📄 তোমরা মেসওয়াক কর
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : عَلَيْكُمْ بِالسَّوَاكِ فَإِنَّ فِيهِ عَشْرَ خِصَالٍ: مَظْهَرَةً لِلْفَمِ، وَمَرْضَاةً لِلرَّبِّ، وَمَفْرَحَةً لِلْمَلَائِكَةِ، وَمَجْلَاةُ لِلْبَصَرِ، وَيُبَيِّضُ الْأَسْنَانَ، وَيَشُّدُّ اللَّثَةَ، وَيُذْهِبُ الْحُفَرَ، وَيَهْضِمُ الطَّعَامَ، وَيَقْطَعُ الْبَلْغَمَ، وَتُضَاعَفُ بِهِ الصَّلَوَاتُ وَيُطَيِّبُ النَّكْهَةَ، وَهُوَ طَرِيقُ الْقُرْآنِ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, তোমরা মেসওয়াক কর। কারণ, তাতে দশটি গুণ রয়েছে। যথা- ১. মুখ পরিষ্কার করা। ২. আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ। ৩. ফেরেশতাদের আনন্দিত হওয়া। ৪. দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পাওয়া। ৫. দাঁত সাদা থাকা। ৬. মাড়ি মজবুত হওয়া ও মাড়ির রোগ দূর হওয়া। ৭. খাবার হজম হওয়া। ৮. কফ দূর হওয়া। ৯. নামাযের সওয়াব বৃদ্ধি পাওয়া। ১০. মুখে সুগন্ধ সৃষ্টি হওয়া, যা কুরআন তিলাওয়াতের সময় বের হয়।
عَنْ حَسَّانِ بْنِ عَطِيَّةَ، رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : الْوُضُوءُ شَطْرُ الْإِيمَانِ، وَالسَّوَاكُ شَطْرُ الْوُضُوءِ، وَلَوْلَا أَنْ أَشْقَى عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسَّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ وَرَكْعَتَانِ يَسْتَاكُ فِيهِمَا الْعَبْدُ أَفْضَلُ مِنْ سَبْعِينَ رَكْعَةً لَا يَسْتَاكُ فِيهَا.
হাসান বিন আতিয়্যা মারফু সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ বলেন, উযূ হলো, ঈমানের একটি অংশ। আর মেসওয়াক ঈমানের আরেক অংশ। প্রত্যেক নামাযের সময় মেসওয়াক করা যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো তাহলে আমি তাদের প্রতি নামাযের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম। তিনি বলেন, মেসওয়াক করে পড়া দু'রাকাত নামায মেসওয়াক না করে পড়া নামাযের চেয়ে সত্তর গুণ উত্তম।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: خَمْسُ مِنَ الْفِطْرَةِ : قَصُّ الشَّارِبِ، وَتَقْلِيمُ الْأَظْفَارِ، وَحَلْقُ الْعَانَةِ، وَنَتْفُ الْإِبْطِ، وَالسَّوَاكُ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, পাঁচটি জিনিস রাসূল ﷺ-এর সুন্নাত। যথা- ১. গোঁফ কাটা। ২. নখ কাটা। ৩. নাভির নিচের পশম মুণ্ডানো। ৪. বগলের নিচের পশম উপড়ানো ৫. মেসওয়াক করা।
হযরত ইবনে উমর রাযি. বলেন-
السَّوَاكُ بَعْدَ الطَّعَامِ أَفْضَلُ مِنْ وَصِيفَتَيْنِ
খাবারের পর মেসওয়াক করা, দু'জন কম বয়সের গোলাম আযাদ করার চেয়ে উত্তম।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا يَزَالُ جِبْرِيلُ يُوصِينِي بِالْجَارِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُوَرَّثُهُ، وَلَا يَزَالُ يُوصِينِي بِالْمَمَالِيكِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ يَجْعَلُ لِعِتْقِهِمْ وَقْتًا، وَلَا يَزَالُ يُوصِينِي بِالسَّوَاكِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ يُدَرِّدُنِي، يَعْنِي يُذْهِبُ اللَّثَةَ، وَلَا يَزَالُ يُوصِينِي بِالنِّسَاءِ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ يُحَرِّمُ الطَّلَاقَ، وَلَا يَزَالُ يُوصِينِي بِصَلَاةِ اللَّيْلِ، حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّ خِيَارَ أُمَّتِي لَا يَنَامُونَ بِاللَّيْلِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, প্রতিবেশীর ব্যাপারে জিবরাঈল আমাকে এ পরিমাণ উপদেশ দিতেন যে, আমার ধারণা হতো, হয়ত তাদেরকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেওয়া হবে। দাস-দাসীদের ব্যাপারে তিনি আমাকে এ পরিমাণ তাকিদ দিতেন যে, আমার ধারণা হতো তাদেরকে আযাদ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। মেসওয়াকের ব্যাপারে এ পরিমাণ তাকিদ দিতেন যে, আমার আশঙ্কা হতো যে, মাড়ি বাকি থাকবে না। নারীদের ব্যাপারে এ পরিমাণ ওসিয়্যত করতেন যে, আমার মনে হতো তাদেরকে তালাক দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। আর তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য এ পরিমাণ তাকিদ করতেন যে, মনে হতো আমার উম্মতের ঘুমানোর সুযোগ থাকবে না।
عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ : أَبْطَأَ جِبْرِيلُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ أَتَاهُ فَقَالَ : مَا حَبَسَكَ يَا جِبْرِيلُ؟ قَالَ: وَكَيْفَ نَأْتِيكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تُقَلِّمُونَ أَظْفَارَكُمْ، وَلَا تَأْخُذُونَ مِنْ شَوَارِبِكُمْ، وَلَا تُنَقُّونَ بَرَاجِمَكُمْ، وَلَا تَسْتَاكُونَ ثُمَّ قَالَ : وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ.
মুজাহিদ রহ. বলেন, একবার হযরত জিবরাঈল আ. নবীজীর নিকট আসতে বিলম্ব করলেন। এরপর তিনি আগমন করলে নবীজী বিলম্বের কারণ জানতে চাইলেন। তিনি বললেন, আমরা আপনার নিকট কিভাবে আসবো! লোকেরা নখ কাটে না, গোঁফ কাটে না, দেহ পরিষ্কার করে না এবং মেসওয়াক করে না। তখন তিনি নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন-
وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ অর্থ: আমরা আপনার রবের নির্দেশেই দুনিয়াতে অবতরণ করি।
এক হাদীসে রাসূল ইরশাদ করেন- حَقٌّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ الْغُسْلُ يَوْمَ الْجُمْعَةِ وَالسَّوَاكُ وَالطِّيبُ. প্রতি শুক্রবার গোসল করা, সুগন্ধি লাগানো এবং মেসওয়াক করা চাই।
عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: مَنْ قَصَّ أَظْفَارَهُ يَوْمَ الْجُمْعَةِ أَخْرَجَ اللَّهُ مِنْهُ الدَّاءَ وَأَدْخَلَ فِيهِ الشَّفَاءَ. হুমাইদ বিন আব্দুর রহমান রহ. বলেন, যে ব্যক্তি শুক্রবার দিন নখ কাটে, আল্লাহ তার জন্য রোগ ব্যাধি দূরে সরিয়ে দেন।
رَوَى ابْنُ شِهَابٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: مَنْ قَلَّمَ أَظْفَارَهُ يَوْمَ الْجُمْعَةِ كَانَ لَهُ أَمَانًا مِنَ الْجُذَامِ. ইবনে শিহাব বর্ণনা করেন, রাসূল ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি শুক্রবার দিন নখ কাটে, সে কুষ্ঠরোগ হতে নিরাপদ থাকে।
عَنْ أَنَسٍ قَالَ وَقَتَّ لَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ فِي قَصِّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمِ الْأَظْفَارِ وَحَلْقِ الْعَانَةِ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ يَوْمًا مَرَّةً
হযরত আনাস ইবন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল আমাদের জন্য চল্লিশ দিনে কমপক্ষে একবার নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করার, নখ কাটার, গোঁফ ছাঁটার এবং বগলের নীচের পশম মুণ্ডানোর সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে।
