📄 পাঁচ ব্যক্তির নামায কবুল হয় না
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ : خَمْسَةٌ لَيْسَ لَهُمْ صَلَاةٌ : الْمَرْأَةُ السَّاخِطَةُ عَلَى زَوْجِهَا، وَالْعَبْدُ الْآبِقُ مِنْ سَيِّدِهِ حَتَّى يَرْجِعَ، وَالْمُصَارِمُ الَّذِي لَا يُكَلِّمْ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ وَمُدْمِنُ الْخَمْرِ، وَإِمَامُ قَوْمٍ يُصَلِّي بِهِمْ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ .
হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, পাঁচ ব্যক্তির নামায কবুল করা হয় না।
১. ওই নারী যার উপর তার স্বামী ক্রুদ্ধ।
২. মনিব থেকে পলায়নকারী দাস, যতক্ষণ না সে ফিরে যায়।
৩. আত্মীয়তা ছিন্নকারী, যে তিন দিনের ঊর্ধ্বে তার ভায়ের সঙ্গে কথোপকথন করেনি।
৪. মদে অভ্যস্ত ব্যক্তি।
৫. এমন ইমাম, লোকদের অসন্তুষ্টি সত্ত্বেও যে তাদের ইমামতি করে।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, মুক্তাদীগণের অসন্তোষ দু'ধরনের। যথা—
১. হয়তো তার অনৈতিকতার কারণে কিংবা তার কেরাত অশুদ্ধ হওয়ার কারণে অসন্তুষ্ট হয় আর তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি উপস্থিত রয়েছে যার কেরাত শুদ্ধ। এ অবস্থায় উক্ত ইমামের ইমামতি করা মাকরুহ।
২. আর যদি ইমাম লোকদেরকে সৎকর্মের আদেশ ও অসৎকর্মের নিষেধ করার কারণে কিংবা বিদ্বেষবশত তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়, আর তার তুলনায় অধিক জ্ঞানী কেউ উপস্থিত না থাকে, তাহলে তাদের অপছন্দ করাটা গ্রহণযোগ্য হবে না। সকলের অপছন্দ সত্ত্বেও তাদের ইমামতি তার জন্য বৈধ।
টিকাঃ
৬৪১. সুনানে তিরমিযী হাদীস-৩৫৮; সুনানে ইবনে মাজাহ-হাদীস-৯৭০ (শাব্দিক তারতম্যে)। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি সহীহ নয়।
📄 মুআজ্জিনের সম্মান ও তার সাক্ষ্য
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: الْمُؤَذِّنُونَ الْمُحْتَسِبُونَ يَخْرُجُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ قُبُورِهِمْ، وَهُمْ يُؤَذِّنُونَ، فَالْمُؤَذِّنُ يَشْهَدُ لَهُ كُلُّ شَيْءٍ يَسْمَعُ صَوْتَهُ مِنْ حَجَرٍ أَوْ شَجَرٍ، أَوْ مَدَرٍ، أَوْ بَشَرٍ، أَوْ رَطِبٍ، أَوْ يَابِسٍ وَيَغْفِرُ اللَّهُ لَهُ مَدَّ صَوْتِهِ وَيُكْتَبُ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ بِعَدَدِ مَنْ يُصَلِّي بِأَذَانِهِ، وَيُعْطِيهِ اللَّهُ مَا يَسْأَلُ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ، إِمَّا أَنْ يُعَجِّلَهُ فِي الدُّنْيَا, أَوْ يَدَّخِرَهُ فِي الْآخِرَةِ، وَإِمَّا أَنْ يَصْرِفُ عَنْهُ السُّوءَ، وَأَوَّلُ مَنْ يُكْسَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ كِسْوَةِ الْجَنَّةِ إِبْرَاهِيمُ، ثُمَّ مُحَمَّدٌ عَلَيْهِمَا الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ، ثُمَّ يُكْسَى الرُّسُلُ وَالْأَنْبِيَاءُ عَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ، ثُمَّ الْمُؤَذِّنُونَ الْمُحْتَسِبُونَ وَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ بِنَجَائِبَ مِنْ يَاقُوتٍ أَحْمَرَ يُشَيِّعُ كُلَّ رَجُلٍ مِنْهُمْ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ مِنْ قَبْرِهِ إِلَى الْمَحْشَرِ.
হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, সওয়াবের উদ্দেশ্যে আযান প্রদানকারী মুআযযিনগণকে কিয়ামতের দিন আযানরত অবস্থায় উঠানো হবে এবং মুআযযিনের আওয়াজ শ্রবণকারী প্রতিটি গাছ, পাথর, মাটি মানুষ এবং জল-স্থলের সকলে তার সাক্ষি হবে। আল্লাহ তার আওয়াজ পৌঁছার পরিধি পর্যন্ত তার জন্য মাগফেরাতে ভরে দিবেন। তার আওয়াজ শ্রবণকারী নামাযীর সংখ্যার সমতুল্য সওয়াব তার জন্য লিখে দিবেন। আযান ও একামতের মধ্যবর্তী সময়ে সে যা চায় আল্লাহ তা'আলা তা দান করবেন। হয়তো দুনিয়াতেই তাকে তা দিয়ে দেন অথবা আখেরাতের জন্য জমা করে রাখেন কিংবা এর ফলে তার অনিষ্ট দূর করে দিবেন। সর্বপ্রথম ইবরাহীম আ. কে জান্নাতের পোশাক পরিধান করানো হবে। অতঃপর মুহাম্মাদ ﷺ। এরপর রাসূল ও নবীগণকে। এরপর সওয়াবের উদ্দেশ্যে আযান প্রদানকারীদেরকে। মূল্যবান লাল ইয়াকূতের পাথর নিয়ে ফেরেশতাগণ তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। কবর থেকে হাশরের ময়দান পর্যন্ত তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে সত্তর হাজার ফেরেশতা থাকবে।
টিকাঃ
৬৪২. হাফেজ ইবনুল জাওযী হাদীসটিকে জাল বলেছেন [আল-মাওযুয়াত: ২/৮৮]।
📄 আযাব থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত শ্রেণী
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ : ثَلَاثَةٌ يَعْصِمُهُمُ اللَّهُ تَعَالَى مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ الْمُؤَذِّنُ وَالشَّهِيدُ وَالْمُتَوَفَّى يَوْمَ الْجُمْعَةِ أَوْ فِي لَيْلَةِ الْجُمْعَةِ
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিন ধরনের লোককে আল্লাহ কবরের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। ১. মুআযযিন। ২. শহীদ ৩. জুমআর দিন মৃত্যুবরণকারী।
عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى التَّيْمِيِّ، أَنَّهُ قَالَ: ثَلَاثَةٌ عَلَى كُثْبَانِ الْمِسْكِ حَتَّى يَفْرُغَ النَّاسُ مِنَ الْحِسَابِ إِمَامُ قَوْمٍ يُلْتَمَسُ بِهِ وَجْهُ اللهِ تَعَالَى، وَرَجُلٌ قَرَأَ الْقُرْآنَ يَلْتَمَسُ بِهِ وَجْهُ اللَّهِ تَعَالَى، وَمُؤَذِّنٌ يُنَادِي بِصَلَاةٍ يُلْتَمَسُ بِهِ وَجْهُ اللَّهِ تَعَالَى.
