📄 ইমামের জন্য দশটি গুণ আবশ্যক
নিজের ও মুক্তাদীদের নামায পূর্ণাঙ্গ হওয়ার জন্য ইমামের জন্য দশটি গুণ আবশ্যক। যথা—
১. أَوَّلُهَا : أَنْ يَكُونَ قَارِئًا لِكِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى، وَلَا يَكُونَ لَحَّانًا অর্থাৎ, কুরআন শুদ্ধ করে পাঠ করতে পারা।
২. وَالثَّانِي : অঁন তাকুনা তাকবীরা-তুহু জাযমান সাহীহান (أَنْ تَكُونَ تَكْبِيرَاتُهُ جَزْمًا صَحِيحًا) অর্থাৎ, তাকবিরসমূহ সহিহ শুদ্ধ ও আযমতের সাথে হওয়া।
৩. وَالثَّالِثُ : অঁন ইউতিম্মা রুকুআহু ওয়াসুজুদাহু (أَنْ يُتِمَّ رُكُوعَهُ وَسُجُودَهُ) অর্থাৎ, রুকু সেজদা পরিপূর্ণ করা।
৪. وَالرَّابِعُ : أَنْ يَحْفَظَ نَفْسَهُ مِنَ الْحَرَامِ وَالشُّبْهَةِ অর্থাৎ, হারাম ও সন্দেহজনক বিষয় পরিহার করে চলা।
৫. وَالْخَامِسُ : أَنْ يَحْفَظَ ثِيَابَهُ وَبَدَنَهُ عَنِ الْأَذَى অর্থাৎ, শরীর ও কাপড় নাপাকী থেকে পবিত্র রাখা।
৬. وَالسَّادِسُ : অঁন লা- ইউত্বওয়্যিলাল ক্বির-আতা ইল্লা- বিরিদ্বল ক্বাওমি (أَنْ لَا يُطَوَّلَ الْقِرَاءَةَ إِلَّا بِرِضَا الْقَوْمِ) অর্থাৎ, মুক্তাদীগণের সম্মতি ব্যতীত ক্বেরাত দীর্ঘ না করা।
৭. وَالسَّابِعُ : অঁন লা- ইউ’জাবা বিনফসিহী (أَنْ لَا يُعْجَبَ بِنَفْسِهِ) অর্থাৎ, আত্মগৌরব না করা।
৮. وَالثَّامِنُ : أَنْ لَا يَدْخُلَ فِي صَلَاةٍ حَتَّى يَسْتَغْفِرَ اللهَ مِنْ جَمِيعِ ذُنُوبِهِ لِأَنَّهُ شَفِيعُ لِمَنْ خَلْفَهُ অর্থাৎ, যাবতীয় গুনাহ থেকে ইস্তিগফার করেই নামায আরম্ভ করা। কারণ, ইমাম তাঁর অনুবর্তীদের জন্য সুপারিশকারী।
৯. وَالتَّاسِعُ : ইযা- সাল্লামা লা- ইয়াখুস্-সুন নাফসাকু বিদ্দুআ-ই ফায়াকখুনাল ক্বাওমা (إِذَا سَلَّمَ لَا يَخُصُّ نَفْسَهُ بِالدُّعَاءِ فَيَخُونَ الْقَوْمَ) অর্থাৎ, সালাম ফিরানোর সময় শুধু নিজের নিয়ত না করা। কারণ, এতে মুক্তাদীর সঙ্গে খেয়ানত করা হয়।
১০. الْعَاشِرُ : إِذَا نَزَلَ فِي مَسْجِدِهِ غَرِيبٌ يَسْأَلُهُ عَمَّا يَحْتَاجُ إِلَيْهِ অর্থাৎ, মসজিদে অপরিচিত কেউ এলে তাঁর প্রয়োজন সম্পর্কে জানা এবং তা পূর্ণ করার যথাসাধ্য চেষ্টা করা।
📄 জান্নাতের জামানত
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: خَمْسَةٌ أَضْمَنُ لَهُمُ الْجَنَّةَ: الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ الْمُطِيعَةُ لِزَوْجِهَا، وَالْوَلَدُ الْمُطِيعُ لِأَبَوَيْهِ، وَالْمُتَوَفَّى فِي طَرِيقِ مَكَّةَ وَصَاحِبُ الْخُلُقِ الْحَسَنِ، وَمَنْ أَذَّنَ فِي مَسْجِدٍ مِنَ الْمَسَاجِدِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا.
