📄 জুমআর দিনের পাঁচ বৈশিষ্ট্য
عَنْ أَبِي لُبَابَةَ بْنِ عَبْدِ الْمُنْذِرِ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : يَوْمُ الْجُمْعَةِ سَيِّدُ الْأَيَّامِ وَأَعْظَمُهَا عِنْدَ اللهِ، وَهُوَ أَعْظَمُ عِنْدَ اللهِ مِنْ يَوْمِ الْفِطْرِ، وَمِنْ يَوْمِ النَّحْرِ، وَفِيهِ خَمْسُ خِصَالٍ. فيه خلق الله تَعَالَى آدم، وَفِيهِ أَهْبَطَ اللهُ تَعَالَى آدَمَ إِلَى الْأَرْضِ، وَفِيهِ تُوُفِّيَ آدَمُ، وَفِيهِ سَاعَةٌ لَا يَسْأَلُ الْعَبْدُ فِيهَا شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ اللهُ إِيَّاهُ، مَا لَمْ يَسْأَلْ حَرَامًا، وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ، وَمَا مِنْ مَلَكٍ مُقَرَّبٍ عِنْدَ رَبِّهِ وَلَا فِي سَمَاءٍ وَلَا فِي أَرْضِ يُشْفِقُ مِنْ يَوْমِ الْجُمْعَةِ.
হযরত আবূ লুবাবা রাযি. থেকে বর্ণিত রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জুমআর দিন সকল দিনের সরদার এবং আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় দিন। ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা থেকেও তা আল্লাহর নিকট অধিক উত্তম। এর পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যথা- ১. এ দিনে আল্লাহ আদম আ. কে সৃষ্টি করেছেন। ২. এ দিনেই তাকে জমিনে নামিয়েছেন। ৩. এ দিনে তার মৃত্যু দিয়েছেন। ৪. এ দিনে এমন এক মুহূর্ত আছে যে, তখন আল্লাহর নিকট কিছু চাওয়া হলে তিনি তা দেন। ৫. আর এ দিনেই কিয়ামত কায়েম হবে। আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা ও আসমান জমিনের সকল ফেরেশতা জুমআর দিনের ব্যাপারে ভীত থাকেন।
টিকাঃ
৬৬২. সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-১০৮৪; মুসনাদে আহমাদ: ২৪/৩১৪। আল্লামা বুসিরী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন [হাশিয়ায়ে সিন্দী]।
📄 জুমআর দিনের সওয়াব
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ، أَنَّهُ قَالَ: إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمْعَةِ خَرَجَ الشَّيْطَانُ مَعَ أَعْوَانِهِ يُزَيِّنُونَ لِلنَّاسِ أَسْوَاقَهُمْ وَمَعَهُمُ الرَّايَاتُ وَتَقْعُدُ الْمَلَائِكَةُ عَلَى أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ، فَيَكْتُبُونَ النَّاسَ عَلَى قَدْرِ مَنَازِلِهِمْ حَتَّى يَخْرُجَ الْإِمَامُ، فَمَنْ دَنَا مِنَ الْإِمَامِ فَأَنْصَتَ وَاسْتَمَعَ، وَلَمْ يَلْغُ كَانَ لَهُ كِفْلَانِ أَيْ حَظَّانِ، وَنَصِيبَانِ مِنَ الْأَجْرِ وَمَنْ تَبَاعَدَ فَاسْتَمَعَ وَأَنْصَتَ وَلَمْ يَلْغُ كَانَ لَهُ كِفْلٌ مِنَ الْأَجْرِ، وَمَنْ دَنَا مِنَ الْإِمَامِ فَلَغَا وَلَمْ يَسْتَمِعْ، كَانَ لَهُ كِفْلٌ مِنَ الْوِزْرِ، وَمَنْ قَالَ : مَهُ فَقَدْ تَكَلَّمَ، وَمَنْ تَكَلَّمَ فَقَدْ لَغَا، وَمَنْ لَغَا فَلَا جُمْعَةَ لَهُ. ثُمَّ قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: هَكَذَا سَمِعْتُ نَبِيَّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