অপর হাদীসে রাসূল বলেন- طَيِّبُوا أَفْوَاهَكُمْ فَإِنَّ أَفْوَاهَكُمْ طُرُقُ الْقُرْآنِ মেসওয়াক দিয়ে তোমাদের মুখ পরিষ্কার কর। কারণ, এটা কুরআন উচ্চারণের স্থান।
ফকীহ রহ. বলেন, মেসওয়াক করার উদ্দেশ্য হলো তিনটি। যথা- ১. আল্লাহ ও তার রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জন। ২. অথবা নিজের উপকার লাভ। ৩. অথবা অন্যের সন্তুষ্টি অর্জন।
যদি আল্লাহ ও তার রাসূলের সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তাহলে এতে সওয়াব রয়েছে। এর প্রতি নামাযেই সত্তর নামাযের সমান সওয়াব। আর যদি নিজের উপকার উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তাহলে এতে সওয়াব পাওয়া যাবে না। আর যদি অন্যের সন্তুষ্টি তথা লোক দেখানো উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তাহলে গুনাহ হবে।
وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا قَالَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ
অর্থ : আর ইবরাহীমকে যখন তাঁর প্রভু কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা করলেন, আর তিনি তা পূর্ণ করলেন। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা বানাবো।
এ আয়াতে পরীক্ষা সম্পর্কে হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁকে মাথার পাঁচটি এবং দেহের পাঁচটি বিষয় দিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন। মাথার পাঁচটি হলো-
১. গোঁফ কাটা। ২. কুলি করা। ৩. নাকে পানি দেওয়া। ৪. মেসওয়াক করা। ৫. মাথায় সিঁথি কাটা। দেহের পাঁচটি হলো-
১. নখ কাটা। ২. খতনা করা। ৩. বগলের লোম উপড়ানো। ৪. নাভির নিচের পশম মুণ্ডানো। ৫. পানি দিয়ে শৌচকর্ম সম্পাদন করা।
অনুচ্ছেদ-৩৪ : জুমআর ফযীলত
عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ : إِنَّ أَفْضَلَ أَيَّامِكُمْ يَوْمُ الْجُمْعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيهِ قُبِضَ، وَفِيهِ النَّفْخَةُ، وَفِيهِ الصَّعْقَةُ، فَأَكْثِرُوا فِيهِ عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ، فَإِنَّ صَلَاتُكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَىَّ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ نَعْرِضُ صَلَاتَنَا عَلَيْكَ وَقَدْ بَلِيتَ؟ قَالَ : أَتَقُولُونَ قَدْ بَلِيتُ إِنَّ اللهَ تَعَالَى حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ.
হযরত আউস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, সর্বাধিক ফযীলতপূর্ণ দিন হলো, জুমআর দিন। এ দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এ দিনেই তার রূহ কবজ করা হয়েছে। এ দিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, এ দিনেই মানুষ বেহুঁশ হবে। এ দিন তোমরা অধিকহারে আমার উপর দরূদ পাঠ করবে। কারণ, তোমাদের দরূদ আমার নিকট পেশ করা হয়। লোকেরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের দরূদ কীভাবে আপনার নিকট পেশ করা হবে, অথচ আপনার দেহ মাটির সাথে মিশে যাবে। রাসূল ﷺ বললেন, তোমরা কি ভাবছো, আমি মাটি হয়ে যাবে। তোমরা কি জানো না আল্লাহ নবীগণের দেহভক্ষণ করা মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন?
عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَذَكَرَ الْجُمْعَةَ، فَقَالَ : مَنْ غَسَلَ وَاغْتَسَلَ وَبَكَّرَ وَابْتَكَرَ وَدَنَا فَأَنْصَتَ، وَلَمْ يَلْغُ كَانَ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ كَأَجْرِ سَنَةٍ صِيَامِهَا وَقِيَامِهَا.
