📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মুআযযিন হওয়ার আকাঙ্ক্ষা

📄 মুআযযিন হওয়ার আকাঙ্ক্ষা


عَنِ ابْنِ মَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، قَالَ : لَوْ كُنْتُ مُؤَذِّنًا لَمَا بَالَيْتُ أَنْ لَا أَغْزُوَ.

ইবনে মাসউদ রাযি. ও সাআদ বিন আবু ওয়াক্কাস রাযি. বলেন, যদি আমি মুআযযিন হতাম তবে জিহাদে অংশ গ্রহণ করার পরোয়া করতাম না।

عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: لَوْ كُنْتُ مُؤَذِّنَا لَمَا بَالَيْتُ أَنْ لَا أَحُجَّ وَلَا أَعْتَمِرَ بَعْدَ حَجَّةِ الْإِسْلَامِ.

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. বলেন, যদি মুআযযিন হতাম, তবে ফরজ হজ্বের পর নফল হজ্ব বা উমরা করার পরোয়া করতাম না।

عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: مَا أَتَأَسَّفُ عَلَى شَيْءٍ إِلَّا أَنِّي وَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَذَانَ لِلْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ.

হযরত আলী ইবনে আবূ তালিব রাযি. বলেন, একটি আকাঙ্ক্ষা ব্যতীত আমার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। হায়! আমি যদি রাসূল ﷺ-এর নিকট থেকে হাসান ও হুসাইনের জন্য আযান দেয়ার অনুমতি নিয়ে রাখতাম। রাসূল ﷺ বললেন, যে নগরে অধিক মুআযযিন থাকবে, তাতে ঠাণ্ডা কমে যাবে।

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ : إِذَا نَادَى الْمُؤَذِّنُونَ بِالْأَذَانِ هَرَبَ الشَّيْطَانُ حَتَّى يَكُونَ بِالرَّوْحَاءِ وَهِيَ ثَلَاثُونَ مِيلًا مِنَ الْمَدِينَةِ.

হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যখন মুআযযিন আযানের ঘোষণা দেয়, শয়তান রওহা পর্যন্ত পালিয়ে যায়। রওহা মদীনা থেকে ত্রিশ মাইল দূরে অবস্থিত একটি স্থানের নাম।

টিকাঃ
৬৩৫. হাদীসটি জাল [আল-মাওযুআত, ইবনুল জাওযী: ২/৯১]।
৬৩৬. মুসলিম: হাদীস-৩৮৮; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১৪৪০৪।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মুআযযিনদের জন্য দশটি গুণ আবশ্যক

📄 মুআযযিনদের জন্য দশটি গুণ আবশ্যক


ফকীহ সমরকান্দী রহ. বলেন, পূর্ণাঙ্গ ফযীলত লাভের জন্য মুআযযিনের দশটি গুণ অর্জন আবশ্যক। যথা—
১. أَوَّلُهَا : أَنْ يَعْرِفَ مِيقَاتَ الصَّلَاةِ وَيَحْفَظَهَا অর্থাৎ, নামাযের সময়সূচী সম্পর্কে ভালোভাবে জানা থাকা এবং তার প্রতি যত্নশীল হওয়া।
২. وَالثَّانِي: أَنْ يَحْفَظَ حَلْقَهُ فَلَا يُؤْذِي حَلْقَهُ لِأَجْلِ الْأَدَانِ অর্থাৎ, কণ্ঠস্বরের প্রতি যত্নবান হওয়া। আর কণ্ঠস্বরের কারণে আযানে বিলম্ব না করা।
৩. وَالثَّالِثُ : إِذَا كَانَ غَائِبًا لَا يَسْخَطُ عَلَى مَنْ أَذَّنَ فِي مَسْجِدِهِ অর্থাৎ, তাঁর অনুপস্থিতিতে যদি কেউ আযান দেয়, তবে তার প্রতি নাখোশ না হওয়া।
৪. وَالرَّابِعُ: أَنْ يُحْسِنَ الْأَذَانَ অর্থাৎ, উত্তমরূপে আযান দেওয়া।
৫. وَالْخَامِسُ : أَنْ يَطْلُبَ ثَوَابَهُ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى، وَلَا يَمُنَّ عَلَى النَّاسِ অর্থাৎ, আযানের প্রতিদান কেবল আল্লাহর কাছে চাওয়া এবং মানুষের নিকট না চাওয়া।
৬. وَالسَّادِسُ : أَنْ يَأْمُرَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ وَيَقُولَ الْحَقَّ لِلْغَنِيِّ وَالْفَقِيرِ অর্থাৎ, ভালো কাজের আদেশ করা এবং খারাপ কাজে বাধা প্রদান করা। ধনী হোক কিংবা দরিদ্র সর্বদা সত্য বলা।
৭. وَالسَّابِعُ : অঁন ইয়ান্তাজিরাল ইমা-মা বিক্বদরিন মা- লা- ইয়াশাক্কু আলাল ক্বাওমি (أَنْ يَنْتَظِرَ الْإِمَامَ بِقَدْرِ مَا لَا يَشُقُّ عَلَى الْقَوْمِ) অর্থাৎ, মুসল্লিদের জন্য যতটা সময় অপেক্ষা করা কষ্টকর নয়, ততটা সময় ইমামের জন্য অপেক্ষা করা।
৮. وَالثَّامِنُ : أَنْ لَا يَغْضَبَ عَلَى مَنْ أَخَذَ مَكَانَهُ فِي الْمَسْجِدِ অর্থাৎ, মসজিদে তাঁর স্থানে কেউ দাঁড়ালে তার উপর অসন্তুষ্ট হবে না।
৯. وَالتَّاسِعُ : أَنْ لَا يُطَوَّلَ الصَّلَاةَ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ অর্থাৎ, আযান ও ইকামতের মধ্যে লম্বা নামায আদায় না করা।
১০. وَالْعَاشِرُ : أَنْ يَتَعَاهَدَ مَسْجِدَهُ فَيُطَهِّرَهُ مِنَ الْقَذَرِ وَيُجَنِّبَ الصَّبْيَانَ عَنْهُ অর্থাৎ, মসজিদের যত্ন নেওয়া, নাপাকী ও ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বাচ্চাদেরকে মসজিদ থেকে দূরে রাখা।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ইমামের জন্য দশটি গুণ আবশ্যক

