📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সদকা অপছন্দ করার পরিণাম

📄 সদকা অপছন্দ করার পরিণাম


عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا، أَنَّهَا كَانَتْ جَالِسَةً ذَاتَ يَوْمِ إِذْ جَاءَتْهَا امْرَأَةٌ سَتَرَتْ يَدَهَا فِي كُمِّهَا فَقَالَتْ لَهَا عَائِشَةُ : مَا لَكِ لَا تُخْرِجِينَ يَدَكِ مِنْ كُمِّكِ قَالَتْ : لَا تَسْأَلِينِي يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ. قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا لَا بُدَّ لَكِ أَنْ تُخْبِرِينِي. فَقَالَتْ : يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّهُ كَانَ لِي أَبَوَانِ، فَكَانَ أَبِي يُحِبُّ الصَّدَقَةَ، وَأَمَّا أُمِّي فَكَانَتْ تُبْغِضُ الصَّدَقَةَ، فَلَمْ أَرَهَا تَصَدَّقَتْ بِشَيْءٍ إِلَّا قِطْعَةَ شَحْمٍ وَتَوْبًا خَلِقًا، فَلَمَّا مَاتَا رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ، كَأَنَّ الْقِيَامَةَ قَدْ قَامَتْ، وَرَأَيْتُ أُنِّي قَائِمَةٌ بَيْنَ الْخَلْقِ وَالْخَلَقَةُ مَوْضُوعَةٌ عَلَى عَوْرَتِهَا وَرَأَيْتُ الشَّحْمَةَ بِيَدِهَا، وَهِيَ تَلْحَسُهَا، وَتُنَادِي وَاعَطَشَاهُ، وَرَأَيْتُ أَبِي عَلَى شَفِيرِ الْخَوْضِ وَهُوَ يَسْقِي الْمَاءَ وَلَمْ يَكُنْ عِنْدَ أَبِي صَدَقَةٌ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ سَقْيِهِ الْمَاءَ، فَأَخَذْتُ قَدَحًا مِنْ مَاءٍ فَسَقَيْتُ أُمِّي فَنُودِيَ مِنْ فَوْقِ: أَلَا مَنْ سَقَاهَا شُلَّتْ يَدُهُ فَاسْتَيْقَظْتُ وَقَدْ شُلَّتْ يَدِي.

আয়েশা রাযি. হতে বর্ণিত। তিনি একদিন বসা ছিলেন। জনৈকা নারী আস্তিনে হাত লুকিয়ে সেখানে উপস্থিত হলো। আয়েশা রাযি. বললেন, আস্তিনে হাত লুকিয়ে রাখছো কেন? সে বলল, হে উম্মুল মুমিনীন! এটা জিজ্ঞেস করবেন না। আয়েশা রাযি. বললেন, তোমাকে অবশ্যই বলতে হবে! সে বলল, আমার পিতা সদকা করতে পছন্দ করতেন। কিন্তু আমার মা সদকা পছন্দ করতেন না। চর্বির টুকরা কিংবা পুরোনো কাপড় ব্যতীত কোনো কিছু তাকে সদকা করতে দেখিনি। তাদের মৃত্যুর পর আমি স্বপ্নে দেখলাম, যেন কিয়ামত কায়েম হয়ে গেছে। মাকে দেখলাম, সকলের মাঝে পুরোনো টুকরো কাপড়ের মাধ্যমে লজ্জা ঢেকে দাঁড়িয়ে আছেন। হাতে চর্বি নিয়ে লেহন করছেন। আর হায় 'পিপাসা' হায় 'পিপাসা' বলে চিৎকার করছেন। অপরদিকে আব্বাকে দেখলাম হাউজে কাওসারের পাশে বসে লোকদেরকে পানি পান করাচ্ছেন। মানুষকে পানি পান করানোই ছিল তার নিকট সর্বাধিক প্রিয় সদকা। আমি এক পেয়ালা পানি নিয়ে মাকে পান করালাম। তখন উপর থেকে আওয়াজ এল, যে তাকে পান করিয়েছে, তার হাত অবশ হয়ে যাক। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার হাত অবশ হয়ে গেছে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মালেক বিন দিনারের স্ত্রীর ঘটনা

