📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 প্রথম কাতার ও আযানের ফযীলত

📄 প্রথম কাতার ও আযানের ফযীলত


عَنْ سَلَمَةَ بْنِ ضِرَارٍ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: أَخْبِرْنِي بِعَمَلٍ وَاحِدٍ أَدْخُلُ بِهِ الْجَنَّةَ قَالَ : كُنْ مُؤَذِّنَ قَوْمِكَ يَجْمَعُوا بِكَ صَلَاتَهُمْ. قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ لَمْ أَطُقْ. قَالَ: كُنْ إِمَامَ قَوْمِكَ يُقِيمُوا بِكَ صَلَاتَهُمْ قَالَ : فَإِنْ لَمْ أَطُقْ : فَعَلَيْكَ بِالصَّفِّ الْأَوَّلِ.

সালামা ইবনে যিরার কর্তৃক শামের এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি রাসূল ﷺ-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে আরজ করল, আমাকে এমন আমলের সংবাদ দিন, যার মাধ্যমে আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। রাসূল ﷺ বললেন, তুমি তোমার সম্প্রদায়ের মুআযযিন হও, তোমার আহ্বানে তারা নামাযে একত্রিত হবে। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পক্ষে যদি তা সম্ভব না হয়? তিনি বললেন, তবে তুমি তোমার সম্প্রদায়ের ইমাম হও, তোমার পিছনে তারা নামায আদায় করবে। লোকটি বলল, সেটিও যদি সম্ভব না হয়? তিনি বললেন, তবে তুমি নামাযে প্রথম কাতারে দাঁড়াও।

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا، قَالَتْ : نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِي الْمُؤَذِّنِينَ وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ (فصلت : ৩৩) যানি দাআল খালক্বা ইলাস সোলা-তি অ সোল্লা- বাইনাল আযানি ওয়াল ইক্বামাতি (يَعْنِي دَعَا الْخَلْقَ إِلَى الصَّلَاةِ وَصَلَّى بَيْنَ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ)।

হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিম্নোক্ত আয়াত মুআযযিনদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে— “আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।” অর্থাৎ, যে মানুষকে নামাযের আহ্বান করে এবং আযান ও একামতের মধ্যবর্তী সময়ে নফল নামায আদায় করে।

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِي رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : يُغْفَرُ لِلْمُؤَذِّنِ مَدَّ صَوْتِهِ وَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ مَنْ صَلَّى مَعَهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْءٌ.

হযরত আবূ উমামা বাহিলী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, মুআযযিনের আওয়াজ যতটুকু পৌঁছে, ততটুকু তার জন্য মাগফেরাতে ভরে দেয়া হয়। যারা তার সঙ্গে নামায আদায় করে, তাদের সমপরিমাণ সওয়াব তার জন্য লিখে দেয়া হয়। অথচ তাদের সওয়াবে কোনো কমতি দেখা দেয় না।

টিকাঃ
৬২৭. তবারানী, আওসাত [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: হাদীস-১৮৪২] হাইসামীর ভাষ্যমতে, সনদে মুনকারুল হাদীস রাবী বিদ্যমান।
৬২৮. সূরা ফুসসিলাত: আয়াত-৩৩
৬২৯. মুসনাদে আহমাদ : হাদীস-৬২০১; সুনানে আবী দাউদ : হাদীস-৫১৫। হাদীসের প্রথম অংশ সহীহ।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 অসুস্থ ব্যক্তি মুআযযিন এবং ইমামের মর্যাদা