📄 ইমামের জন্য দশটি গুণ আবশ্যক


নিজের ও মুক্তাদীদের নামায পূর্ণাঙ্গ হওয়ার জন্য ইমামের জন্য দশটি গুণ আবশ্যক। যথা—
১. أَوَّلُهَا : أَنْ يَكُونَ قَارِئًا لِكِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى، وَلَا يَكُونَ لَحَّانًا অর্থাৎ, কুরআন শুদ্ধ করে পাঠ করতে পারা।
২. وَالثَّانِي : অঁন তাকুনা তাকবীরা-তুহু জাযমান সাহীহান (أَنْ تَكُونَ تَكْبِيرَاتُهُ جَزْمًا صَحِيحًا) অর্থাৎ, তাকবিরসমূহ সহিহ শুদ্ধ ও আযমতের সাথে হওয়া।
৩. وَالثَّالِثُ : অঁন ইউতিম্মা রুকুআহু ওয়াসুজুদাহু (أَنْ يُتِمَّ رُكُوعَهُ وَسُجُودَهُ) অর্থাৎ, রুকু সেজদা পরিপূর্ণ করা।
৪. وَالرَّابِعُ : أَنْ يَحْفَظَ نَفْسَهُ مِنَ الْحَرَامِ وَالشُّبْهَةِ অর্থাৎ, হারাম ও সন্দেহজনক বিষয় পরিহার করে চলা।
৫. وَالْخَامِسُ : أَنْ يَحْفَظَ ثِيَابَهُ وَبَدَنَهُ عَنِ الْأَذَى অর্থাৎ, শরীর ও কাপড় নাপাকী থেকে পবিত্র রাখা।
৬. وَالسَّادِسُ : অঁন লা- ইউত্বওয়্যিলাল ক্বির-আতা ইল্লা- বিরিদ্বল ক্বাওমি (أَنْ لَا يُطَوَّلَ الْقِرَاءَةَ إِلَّا بِرِضَا الْقَوْمِ) অর্থাৎ, মুক্তাদীগণের সম্মতি ব্যতীত ক্বেরাত দীর্ঘ না করা।
৭. وَالسَّابِعُ : অঁন লা- ইউ’জাবা বিনফসিহী (أَنْ لَا يُعْجَبَ بِنَفْسِهِ) অর্থাৎ, আত্মগৌরব না করা।
৮. وَالثَّامِنُ : أَنْ لَا يَدْخُلَ فِي صَلَاةٍ حَتَّى يَسْتَغْفِرَ اللهَ مِنْ جَمِيعِ ذُنُوبِهِ لِأَنَّهُ شَفِيعُ لِمَنْ خَلْفَهُ অর্থাৎ, যাবতীয় গুনাহ থেকে ইস্তিগফার করেই নামায আরম্ভ করা। কারণ, ইমাম তাঁর অনুবর্তীদের জন্য সুপারিশকারী।
৯. وَالتَّاسِعُ : ইযা- সাল্লামা লা- ইয়াখুস্-সুন নাফসাকু বিদ্দুআ-ই ফায়াকখুনাল ক্বাওমা (إِذَا سَلَّمَ لَا يَخُصُّ نَفْسَهُ بِالدُّعَاءِ فَيَخُونَ الْقَوْمَ) অর্থাৎ, সালাম ফিরানোর সময় শুধু নিজের নিয়ত না করা। কারণ, এতে মুক্তাদীর সঙ্গে খেয়ানত করা হয়।
১০. الْعَاشِرُ : إِذَا نَزَلَ فِي مَسْجِدِهِ غَرِيبٌ يَسْأَلُهُ عَمَّا يَحْتَاجُ إِلَيْهِ অর্থাৎ, মসজিদে অপরিচিত কেউ এলে তাঁর প্রয়োজন সম্পর্কে জানা এবং তা পূর্ণ করার যথাসাধ্য চেষ্টা করা।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাতের জামানত

📄 জান্নাতের জামানত


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: خَمْسَةٌ أَضْمَنُ لَهُمُ الْجَنَّةَ: الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ الْمُطِيعَةُ لِزَوْجِهَا، وَالْوَلَدُ الْمُطِيعُ لِأَبَوَيْهِ، وَالْمُتَوَفَّى فِي طَرِيقِ مَكَّةَ وَصَاحِبُ الْخُلُقِ الْحَسَنِ، وَمَنْ أَذَّنَ فِي مَسْجِدٍ مِنَ الْمَسَاجِدِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا.

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, পাঁচ ব্যক্তির জন্য আমি জান্নাতের জামিন হলাম। যথা-
১. স্বামীর আনুগত্যকারিনী নেককার নারী।
২. পিতা-মাতার অনুগত সন্তান।
৩. মক্কা গমনের পথে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি।
৪. উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি।
৫. এমন ব্যক্তি যে ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় মসজিদে আযান দেয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px