📄 বদান্যতা ও কার্পণ্যের শেকড়
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: السَّخَاوَةُ شَجَرَةٌ أَصْلُهَا فِي الْجَنَّةِ، وَأَغْصَانُهَا مُتَدَلَّيَةٌ فِي الدُّنْيَا فَمَنْ تَعَلَّقَ بِغُصْنٍ مِنْهَا مَدَّهُ إِلَى الْجَنَّةِ، وَالْبُخْلُ شَجَرَةٌ أَصْلُهَا فِي النَّارِ، وَأَغْصَانُهَا مُتَدَلَّيَةٌ فِي الدُّنْيَا فَمَنْ تَعَلَّقَ بِغُصْنٍ مِنْهَا مَدَّهُ إِلَى النَّارِ.
হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, বদান্যতা একটি বৃক্ষ যার শেকড় জান্নাতে এবং তার শাখা প্রশাখা দুনিয়াতে ছড়িয়ে আছে। যে তার শাখা আঁকড়ে ধরবে বৃক্ষ তাকে জান্নাতের দিকে টেনে নেবে। অনুরূপ কার্পণ্যও একটি বৃক্ষ, যার শেকড় জাহান্নামে এবং তার শাখা প্রশাখা দুনিয়াতে ছড়িয়ে আছে। যে তার শাখা আঁকড়ে ধরবে, বৃক্ষ তাকে জাহান্নামে টেনে নেবে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : الْبَخِيلُ بَعِيدٌ مِنَ اللَّهِ، بَعِيدٌ مِنَ الْجَنَّةِ بَعِيدٌ مِنَ النَّاسِ، قَرِيبٌ مِنَ النَّارِ، وَالسَّخِيُّ قَرِيبٌ مِنَ الْجَنَّةِ، قَرِيبٌ مِنَ النَّاسِ، بَعِيدٌ عَنِ النَّارِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেছেন, কৃপণ আল্লাহ থেকে দূরে, জান্নাত থেকে দূরে, মানুষ থেকে দূরে এবং জাহান্নামের অতি নিকটে। দানশীল আল্লাহর নিকটে, জান্নাতের নিকটে, মানুষের নিকটে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে।
অপর হাদীসে রাসূল বলেন- حَصَّنُوا أَمْوَالَكُمْ بِالزَّكَاةِ، وَدَاوُوا مَرْضَاكُمْ بِالصَّدَقَةِ، وَاسْتَقْبِلُوا أَنْوَاعَ الْبَلَاءِ بِالدُّعَاءِ. তোমরা যাকাতের মাধ্যমে সম্পদের সুরক্ষা কর এবং সদকার মাধ্যমে অসুস্থতার চিকিৎসা কর। আর বিপদাপদকে দোয়া দ্বারা বিনিময় কর।
টিকাঃ
৬৭৬. শুআবুল ঈমান: হাদীস-১০৮৭৫; হাদীসটি অত্যন্ত দুর্বল [আল-মাওযুয়াত, তানযীহ]।
৬৭৭. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১৯৬১। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে গরীব (জয়ীফ) বলেছেন।
৬৭৮. মারাসেলে আবী দাউদ হাদীস-১০৫; শোয়বুল ঈমান হাদীস-৩৫৫৭। শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন [সহীহুল জামে-৩৩৫৮]।
📄 জান্নাতের দরজার লেখা তিন বাক্য
হযরত নাযযাল বিন সাবারাহ রাযি. বলেন, জান্নাতের দরজায় তিনটি বাক্য লেখা আছে। যথা- ১. لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ অর্থাৎ, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। ২. أُمَّةٌ مُذْنِبَةٌ وَرَبُّ غَفُورٌ অর্থাৎ, মানুষ গুনাহগার, মহান প্রতিপালক ক্ষমাশীল। ৩. وَجَدْنَا مَا عَمِلْنَا رَبِحْنَا مَا قَدَّمْنَا خَسِرْنَا مَا خَلَّفْنَا অর্থাৎ, আমরা যা আমল করেছি, তা পেয়েছি। যা সামনে পাঠিয়েছি, তাতে লাভ হয়েছে। আর যা পিছনে রেখে এসেছি, তাতে লোকসান হয়েছে।
বলা হয়, পাচঁটি বিষয় থেকে যে বিরত থাকবে, আল্লাহ তাকে পাচঁটি জিনিস থেকে বঞ্চিত করবেন। যথা-
১. মিয়াম মানায়ায যাকাতা মানাআল্লা-হু মিনহু হিফজাল মা-লি অর্থাৎ, যাকাত আদায় থেকে যে বিরত থাকবে, আল্লাহ তাকে সম্পদের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করবেন।
