📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তির ঘটনা

📄 জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তির ঘটনা


বসরার জনৈক ব্যক্তি থেকে মুহাম্মদ বিন আফজাল বর্ণনা করেন। এক গ্রাম্য ব্যক্তির অনেক বকরি ছিল। তবে সে দান সদকা কম করতো। একবার সে শীর্ণ একটি ছাগল ছানা সদকা করল। একদিন স্বপ্নে দেখল, তার বকরিগুলো তাকে শিং দিয়ে গুঁতো মারছে, আর সদকা করা উক্ত ছাগল ছানাটি তাকে রক্ষা করতে চেষ্টা করছে। ঘুম থেকে উঠে সে বলল, আল্লাহর কসম! তাওফীক হলে অবশ্যই তোমার অনুসারী বৃদ্ধি করবো। এরপর থেকে সে সর্বদা দান-সদকা করত।

عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا سَيُكَلِّمُهُ رَبُّهُ، فَيَنْظُرُ أَيْمَنَ مِنْهُ فَلَا يَرَى شَيْئًا إِلَّا مَا قَدَّمَهُ، ثُمَّ يَنْظُرُ شِمَالًا مِنْهُ فَلَا يَرَى شَيْئًا إِلَّا مَا قَدَّمَهُ ثُمَّ يَنْظُرُ أَمَامَهُ فَلَا يَرَى شَيْئًا إِلَّا النَّارَ فَاتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ.
আদী বিন হাতেম তায়ী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের প্রত্যেকে তার রবের সঙ্গে কথোপকথন করবে। সে তার ডানে বামে তাকাবে। ইতঃপূর্বে আখেরাতের জন্য যা প্রেরণ করেছে, কেবল তাই দেখতে পাবে। অতঃপর সামনে তাকাবে। সেখানে কেবল আগুনই দেখতে পাবে। সুতরাং একটি খেজুরের টুকরো দানের মাধ্যমে হলেও তোমরা আগুন থেকে আত্মরক্ষা কর।

টিকাঃ
৬৯৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-১৪১৩; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১০১৬।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দশটি উত্তম গুণ

📄 দশটি উত্তম গুণ


ফকীহ আবু লাইস সমরকন্দী রহ. বলেন, দশটি গুণ বান্দাকে শ্রেষ্ঠদের কাতারে পৌঁছে দেয় এবং এর মাধ্যমে দারাজাত বুলন্দ হয়। যথা- ১. কাছরাতুস সাদাক্বাহ অর্থাৎ, অধিকহারে সদকা করা। ২. কাছরাতু তিলাওয়াতিল কুরআনি অর্থাৎ, অধিকহারে কুরআন তিলাওয়াত করা। ৩. আলজুলূসু মায়া মাই ইউযাক্কিরুহু বিল আ-খিরাতি, ওয়াইউযাহিদাহু ফিদ্দুনইয়া অর্থাৎ, এমন লোকদের সাথে উঠাবসা করা, যে তাকে আখেরাতের স্মরণ করিয়ে দেয় এবং দুনিয়ার ব্যাপারে পরহেজগার হতে উদ্বুদ্ধ করে। ৪. সিলাতুর রাহিম অর্থাৎ, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা। ৫. ইয়াদাতুল মারীদ্বি অর্থাৎ, অসুস্থকে দেখতে যাওয়া। ৬. ক্বিল্লাহু মুখালাতওয়াতিল আগ্নিয়া-ই আল্লাযীনা শাগালাহুম গিনাহুম আনিল আ-খিরাতি অর্থাৎ, এমন ধনীদের সঙ্গে কম বসা, যাদের ধনৈশ্বর্য আখেরাত থেকে উদাসীন করে রাখে। ৭. কাছরাতুত তাফাক্কুরি ফী মা হুয়া সওয়াইরুন ইলাইহি গদান অর্থাৎ, ভবিষ্যতে তার পরিণতি কি হবে এ ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করা। ৮. ক্বছরুল আমালি, ওয়া কাছরাতু যিকরিল মাওতি অর্থাৎ, আশা সংক্ষিপ্ত করা এবং অধিক পরিমাণে মৃত্যুর স্মরণ করা। ৯. লুজূমুস সামতি, ওয়া ক্বিল্লাহুল কালা-মি অর্থাৎ, নীরবতা অবলম্বন এবং কথা অল্প বলা। ১০. আততাওয়া-দ্বু অর্থাৎ, বিনয় অবলম্বন করা তথা সাধারণ কাপড় পরিধান করা, দরিদ্রদেরকে ভালোবাসা, তাদের সাহচার্য অবলম্বন করা এবং ইয়াতীম ও মিসকীনদের মাথায় হাত রাখা।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সদকার সওয়াব বৃদ্ধিকারী সাতটি বিষয়

📄 সদকার সওয়াব বৃদ্ধিকারী সাতটি বিষয়


বলা হয়, সাতটি গুণ সদকার সওয়াব বৃদ্ধি করে এবং তাকে মহান করে। যথা-
১. হালাল সম্পদ থেকে সদকা করা। কারণ, আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন- আনফেকু মিন ত্বোয়াইয়িবা-তি মা কাসাবতুম অর্থ: তোমাদের উপার্জিত উত্তম বস্তু থেকে সদকা কর।
২. সম্পদ অল্প হলেও তা থেকে সদকা করা।
৩. দ্রুত দান করা, যেন সুযোগ হাতছাড়া হয়ে না যায়।
৪. উত্তম বস্তু দান করা এবং নিম্ন ও কম দামী জিনিস দান না করা। কুরআনে এসেছে- ওয়ালা তায়াম্মামুল খাবীছা মিনহু তুনফিক্বূনা ওয়ালাস্তুম বিআ-খিযীহি ইল্লা আন তুগমিদ্বূ ফীহি ওয়ায়লামূ আন্নাল্লা-হা গানিয়্যুন হামীদ অর্থ: আর তার নিকৃষ্ট বস্তু ব্যয় করার সংকল্প কর না। অথচ তোমরা উহা গ্রহণ করবে না যদি না তোমরা চোখ বন্ধ করে থাক। জেনে রেখ, নিশ্চয় আল্লাহ অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত।
৫. গোপনে দান করা, যাতে লৌকিকতা না আসে।
৬. দান করে খোঁটা দেয়া থেকে বিরত থাকা।
৭. সদকার প্রাপককে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকা, যাতে সওয়াব নষ্ট হয়ে না যায়। লা তুবতিলূ সাদাক্বাতাকুম বিলমান্নি ওয়ালআজা অর্থ: তোমরা তোমাদের সদকাকে খোঁটা ও কষ্ট প্রদানের মাধ্যমে বাতিল করে দিয়ো না।

টিকাঃ
৬৯৫. সূরা বাকারা: আয়াত-২৬৭
৬৯৬. সূরা বাকারা: আয়াত-২৬৭
৬৯৭. সূরা বাকারা: আয়াত-২৬৪

ফন্ট সাইজ
15px
17px