হযরত আউস ইবনে আউস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ জুমআর আলোচনায় বললেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে গোসল করে দ্রুত মসজিদে উপস্থিত হবে, শুরু থেকেই খুতবা শুনবে, ইমামের নিকট বসবে, নীরব থাকবে, কোনো প্রকার অনর্থক কথা বা কাজ না করবে, তার প্রতি কদমের বিনিময়ে এক বছর রোযা রাখার এবং রাতভর ইবাদত করার সওয়াব লিখে দেয়া হবে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ، قَالَ : لَمْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَلَمْ تَغْرُبْ عَلَى يَوْمٍ أَفْضَلَ مِنْ يَوْمِ الْجُمْعَةِ، وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا وَهِيَ تَفْزَعُ لِيَوْمِ الْجُمْعَةِ، إِلَّا الثَّقَلَيْنِ الْجِنَّ وَالْإِنْسِ، وَعَلَى كُلِّ بَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ مَلَكَانِ يَكْتُبَانِ النَّاسَ، الْأَوَّلَ فَالْأَوَّلَ كَرَجُلٍ قَرَّبَ بَدَنَةً، وَكَرَجُلٍ قَرَّبَ شَاةً، وَكَرَجُلٍ قَرَّبَ طَيْرًا، وَكَرَجُلٍ قَرَّبَ بَيْضَةً، فَإِذَا قَعَدَ الْإِمَامُ طُوِيَتِ الصُّحُفُ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, জুমআর দিনের চেয়ে উত্তম কোনো দিন নেই। জুমআর দিন জিন-ইনসান ব্যতীত জমিনের সকল প্রাণী ভীত থাকে। আর প্রতিটি মসজিদের দরজায় দু'জন করে ফেরেশতা থাকেন, যারা মানুষের নাম লিখে নেন। প্রথমে যে উপস্থিত হয়, সে যেন একটি উট কুরবানী করল, এরপর যে আসে, সে যেন বকরী কুরবানী করল, এরপর যে আসে সে যেন একটি পাখি কুরবানী করল, এরপর যে আসে, সে যেন একটি ডিম কুরবানী করল। অতঃপর যখন ইমাম মিম্বরে বসে পড়ে, তখন খাতা বন্ধ করে রাখেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَنْ تَوَضَّأَ يَوْمَ الْجُمْعَةِ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ، ثُمَّ أَتَى الْجُمْعَةَ، فَاسْتَمَعَ وَدَنَا فَأَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ، وَزِيَادَةُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ، وَمَنْ مَسَّ الْحَصَا، فَقَدْ لَغَا فَلَا جُمْعَةَ لَهُ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন উত্তমরূপে উযূ করে। অতঃপর মসজিদে উপস্থিত হয়, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে, ইমামের নিকটে গিয়ে বসে এবং নীরব থাকে আল্লাহ তার দুই জুমআর মধ্যবর্তী সময়ের সব গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। সেই সাথে আরো অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহ মাফ করে দিবেন। যে ব্যক্তি কঙ্কর স্পর্শ করল, সে অনর্থক কাজ করল। আর যে অনর্থক কাজ করল, সে জুমআর ফযীলত থেকে বঞ্চিত।
টিকাঃ
৬৪৫. আল্লামা সুয়ূতী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। [ফায়যুল কাদীর ৪/৩৪২] ইবনুল জাওযী বলেন, হাদীসটি রাসূল সা. হতে সহীহ নয় [আল-ইলাল: ১/৩৩৫]।
৬৪৬. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ: হাদীস-১৮১৪; হাফেজ সুয়ূতী, মুনযিরী ও হাইসামী প্রমুখের মতে, হাদীসটির সনদ সহীহ [ফায়যুল কাদীর: ৪/৩৬; মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২/২৬৩]
৬৪৭. সহীহ বুখারী: হাদীস-৫৮৮৯; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৫৭।
৬৪৮. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬০১৪; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৬২৪; সুনানে কুবরা, বাইহাকী: ৭/৪৯। হাদীসের প্রথম অংশ সহীহ শেষের অংশ জয়ীফ [মাজমা: ২/৯৯]।
৬৪৯. সূরা মারইয়াম, আয়াত-৬৪। হাদীসটি ইমাম আহমাদ ও ত্ববারানী বর্ণনা করেছেন। [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৫/১৬৭]।
৬৫০. সহীহ মুসলিম: হাদীস-৮৪৬; সুনানে আবু দাউদ: হাদীস-৩৪৪।
৬৫১. মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: হাদীস-৫৩১০।
৬৫২. আউসাত, তুবারানী: হাদীস-৪৭৪৬; আলফিরদাউস: হাদীস-৫৬৩৯; কাশফুল খফা: ২/৫৫৬; হাদীসটি অত্যন্ত জয়ীফ বলে প্রতীয়মান হয় [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২/৩৮৪]।
৬৫৩. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৫৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৭৫৮; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪২০০।
৬৫৪. আল-ফিরদাউস: হাদীস-৩৯৭০; সহীহুল জামে': হাদীস-৩৯৪০। হাদীসটি সহীহ।
৬৫৫. সূরা বাকারা : আয়াত-১২৪