📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মসজিদে দুনিয়াবি কথা বলা

📄 মসজিদে দুনিয়াবি কথা বলা


عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : يَأْتِي عَلَى أُمَّتِي زَمَانٌ يَكُونُ حَدِيثُهُمْ فِي مَسَاجِدِهِمْ لِأَمْرِ دُنْيَاهُمْ، لَيْسَ لِلَّهِ فِيهِمْ حَاجَةٌ فَلَا تُجَالِسُوهُمْ.
হযরত হাসান রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, আমার উম্মতের এমন এক সময় আসবে, যখন তারা মসজিদে দুনিয়াবী আলোচনায় মেতে উঠবে। এমন লোকদের আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। তোমরা তাদের সঙ্গে বসো না।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَكُونُ الْغُرَبَاءُ فِي الدُّنْيَا أَرْبَعَةٌ : قُرْآنٌ فِي جَوْفِ ظَالِمٍ، وَمَسْجِدٌ فِي نَادِي قَوْمٍ لَا يُصَلُّونَ فِيهِ وَمُصْحَفٌ فِي بَيْتٍ لَا يُقْرَأُ فِيهِ، وَرَجُلٌ صَالِحٌ مَعَ قَوْمِ سُوءٍ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, দুনিয়ায় অপরিচিত আগন্তুক চারজন। যথা- ১. জালেমের উদরে কুরআন। ২. বেনামাযীর মহল্লায় মসজিদ। ৩. এমন ঘরে কুরআন, যা পাঠ করা হয় না। ৪. অসৎ লোকদের মাঝে সৎ লোক।

টিকাঃ
৬৭০ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা : হাদীস-৩৫৩১; শুআবুল ঈমান: হাদীস-২৯৬২।
৬৭১ আল-ফিরদাউস: হাদীস-৪৩০১; সনদে অপরিচিত রাবী রয়েছে [ফায়যুল কাদীর: ৪/৪০৯]

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জামাতে নামাযের ফযীলত এবং মসজিদের সুপারিশ

📄 জামাতে নামাযের ফযীলত এবং মসজিদের সুপারিশ


عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : تُحْشَرُ الْمَسَاجِدُ كَأَنَّهَا بُخْتٌ بِيضٌ قَوَائِمُهَا مِنَ الْعَنْبَرِ، وَأَعْنَاقُهَا مِنَ الزَّعْفَرَانِ، وَرُؤُوسُهَا مِنَ الْمِسْكِ الْأَذْفَرِ، وَأَسْنَامُهَا مِنَ الزَّبَرْجَدِ الْأَخْضَرِ، وَقُوَّادُهَا الْمُؤَذِّنُونَ يَقُودُونَهَا، وَالْأَئِمَّةُ يَسُوقُونَهَا، فَيَعْبُرُونَ بِهَا فِي عَرَصَاتِ الْقِيَامَةِ كَالْبَرْقِ الْخَاطِفِ، فَيَقُولُ أَهْلُ الْقِيَامَةِ : هَؤُلَاءِ الْمَلَائِكَةُ الْمُقَرَّبُونَ وَالْأَنْبِيَاءُ الْمُرْسَلُونَ، فَيُنَادُونَهُمْ يَا أَهْلَ الْقِيَامَةِ، مَا هَؤُلَاءِ الْمَلَائِكَةُ الْمُقَرَّبُونَ وَلَا الْأَنْبِيَاءُ وَلَا الْمُرْسَلُونَ، بَلْ هُمْ أُمَّةُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّذِينَ كَانُوا يَحْفَظُونَ صَلَاةَ الْجَمَاعَةِ.
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, হাশর মাঠে মসজিদকে সাদা উটের আকৃতিতে উপস্থিত করা হবে, যার পাগুলো আম্বরের, কাঁধ জাফরানের এবং মাথা হবে মিশকের, লাগাম হবে জবরজাদ পাথরের। সেগুলোর নেতৃত্ব দিবেন, মুআযযিনগণ। পরিচালনা করবেন ইমামগণ। এর মাধ্যমে তারা হাশরের ময়দান বিদ্যুৎ ঝলকের মতো পার হয়ে যাবে। তখন হাশর মাঠের অধিবাসীরা বলবে, এরা হলো, নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা, নবী ও রাসূল। তখন তাদেরকে ডেকে বলা হবে, হে কিয়ামতবাসী। এরা নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা কিংবা নবী রাসূল নয়, বরং এরা হলো, মুহাম্মাদের উম্মত, যারা জামাআতের সঙ্গে নামায আদায়ে যত্নবান ছিলেন।

عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّةٍ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى، قَالَ : يُؤْتَى بِالْمَسَاجِدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَمْثَالِ السُّفْنِ مُكَلَّلَةً بِالدُّرِّ وَالْيَاقُوتِ فَتَشْفَعُ لِأَهْلِهَا.
ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ রহ. বলেন, কিয়ামতের দিন মসজিদসমূহকে কিশতির বেশে হাজির করা হবে, যা মণি মুক্তা ও ইয়াকুত পাথর দিয়ে সজ্জিত থাকবে। সে মসজিদ আবাদকারীদের জন্য সুপারিশ করবে।

عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ، قَالَ : يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يَبْقَى مِنَ الْإِسْلَامِ إِلَّا اسْمُهُ، وَلَا مِنَ الْقُرْآنِ إِلَّا رَسْمُهُ، يَعْمُرُونَ مَسَاجِدَهُمْ وَهِيَ خَرَابٌ مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى شَرُّ أَهْلِ ذَلِكَ الزَّمَانِ عُلَمَاؤُهُمْ، مِنْهُمْ تَخْرُجُ الْفِتَنُ وَإِلَيْهِمْ تَعُودُ.
হযরত আলী বিন আবু তালেব রাযি. বলেন, এমন সময় আসবে, যখন কেবল ইসলামের নাম অবশিষ্ট থাকবে, কুরআনের কেবল লেখা অবশিষ্ট থাকবে। তারা বড় বড় মসজিদ তৈরি করবে, কিন্তু তা আল্লাহর যিকির শূন্য হবে। সে সময়ের সর্বাধিক মন্দলোক হবে আলেমগণ। তাদের থেকেই ফিতনার সূচনা হবে এবং তাদের কাছেই ফিরে যাবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px