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, পাঁচ ব্যক্তির জন্য আমি জান্নাতের জামিন হলাম। যথা-
১. স্বামীর আনুগত্যকারিনী নেককার নারী।
২. পিতা-মাতার অনুগত সন্তান।
৩. মক্কা গমনের পথে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি।
৪. উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি।
৫. এমন ব্যক্তি যে ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় মসজিদে আযান দেয়।
📄 ইমাম জামিন, মুআযযিন আমীন
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: الْإِمَامُ ضَامِنٌ وَالْمُؤَذِّنُ مُؤْتَمَنٌ اللَّهُمَّ أَرْشِدِ الْأَئِمَّةَ وَاغْفِرْ لِلْمُؤَذِّنِينَ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, ইমাম হচ্ছেন জিম্মাদার আর মুআযযিনের উপর আস্থা রাখা হয়। হে আল্লাহ! ইমামদেরকে সঠিক পথ দেখান এবং মুআযযিনদেরকে মাগফিরাত দান করুন।
ফকীহ সমরকান্দী রহ. উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, মুআযযিনকে আমিন বা আস্থাভাজন বলার কারণ হলো, মানুষ তাদের নামায ও রোযার ব্যাপারে তার উপরে নির্ভর করে। সুতরাং, মুআযযিনের কর্তব্য হলো, সুবহে সাদেকের উদয় ব্যতীত আযান না দেওয়া, যাতে নামায ও সাহরীর সময়ের ব্যাপারে মানুষ বিভ্রান্ত না হয়। অনুরূপ সূর্যাস্ত ব্যতীত মাগরিবের আযান দেবে না, যাতে নামায ও ইফতারের ব্যাপারে মানুষ বিভ্রান্ত না হয়। এই বিবেচনায় সে আমিন। ইমামকে জামিন বা জিম্মাদার বলার কারণ হলো, সে তাঁর সম্প্রদায়ের নামাযের জিম্মা নিয়েছে। সুতরাং তাঁর নামায অশুদ্ধ হলে সকলের নামায অশুদ্ধ হবে এবং তাঁর নামায শুদ্ধ হলে সকলের নামায শুদ্ধ হবে।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: ثَلَاثَةٌ يَقُومُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى كُثْبَانِ الْمِسْكِ لَا يَهُولُهُمُ الْحِسَابُ وَلَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْأَكْبَرُ، رَجُلٌ أَمَّ قَوْمًا وَهُمْ لَهُ رَاضُونَ، وَرَجُلٌ أَذَّنَ الْخَمْسَ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ، وَعَبْدٌ أَطَاعَ رَبَّهُ وَسَيِّدَهُ.
হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তিন শ্রেণীর লোক কিয়ামতের দিন মেশকের টিলায় অবস্থান করবে। তাদেরকে হিসাবের ভয় পাবে না এবং চূড়ান্ত আতঙ্কও তাদেরকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করবে না। তারা হলো—
১. এমন ব্যক্তি যে তাঁর সম্প্রদায়ের ইমামতি করেছে এবং তারা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট ছিল।
২. এমন ব্যক্তি যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পাঁচ ওয়াক্ত আযান দিয়েছে।
৩. এমন দাস যে তাঁর প্রতিপালক ও মনিবের আনুগত্য করেছে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَنْظُرَ فِي بَيْتِ مُسْلِمٍ إِلَّا بِإِذْنِهِ فَإِنْ نَظَرَ دَمَّرَ ، وَمَنْ دَمَّرَ فَقَدْ نَقَضَ الْعَهْدَ، وَلَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ يُصَلِّي وَهُৱ حَاقِنٌ حَتَّى يُخَفِّفَ، وَلَا يَحِلُّ لِمُসْلِمٍ أَنْ يَؤُمَّ قَوْمًا إِلَّا بِإِذْنِهِمْ، فَإِنْ فَعَلَ قُبِلَتْ صَلَاتُهُمْ، وَرُدَّتْ صَلَاتُهُ وَلَا يَخُصُّ الْإِمَامُ نَفْسَهُ بِالدُّعَاءِ فَإِنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ خَانَهُمْ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, অনুমতি ব্যতীত কোনো মুসলমানের জন্য অন্য মুসলমানের ঘরে তাকানো বৈধ নয়। যদি তাকায় তবে সে যেন বিনা অনুমতিতে তাতে প্রবেশ করল। যে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করল, সে যেন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করল। প্রাকৃতিক প্রয়োজন আটকে রেখে নামায আদায় বৈধ নয়, যতক্ষণ না তা থেকে ফারেগ হয়। কোনো মুসলমানের জন্য লোকদের অনুমতি ব্যতীত ইমামতি করা বৈধ নয়। যদি সে এরূপ করে তাহলে তাদের নামায কবুল হবে কিন্তু তাঁর নামায কবুল করা হবে না। ইমাম শুধু নিজের জন্যই দোয়া করবে না, যদি করে তবে সে সকলের সঙ্গে খেয়ানত করল।
টিকাঃ
৬৩৭. সুনানে আবূ দাউদ: হাদীস-৫১৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২০৭। হাদীসটি সহীহ
৬৩৮. সুনানে তিরমিযী হাদীস-১৯৮৬; মুসনাদে আহমাদ হাদীস-৪৭৯৯; ইমাম তিরমিযী রহ হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।
৬৩৯. মুসনাদে আহমাদ: ৩৬/৪৭২; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৬১৭। শায়েখ শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
📄 নামাযে প্রথম কাতারে উপস্থিত হওয়ার সওয়াব
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ : لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النَّدَاءِ، وَالصَّفِّ الْأَوَّلِ لَاسْتَهَمُوا عَلَيْهِمَا، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي التَّهْجِيرِ لَاسْتَبَقُوا إِلَيْهِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي شُهُودِ الْعَتْمَةِ وَالصُّبْحِ لَا تَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, মানুষ যদি জানতো আযান প্রদান এবং প্রথম কাতারের কী প্রতিদান রয়েছে, তাহলে এর জন্য তারা লটারীর ব্যবস্থা করত। যদি তারা জানত, দুপুরের রোদে নামাযে গমন করার মধ্যে কী সওয়াব রয়েছে, তাহলে এর জন্য তারা প্রতিযোগিতা করত। আর যদি তারা জানত এশা ও ফজরের নামাজে গমনে কী প্রতিদান রয়েছে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা তাতে উপস্থিত হতো।
টিকাঃ
৬৪০. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬১৫; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৪৩৭।