📄 অসুস্থ ব্যক্তি মুআযযিন এবং ইমামের মর্যাদা


عَنْ خَوْلَةَ بِنْتِ الْحَكَمِ السُّلَمِيَّةِ ، قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الْمَرِيضُ ضَيْفُ اللَّهِ مَا دَامَ فِي مَرَضِهِ يَرْفَعُ لَهُ كُلَّ يَوْمٍ عَمَلَ سَبْعِينَ شَهِيدًا فَإِنْ عَافَاهُ مِنْ مَرَضِهِ خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ فَإِنْ قَضَى عَلَيْهِ بِالْمَوْتِ أَدْخَلَهُ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ. وَالْمُؤَذِّنُ هُৱ حَاجِبُ اللهِ تَعَالَى يُعْطِيهِ بِكُلِّ أَذَانٍ ثَوَابَ أَلْفِ نَبِيٍّ، وَالْإِمَامُ وَزِيرُ اللَّهِ يُعْطِيهِ بِكُلِّ صَلَاةٍ ثَوَابَ أَلْفِ صِدِّيقٍ، وَالْعَالِمُ وَكِيلُ اللَّهِ تَعَالَى يُعْطِيهِ بِكُلِّ حَدِيثٍ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَكَتَبَ اللهُ لَهُ بِكُلِّ حَدِيثٍ عِبَادَةَ أَلْفِ سَنَةٍ. وَالْمُتَعَلَّمُونَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ هُمْ خَدَمُ اللَّهِ فَمَا جَزَاؤُهُمْ إِلَّا الْجَنَّةُ.

হযরত খাওলা বিনতে হাকাম রাযি. বলেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, অসুস্থ ব্যক্তি যত দিন অসুস্থতায় থাকে, ততদিন সে আল্লাহর মেহমান হিসাবে থাকে। প্রতিদিন তার জন্য সত্তর শহীদের সওয়াব দেওয়া হয়। যদি আল্লাহ তাকে সুস্থ করেন, সে এমন নিষ্পাপ হয়ে যায়, যেমন ছিল তার মা তাকে জন্ম দেয়ার দিন। যদি তার মৃত্যুর ফায়সালা হয়ে যায়, তাহলে আল্লাহ তাকে বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। মুআযযিন হলো, আল্লাহর পাহারাদার। প্রতি আযানের কারণে তাকে এক হাজার নবীর সওয়াব প্রদান করা হয়। ইমাম আল্লাহর উযীর। প্রতি নামাযের বিনিময়ে তাকে এক হাজার সিদ্দীকের সওয়াব প্রদান করা হয়। আলেম আল্লাহর উকীল। প্রতি আলোচনার কারণে তাকে কিয়ামতের দিন একটি নূর প্রদান করা হবে। তার প্রতি আলোচনার জন্য আল্লাহ তার আমলনামায় এক হাজার বছরের ইবাদতের সওয়াব লিখে দিবেন। ইলম অর্জন কারী নারী পুরুষগণ আল্লাহর সেবক। জান্নাতই তাদের একমাত্র প্রতিদান।

ফকীহ আবুল লাইস সমরকন্দী রহ. বলেন উদাহরণ স্বরূপ মুআযযিনকে আল্লাহর পাহারাদার বলা হয়েছে। এর মর্ম হলো, দারোয়ানের মাধ্যমে যেমন বাদশাহর নিকট গমনের সময় জানা যায়, তেমনি মুআযযিনের মাধ্যমে নামাযের সময় জানা যায়। তদ্রূপ ইমাম উযির হওয়ার মর্ম হলো, লোকজন যেমন উযিরের অনুসরণ করে পিছনে চলে, তেমনি লোকেরা ইমামের অনুসরণ করে তার পিছনে ইকতেদা করে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মুয়াজ্জিনের জন্য মাগফিরাত

📄 মুয়াজ্জিনের জন্য মাগফিরাত


عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : مَنْ أَذَّنَ سَبْعَ سِنِينَ أَعْتَقَهُ اللَّهُ مِنْ سَبْعِ دَرَكَاتٍ مِنَ النَّارِ بَعْدَ أَنْ يُحْسِنَ نِيَّتَهُ

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, যে সাত বছর আযান দেবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের সাতটি স্তর থেকে মুক্তি দান করেন। শর্ত হলো, নিয়ত শুদ্ধ হতে হবে।

عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : يُغْفَرُ لِلْمُؤَذِّنِ مَدَّ صَوْتِهِ وَيُصَدِّقُهُ كُلُّ مَا سَمِعَهُ مِنْ رَطْبٍ وَيَابِسٍ.

