📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জুমআ দিনের গুরুত্ব এবং দোয়া কবুলের মুহূর্ত

📄 জুমআ দিনের গুরুত্ব এবং দোয়া কবুলের মুহূর্ত


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : إِنَّ خَيْرَ يَوْمٍ طَلَعَتْ فِيهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمْعَةِ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيهِ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ، وَفِيهِ أُهْبِطَ مِنْهَا، وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ، وَفِيهِ سَاعَةٌ لَا يُصَادِفُهَا مُؤْمِنٌ يَسْأَلُ اللَّهَ تَعَالَى فِيهَا شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, সূর্য উদিত হয়, এমন দিনগুলোর সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো, জুমআর দিন। এ দিনেই আদম আ. কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং জমিনে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। আর এই দিনেই কিয়ামত কায়েম হবে, তাতে রয়েছে এমন এক মুহূর্ত, যাতে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা'আলা দিয়ে দেন।

عَنْ أَبِي سَلَمَةَ: قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنِ سَلَامٍ: قَدْ عَرَفْتُ تِلْكَ السَّاعَةَ وَهِيَ آخِرُ سَاعَاتِ النَّهَارِ. আবূ সালামা থেকে বর্ণিত। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রাযি. বলেন, দোয়া কবুলের উক্ত সময় কখন আমি জানি। তাহলো, দিনের শেষাংশ।

হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইব রহ. বলেন- لَأَنْ أَشْهَدَ الْجُمْعَةَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ حَجَّةِ تَطَوُّع জুমআয় উপস্থিত হওয়া আমার নিকট নফল হজ্ব থেকে অধিক প্রিয়।

عَنْ كَعْبِ الْأَحْبَارِ : لَأَنْ أَشْرَبَ قَدَحًا مِنْ نَارٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَشْرَبَ قَدَحًا مِنْ خَمْرٍ، وَلَأَنْ أَشْرَبَ قَدَحًا مِنْ خَمْرٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَتَخَلَّفَ عَنِ الْجُمْعَةِ، وَلَأَنْ أَتَخَلَّفَ عَنِ الْجُمْعَةِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ. হযরত কা'ব আল আহবার বলেন, মদের পেয়ালা পান করার চেয়ে আমার নিকট আগুনের পেয়ালা পান অধিক প্রিয়। জুমআয় অনুপস্থিত থাকার চেয়ে মদ পান করা আমার নিকট অধিক উত্তম। মানুষের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে যাওয়ার চেয়ে আমার নিকট জুমআয় অনুপস্থিত থাকা অধিক প্রিয়।

টিকাঃ
৬৬০. সহীহ মুসলিম: হাদীস-৮৫৪; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-১০৪৬।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 খুতবাকালীন চুপ থাকা

📄 খুতবাকালীন চুপ থাকা


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ تَلَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ آيَةً فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ لِأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ : مَتَى أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ؟ فَغَمَزَهُ، فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ لَهُ أُبَيُّ : إِنَّمَا حَظُّكَ مِنْ صَلَاتِكَ مَا لَغَوْتَ، فَدَখَلَ عَبْدُ اللَّهِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ: صَدَقَ أُبَيُّ. ثُمَّ قَالَ: مَا مِنْ عَبْدٍ يَغْتَسِلُ يَوْمَ الْجُمْعَةِ، وَيَمَسُّ مِنْ دُهْنِهِ وَمَا كَانَ، ثُمَّ يَأْتِي الْجُمْعَةَ فَلَا يُؤْذِي أَحَدًا، وَلَا يَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ، فَيُصَلِّي مَا قَضَى اللَّهُ تَعَالَى لَهُ, فَإِذَا خَرَجَ الْإِمَامُ جَلَسَ وَأَنْصَتَ إِلَّا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا بَيْنَ الْجُمُعَتَيْنِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। জুমআর দিন রাসূল ﷺ মিম্বরে দাঁড়িয়ে একটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ উবাই ইবনে কাবকে বললেন, এ আয়াত কখন নাযিল হয়েছে? উবাই তাকে ইঙ্গিতে চুপ থাকার নির্দেশ দিলেন। নামায শেষে উবাই তাকে বললেন, তোমার অনর্থক কথার কারণে তোমার আজকের নামাযের সওয়াব নষ্ট হয়ে গেছে। অতঃপর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. রাসূল-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূল ﷺ বললেন, উবাই সত্য বলেছে। অতঃপর তিনি বললেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন গোসল করে তেল ইত্যাদি যা আছে ব্যবহার করে, অতঃপর মসজিদে উপস্থিত হয়, কাউকে কষ্ট না দেয় এবং ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে না যায় এবং আল্লাহ যা তাওফীকে রেখেছেন, তা আদায় করেন। অতঃপর ইমাম খুতবার জন্য উপস্থিত হলে নীরবে বসে থাকে, তাহলে আল্লাহ তার দুই জুমআর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন।

টিকাঃ
৬৬১. সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-১১১১; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-২১৮৭; সহীহ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জুমআর দিনের পাঁচ বৈশিষ্ট্য

