📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আযানের শব্দে আরশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়

📄 আযানের শব্দে আরশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়


عَنِ الضَّحَاكِ، قَالَ : لَمَّا رَأَى عَبْدُ اللهِ بْنُ زَيْدٍ الْأَذَانَ فِي الْمَنَامِ، وَعَلَّمَهُ بِلَالًا، فَأَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ بِلَالًا أَنْ يَصْعَدَ السَّطْحَ وَيُؤَذِّنَ فَلَمَّا افْتَتَحَ الْأَذَانَ سَمِعُوا هَدَّةً بِالْمَدِينَةِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ: أَتَدْرُونَ مَا هَذِهِ الْهَدَّةُ? قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ। قَالَ: رَبُّكُمْ أَمَرَ بِأَبْوَابِ السَّمَاءِ فَفُתَّحَتْ إِلَى الْعَرْشِ لِأَذَانِ بِلَالٍ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ: هَذَا لِبِلَالٍ خَاصَّةً أَوْ لِلْمُؤْمِنِينَ عَامَّةً? قَالَ: بَلْ لِلْمُؤَذِّنِينَ عَامَّةً وَإِنَّ أَرْوَاحَ الْمُؤَذِّنِينَ مَعَ أَرْوَاحِ الشُّهَدَاءِ، فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ نَادَى مُنَادٍ أَيْنَ الْمُؤَذِّنُونَ فَيَقُومُونَ عَلَى كُثْبَانِ الْمِسْكِ وَالْكَافُورِ.

হযরত যাহ্হাক রহ. বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ রাযি. স্বপ্নে আযান পেয়ে যখন বেলালকে শেখালেন, তখন রাসূল ﷺ হযরত বেলালকে উঁচু জায়গায় উঠে আযান দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। বেলাল আযান শুরু করলে, মদীনায় বিকট এক আওয়াজ অনুভূত হলো। রাসূল ﷺ বললেন, তোমরা কি জান এ আওয়াজ কীসের? লোকেরা বলল, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, বেলালের আযানের কারণে তোমাদের রব আকাশের দরজাগুলোকে খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে আরশ অবধি সকল দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। হযরত আবু বকর রাযি. জিজ্ঞেস করলেন, এ কি বিশেষভাবে বেলালেরই বৈশিষ্ট্য? নাকি সাধারণ সকল মুআযযিনের? রাসূল ﷺ বললেন, এ বৈশিষ্ট্য সকল মুআযযিনের। মুআযযিনের আত্মা শহীদের আত্মার সঙ্গে থাকবে। কিয়ামতের দিন জনৈক ঘোষক ঘোষণা করবে, মুআযযিনগণ কোথায়? তখন তারা মেশক ও কাফুরের টিলায় অবস্থান করবে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পাঁচ ব্যক্তির নামায কবুল হয় না

📄 পাঁচ ব্যক্তির নামায কবুল হয় না


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ : خَمْسَةٌ لَيْسَ لَهُمْ صَلَاةٌ : الْمَرْأَةُ السَّاخِطَةُ عَلَى زَوْجِهَا، وَالْعَبْدُ الْآبِقُ مِنْ سَيِّدِهِ حَتَّى يَرْجِعَ، وَالْمُصَارِمُ الَّذِي لَا يُكَلِّمْ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ وَمُدْمِنُ الْخَمْرِ، وَإِمَامُ قَوْمٍ يُصَلِّي بِهِمْ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ .

হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, পাঁচ ব্যক্তির নামায কবুল করা হয় না।
১. ওই নারী যার উপর তার স্বামী ক্রুদ্ধ।
২. মনিব থেকে পলায়নকারী দাস, যতক্ষণ না সে ফিরে যায়।
৩. আত্মীয়তা ছিন্নকারী, যে তিন দিনের ঊর্ধ্বে তার ভায়ের সঙ্গে কথোপকথন করেনি।
৪. মদে অভ্যস্ত ব্যক্তি।
৫. এমন ইমাম, লোকদের অসন্তুষ্টি সত্ত্বেও যে তাদের ইমামতি করে।

ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, মুক্তাদীগণের অসন্তোষ দু'ধরনের। যথা—
১. হয়তো তার অনৈতিকতার কারণে কিংবা তার কেরাত অশুদ্ধ হওয়ার কারণে অসন্তুষ্ট হয় আর তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি উপস্থিত রয়েছে যার কেরাত শুদ্ধ। এ অবস্থায় উক্ত ইমামের ইমামতি করা মাকরুহ।
২. আর যদি ইমাম লোকদেরকে সৎকর্মের আদেশ ও অসৎকর্মের নিষেধ করার কারণে কিংবা বিদ্বেষবশত তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়, আর তার তুলনায় অধিক জ্ঞানী কেউ উপস্থিত না থাকে, তাহলে তাদের অপছন্দ করাটা গ্রহণযোগ্য হবে না। সকলের অপছন্দ সত্ত্বেও তাদের ইমামতি তার জন্য বৈধ।

টিকাঃ
৬৪১. সুনানে তিরমিযী হাদীস-৩৫৮; সুনানে ইবনে মাজাহ-হাদীস-৯৭০ (শাব্দিক তারতম্যে)। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি সহীহ নয়।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মুআজ্জিনের সম্মান ও তার সাক্ষ্য