হযরত আলী ইবনে আবু তালেব রাযি. বলেন, জুমআর দিন শয়তান তার বাহিনী নিয়ে বের হয় এবং মানুষের জন্য তাদের বাজারগুলো সাজিয়ে তোলে। আর ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় বসেন এবং ইমাম মিম্বরে উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত আগমনকারী মুসল্লিদের নাম মর্যাদা হিসাবে লেখেন। যে ব্যক্তি ইমামের নিকটে বসে, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শ্রবণ করে, চুপ থাকে এবং অনর্থক কথা বা কাজ করা থেকে বিরত থাকে, সে দু'গুণ সওয়াব পায়। আর যে দূরে বসে, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শ্রবণ করে, চুপ থাকে, অনর্থক কথা বা কাজ পরিহার করে, সে একটি সওয়াব পায়। আর যে ব্যক্তি ইমামের নিকটবর্তী হয়ে অনর্থক কথা বা কাজ করে, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শ্রবণ না করে, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ গুনাহ। যে ব্যক্তি বলল, চুপ কর, সেও অর্থহীন কাজ করল। আর যে অর্থহীন কাজ করল, তার জুমআর সওয়াব নেই। একথা বলে হযরত আলী রাযি. বললেন, আমি নবীজীকে এরূপই বলতে শুনেছি।
টিকাঃ
৬৬৩. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-১০৫১; মুসনাদে আহমাদ হাদীস-৭১৯। সনদটি জয়ীফ।
📄 মৃতদের জন্য সদকা ও দোয়া
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, সালেহ মুররী নামক জনৈক বুযুর্গ শুক্রবার রাতে ফজর নামায জামে মসজিদে আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হলেন। পথিমধ্যে একটি কবরস্থান দিয়ে যাওয়ার সময় তার মনে হলো, সুবহে সাদেক পর্যন্ত সেখানেই থেকে যাই। তিনি কবরস্থানে প্রবেশ করে দু'রাকাআত নামায আদায় করলেন। নামায শেষে একটি কবরে হেলান দিয়ে বসলেন। ইতঃমধ্যে তার নিদ্রা চলে এল। তিনি স্বপ্নে দেখতে পেলেন যে, কবরবাসীরা কবর থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং দলে দলে গোল হয়ে বসে গল্প-গুজব করছে। তাদের মধ্যে এক যুবককে দেখা গেল যে, সে ভারাক্রান্ত মনে ময়লা কাপড় পরিহিত অবস্থায় এক কোণে বসে আছে। ইতোমধ্যে তাদের নিকট রুমাল আবৃত কয়েকটি ডালি এল। যখন তা কারো নিকট যেত, সে তা নিয়ে নিজ কবরে চলে যেতো। এভাবে সকলে চলে গেল যুবকটি বাকি রইলো। তার নিকট কিছুই এল না। অতঃপর সে নিজ কবরে প্রবেশের উদ্দেশ্যে ভারাক্রান্ত মনে দাঁড়াল। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি এমন ভারাক্রান্ত কেন? আর আমি যা দেখলাম, সেগুলোই বা কী? সে বলল, হে সালেহ মুররী! তুমি কি ডালিগুলো দেখেছ? বললাম, হ্যাঁ, এগুলো কী? সে বলল, এগুলো হলো, মৃত ব্যক্তিদের জন্য জীবিতদের পাঠানো উপঢৌকন। জীবিতরা তাদের জন্য সদকা করলে কিংবা তাদের জন্য দোয়া করলে জুমআর রাতে তা তাদেরকে প্রদান করা হয়। আমি সিন্ধির অধিবাসী ছিলাম। মাকে নিয়ে হজের উদ্দেশ্যে বসরায় উপনীত হলে আমার মৃত্যু হয়। আমার মৃত্যুর পর মা বিয়ে করেন। তার যে একটি সন্তান ছিল, একথা তিনি নতুন স্বামীকে বলেননি। দুনিয়া তাকে ভুলিয়ে দিয়েছে। তিনি আমার কথা মোটেও স্মরণ করেন না। তাই আমার দুঃখ। কারণ, আমাকে স্মরণ করার কেউ নেই। সালেহ বললেন, তোমার মায়ের বাড়ি কোথায়? আমাকে জায়গাটির বর্ণনা দাও। সে তার বাড়ীর বর্ণনা দিলো। তিনি বললেন, সকাল হলে নামায আদায় করে আমি উক্ত এলাকায় উপনীত হলাম এবং বাড়িটি খুঁজে বের করলাম। দরজায় গিয়ে পরিচয় দিয়ে প্রবেশের অনুমতি চাইলাম। আমাকে অনুমতি দেওয়া হলো। যুবকের মাকে বললাম, তোমার সঙ্গে আমার গোপন কথা আছে, আমি চাই, আমাদের কথা কেউ না শুনুক। এভাবে তার আরো কাছে গেলাম। এমনকি আমাদের দুজনের মাঝে একটি পর্দার আবরণ ছাড়া কোনো অন্তরায় রইলো না। আমি বললাম, আল্লাহ তোমাকে রহম করুন। তোমার কি কোনো সন্তান আছে? সে বলল, না। বললাম, ইতঃপূর্বে কোনো সন্তান ছিল? সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, আমার একটি যুবক সন্তান ছিল, সে মৃত্যুবরণ করেছে। এরপর আমি তার নিকট স্বপ্নে দেখা ঘটনার সবিস্তার বর্ণনা দিলাম। শুনে যুবকের মা অঝোর ধারায় কাঁদল। এরপর আমাকে বলল, হে সালেহ! সে ছিল আমার কলিজার টুকরা, আমার