আব্দুল আলা তাইমী বলেন, কিয়ামতের দিন হিসাব শেষ হওয়া পর্যন্ত তিন ধরনের লোক মেশকের টিলায় অবস্থান করবে। ১. ইমাম, যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইমামতি করেছেন। ২. এমন ব্যক্তি যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরআন পাঠ করেছে। ৩. মুআযযিন, যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আযান দিয়েছেন।
রাসূল ﷺ বলেন- মঁন ক্বলা মিছলা মা- ইয়াক্বুলুল মুআযযিনু কা-না লাহু মিছলা আজরিহী (مَنْ قَالَ مِثْلَ مَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ)। মুআযযিন যা বলে, যে হুবহু তা বলবে, সে মুআজ্জিনের অনুরূপ সওয়াব পাবে।
টিকাঃ
৬৪৩. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ: ১/২০৬; আল্লামা হাইসামীর মতে, সনদটি জয়ীফ।
📄 আযানের ব্যাখ্যা ও তার অর্থ
হাদীসে এসেছে, মুআযযিন যখন আল্লাহু আকবার বলতেন, তিনিও তার সঙ্গে বলতেন। শাহাদাতাইনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ করতেন। যখন حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ ও حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ বলতেন, তখন তিনি لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ বলতেন।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, আযান আরম্ভ হলে মনোযোগের সাথে তা শ্রবণ করবে এবং মুআযযিন যা বলবে সাথে সাথে তাই বলবে। মুআযযিন যখন حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ বলবে, উত্তরে ল- হাওলা ওয়ালা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম (لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ) বলবে। আর যখন حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ বলবে, তখন মা শা- আল্লা-হু কা-না (مَا شَاءَ اللَّهُ كَانَ) বলবে।
আযানের ব্যাখ্যা ও তার মর্ম অনুধাবন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটি শব্দেরই একটি বাহ্যিক অর্থ ও একটি গূঢ় অর্থ আছে।
اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ: এ বাক্যের বাহ্যিক অর্থ হলো, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। আর গূঢ় অর্থ হলো, আল্লাহ মহান তাঁর জন্য আমল করা অবশ্য কর্তব্য। সুতরাং দুনিয়ার কাজ-কর্ম পরিত্যাগ করে তাঁর আমল তথা কাজ-কর্ম নিয়ে ব্যস্ত হও।
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ: এ বাক্যের বাহ্যিক অর্থ হলো, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ এক তাঁর কোনো শরীক নেই। গূঢ় অর্থ হলো, আল্লাহ তোমাদেরকে একটি কাজের নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা তাঁর নির্দেশ আনুরাগী হও। কারণ, তোমাদের উপকার ও কল্যাণ সাধন একমাত্র আল্লাহর পক্ষেই সম্ভব। যদি তাঁর নির্দেশ মান্য না কর, তাহলে তাঁর আযাব থেকে তোমাদেরকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না।
أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ: এর অর্থ হলো, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ তাঁকে তোমাদের নিকট প্রেরণ করেছেন, যাতে তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তাঁকে সত্য বলে জান। আর গূঢ় অর্থ হলো রাসূল তোমাদেরকে জামাআতের সঙ্গে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা তাঁর নির্দেশ পালন কর।
حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ: এর বাহ্যিক অর্থ হলো, তোমরা দ্রুত নামায আদায় করার জন্য আসো। গূঢ় অর্থ হলো, নামাযের সময় হয়েছে। সুতরাং তোমরা তা কায়েম কর এবং নির্ধারিত সময়েই কায়েম কর ও জামাতের সঙ্গে দলবদ্ধভাবে কায়েম কর।
حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ : এর বাহ্যিক অর্থ হলো, নামায ও কল্যাণের দিকে আসো। গূঢ় অর্থ হলো, আল্লাহ নামাযকে তোমাদের নাজাত ও সাফল্যের উসীলা বানিয়েছেন। অতএব তা আদায় কর। তাহলে তাঁর আযাব থেকে মুক্তি পাবে।
اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ : এর বাহ্যিক অর্থ হলো, আল্লাহ তা'আলা মহান ও মহিয়ান। গূঢ় অর্থ হলো, আল্লাহর জন্য আমল করা আবশ্যক। সুতরাং তা করতে বিলম্ব কর না।
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ : এর বাহ্যিক অর্থ হলো, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। গূঢ় অর্থ হলো, তোমরা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নামায কায়েম কর।
টিকাঃ
৬৪৪. সহীহ মুসলিম: হাদীস-৩৮৫; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৫২৭।