📄 মালেক বিন দিনারের স্ত্রীর ঘটনা


وَذُكِرَ أَنَّ مَالِكَ بْنَ دِينَارٍ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى كَانَ جَالِسًا ذَاتَ يَوْمٍ فَجَاءَ سَائِلٌ وَسَأَلَهُ شَيْئًا وَكَانَ عِنْدَهُ سَلَّةُ تَمْرٍ، فَقَالَ لِامْرَأَتِهِ: ائْتِينِي بِهَا فَأَخَذَهَا مَالِكٌ فَأَعْطَى نِصْفَهَا إِلَى السَّائِلِ، وَرَدَّ نِصْفَهَا إِلَى امْرَأَتِهِ فَقَالَتْ لَهُ امْرَأَتُهُ : مِثْلُكَ يُسَمَّى زَاهِدًا، هَلْ رَأَيْتَ أَحَدًا يَبْعَثُ إِلَى الْمَلِكِ هَدِيَّةً مُكَسَّرَةً? فَدَعَا مَالِكٌ بِالسَّائِلِ وَأَعْطَاهُ الْبَقِيَّةَ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى امْرَأَتِهِ فَقَالَ لَهَا: يَا هَذِهِ اجْتَهِدِي ثُمَّ اجْتَهِدِي. فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ : خُذُوهُ فَغُلُوهُ (৩০) ثُمَّ الْجَحِيمَ صَلُّوهُ (৩১) ثُمَّ فِي سِلْسِلَةٍ ذَرْعُهَا سَبْعُونَ ذِرَاعًا فَاسْلُكُوهُ (৩২) فَيُقَالُ : مِنْ أَيْنَ هَذِهِ الشَّدَّةُ? قَالَ: قَالَ: إِنَّهُ كَانَ لَا يُؤْمِنُ بِاللهِ الْعَظِيمِ وَلَا يَحُضُّ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ اعْلَمِي أَيَّتُهَا الْمَرْأَةُ قَدْ طَرَحْنَا مِنْ عُنُقِنَا نِصْفَهَا بِالْإِيمَانِ، فَيَنْبَغِي أَنْ نَطْرَحَ النَّصْفَ الْآخَرَ بِالصَّدَقَةِ.

বর্ণিত আছে, মালেক বিন দীনার একদা বসে ছিলেন। এক ভিক্ষুক এসে তার নিকট সওয়াল করল। তার ঘরে ছিল এক টুকরা খেজুর। তিনি স্ত্রীকে তা আনতে বললেন। অর্ধেক খেজুর ভিক্ষুককে দিয়ে দিলেন। স্ত্রী তাকে বললেন, আপনার মতো লোককেও যাহেদ বলা হয়! বাদশাহর দরবারে অর্ধেক হাদিয়া পাঠাতে কাউকে দেখেছেন? মালেক ভিক্ষুককে ডেকে বাকি অর্ধেকও দিয়ে দিলেন। অতঃপর স্ত্রীকে বললেন, তুমি আরো পরিশ্রম কর, হিম্মতের সঙ্গে আমল কর। কারণ, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন-
খুজুহু ফাগু্লুহু ছুুয়ম্মাল জাহীমা সাল্লুহু ছুুয়ম্মা ফী সিলসিলাতিন যারউহা সাবয়ূনা যেরাআ ফাসলুকুহু তাকে ধর, অতঃপর তাকে বেড়ি পরিয়ে দাও। তারপর তাকে নিক্ষেপ কর জাহান্নামে। তারপর তাকে বাঁধ এমন শিকলে, যার দৈর্ঘ্য হবে সত্তর হাত। প্রশ্ন করা হবে, এই কঠিন আযাব কেন? তখন বলা হবে-
ইন্নাহু কানা লা ইউমিনু বিল্লাহিল আজীম ওয়ালা ইয়াহুদ্দু আলা ত্বোয়ায়ামিল মিসকীন অর্থ: সে তো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করত না, আর মিসকীনকে খাদ্যদানে উৎসাহিত করত না।
হে আল্লাহর বান্দী! আমল করতে থাকো। আমরা ঈমান আনার মাধ্যমে সে বিপদের অর্ধেক দূর করেছি, বাকি অর্ধেক দূর করতে হবে সদকার মাধ্যমে।

