📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ইমাম জামিন, মুআযযিন আমীন

📄 ইমাম জামিন, মুআযযিন আমীন


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: الْإِمَامُ ضَامِنٌ وَالْمُؤَذِّنُ مُؤْتَمَنٌ اللَّهُمَّ أَرْشِدِ الْأَئِمَّةَ وَاغْفِرْ لِلْمُؤَذِّنِينَ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, ইমাম হচ্ছেন জিম্মাদার আর মুআযযিনের উপর আস্থা রাখা হয়। হে আল্লাহ! ইমামদেরকে সঠিক পথ দেখান এবং মুআযযিনদেরকে মাগফিরাত দান করুন।

ফকীহ সমরকান্দী রহ. উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, মুআযযিনকে আমিন বা আস্থাভাজন বলার কারণ হলো, মানুষ তাদের নামায ও রোযার ব্যাপারে তার উপরে নির্ভর করে। সুতরাং, মুআযযিনের কর্তব্য হলো, সুবহে সাদেকের উদয় ব্যতীত আযান না দেওয়া, যাতে নামায ও সাহরীর সময়ের ব্যাপারে মানুষ বিভ্রান্ত না হয়। অনুরূপ সূর্যাস্ত ব্যতীত মাগরিবের আযান দেবে না, যাতে নামায ও ইফতারের ব্যাপারে মানুষ বিভ্রান্ত না হয়। এই বিবেচনায় সে আমিন। ইমামকে জামিন বা জিম্মাদার বলার কারণ হলো, সে তাঁর সম্প্রদায়ের নামাযের জিম্মা নিয়েছে। সুতরাং তাঁর নামায অশুদ্ধ হলে সকলের নামায অশুদ্ধ হবে এবং তাঁর নামায শুদ্ধ হলে সকলের নামায শুদ্ধ হবে।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: ثَلَاثَةٌ يَقُومُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى كُثْبَانِ الْمِسْكِ لَا يَهُولُهُمُ الْحِسَابُ وَلَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْأَكْبَرُ، رَجُلٌ أَمَّ قَوْمًا وَهُمْ لَهُ رَاضُونَ، وَرَجُلٌ أَذَّنَ الْخَمْسَ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ، وَعَبْدٌ أَطَاعَ رَبَّهُ وَسَيِّدَهُ.

হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তিন শ্রেণীর লোক কিয়ামতের দিন মেশকের টিলায় অবস্থান করবে। তাদেরকে হিসাবের ভয় পাবে না এবং চূড়ান্ত আতঙ্কও তাদেরকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করবে না। তারা হলো—
১. এমন ব্যক্তি যে তাঁর সম্প্রদায়ের ইমামতি করেছে এবং তারা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট ছিল।
২. এমন ব্যক্তি যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পাঁচ ওয়াক্ত আযান দিয়েছে।
৩. এমন দাস যে তাঁর প্রতিপালক ও মনিবের আনুগত্য করেছে।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَنْظُرَ فِي بَيْتِ مُسْلِمٍ إِلَّا بِإِذْنِهِ فَإِنْ نَظَرَ دَمَّرَ ، وَمَنْ دَمَّرَ فَقَدْ نَقَضَ الْعَهْدَ، وَلَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ يُصَلِّي وَهُৱ حَاقِنٌ حَتَّى يُخَفِّفَ، وَلَا يَحِلُّ لِمُসْلِمٍ أَنْ يَؤُمَّ قَوْمًا إِلَّا بِإِذْنِهِمْ، فَإِنْ فَعَلَ قُبِلَتْ صَلَاتُهُمْ، وَرُدَّتْ صَلَاتُهُ وَلَا يَخُصُّ الْإِمَامُ نَفْسَهُ بِالدُّعَاءِ فَإِنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ خَانَهُمْ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, অনুমতি ব্যতীত কোনো মুসলমানের জন্য অন্য মুসলমানের ঘরে তাকানো বৈধ নয়। যদি তাকায় তবে সে যেন বিনা অনুমতিতে তাতে প্রবেশ করল। যে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করল, সে যেন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করল। প্রাকৃতিক প্রয়োজন আটকে রেখে নামায আদায় বৈধ নয়, যতক্ষণ না তা থেকে ফারেগ হয়। কোনো মুসলমানের জন্য লোকদের অনুমতি ব্যতীত ইমামতি করা বৈধ নয়। যদি সে এরূপ করে তাহলে তাদের নামায কবুল হবে কিন্তু তাঁর নামায কবুল করা হবে না। ইমাম শুধু নিজের জন্যই দোয়া করবে না, যদি করে তবে সে সকলের সঙ্গে খেয়ানত করল।

টিকাঃ
৬৩৭. সুনানে আবূ দাউদ: হাদীস-৫১৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২০৭। হাদীসটি সহীহ
৬৩৮. সুনানে তিরমিযী হাদীস-১৯৮৬; মুসনাদে আহমাদ হাদীস-৪৭৯৯; ইমাম তিরমিযী রহ হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।
৬৩৯. মুসনাদে আহমাদ: ৩৬/৪৭২; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৬১৭। শায়েখ শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নামাযে প্রথম কাতারে উপস্থিত হওয়ার সওয়াব

📄 নামাযে প্রথম কাতারে উপস্থিত হওয়ার সওয়াব


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ : لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النَّدَاءِ، وَالصَّفِّ الْأَوَّلِ لَاسْتَهَمُوا عَلَيْهِمَا، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي التَّهْجِيرِ لَاسْتَبَقُوا إِلَيْهِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي شُهُودِ الْعَتْمَةِ وَالصُّبْحِ لَا تَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, মানুষ যদি জানতো আযান প্রদান এবং প্রথম কাতারের কী প্রতিদান রয়েছে, তাহলে এর জন্য তারা লটারীর ব্যবস্থা করত। যদি তারা জানত, দুপুরের রোদে নামাযে গমন করার মধ্যে কী সওয়াব রয়েছে, তাহলে এর জন্য তারা প্রতিযোগিতা করত। আর যদি তারা জানত এশা ও ফজরের নামাজে গমনে কী প্রতিদান রয়েছে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা তাতে উপস্থিত হতো।