আতা বিন ইয়াসার রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, মুআযযিনের আওয়াজ যতদূর পৌছে, ততদূর পর্যন্ত তার জন্য মাগফেরাতে ভরে দেয়া হয়। জল ও স্থলের যেই তার আহ্বান শ্রবণ করে, সে তার সত্যয়ন করে।

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، قَالَ : إِذَا كُنْتَ فِي هَذِهِ الْبَوَادِي فَأَذَّنْتَ فَارْفَعْ صَوْتَكَ فَإِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ : لَا يَسْمَعُ مَدَى صَوْتِ الْمُؤَذِّنِ شَجَرٌ وَلَا حَجَرٌ وَلَا مَدَرٌ وَلَا إِنسٌ وَلَا جَانٌّ إِلَّا شَهِدَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى.

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. বলেন, তুমি যখন এই লোকালয়ে আযান দেবে, তখন স্বর উঁচু করবে। কারণ, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, গাছ, পাথর, মাটি, জিন ও ইনসান এর যে কেউ মুআযযিনের স্বর শুনতে পাবে, কিয়ামতের দিন তারা তার জন্য আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবে।

টিকাঃ
৬৩০. সুনানে তিরযিমী হাদীস-২০৬; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৭০৭। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে গরীব (জয়ীফ) বলেছেন।
৬৩১. মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৬২০১; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৫১৫। হাদীসটি সহীহা।
৬৩২. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬০৯; সুনানে নাসায়ী: হাদীস-৬৪৪।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কিয়ামতের দিন হযরত বেলালের আজান

📄 কিয়ামতের দিন হযরত বেলালের আজান


عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ: يَبْعَثُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِلَالًا عَلَى نَاقَةٍ مِنْ نُوقِ الْجَنَّةِ، يُؤَذِّنُ عَلَى ظَهْرِهَا فَإِذَا قَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ نَظَرَ النَّاسُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ فَقَالُوا : نَشْهَدُ عَلَى مِثْلِ مَا تَشْهَدُ حَتَّى يُوَانِيَ الْمَحْشَرُ، فَإِذَا وَإِلَى الْمَحْشَرُ، يُؤْتَى بِجُلَلٍ مِنْ حُلَلِ الْجَنَّةِ فَأَوَّلُ مَنْ يُكْسَى بِلَالٌ وَصَالِحُو الْمُؤَذِّنِينَ.

হযরত মুআয বিন জাবাল রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা হযরত বেলালকে জান্নাতের একটি উটনীর উপর সওয়ার করিয়ে উপস্থিত করবেন। উটনীর পিঠে চড়ে সে আযান দিবে। যখন সে বলবে, أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ এবং وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ তখন লোকেরা একে অপরের দিকে তাকাবে আর বলবে, আমরাও তাতে সাক্ষ্য দিচ্ছি, যেমন তুমি সাক্ষ্য দিচ্ছ। এভাবে সে পুরো হাশর ময়দান ঘুরে আসবে। এরপর সাজ-সজ্জার পোশাক আনা হবে এবং সর্বপ্রথম বেলাল রাযি. কে পরানো হবে ও অন্যান্য নেককারদেরকেও পরানো হবে।

عَنْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ الْمُؤَذِّنُونَ أَطْوَلُ النَّاسِ أَعْنَاقًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ. فَأَوَّلُ مَنْ يُقْضَى لَهُ يَوْমَ الْقِيَامَةِ الشُّهَدَاءُ وَالْمُؤَذِّنُونَ بَعْدَ الْأَنْبِيَاءِ، فَيُدْعَى مُؤَذِّنُ الْكَعْبَةِ، وَمُؤَذِّنُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ ثُمَّ يَتَتَابَعُ الْمُؤَذِّنُونَ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. বলতেন, মুআযযিনগণ কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক উচু গর্দানের অধিকারী হবেন। নবীগণের পর সর্বপ্রথম শহীদ ও মুআযযিনের ফয়সালা করা হবে। প্রথমে কাবার মুআযযিন, তারপর বাইতুল মুকাদ্দাসের মুআযযিন এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মুআযযিনকে ডাকা হবে।

টিকাঃ
৬৩৩. সিলসিলাতুস যঈফাহ: হাদীস-৭৭২; ইবনুল জাওযী হাদীসটিকে জাল বলেছেন [আল-মাওযুয়াত: ৩/২৪৫]।
৬৩৪. সহীহ মুসলিম: হাদীস-৩৮৭; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস-১৬৬৭; হাদীসের শেষ অংশ আমরা কোন কিতাবে পাইনি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px