📄 জুমআর দিনের পাঁচ বৈশিষ্ট্য


عَنْ أَبِي لُبَابَةَ بْنِ عَبْدِ الْمُنْذِرِ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : يَوْمُ الْجُمْعَةِ سَيِّدُ الْأَيَّامِ وَأَعْظَمُهَا عِنْدَ اللهِ، وَهُوَ أَعْظَمُ عِنْدَ اللهِ مِنْ يَوْمِ الْفِطْرِ، وَمِنْ يَوْمِ النَّحْرِ، وَفِيهِ خَمْسُ خِصَالٍ. فيه خلق الله تَعَالَى آدم، وَفِيهِ أَهْبَطَ اللهُ تَعَالَى آدَمَ إِلَى الْأَرْضِ، وَفِيهِ تُوُفِّيَ آدَمُ، وَفِيهِ سَاعَةٌ لَا يَسْأَلُ الْعَبْدُ فِيهَا شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ اللهُ إِيَّاهُ، مَا لَمْ يَسْأَلْ حَرَامًا، وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ، وَمَا مِنْ مَلَكٍ مُقَرَّبٍ عِنْدَ رَبِّهِ وَلَا فِي سَمَاءٍ وَلَا فِي أَرْضِ يُشْفِقُ مِنْ يَوْমِ الْجُمْعَةِ.
হযরত আবূ লুবাবা রাযি. থেকে বর্ণিত রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জুমআর দিন সকল দিনের সরদার এবং আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় দিন। ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা থেকেও তা আল্লাহর নিকট অধিক উত্তম। এর পাঁচটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যথা- ১. এ দিনে আল্লাহ আদম আ. কে সৃষ্টি করেছেন। ২. এ দিনেই তাকে জমিনে নামিয়েছেন। ৩. এ দিনে তার মৃত্যু দিয়েছেন। ৪. এ দিনে এমন এক মুহূর্ত আছে যে, তখন আল্লাহর নিকট কিছু চাওয়া হলে তিনি তা দেন। ৫. আর এ দিনেই কিয়ামত কায়েম হবে। আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা ও আসমান জমিনের সকল ফেরেশতা জুমআর দিনের ব্যাপারে ভীত থাকেন।

টিকাঃ
৬৬২. সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-১০৮৪; মুসনাদে আহমাদ: ২৪/৩১৪। আল্লামা বুসিরী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন [হাশিয়ায়ে সিন্দী]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জুমআর দিনের সওয়াব

📄 জুমআর দিনের সওয়াব


عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ، أَنَّهُ قَالَ: إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمْعَةِ خَرَجَ الشَّيْطَانُ مَعَ أَعْوَانِهِ يُزَيِّنُونَ لِلنَّاسِ أَسْوَاقَهُمْ وَمَعَهُمُ الرَّايَاتُ وَتَقْعُدُ الْمَلَائِكَةُ عَلَى أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ، فَيَكْتُبُونَ النَّاسَ عَلَى قَدْرِ مَنَازِلِهِمْ حَتَّى يَخْرُجَ الْإِمَامُ، فَمَنْ دَنَا مِنَ الْإِمَامِ فَأَنْصَتَ وَاسْتَمَعَ، وَلَمْ يَلْغُ كَانَ لَهُ كِفْلَانِ أَيْ حَظَّانِ، وَنَصِيبَانِ مِنَ الْأَجْرِ وَمَنْ تَبَاعَدَ فَاسْتَمَعَ وَأَنْصَتَ وَلَمْ يَلْغُ كَانَ لَهُ كِفْلٌ مِنَ الْأَجْرِ، وَمَنْ دَنَا مِنَ الْإِمَامِ فَلَغَا وَلَمْ يَسْتَمِعْ، كَانَ لَهُ كِفْلٌ مِنَ الْوِزْرِ، وَمَنْ قَالَ : مَهُ فَقَدْ تَكَلَّمَ، وَمَنْ تَكَلَّمَ فَقَدْ لَغَا، وَمَنْ لَغَا فَلَا جُمْعَةَ لَهُ. ثُمَّ قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: هَكَذَا سَمِعْتُ نَبِيَّكُمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
হযরত আলী ইবনে আবু তালেব রাযি. বলেন, জুমআর দিন শয়তান তার বাহিনী নিয়ে বের হয় এবং মানুষের জন্য তাদের বাজারগুলো সাজিয়ে তোলে। আর ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় বসেন এবং ইমাম মিম্বরে উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত আগমনকারী মুসল্লিদের নাম মর্যাদা হিসাবে লেখেন। যে ব্যক্তি ইমামের নিকটে বসে, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শ্রবণ করে, চুপ থাকে এবং অনর্থক কথা বা কাজ করা থেকে বিরত থাকে, সে দু'গুণ সওয়াব পায়। আর যে দূরে বসে, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শ্রবণ করে, চুপ থাকে, অনর্থক কথা বা কাজ পরিহার করে, সে একটি সওয়াব পায়। আর যে ব্যক্তি ইমামের নিকটবর্তী হয়ে অনর্থক কথা বা কাজ করে, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শ্রবণ না করে, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ গুনাহ। যে ব্যক্তি বলল, চুপ কর, সেও অর্থহীন কাজ করল। আর যে অর্থহীন কাজ করল, তার জুমআর সওয়াব নেই। একথা বলে হযরত আলী রাযি. বললেন, আমি নবীজীকে এরূপই বলতে শুনেছি।

টিকাঃ
৬৬৩. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-১০৫১; মুসনাদে আহমাদ হাদীস-৭১৯। সনদটি জয়ীফ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px