উদর ছিল তার বাসস্থান, আমি তাকে স্তন্য দিয়েছি, আমার কোল তাকে দীর্ঘদিন লালন পালন করেছে। অতঃপর আমার হাতে এক হাজার দিরহাম দিয়ে বলল, আমার প্রিয় পুত্র, চোখের মণির জন্য এ দিরহামগুলো সদকা করে দিন। জীবনের যতটুকু বাকি আছে, আমি তাকে দুআয় ও সদকায় ভুলবো না। সালেহ বলেন, অতঃপর আমি সেখান থেকে চলে এলাম এবং হাজার দিরহাম সদকা করে দিলাম। পরবর্তী জুমআয় নামাযের উদ্দেশ্যে বের হলাম। পথিমধ্যে উক্ত কবরস্থানে গিয়ে দু'রাকাআত নামায আদায় করে একটি কবরে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। স্বপ্নে দেখলাম কবরবাসীরা আপন আপন কবর থেকে বের হয়ে এসেছে। তাদের মধ্যে যুবকটিও আছে। উক্ত যুবক এবার শুভ্র কাপড় পরিহিত, খুশি ও আনন্দে তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে আছে। সে আমার নিকটে এসে বলল, হে সালেহ মুররী! আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমার নিকট উপঢৌকন পৌঁছেছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমরা কি জুমআর দিন চিনতে পার? সে বলল, হ্যাঁ, এমনকি আকাশের পাখিরাও চিনতে পারে। বলতে থাকে, জুমআর দিনের সালাম।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : جَاءَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِي كَفِّهِ كَالْمِرْآةِ الْبَيْضَاءِ، وَفِي وَسَطِهَا كَالنُّكْتَةِ السَّوْدَاءِ قَالَ: مَا هُذَا يَا جِبْرِيلُ؟ قَالَ: هُذَا يَوْمُ الْجُمْعَةِ يَعْرِضُهَا اللهُ عَلَيْكَ، لِتَكُونَ لَكَ عِيدًا وَلِأُمَّتِكَ مِنْ بَعْدِكَ، وَلَكُمْ فِيهَا خَيْرُ مَنْ دَعَا فِيهَا بِخَيْرٍ وَلَهُ قِسْمٌ أَعْطَاهُ اللَّهُ إِيَّاهُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ قِسْمُ ادُّخِرَ لَهُ مَا هُوَ أَفْضَلُ مِنْهُ، وَهُوَ عِنْدَنَا يَوْمُ الْمَزِيدِ، وَنَحْنُ نَدْعُوهُ سَيِّدَ الْأَيَّامِ قَالَ : وَلِمَ ذَلِكَ؟ قَالَ : لِأَنَّ رَبَّكَ اتَّخَذَ فِي الْجَنَّةِ وَادِيًا أَفْيَحَ فِيهِ كَثِيبٌ مِنْ مِسْكٍ أَبْيَضَ، فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمْعَةِ جَاءَ النَّبِيُّونَ وَجَلَسُوا عَلَى مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ مُكَلَّلَةٍ بِالْجَوَاهِرِ ثُمَّ حُفَّ وَرَاءَ تِلْكَ الْمَنَابِرِ بِكَرَاسِي مِنْ نُورٍ، فَجَاءَ الصِّدِّيقُونَ وَالشُّهَدَاءُ فَجَلَسُوا عَلَيْهَا، ثُمَّ يَأْتِي أَهْلُ جَنَّةِ عَدْنٍ فَيَجْلِسُونَ عَلَى ذَلِكَ الْكَثِيبِ الْأَبْيَضِ، فَيَقُولُ لَهُمُ الرَّبُّ تَعَالَى : أَنَا الَّذِي صَدَقْتُمْ وَعْدِي، وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي، وَ هُذَا تَحَلُّ كَرَامَتِي فَسَلُونِي، فَيَقُولُونَ: رَبَّنَا نَسْأَلُكَ رِضْوَانَكَ وَالْجَنَّةَ. فَيَقُولُ: رِضْوَانِي أُحِلُّكُمْ دَارِي وَأُنِيلُكُمْ كَرَامَتِي، فَيَسْأَلُونَهُ الرِّضَا فَيَهْدِيهِمُ الرِّضَا وَيُعْطِيهِمْ فَوْقَ رَغْبَتِهِمْ وَأُمْنِيَتِهِمْ وَ ذَلِكَ قَدْرُ مُنْصَرِفِ أَيَّامِكُمْ مِنَ الْجُمْعَةِ، وَيَفْتَحُ لَهُمْ عِنْدَ ذَلِكَ مَا لَا يَخْطُرُ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ وَلَمْ تَرَهُ عَيْنٌ، ثُمَّ يَرْجِعُ النَّبِيُّونَ وَالصِّدِّيقُونَ وَالشُّهَدَاءُ، وَيَرْجِعُ أَهْلُ الْغُرَفِ إِلَى غُرَفِهِمْ، فَلَيْسُوا إِلَى شَيْءٍ أَحْوَجَ مِنْهُمْ إِلَى يَوْমِ الْجُمْعَةِ لِيَزْدَادُوا فِيهِ كَرَامَةً، فَلِذَلِكَ سُمِّيَ يَوْمَ الْمَزِيدِ وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ.
হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। একদা জিবরাঈল আ. রাসূল ﷺ-এর নিকট সাদা আয়নার মতো কিছু একটা নিয়ে এলেন, যার মাঝখানে কাল ফোঁটার মতো ছিল। রাসূল ﷺ বললেন, হে জিবরাঈল! এটি কী? তিনি বললেন, এটি হলো, জুমআর দিন, যা আল্লাহ তাকে দান করেছেন। এটা আপনার জন্য এবং আপনার উম্মতের জন্য ঈদ স্বরূপ। তাতে রয়েছে আপনাদের জন্য প্রভূত কল্যাণ। যে তাতে এমন কোনো কল্যাণের দোয়া করবে যা তার প্রয়োজনীয়, তবে আল্লাহ তা তাকে দান করবেন। আর যদি প্রয়োজনীয় না হয়, তবে তার জন্য এর পরিবর্তে উত্তমটা জমা করে রাখবেন। এ দিন আমাদের নিকট ইয়াওমুল মাযীদ নামে পরিচিত, আমরা একে সমস্ত দিনের সরদার বলি। রাসূল ﷺ বললেন, এমন করণের কারণ কী? জিবরাঈল আ. বললেন, আপনার রব জান্নাতে একটি প্রশস্ত উপত্যকা বানিয়েছেন। সেখানে একটি সাদা মেশকের টিলা আছে। জুমআর দিন নবীগণ সেখানে এসে নূরের মিম্বরে সমাসীন হন, যা থাকে মণি-মুক্তায় মোড়ানো। এই মিম্বরগুলোর পিছনে নূরের চেয়ার স্থাপন করা হয়, সিদ্দীক ও শহীদগণ এসে তাতে সমাসীন হন। জান্নাতুল আদনে আদনের অধিবাসীরা এসে উক্ত শুভ্র মিশকের টিলায় সমাসীন হন। আল্লাহ তাদের সকলকে লক্ষ্য করে বলেন, আমিই তোমাদের সঙ্গে কৃত ওয়াদা পূরণ করেছি এবং তোমাদের উপর আমার নিয়ামত পূর্ণ করেছি। এটা হলো, আমার সম্মান ও মর্যাদার আসন। সুতরাং তোমরা আমার নিকট প্রার্থনা কর। তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমরা আপনার নিকট আপনার সন্তুষ্টি ও জান্নাত কামনা করছি। আল্লাহ বলবেন, আমার সন্তুষ্টির ফলেই তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করেছো এবং আমার মর্যাদার আসন পেয়েছো। তারা আল্লাহর নিকট সন্তুষ্টি কামনা করবে। তিনি তাদেরকে সন্তুষ্টি দান করবেন এবং আশাতীত দান করবেন। আর এসব ততটুকু সময়ে ঘটবে, ইমাম জুমআয় যতটুকু সময় কাটান। তাদের এমন এমন বিষয় দান করা হবে, যা কোনো মানুষের কল্পনায় আসেনি, যা কোনো চোখ দেখেনি। অতঃপর নবী, সিদ্দীক ও শহীদগণ ফিরে যাবেন। জান্নাতবাসীগণ আপন আপন গৃহে ফিরবেন। জুমআর দিন থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ তাদের নিকট কিছু নেই। কারণ, এ দিনে তারা নতুন নতুন মর্যাদা ও সম্মানে ভূষিত হন। এ কারণেই এ দিনকে 'ইয়াওমূল মাযীদ' বলা হয়। আর এ দিনেই কিয়ামত কায়েম হবে।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : الصَّلَاةُ فِي الْجَمَاعَةِ وَالْجُمْعَةُ إِلَى الْجُمْعَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ مَا اجْتُنِبَتِ الْكَبَائِرُ.
হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, জামাতের সঙ্গে নামায আদায় এবং জুমআ আদায় এক জুমআ থেকে অপর জুমআ পর্যন্ত মধ্যবর্তী গুনাহের কাফ্ফারা স্বরূপ। যদি কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।
টিকাঃ
৬৬৪. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৩৩; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২১৪। হাদীসটি হাসান সহীহ।