📄 মুআজ্জিনের সম্মান ও তার সাক্ষ্য


عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: الْمُؤَذِّنُونَ الْمُحْتَسِبُونَ يَخْرُجُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ قُبُورِهِمْ، وَهُمْ يُؤَذِّنُونَ، فَالْمُؤَذِّنُ يَشْهَدُ لَهُ كُلُّ شَيْءٍ يَسْمَعُ صَوْتَهُ مِنْ حَجَرٍ أَوْ شَجَرٍ، أَوْ مَدَرٍ، أَوْ بَشَرٍ، أَوْ رَطِبٍ، أَوْ يَابِسٍ وَيَغْفِرُ اللَّهُ لَهُ مَدَّ صَوْتِهِ وَيُكْتَبُ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ بِعَدَدِ مَنْ يُصَلِّي بِأَذَانِهِ، وَيُعْطِيهِ اللَّهُ مَا يَسْأَلُ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ، إِمَّا أَنْ يُعَجِّلَهُ فِي الدُّنْيَا, أَوْ يَدَّخِرَهُ فِي الْآخِرَةِ، وَإِمَّا أَنْ يَصْرِفُ عَنْهُ السُّوءَ، وَأَوَّلُ مَنْ يُكْسَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ كِسْوَةِ الْجَنَّةِ إِبْرَاهِيمُ، ثُمَّ مُحَمَّدٌ عَلَيْهِمَا الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ، ثُمَّ يُكْسَى الرُّسُلُ وَالْأَنْبِيَاءُ عَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ، ثُمَّ الْمُؤَذِّنُونَ الْمُحْتَسِبُونَ وَتَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ بِنَجَائِبَ مِنْ يَاقُوتٍ أَحْمَرَ يُشَيِّعُ كُلَّ رَجُلٍ مِنْهُمْ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ مِنْ قَبْرِهِ إِلَى الْمَحْشَرِ.

হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, সওয়াবের উদ্দেশ্যে আযান প্রদানকারী মুআযযিনগণকে কিয়ামতের দিন আযানরত অবস্থায় উঠানো হবে এবং মুআযযিনের আওয়াজ শ্রবণকারী প্রতিটি গাছ, পাথর, মাটি মানুষ এবং জল-স্থলের সকলে তার সাক্ষি হবে। আল্লাহ তার আওয়াজ পৌঁছার পরিধি পর্যন্ত তার জন্য মাগফেরাতে ভরে দিবেন। তার আওয়াজ শ্রবণকারী নামাযীর সংখ্যার সমতুল্য সওয়াব তার জন্য লিখে দিবেন। আযান ও একামতের মধ্যবর্তী সময়ে সে যা চায় আল্লাহ তা'আলা তা দান করবেন। হয়তো দুনিয়াতেই তাকে তা দিয়ে দেন অথবা আখেরাতের জন্য জমা করে রাখেন কিংবা এর ফলে তার অনিষ্ট দূর করে দিবেন। সর্বপ্রথম ইবরাহীম আ. কে জান্নাতের পোশাক পরিধান করানো হবে। অতঃপর মুহাম্মাদ ﷺ। এরপর রাসূল ও নবীগণকে। এরপর সওয়াবের উদ্দেশ্যে আযান প্রদানকারীদেরকে। মূল্যবান লাল ইয়াকূতের পাথর নিয়ে ফেরেশতাগণ তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। কবর থেকে হাশরের ময়দান পর্যন্ত তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে সত্তর হাজার ফেরেশতা থাকবে।

টিকাঃ
৬৪২. হাফেজ ইবনুল জাওযী হাদীসটিকে জাল বলেছেন [আল-মাওযুয়াত: ২/৮৮]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আযাব থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত শ্রেণী

📄 আযাব থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত শ্রেণী


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ : ثَلَاثَةٌ يَعْصِمُهُمُ اللَّهُ تَعَالَى مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ الْمُؤَذِّنُ وَالشَّهِيدُ وَالْمُتَوَفَّى يَوْمَ الْجُمْعَةِ أَوْ فِي لَيْلَةِ الْجُمْعَةِ

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিন ধরনের লোককে আল্লাহ কবরের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। ১. মুআযযিন। ২. শহীদ ৩. জুমআর দিন মৃত্যুবরণকারী।

عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى التَّيْمِيِّ، أَنَّهُ قَالَ: ثَلَاثَةٌ عَلَى كُثْبَانِ الْمِسْكِ حَتَّى يَفْرُغَ النَّاسُ مِنَ الْحِسَابِ إِمَامُ قَوْمٍ يُلْتَمَسُ بِهِ وَجْهُ اللهِ تَعَالَى، وَرَجُلٌ قَرَأَ الْقُرْآنَ يَلْتَمَسُ بِهِ وَجْهُ اللَّهِ تَعَالَى، وَمُؤَذِّنٌ يُنَادِي بِصَلَاةٍ يُلْتَمَسُ بِهِ وَجْهُ اللَّهِ تَعَالَى.

আব্দুল আলা তাইমী বলেন, কিয়ামতের দিন হিসাব শেষ হওয়া পর্যন্ত তিন ধরনের লোক মেশকের টিলায় অবস্থান করবে। ১. ইমাম, যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইমামতি করেছেন। ২. এমন ব্যক্তি যে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরআন পাঠ করেছে। ৩. মুআযযিন, যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আযান দিয়েছেন।

রাসূল ﷺ বলেন- মঁন ক্বলা মিছলা মা- ইয়াক্বুলুল মুআযযিনু কা-না লাহু মিছলা আজরিহী (مَنْ قَالَ مِثْلَ مَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ)। মুআযযিন যা বলে, যে হুবহু তা বলবে, সে মুআজ্জিনের অনুরূপ সওয়াব পাবে।

টিকাঃ
৬৪৩. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ: ১/২০৬; আল্লামা হাইসামীর মতে, সনদটি জয়ীফ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px