনিয়া বিষয়ে যাই চাও, আমি তোমাদেরকে তাই দান করব।

টিকাঃ
৭০০. শুআবুল ঈমান হাদীস-৩৬৯৫; আত-তারগীব লিল-আসবাহানী হাদীস-১৭৪১; ইবনে আররাক বলেন, হাদীসটি সহীহ নয়। অর্থাৎ জয়ীফ [তানযীহুশ শারীয়াহ: ২/১৪৬]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 রমযানের পাঁচটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য

📄 রমযানের পাঁচটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أُعْطِيَتْ أُمَّتِي فِي شَهْرِ رَمَضَانَ خَمْسَ خِصَالٍ، لَمْ تُعْطَ أُمَّةٌ قَبْلَهَا: خُلُوفُ فَمِّ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ، وَتَسْتَغْفِرُ لَهُمُ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يُفْطِرُوا، وَتُصَفَّدُ فِيهِ مَرَدَةُ الشَّيْطَانِ، فَلَا يَخْلُصُونَ فِيهِ إِلَى مَا كَانُوا يَخْلُصُونَ فِي غَيْرِهِ، وَيُزَيِّنُ اللَّهُ كُلَّ يَوْمٍ جَنَّتَهُ، وَيَقُولُ لَهَا : يُوشِكُ عِبَادِي الصَّالِحُونَ أَنْ تُلْقَى عَنْهُمُ الْمُؤْنَةُ وَالْأَذَى، وَيَصِيرُوا إِلَيْكِ، وَيَغْفِرُ لَهُمْ فِي آخِرِ لَيْلَةٍ. قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَهِيَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ? قَالَ : لَا وَلَكِنَّ الْعَامِلَ إِنَّمَا يُوَفَّى أَجْرَهُ إِذَا قَضَى عَمَلَهُ.

হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, রমযানে আমার উম্মতকে এমন পাঁচটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যা পূর্বের কোনো উম্মমতকে দান করা হয়নি। যথা ১. রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকের সুঘ্রাণের চেয়েও উত্তম। ২. ইফতার পর্যন্ত ফেরেশতাগণ তাদেরকে মাগফেরাতের দোয়া করতে থাকেন। ৩. এ মাসে দুষ্ট শয়তানদেরকে বন্দী করে রাখা হয়। ফলে তারা অন্য মাসে যা করতে সক্ষম, এ মাসে তা করতে পারে না। ৪. আল্লাহ তা'আলা প্রতিদিন তাদের জন্য জান্নাত সাজান এবং জান্নাতকে বলেন, অচিরেই আমার সৎকর্মশীল বান্দাগণ দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট ছুড়ে ফেলে তোমার কাছে এসে বিশ্রাম নিবে। ৫. শেষ রাত্রিতে তাদেরকে ক্ষমা করা হয়। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল সে রাত কি ক্বদরের রাত? তিনি বললেন, না। নিয়ম হলো শ্রমিককে তার কাজ সমাপ্ত করার পর পারিশ্রমিক দিয়ে দেওয়া।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يُبَشِّرُ أَصْحَابَهُ وَيَقُولُ: قَدْ جَاءَكُمْ شَهْرُ رَمَضَانَ، شَهْرُ مُبَارَكٌ قَدِ افْتَرَضَ اللهُ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ، تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ، وَتُغَلُّ فِيهِ مَرَدَةُ الشَّيْطَانِ، فَلَا يَخْلُصُونَ فِيهِ إِلَى مَا كَانُوا يَخْلُصُونَ فِي غَيْرِهِ، وَفِيهِ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ সাহাবীগণকে সুসংবাদ দিয়ে বললেন, তোমাদের নিকট রমযান মাস উপস্থিত হয়েছে। এ মাস হলো বরকতময় মাস। আল্লাহ তা'আলা তোমাদের উপর এ মাসের রোযা ফরজ করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত রাখা হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। দুষ্ট শয়তানদেরকে বেড়ি পরানো হয়। এতে রয়েছে ক্বদরের রাত্রি, যা হাজার মাস থেকেও উত্তম।

টিকাঃ
৭০১. শুআবুল ঈমান: হাদীস-৩৬০৩; আত-তারগীব, মুনযিরী : ২/১১৩; হাদীসটির সনদ গ্রহণযোগ্য [দিমইয়াতি, মুনযিরী]।
৭০২. মুসনাদে আহমাদ: ১৪/৫৪১; শুআবুল ঈমান হাদীস-৩৬০০; হাদীসটি সহীহ [আরনাউত]

ফন্ট সাইজ
15px
17px