টিকাঃ
৬৯২. সূরা আল হাক্কাহ ৩০-৩২
৬৯৩. সূরা আল হাক্কাহ ৩৩-৩৪

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তির ঘটনা

📄 জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তির ঘটনা


বসরার জনৈক ব্যক্তি থেকে মুহাম্মদ বিন আফজাল বর্ণনা করেন। এক গ্রাম্য ব্যক্তির অনেক বকরি ছিল। তবে সে দান সদকা কম করতো। একবার সে শীর্ণ একটি ছাগল ছানা সদকা করল। একদিন স্বপ্নে দেখল, তার বকরিগুলো তাকে শিং দিয়ে গুঁতো মারছে, আর সদকা করা উক্ত ছাগল ছানাটি তাকে রক্ষা করতে চেষ্টা করছে। ঘুম থেকে উঠে সে বলল, আল্লাহর কসম! তাওফীক হলে অবশ্যই তোমার অনুসারী বৃদ্ধি করবো। এরপর থেকে সে সর্বদা দান-সদকা করত।

عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا سَيُكَلِّمُهُ رَبُّهُ، فَيَنْظُرُ أَيْمَنَ مِنْهُ فَلَا يَرَى شَيْئًا إِلَّا مَا قَدَّمَهُ، ثُمَّ يَنْظُرُ شِمَالًا مِنْهُ فَلَا يَرَى شَيْئًا إِلَّا مَا قَدَّمَهُ ثُمَّ يَنْظُرُ أَمَامَهُ فَلَا يَرَى شَيْئًا إِلَّا النَّارَ فَاتَّقُوا النَّارَ وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ.
আদী বিন হাতেম তায়ী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের প্রত্যেকে তার রবের সঙ্গে কথোপকথন করবে। সে তার ডানে বামে তাকাবে। ইতঃপূর্বে আখেরাতের জন্য যা প্রেরণ করেছে, কেবল তাই দেখতে পাবে। অতঃপর সামনে তাকাবে। সেখানে কেবল আগুনই দেখতে পাবে। সুতরাং একটি খেজুরের টুকরো দানের মাধ্যমে হলেও তোমরা আগুন থেকে আত্মরক্ষা কর।

টিকাঃ
৬৯৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-১৪১৩; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১০১৬।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দশটি উত্তম গুণ

📄 দশটি উত্তম গুণ


ফকীহ আবু লাইস সমরকন্দী রহ. বলেন, দশটি গুণ বান্দাকে শ্রেষ্ঠদের কাতারে পৌঁছে দেয় এবং এর মাধ্যমে দারাজাত বুলন্দ হয়। যথা- ১. কাছরাতুস সাদাক্বাহ অর্থাৎ, অধিকহারে সদকা করা। ২. কাছরাতু তিলাওয়াতিল কুরআনি অর্থাৎ, অধিকহারে কুরআন তিলাওয়াত করা। ৩. আলজুলূসু মায়া মাই ইউযাক্কিরুহু বিল আ-খিরাতি, ওয়াইউযাহিদাহু ফিদ্দুনইয়া অর্থাৎ, এমন লোকদের সাথে উঠাবসা করা, যে তাকে আখেরাতের স্মরণ করিয়ে দেয় এবং দুনিয়ার ব্যাপারে পরহেজগার হতে উদ্বুদ্ধ করে। ৪. সিলাতুর রাহিম অর্থাৎ, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা। ৫. ইয়াদাতুল মারীদ্বি অর্থাৎ, অসুস্থকে দেখতে যাওয়া। ৬. ক্বিল্লাহু মুখালাতওয়াতিল আগ্নিয়া-ই আল্লাযীনা শাগালাহুম গিনাহুম আনিল আ-খিরাতি অর্থাৎ, এমন ধনীদের সঙ্গে কম বসা, যাদের ধনৈশ্বর্য আখেরাত থেকে উদাসীন করে রাখে। ৭. কাছরাতুত তাফাক্কুরি ফী মা হুয়া সওয়াইরুন ইলাইহি গদান অর্থাৎ, ভবিষ্যতে তার পরিণতি কি হবে এ ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করা। ৮. ক্বছরুল আমালি, ওয়া কাছরাতু যিকরিল মাওতি অর্থাৎ, আশা সংক্ষিপ্ত করা এবং অধিক পরিমাণে মৃত্যুর স্মরণ করা। ৯. লুজূমুস সামতি, ওয়া ক্বিল্লাহুল কালা-মি অর্থাৎ, নীরবতা অবলম্বন এবং কথা অল্প বলা। ১০. আততাওয়া-দ্বু অর্থাৎ, বিনয় অবলম্বন করা তথা সাধারণ কাপড় পরিধান করা, দরিদ্রদেরকে ভালোবাসা, তাদের সাহচার্য অবলম্বন করা এবং ইয়াতীম ও মিসকীনদের মাথায় হাত রাখা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px