২. মিয়াম মানায়াস সাদাক্বাতা মানাআল্লা-হু মিনহুল আফিয়াহ অর্থাৎ, সদকা দেয়া থেকে যে বিরত থাকবে, আল্লাহ তাকে সুস্থতা থেকে বঞ্চিত করবেন।
৩. মিয়াম মানায়াল উশরা মানাআল্লা-হু মিনহু বারাকাতা আরদ্বিহী অর্থাৎ, জমিনের খাজনা প্রদান থেকে যে বিরত থাকবে, আল্লাহ তাকে জমিনের বরকত থেকে বঞ্চিত করবেন।
৪. মিয়াম মানায়াদ্দুআ-আ মানাআল্লা-হু মিনহুল ইজ্বাবাহ অর্থাৎ, দোয়া থেকে যে বিরত থাকে, আল্লাহ তার আমল কবুল হওয়া থেকে বঞ্চিত করবেন।
৫. মিয়াম তাহাওয়ানা বিসসালা-তি মানায়া মিনহু ইনদাল মাওতি ক্বাওলা: লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ অর্থাৎ, যে নামাযে অলসতা করবে, তার মৃত্যুর সময় কালেমা নসিব থেকে বঞ্চিত করা হবে।
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: دِرْهَمٌ يُنْفِقُهُ أَحَدُكُمْ فِي صِحَّتِهِ وَشُحِّهِ أَفْضَلُ مِنْ مِائَةٍ يُوصِي بِهَا عِنْدَ الْمَوْتِ.
হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, সুস্থতা ও প্রয়োজনের সময় এক দিরহাম দান করা মৃত্যুর সময় শত দিরহাম দান করার তুলনায় উত্তম ও অধিক ফযীলতপূর্ণ।
📄 এক আবেদ ও এক কৃপণের গল্প
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, ঈসা আ.-এর যুগে এক ব্যক্তিকে তার কৃপণতার কারণে মালউন তথা অভিশপ্ত নামে ডাকা হতো। জনৈক ব্যক্তি তার নিকট এসে বলল, হে অভিশপ্ত! আমাকে সমরাস্ত্র দাও, আমি তা যুদ্ধে ব্যবহার করব এবং এ দান তোমার মুক্তির কারণ হবে, ফলে তুমি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু সে তাকে কিছুই দিলো না। তাই লোকটি ফিরে গেল। কিছু দূর গেলে তার মধ্যে অনুশোচনা আসল। সে মনে মনে লজ্জিত হলো। আর তাকে ডেকে এনে একটি তরবারী দান করল। পথিমধ্যে হযরত ঈসা আ.-এর সঙ্গে তার সাক্ষাত হলো। তার সঙ্গে একজন আবেদও ছিলেন। সে ক্রমাগত সত্তর বছর আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছে। ঈসা আ. তাকে বললেন, এ তরবারী কোথায় পেলে? সে বলল, ঐ অভিশপ্ত ব্যক্তি আমাকে দান করেছে। একথা শুনে হযরত ঈসা আ. অত্যন্ত খুশি হলেন। উক্ত অভিশপ্ত তখন তার দরজায় বসা ছিল। ঈসা আ. আবেদকে সঙ্গে নিয়ে তার পাশ দিয়ে গমন করলেন। অভিশপ্ত সেই ব্যক্তি ঈসা আ. ও আমাকে দেখার জন্য দাঁড়িয়ে গেল এবং তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করল। আবেদ তখন বললেন, আমাকে তার আগুনে ভস্ম করার পূর্বেই আমি তার থেকে পালাই। তখন আল্লাহ তা'আলা ঈসা আ. কে ওহী পাঠালেন, আমার বান্দাকে বল, তরবারী দান এবং তোমাকে ভালোবাসার ফলে আমি তার গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছি। আর আবেদকে বল, এই অভিশপ্তই জান্নাতে তার সাথী হবে। ঈসা আ. উভয়কে সংবাদ জানালেন। একথা শুনে আবেদ বলল, আল্লাহর শপথ! আমি তার সঙ্গে জান্নাত চাই না, আমার এমন বন্ধুরও প্রয়োজন নেই। তখন আল্লাহ ঈসা আ. কে ওহীর মাধ্যমে জানালেন যে, আমার বান্দাকে বল, তুমি আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট হওনি এবং তাঁর বান্দাকে অপমান করেছ। সুতরাং আমি তোমাকে জাহান্নামী ও অভিশপ্ত বানিয়ে দিলাম। জাহান্নামে যারা তার বন্ধু হওয়ার কথা ছিল, তাদেরকে তোমার বন্ধু বানিয়ে দিলাম এবং জান্নাতে তোমার যারা বন্ধু হওয়ার কথা ছিল, তোমার সে বন্ধুদেরকে তার বন্ধু বানিয়ে দিলাম।