টিকাঃ
৬৪০. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬১৫; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৪৩৭।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আযানের শব্দে আরশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়

📄 আযানের শব্দে আরশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়


عَنِ الضَّحَاكِ، قَالَ : لَمَّا رَأَى عَبْدُ اللهِ بْنُ زَيْدٍ الْأَذَانَ فِي الْمَنَامِ، وَعَلَّمَهُ بِلَالًا، فَأَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ بِلَالًا أَنْ يَصْعَدَ السَّطْحَ وَيُؤَذِّنَ فَلَمَّا افْتَتَحَ الْأَذَانَ سَمِعُوا هَدَّةً بِالْمَدِينَةِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ: أَتَدْرُونَ مَا هَذِهِ الْهَدَّةُ? قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ। قَالَ: رَبُّكُمْ أَمَرَ بِأَبْوَابِ السَّمَاءِ فَفُתَّحَتْ إِلَى الْعَرْشِ لِأَذَانِ بِلَالٍ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ: هَذَا لِبِلَالٍ خَاصَّةً أَوْ لِلْمُؤْمِنِينَ عَامَّةً? قَالَ: بَلْ لِلْمُؤَذِّنِينَ عَامَّةً وَإِنَّ أَرْوَاحَ الْمُؤَذِّنِينَ مَعَ أَرْوَاحِ الشُّهَدَاءِ، فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ نَادَى مُنَادٍ أَيْنَ الْمُؤَذِّنُونَ فَيَقُومُونَ عَلَى كُثْبَانِ الْمِسْكِ وَالْكَافُورِ.

হযরত যাহ্হাক রহ. বলেন, হযরত আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ রাযি. স্বপ্নে আযান পেয়ে যখন বেলালকে শেখালেন, তখন রাসূল ﷺ হযরত বেলালকে উঁচু জায়গায় উঠে আযান দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। বেলাল আযান শুরু করলে, মদীনায় বিকট এক আওয়াজ অনুভূত হলো। রাসূল ﷺ বললেন, তোমরা কি জান এ আওয়াজ কীসের? লোকেরা বলল, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, বেলালের আযানের কারণে তোমাদের রব আকাশের দরজাগুলোকে খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে আরশ অবধি সকল দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। হযরত আবু বকর রাযি. জিজ্ঞেস করলেন, এ কি বিশেষভাবে বেলালেরই বৈশিষ্ট্য? নাকি সাধারণ সকল মুআযযিনের? রাসূল ﷺ বললেন, এ বৈশিষ্ট্য সকল মুআযযিনের। মুআযযিনের আত্মা শহীদের আত্মার সঙ্গে থাকবে। কিয়ামতের দিন জনৈক ঘোষক ঘোষণা করবে, মুআযযিনগণ কোথায়? তখন তারা মেশক ও কাফুরের টিলায় অবস্থান করবে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পাঁচ ব্যক্তির নামায কবুল হয় না

📄 পাঁচ ব্যক্তির নামায কবুল হয় না


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ : خَمْسَةٌ لَيْسَ لَهُمْ صَلَاةٌ : الْمَرْأَةُ السَّاخِطَةُ عَلَى زَوْجِهَا، وَالْعَبْدُ الْآبِقُ مِنْ سَيِّدِهِ حَتَّى يَرْجِعَ، وَالْمُصَارِمُ الَّذِي لَا يُكَلِّمْ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ وَمُدْمِنُ الْخَمْرِ، وَإِمَامُ قَوْمٍ يُصَلِّي بِهِمْ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ .

হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, পাঁচ ব্যক্তির নামায কবুল করা হয় না।
১. ওই নারী যার উপর তার স্বামী ক্রুদ্ধ।
২. মনিব থেকে পলায়নকারী দাস, যতক্ষণ না সে ফিরে যায়।
৩. আত্মীয়তা ছিন্নকারী, যে তিন দিনের ঊর্ধ্বে তার ভায়ের সঙ্গে কথোপকথন করেনি।
৪. মদে অভ্যস্ত ব্যক্তি।
৫. এমন ইমাম, লোকদের অসন্তুষ্টি সত্ত্বেও যে তাদের ইমামতি করে।

ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, মুক্তাদীগণের অসন্তোষ দু'ধরনের। যথা—
১. হয়তো তার অনৈতিকতার কারণে কিংবা তার কেরাত অশুদ্ধ হওয়ার কারণে অসন্তুষ্ট হয় আর তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তি উপস্থিত রয়েছে যার কেরাত শুদ্ধ। এ অবস্থায় উক্ত ইমামের ইমামতি করা মাকরুহ।
২. আর যদি ইমাম লোকদেরকে সৎকর্মের আদেশ ও অসৎকর্মের নিষেধ করার কারণে কিংবা বিদ্বেষবশত তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়, আর তার তুলনায় অধিক জ্ঞানী কেউ উপস্থিত না থাকে, তাহলে তাদের অপছন্দ করাটা গ্রহণযোগ্য হবে না। সকলের অপছন্দ সত্ত্বেও তাদের ইমামতি তার জন্য বৈধ।

টিকাঃ
৬৪১. সুনানে তিরমিযী হাদীস-৩৫৮; সুনানে ইবনে মাজাহ-হাদীস-৯৭০ (শাব্দিক তারতম্যে)। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি সহীহ নয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية