📄 মুমিনের দুর্গ
বলা হয়, মুমিনের দুর্গ তিনটি। যথা- ১. মসজিদ। ২. আল্লাহর যিকির। ৩. কুরআন তিলাওয়াত। এ তিনটির যে কোনো একটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে মুমিন শয়তান থেকে রক্ষিত থাকে।
📄 মসজিদ রক্ষণার ফযীলত
হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন-
مُهُورُ الْحُورِ فِي الْجَنَّةِ كَنْسُ الْمَسَاجِدِ وَعِمَارَتُهَا
মসজিদ ঝাড়ু দেয়া এবং তা দেখাশোনা করা হলো, জান্নাতী হুরদের দেনমোহর।
হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. বলেন-
مَنْ أَسْرَجَ فِي الْمَسْجِدِ سِرَاجًا لَمْ تَزَلِ الْمَلَائِكَةُ، وَحَمَلَةُ الْعَرْشِ يَسْتَغْفِرُونَ لَهُ مَا دَامَ ذَلِكَ فِي الْمَسْجِدِ.
কেউ যদি মসজিদে আলোর ব্যবস্থা করে, তাহলে ওই আলো যতক্ষণ থাকে, ফেরেশতা ও ও আরশ বহনকারীরা ততক্ষণ তার জন্য দোয়া করতে থাকেন।
হযরত উমর বিন খাত্তাব রাযি. বলেন-
الْمَسَاجِدُ بُيُوتُ اللهِ فِي الْأَرْضِ، وَالْمُصَلِّي فِيهَا زَائِرُ اللَّهِ، وَحَقٌّ عَلَى الْمَرُورِ أَنْ يُكْرِمَ زَائِرَهُ.
মসজিদ হলো, জমিনে আল্লাহর ঘর। তাতে নামায আদায়কারী আল্লাহর যিয়ারতকারী তুল্য। আর যার যিয়ারতে যাওয়া হয় তার দায়িত্ব হলো, যিয়ারতকারীর সম্মান করা।
টিকাঃ
৬৬৭. আল-মুসনাদ লি-হারেস: হাদীস-১২৭; কিতাবুল আরশ, ইবনে আবী শাইবা: হাদীস-৩৪ ইবনে কাসীর, সাখাবী, বুসিরী প্রমুখের মতে, হাদীসটির সনদ জয়ীফ [ইতহাফ: ২/৪২]।
৬৬৮. ত্ববারানী কাবীর: ১০/১৯৯; আল্লামা হাইসামী, আলবানী ও যাইলাঈ প্রমুখের মতে, হাদীসটির সনদ জয়ীফ [মাজমা-২/২৫; সিলসিলাহ সহীহা-১/১৫৮, তাখরীজুল কাশাফ: ২/৫৭]
📄 মসজিদের সম্মানের অন্তর্ভুক্ত পনেরটি বিষয়
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, পনেরটি বিষয় মসজিদের সম্মানের অন্তর্ভুক্ত। যথা-
১. মসজিদে উপস্থিত লোকজন নামাযরত না থাকলে সালাম দেওয়া। আর নামাযরত থাকলে বা কেউ না থাকলে, السَّلَامُ عَلَيْنَا مِنْ رَبَّنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ বলা।
২. বসার পূর্বে দু'রাকআত নফল নামায আদায় করা। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, لِكُلِّ شَيْءٍ تَحِيَّةٌ وَتَحِيَّةُ الْمَسْجِدِ رَكْعَتَانِ অর্থাৎ, সবকিছুরই একটি সম্ভাষণ রয়েছে, মসজিদের সম্ভাষণ হলো, দু'রাকআত নফল নামায।
৩. বেচা-কেনা না করা।
৪. মসজিদের তরবারী কোষমুক্ত না করা।
৫. হারানো বস্তুর ঘোষণা না দেওয়া।
৬. আল্লাহর যিকির ব্যতীত অন্য কোনো কারণে আওয়াজ উঁচু না করা।
৭. দুনিয়াবী কথা না বলা।
৮. মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনের কাতারে না যাওয়া।
৯. জায়গা নিয়ে ঝগড়া না করা।
১০. কাতারে সংকীর্ণতা সৃষ্টি না করা।
১১. নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রম না করা।
১২. থুথু না ফেলা।
১৩. আঙ্গুল না ফোটানো।
১৪. নাপাকী, পাগল, শিশু এবং হদ কায়েম করা থেকে হেফাজত করা।
১৫. বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করা এবং তা থেকে অমনোযোগী না হওয়া।
টিকাঃ
৬৬৯. সহীহ ইবনে হিব্বান : হাদীস-৩৬১। শায়েখ আরনাউত বলেন, হাদীসটির সনদ অত্যন্ত দুর্বল। সনদে মিথ্যুক রাবী বিদ্যমান।
📄 মসজিদে দুনিয়াবি কথা বলা
عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : يَأْتِي عَلَى أُمَّتِي زَمَانٌ يَكُونُ حَدِيثُهُمْ فِي مَسَاجِدِهِمْ لِأَمْرِ دُنْيَاهُمْ، لَيْسَ لِلَّهِ فِيهِمْ حَاجَةٌ فَلَا تُجَالِسُوهُمْ.
হযরত হাসান রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, আমার উম্মতের এমন এক সময় আসবে, যখন তারা মসজিদে দুনিয়াবী আলোচনায় মেতে উঠবে। এমন লোকদের আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। তোমরা তাদের সঙ্গে বসো না।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَكُونُ الْغُرَبَاءُ فِي الدُّنْيَا أَرْبَعَةٌ : قُرْآنٌ فِي جَوْفِ ظَالِمٍ، وَمَسْجِدٌ فِي نَادِي قَوْمٍ لَا يُصَلُّونَ فِيهِ وَمُصْحَفٌ فِي بَيْتٍ لَا يُقْرَأُ فِيهِ، وَرَجُلٌ صَالِحٌ مَعَ قَوْمِ سُوءٍ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, দুনিয়ায় অপরিচিত আগন্তুক চারজন। যথা- ১. জালেমের উদরে কুরআন। ২. বেনামাযীর মহল্লায় মসজিদ। ৩. এমন ঘরে কুরআন, যা পাঠ করা হয় না। ৪. অসৎ লোকদের মাঝে সৎ লোক।
টিকাঃ
৬৭০ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা : হাদীস-৩৫৩১; শুআবুল ঈমান: হাদীস-২৯৬২।
৬৭১ আল-ফিরদাউস: হাদীস-৪৩০১; সনদে অপরিচিত রাবী রয়েছে [ফায়যুল কাদীর: ৪/৪০৯]