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ مَلَكًا يُنَادِي مِنْ أَبْوَابِ السَّمَاءِ يَقُولُ مَنْ يُقْرِضِ الْيَوْمَ يَجِدْ غَدًا، وَمَلَكُ آخَرُ يُنَادِي يَا مَعْشَرَ بَنِي آدَمَ لِدُوا لِلْمَوْتِ وَابْنُوا لِلْخَرَابِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, আসমানের দরজা থেকে এক ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন, যে আজ কর্জ দেবে, ভবিষ্যতে তা পাবে। অপর ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন, হে আদম সন্তান! তোমাদের জন্ম হয়েছে মৃত্যুর জন্য এবং তোমাদের নির্মাণ বিরান হওয়ার জন্য।
টিকাঃ
৬৮২. সহীহ ইবনে হিব্বান ৫/১৪০। হাফেজ ইবনে হাজার হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন [মুওয়াফাকাতুল খবর: ২/২৯৮]
📄 উত্তম জীবন
হাদীসে বর্ণিত আছে, রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! দুনিয়া থেকে আপনার অন্তর্ধানের পর আমাদের জন্য দুনিয়ার পিঠ (জীবন) উত্তম নাকি তার পেট (মৃত্যু) উত্তম? হযরত আবূ হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল বললেন-
ইজা কা-না উমারাউকুম খিয়ারা কুম, ওয়া আগ্নিয়াউকুম আসখিয়া-আকুম, ওয়া উমুরুকুম শু-রা বাইনাকুম, ফাজাহরুল আরদ্বি খাইরুল্লাকুম মিম বাতনিহা, ওয়া ইজা কা-না উমারাউকুম শিরারা কুম, ওয়া আগ্নিয়াউকুম বুখালা-আকুম, ওয়া উমুরুকুম ইলাল নিসা-ইকুম, ফাবাতনুল আরদ্বি খাইরুল্লাকুম মিন যাহরিহা।
যখন তোমাদের নেতারা শ্রেষ্ঠ হবে, ধনীরা দানশীল হবে, যাবতীয় বিষয় পরামর্শের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে তখন তোমাদের জন্য জমিনের পেট থেকে পিঠই উত্তম। আর যখন তোমাদের নেতারা সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি হবে, ধনীরা সর্বাধিক কৃপণ হবে, তোমাদের সর্ববিষয় নারীদের সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে, তখন দুনিয়ার পিঠ থেকে পেটই উত্তম।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : إِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تَجْعَلَ كَنْزَكَ حَيْثُ لَا يَأْكُلُهُ السُّوسُ، وَلَا تَنَالُهُ النُّصُوصُ فَافْعَلْ بِالصَّدَقَةِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, তোমরা যদি চাও যে, তোমরা তোমাদের সম্পদকে এমন স্থানে সংরক্ষিত করবে, যেখানে তা ধ্বংস হবে না এবং চোরে নিবে না, তাহলে সদকার মাধ্যমেই কেবল তা সম্ভব।
عَنْ خَالِدٍ بْنِ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ الْأَنْصَارِيَّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ أَدَّى الزَّكَاةَ، وَأَقْرَى الضَّيْفَ، وَأَدَّى الْأَمَانَةَ وُقِيَ شُحَّ نَفْسِهِ.
খালেদ ইবনে যায়েদ ইবনে হারেসা আনসারী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেছেন, যে যাকাত আদায় করে, মেহমানের মেহমানদারী করে এবং আমানত আদায় করে, সে কৃপণতা থেকে নিজেকে রক্ষা করল।
টিকাঃ
৬৮৩. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২২৬৬; ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে গরীব বলেছেন।
৬৮৪. মারাসিলে আবী দাউদ হাদীস-২৩১; কিতাবুস সিকাত: ৪/২০২; জামে সগীর হাদীস-৩১১৭; হাদীসটি জয়ীফ [মাজমা ৩/৭১; জয়ীফুল জামে: ২৩২৫]।